দিনের বেলা দীর্ঘসময় সময় খাবার গ্রহণ, পানি পান করা থেকে বিরত থাকা অনেকের জন্যই কষ্টসাধ্য। কিশোর-কিশোরীদের অনেকের পক্ষে পুরো ত্রিশ দিন রোজা সম্পন্ন করা কঠিন হয়ে পড়ে। তবে মানসিক শক্তি ও ধৈর্যের সঙ্গে ইবাদত পালনেই রমজানের পূর্ণতা। ধৈর্য বাড়াতে জেনে নাও কিছু কার্যকরী উপায়।
মেডিটেশন
মেডিটেশনকে বলা হয় মনের ব্যায়াম। মন প্রশান্ত করা, চিন্তা-ভাবনার পরিধি বাড়ানো এবং আত্মনিয়ন্ত্রণ করতে মেডিটেশন গুরুত্বপূর্ণ। ধৈর্যশক্তি বাড়াতে করতে পার ব্রিদিং মেডিটেশন। এই মেডিটেশনে প্রতিদিন কিছু সময় জোরে জোরে শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়ার সময় নিজের নিঃশ্বাসের শব্দকে অনুসরণ করতে হয়। এর ভেতর দিয়ে মন প্রশান্ত ও স্থির হয়, ধৈর্যশক্তি বাড়ে।
ইয়োগা
মেডিটেশনের মতোই আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যায়াম হলো ইয়োগা করা। নির্দিষ্ট কিছু শরীরচর্চার মাধ্যমে শরীর ও মনের সংযোগ ঘটে ইয়োগা চর্চায়। ধৈর্যশক্তি বাড়াতে রয়েছে নির্দিষ্ট কিছু ইয়োগা। এগুলো চর্চার মাধ্যমে কোনো কাজ নিয়ে উদ্বেগ কমে যায়। যে কাজটি সম্পন্ন করা কঠিন বলে মনে হয় সেই কাজের প্রতি আত্মবিশ্বাস বাড়ে। ফলে কাজ সম্পন্ন করার ধৈর্য পাওয়া যায়।
বই পড়া
যাদের নিয়মিত বই পড়ার অভ্যাস রয়েছে, তাদের ধৈর্যশক্তিও তুলনামূলক বেশি। রমজানের ছুটিতে গড়ে তুলতে পার বই পড়ার অভ্যাস। শুরুর দিকে সময় নিয়ে কয়েক পাতা পড়াই হয়তো কষ্টসাধ্য হবে। তবে আস্তে আস্তে বইয়ের জগতে প্রবেশ করলে গুছিয়ে চিন্তা করা, দীর্ঘসময় নিয়ে কোনো কিছু পড়া বা যেকোনো কাজ করার অভ্যাস গড়ে উঠবে।
ডায়েরি লেখা
ধৈর্য বাড়াতে ডায়েরি লেখাও কিশোর-কিশোরীদের জন্য জনপ্রিয় উপায়। ডায়েরি শুধু প্রতিদিনের ঘটনাবলি লেখালেখির জন্যই নয়। বরং প্রতিদিনের কাজে কোথায় ঘাটতি, ভুল-ত্রুটি ও সমাধানের উপায়ও উঠে আসে দিনলিপিতে। এতে যেমন নিজের দায়িত্বের প্রতি ফোকাস বাড়ে, তেমনি ধৈর্য দিয়ে কাজ সম্পন্ন করার মানসিক শক্তিও পাওয়া যায়।
রাগ নিয়ন্ত্রণ করা
রাগ প্রকাশের ফলে মন প্রশান্ত হওয়ার পরিবর্তে অনেক সময় আমাদের অস্থিরতা, উত্তেজনা দ্বিগুণ হয়ে ওঠে। রোজা রেখে রাগ, উত্তেজনা আরও ক্লান্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করে। তাই কোনো কিছু নিয়ে রাগান্বিত হলে জোরে জোরে শ্বাস নাও কিংবা অন্য কোনো ভাবনায় মন নিয়োজিত করো। এতে মস্তিষ্ক সহজে উত্তেজিত হবে না এবং ধৈর্যচ্যুতি ঘটবে না। শান্ত মন ও মস্তিষ্কে রমজান পালনও সহজ হবে।