ঢাকা ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
জনসংখ্যায় মহাশক্তি, ফুটবলে কেন নয়? গুরুর কফিনে শিষ্যের পেরেক ১০ জুলাই  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি বিশ্বকাপে লাল-হলুদের ঝড় বিশ্বকাপের নির্মম বাস্তবতা উত্থানের বিশ্বকাপে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ দেখছেন ক্লিন্সমান সেমিফাইনালে ফ্রান্সের প্রতিপক্ষ কারা? এমবাপ্পে-দেম্বেলের গোলে মরক্কোকে বিদায় করে সেমিফাইনালে ফ্রান্স ৬ মিনিটে দুই গোল, মরক্কোর বিপক্ষে এগিয়ে ফ্রান্স দুর্দান্ত বুনু, এমবাপ্পের পেনাল্টি মিসে প্রথমার্ধ গোলশূন্য এমবাপ্পের পেনাল্টি শট ঠেকিয়ে দিলেন বুনু ইংল্যান্ড বিশ্বকাপ জিতলে ব্যাংক হলিডের ইঙ্গিত প্রধানমন্ত্রীর ফ্রান্স ও মরক্কোর শুরুর একাদশে আছেন যারা হলুদের ফাঁদে ১৮ তারকা ফ্রান্স-মরক্কো লড়াই অনলাইনে দেখবেন যেভাবে কেন গুগলে নিজের নাম সার্চ দিতে বললেন আর্লিং হালান্ড? দুই ম্যাচ নিষিদ্ধ ইংলিশ ডিফেন্ডার মাশহাদে সমাহিত হলেন খামেনি ফ্রান্স-মরক্কো ম্যাচে কার জয়ের সম্ভাবনা কত, জানাল সুপারকম্পিউটার ডেঙ্গুতে আরও ২ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ১৯০ হামে মৃত্যু ৭৪৭, এক দিনেই শনাক্ত ৯৪৬ মুক্তাগাছায় প্রতিবন্ধী শিশুদের মধ্যে হুইলচেয়ারসহ সহায়ক উপকরণ বিতরণ হঠাৎ দিক হারিয়ে সিরিজ হারল বাংলাদেশ মুনিরের সঙ্গে আরাঘচির ফোনালাপ, মার্কিন বক্তব্যের কড়া সমালোচনা সাঙ্গু নদীতে কাঠ সংগ্রহ করতে গিয়ে যুবদল কর্মী নিখোঁজ সিলেটের নতুন ডিসি আব্দুল্লাহ আল মামুন রাষ্ট্রীয় শোকযাত্রা শেষে মাশহাদে খামেনির মরদেহ সিএফমোটো ও ব্রেম্বোর নতুন অধ্যায় শুরু রাঙামাটিতে পাহাড়ধসের মধ্যেই বন্যার আশঙ্কা উখিয়ার পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে দুর্যোগ সচিব

৫ম সমাবর্তনে সকাল থেকে চবিয়ানদের ভিড়

প্রকাশ: ১৪ মে ২০২৫, ১১:৫৩ এএম
আপডেট: ১৪ মে ২০২৫, ০১:০৩ পিএম
৫ম সমাবর্তনে সকাল থেকে চবিয়ানদের ভিড়
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাবর্তনে বিশ্ববিদ্যালয়টির সাবেক শিক্ষার্থীরা। ছবি: খবরের কাগজ

আনন্দ-উচ্ছ্বাসে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) পঞ্চম সমাবর্তন শুরু হয়েছে। বুধবার (১৪ মে) সকাল থেকে ডিগ্রিধারী শিক্ষার্থীরা দূরদূরান্ত থেকে চবি ক্যাম্পাসে আসতে শুরু করেছেন। 

সকালে সরেজমিনে দেখা গেছে, ক্যাম্পাসজুড়ে সজ্জিত গেট, লাল-সাদা ফেস্টুন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন সবুজ ঘাসে রঙিন ব্যানার। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকে রয়েছে সমাবর্তনের ব্যানার। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইকনিক জায়গাগুলোতে (বোটানিক্যাল গার্ডেন, শহিদ মিনার, ‘চবি ট্রেন স্টেশন’) ছবি তুলতে ব্যস্ত সবাই।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পঞ্চম সমাবর্তন শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়, এটি হাজারো শিক্ষার্থীর দীর্ঘ পরিশ্রমের স্বীকৃতি, অর্জনের উল্লাস এবং এক নতুন যাত্রার শুরুর দিন।

সমাবর্তনে অংশগ্রহণকারী নাজিব খবরের কাগজকে বলেন, ‘এখন চাকরিজীবনে চলে গেছি। আর কখন এ ক্যাম্পাসে আসতে পারব জানি না।’

২০১১ সেশনের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী বিবি আয়শা বলেন, ‘সমাবর্তন শিক্ষাজীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন। এখানে এসে সব বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে দেখা করতে পারছি।’ 

ফাতেমাতুজ জোহরা এনি বলেন, ‘ক্যাম্পাসে সবার সঙ্গে আবেগঘন মুহূর্তে পার করছি।’

জানা গেছে, এবার সনদ নিতে সমাবর্তনে অংশ নিচ্ছেন ২৩ হাজার শিক্ষার্থী। তারা ছাড়াও ১ লাখ মানুষের সমাগম হচ্ছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে। এর আগে ৪র্থ সমাবর্তনে ২০১৬ সালে ৭ হাজার শিক্ষার্থী সনদ গ্রহণ করেছিলেন। এবার ২০১১ সাল থেকে ২০২৩ সালে স্নাতকোত্তর পাস করা সব শিক্ষার্থীকে সনদ দেওয়া হচ্ছে। তাই এ সমাবর্তনে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা বেশি।  

চবি উপাচার্য মোহাম্মদ ইয়াহইয়া আখতার জানান, সমাবর্তন হলো শিক্ষার্থীদের এক আবেগঘন মুহূর্ত। এবার ২৩ হাজার স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীরা অংশ নিচ্ছেন।

সমাবর্তনে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ডি.লিট ডিগ্রি দেওয়া হবে। শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অতিথিসহ প্রায় ২৫ হাজার লোকের বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। উপাচার্য এবং পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের স্বাক্ষরসহ সনদ বিভাগ বা ইনস্টিটিউটগুলোতে সার্টিফিকেট পাঠানো হয়েছে।  

জানা গেছে, সমাবর্তন উপলক্ষে ব্যক্তিগত কোনো গাড়ি ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারবে না। ১০০টি বড় বাস শহরের বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে সকাল ৬টায় যাতায়াত শুরু করেছে। নির্ধারিত শাটল ট্রেনে করেও অনেকে ক্যাম্পাসে আসছেন। ক্যাম্পাসে রয়েছে শাটল বাসের ব্যবস্থা।

সমাবর্তন অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশের জন্য অংশগ্রহণকারী গ্র্যাজুয়েটদেরকে বিভাগ/ইনস্টিটিউট/নির্দিষ্ট বুথ থেকে সকাল ১০টা থেকে ১২টার মধ্যে অবশ্যই প্রবেশপত্র (আইডি কার্ড) সংগ্রহ করতে হচ্ছে। আইডি কার্ড ছাড়া নিরাপত্তা বাহিনী কাউকে সমাবর্তন অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশের অনুমতি দিচ্ছে না । 

সমাবর্তনে অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন গিফট আইটেম যেমন- ব্যান, স্মরণিকা, কলম, পিন, ওয়ালেট ইত্যাদি দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীরা যাতে অনুষ্ঠান দেখতে পারেন, সে জন্য লাইভে অনুষ্ঠান সম্প্রচারের ব্যবস্থা হচ্ছে এবং ক্যাম্পাসে চারটি পয়েন্টে এলইডি স্ক্রিনের মাধ্যমে অনুষ্ঠান সম্প্রচার করা হচ্ছে। 

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, এবারের ৫ম সমাবর্তনে ৪২ জন পিএইচডি এবং ৩৩ জন এম. ফিল, ডিগ্রিসহ মোট ২২ হাজার ৫৮৬ জন শিক্ষার্থীকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি দেওয়া হবে। এর মধ্যে কলা ও মানববিদ্যা ৪ হাজার ৯৮৮ জন, বিজ্ঞান ২ হাজার ৭৬৬, ব্যবসায় প্রশাসন ৪ হাজার ৫৬৩, সমাজবিজ্ঞান ৪ হাজার ১৫৮, জীববিদ্যা ১ হাজার ৬৮৫, ইঞ্জিনিয়ারিং ৭৯৬, আইন ৭০৩, শিক্ষা ৩১৭, মেরিন সায়েন্স ২৮৪ এবং চিকিৎসায় ২ হাজার ২৯৬ জন বিভিন্ন ডিগ্রি অর্জন করেছেন।

সমাবর্তনে প্রধান অতিথি প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপদেষ্টা ফারুক ই আজম (বীরপ্রতীক), বিদ্যুৎ ও খনিজসম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ উপদেষ্টা নূর জাহান বেগম ও ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এস. এম. এ. ফায়েজ উপস্থিত থাকবেন। 

আবদুস সাত্তার/সুমন

শিক্ষার্থীদের সফট স্কিল বাড়াতে প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম চালুর উদ্যোগ ইউজিসির

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৬:০১ পিএম
শিক্ষার্থীদের সফট স্কিল বাড়াতে প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম চালুর উদ্যোগ ইউজিসির
ছবি: বিজ্ঞপ্তি

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের কর্মদক্ষতা ও কর্মসংস্থান-উপযোগী সক্ষমতা বাড়াতে স্বল্পমেয়াদি সফট স্কিল বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)।

একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও ট্রেজারারদের জন্য শুরু হচ্ছে ‘প্রফেশনাল নলেজ শেয়ারিং প্রোগ্রাম’।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) হায়ার এডুকেশন এক্সিলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণ কর্মসূচি প্রণয়ন বিষয়ে হিট প্রকল্প অফিসে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় এ উদ্যোগের কথা জানানো হয়।

ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদের সভাপতিত্বে সভায় ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন, হিট প্রকল্পের পরিচালক অধ্যাপক ড. আসাদুজ্জামান, ইউনিভার্সিটি টিচার্স ট্রেনিং একাডেমির ডিন অধ্যাপক ড. লায়লা নুরসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় জানানো হয়, শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণে সফট স্কিল, নৈতিকতা ও মূল্যবোধ, কর্মসংস্থান-উপযোগী দক্ষতা এবং জীবনমুখী বিভিন্ন বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে। প্রশিক্ষণের বিষয়বস্তু চূড়ান্ত করার আগে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের দক্ষতার ঘাটতি (স্কিল গ্যাপ) ও প্রয়োজন নির্ধারণে একটি মূল্যায়ন পরিচালনা করা হবে।

ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, আগামী তিন মাসের মধ্যে কর্মসূচির রূপরেখা চূড়ান্ত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। পর্যায়ক্রমে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এ প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হবে। তবে কোন বর্ষের শিক্ষার্থীরা অংশ নেবেন এবং কী পরিসরে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে, সে বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের কর্মদক্ষতা, নৈতিকতা ও জীবনঘনিষ্ঠ সক্ষমতা উন্নয়নে সরকারের অগ্রাধিকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সক্ষমতা উন্নয়নে উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও ট্রেজারারদের জন্য দুই দিনের ‘প্রফেশনাল নলেজ শেয়ারিং প্রোগ্রাম’ আগামী মাসে শুরু হতে পারে বলে সভায় জানানো হয়। এতে কৌশলগত নেতৃত্ব, সুশাসন, বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা, আর্থিক ব্যবস্থাপনাসহ উচ্চশিক্ষা প্রশাসনের বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হবে।

ড. মামুন আহমেদ বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং দেশের সাবেক উপাচার্যদের এ কর্মসূচিতে আমন্ত্রণ জানানো হবে। তাদের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে দেশের বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসকরা আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন দিক সম্পর্কে জানার সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি নিজেদের মধ্যেও পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ক্ষেত্র তৈরি হবে।

সভায় আরও জানানো হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ও অধ্যাপকদের জন্য সাত দিনের একটি সক্ষমতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচিও চালু করা হচ্ছে।

এ ছাড়া দেশের উচ্চশিক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের লক্ষ্যে ইউজিসির কৌশলগত পরিকল্পনা হালনাগাদ করা হচ্ছে। সরকারের অগ্রাধিকার ও বর্তমান বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চলতি মাসের মধ্যে পরিকল্পনাটি চূড়ান্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তি/

চুয়েট সাংবাদিক সমিতির নেতৃত্বে গালিব ও ফাইয়াজ

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৫:০৩ পিএম
আপডেট: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৫:১৩ পিএম
চুয়েট সাংবাদিক সমিতির নেতৃত্বে গালিব ও ফাইয়াজ
সভাপতি আসাদুল্লাহ গালিব-সাধারণ সম্পাদক ফাইয়াজ মুহাম্মদ কৌশিক

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) সাংবাদিক সমিতির কার্যনির্বাহী পরিষদ ২০২৬-২৭ এর নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।

বুধবার (৮ জুলাই) চুয়েটের ছাত্র-শিক্ষক মিলনায়তনে (টিএসসি) আয়োজিত বার্ষিক সাধারণ সভায় এই নতুন কমিটির ঘোষণা দেওয়া হয় । 

নতুন কমিটিতে সভাপতি পানিসম্পদ কৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আসাদুল্লাহ গালিব এবং সাধারণ সম্পাদক পুরকৌশল বিভাগের একই বর্ষের শিক্ষার্থী ফাইয়াজ মুহাম্মদ কৌশিক নির্বাচিত হয়েছেন। 

১৫ সদস্যের নতুন এই কার্যনির্বাহী কমিটিতে নাফিসা নাওয়ার (চট্টগ্রাম প্রতিদিন) সহ-সভাপতি, মোঃ ফাহিম রেজা (সমকাল) সহ-সভাপতি, আকিফা মঞ্জুর তিশা (দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, ইবাদ হোসেন (খবরের কাগজ) প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক,গোলাম মোস্তফা তানিম (দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস) সাংগঠনিক সম্পাদক, তানভীর আহমাদ (কালের কণ্ঠ) অর্থ সম্পাদক, নাজিফা তাসনিম জিফা (দেশ দেশান্তর) দপ্তর সম্পাদক , জারীন তাসমীন সাবা (বণিক বার্তা) সহ-অর্থ সম্পাদক, অনুরাধা রাফানা (বর্তমান বাংলাদেশ) সহ-দপ্তর সম্পাদক এবং শাওকিক ইসলাম জোহা (নাগরিক ভাবনা) সহ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক নির্বাচিত হন। এছাড়াও নাজমুল কবির সিয়াম (সিটিজি পোস্ট), মোঃ মিসবাহ উদ্দিন (আমাদের সময়) এবং সাব্বির হোসাইন (দৈনিক আজাদী)-কে কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।

বিদায়ী কমিটির সভাপতি, কালের কণ্ঠ পত্রিকার প্রতিনিধি আসহাব লাবিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বার্ষিক সাধারণ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাহমুদ আব্দুল মতিন ভূইয়া। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইনস্টিটিউট অব এনার্জি টেকনোলজি, চুয়েটের পরিচালক অধ্যাপক ড. জামাল উদ্দিন আহমেদ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, "প্রকৌশল শিক্ষার ব্যস্ততার মধ্যেও ক্যাম্পাসে সাংবাদিকতার চর্চা সত্যিই প্রশংসনীয়। আশা করি নতুন কমিটির সদস্যরা বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রচারের মাধ্যমে চুয়েটের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করবে।" 

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. জামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন,"সংবাদপত্র আমাদের সমাজের দর্পণ। চুয়েটের বিশ্বস্ত মাধ্যম হিসেবে চুয়েট সাংবাদিক সমিতির সদস্যদের সুনাম সারা ক্যাম্পাস জুড়েই আছে। আশা করি তারা ভবিষ্যতেও তাদের সৎ ও সাহসী মনোভাব বজায় রাখবে। " 

অনুষ্ঠানের সভাপতির বক্তব্যে সদ্য বিদায়ী সভাপতি আসহাব লাবিব বলেন,"প্রায় বিশ বছর ধরে চুয়েট সাংবাদিক সমিতি সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে কাজ করে আসছে। বিদায় নিয়তির নিয়ম। আজ এই সমিতি নতুন নেতৃত্ব পেয়েছে। নতুন কমিটিকে অভিনন্দন। আমরা চাই বিগত দিনের মতোই চুয়েট সাংবাদিক সমিতি  চুয়েটের কথা দেশব্যাপী তুলে ধরবে।"

তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ার নবনির্বাচিত সভাপতি আসাদুল্লাহ গালিব বলেন,"সত্য, বস্তুনিষ্ঠতা ও নিরপেক্ষতাই সাংবাদিকতার মূল শক্তি। চুয়েট সাংবাদিক সমিতি প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ঘটনা, সাফল্য, সমস্যা ও সম্ভাবনাকে নিরপেক্ষভাবে পাঠকের সামনে তুলে ধরার দায়িত্ব পালন করে আসছে। আমরাও সেই ধারাবাহিকতা অটুট রাখতে সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যাব। একই সঙ্গে সত্যনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার মাধ্যমে শিক্ষার্থী, প্রশাসন এবং সাধারণ পাঠকের মধ্যে একটি আস্থার সেতুবন্ধন গড়ে তুলতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।" 

নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক ফাইয়াজ মুহাম্মদ কৌশিক জানান,"চুয়েট সাংবাদিক সমিতি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দেশ ও বিশ্ববাসীর সামনে চুয়েটকে তুলে ধরতে ভূমিকা রাখছে। চুয়েটের ভালো খবরগুলোর পাশাপাশি বিভিন্ন গঠনমূলক সমালোচনার মাধ্যমে আমরা চুয়েটের কল্যাণে অবদান রাখছি। আগামীতেও এ ধারা অব্যাহত রাখতে আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।"

উল্লেখ্য, চুয়েট সাংবাদিক সমিতি ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই সংগঠনটির সদস্যরা দেশের গুরুত্বপূর্ণ অনেক গুলো জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিকে সাফল্যের সাথে কাজ করে আসছে।

ইবাদ হোসেন/এসএন

বেরোবিতে আবদুল হাই শিকদারের ১০ হাজার বই সংরক্ষণের ইউজিসির উদ্যোগ

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ১২:১৭ পিএম
আপডেট: ০৯ জুলাই ২০২৬, ১২:৫৪ পিএম
বেরোবিতে আবদুল হাই শিকদারের ১০ হাজার বই সংরক্ষণের ইউজিসির উদ্যোগ
ছবিঃখবরের কাগজ

দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক আবদুল হাই শিকদারের ব্যক্তিগত সংগ্রহে থাকা প্রায় ১০ হাজার বই সংরক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)। রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে তার নামে একটি বিশেষ কর্নার বা পৃথক গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠা করে বইগুলো সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত হয়।

বুধবার (৮ জুলাই) ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন আহমেদের সঙ্গে আবদুল হাই শিকদারের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়।

বৈঠকে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শওকত আলী, ইউজিসির জনসংযোগ ও প্রকাশনা বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ জামিনুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, এটি শুধু একজন ব্যক্তির বইয়ের সংগ্রহ নয়, দেশের জ্ঞান ও গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। যথাযথ সংরক্ষণ, তালিকাভুক্তকরণ এবং পর্যায়ক্রমে ডিজিটাল আর্কাইভ তৈরির মাধ্যমে বইগুলো ভবিষ্যৎ প্রজন্মের গবেষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।

তিনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে বইগুলো সংগ্রহ ও সংরক্ষণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানান।

অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেন, এ উদ্যোগ ব্যক্তিগত গ্রন্থসংগ্রহ সংরক্ষণের একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হতে পারে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা দুর্লভ ব্যক্তিগত গ্রন্থসংগ্রহ সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে সংরক্ষণে ইউজিসি নীতিগত সহায়তা দেবে।

তিনি বলেন, শুধু বই সংরক্ষণ করলেই হবে না, দুর্লভ গ্রন্থগুলো ডিজিটাল আর্কাইভেও সংরক্ষণ করতে হবে, যাতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের গবেষক ও পাঠক সহজে সেগুলো ব্যবহার করতে পারেন।

আবদুল হাই শিকদার জানান, তার সংগ্রহে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, বিশ্ব ইতিহাস, গবেষণা, প্রবন্ধ, অনুবাদ সাহিত্য, শিশু সাহিত্য, বিজ্ঞানসহ বিভিন্ন বিষয়ের প্রায় ১০ হাজার বই রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় তিন হাজার বই দ্রুত সংরক্ষণ না করলে নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অনেক বই বর্তমানে বাজারে পাওয়া যায় না।

তিনি বলেন, সংগ্রহের একটি অংশ তিনি উত্তরাধিকারসূত্রে বাবার কাছ থেকে পেয়েছেন। বাকি বই কয়েক দশক ধরে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সংগ্রহ করেছেন। তার ইচ্ছা, পুরো সংগ্রহ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়কে দান করা, যাতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও গবেষকেরা বইগুলো পড়তে পারেন।

ব্যক্তিগত গ্রন্থসংগ্রহ সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরে আবদুল হাই শিকদার ভাষাবিদ ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর গ্রন্থাগারের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, সংরক্ষণের অভাবে তার সংগ্রহের বহু দুর্লভ বই একসময় ভাঙারির দোকানে বিক্রি হয়ে যায়। এমনকি তার গ্রন্থাগারের জায়গায় তেলের ঘানির দোকান গড়ে ওঠে। এ ধরনের ঘটনা দেশের জ্ঞান-ঐতিহ্যের জন্য বড় ক্ষতি। তাই ব্যক্তিগত গ্রন্থসংগ্রহ সংরক্ষণে প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, ইউজিসির সাবেক চেয়ারম্যান ও শিক্ষাবিদ সৈয়দ আলী আহসান তার ব্যক্তিগত গ্রন্থসংগ্রহ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়কে দান করেছিলেন। সেই অনুপ্রেরণাতেই তিনি নিজের সংগ্রহ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়কে দিতে চান। 

আবদুল হাই শিকদার আরও জানান, তার গ্রামের বাড়ি রংপুর বিভাগে। সেই বিবেচনায় তিনি তার ব্যক্তিগত গ্রন্থসংগ্রহ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়কে দান করতে চান, যাতে এ অঞ্চলের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও গবেষকেরা বইগুলো পড়তে পারেন।

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শওকত আলী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আবদুল হাই শিকদারের নামে একটি বিশেষ কর্নার বা পৃথক গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেবে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগার সমৃদ্ধ হবে এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য নতুন গবেষণার সুযোগ সৃষ্টি হবে।

এ সময় আবদুল হাই শিকদার দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নজরুল গবেষণা জোরদারে 'নজরুল সেন্টার' প্রতিষ্ঠা এবং 'নজরুল অধ্যাপক' পদ পুনরায় চালুর প্রস্তাব দেন। পাশাপাশি 'নজরুল বর্ষ' উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে কর্মসূচি গ্রহণ এবং জাতীয় সংস্কৃতি ও বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ নিয়ে গবেষণা বাড়ানোর আহ্বান জানান।

এ ব্যাপারে ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, প্রস্তাবগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

গাজী আজম/হীরা

টানা বৃষ্টিতে চবিতে সব ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ১০:১৩ এএম
আপডেট: ০৯ জুলাই ২০২৬, ১০:২২ এএম
টানা বৃষ্টিতে চবিতে সব ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ
ভারী বর্ষণ/ছবি: খবরের কাগজ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) টানা ভারী বর্ষণ, জলাবদ্ধতা ও পরিবহন সংকটের কারণে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সব ধরনের ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত করেছে। একই সঙ্গে জলাবদ্ধতার কারণে শাটল ট্রেন চলাচলও বন্ধ রয়েছে।

বুধবার (৮ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আবহাওয়া পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি না হওয়া এবং বিরাজমান জলাবদ্ধতা ও পরিবহন সংকট অব্যাহত থাকায় বৃহস্পতিবারও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস ও অনুষ্ঠিতব্য পরীক্ষার স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে।   

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক মমতাজ উদ্দিন আহমদ বলেন, 'চলমান ২১টি বিভাগ ও ইনস্টিটিউটের পরীক্ষাও স্থগিত করা হয়েছে। স্থগিত পরীক্ষার নতুন তারিখ সংশ্লিষ্ট পরীক্ষা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্ধারণ করা হবে।'

বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ড. কামরুল হোসেন বলেন, 'এখন মূল সমস্যা হচ্ছে পানি। এ কারণেই ট্রেন চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। শাটল চলার কোনো সম্ভাবনা নেই। পানি কমলে চলাচল শুরু হতে পারে। তবে পানি নেমে যাওয়ার পরও রেল কর্তৃপক্ষ রেললাইনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করে সিদ্ধান্ত নেবে।"

প্রশাসন ও চাকসু সূত্রে জানা গেছে, টানা বৃষ্টিতে নগরের মুরাদপুর এলাকায় রেললাইনের ওপর প্রায় ১৬ ইঞ্চি পানি জমে রয়েছে। রেললাইনের ওপর পড়ে থাকা গাছ সরিয়ে ফেলা হলেও অতিরিক্ত পানির কারণে শাটল ট্রেন চালু করা সম্ভব হয়নি।

চাকসুর যোগাযোগ ও আবাসন সম্পাদক ওবায়দুল সালমান বলেন, 'রেলওয়ের নিয়ম অনুযায়ী পানি প্রায় ৪ ইঞ্চিতে নেমে না আসা পর্যন্ত ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করা সম্ভব নয়। রাতের শাটল চলবে কি না, সে বিষয়ে রেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা যাবে।'

অতিবৃষ্টির কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাটাপাহাড় সড়কের একটি অংশে পাহাড়ধসের ঘটনাও ঘটেছে, যা ওই সড়কে চলাচলে ঝুঁকি তৈরি করেছে।

আল আরাফ/তামান্না রুপা/

চবিতে বিষধর সাপের দংশনের শিকার শিক্ষার্থী, জলাবদ্ধতায় ব্যাহত চিকিৎসা

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৯:২৪ এএম
আপডেট: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩৯ এএম
চবিতে বিষধর সাপের দংশনের শিকার শিক্ষার্থী, জলাবদ্ধতায় ব্যাহত চিকিৎসা
আশরাফুল বিষধর সাপের দংশনের শিকার। ছবি: খবরের কাগজ

টানা তিন দিনের ভারী বর্ষণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতার মধ্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) এক শিক্ষার্থী বিষধর সাপের দংশনের শিকার হয়েছেন।

উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়ার প্রস্তুতি থাকলেও নগরজুড়ে জলাবদ্ধতার কারণে তা সম্ভব হয়নি। ফলে তাকে হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।

বুধবার (৮ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের খালেদা জিয়া হল সংলগ্ন সড়কে এ ঘটনা ঘটে। দংশনের শিকার আশরাফুল বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।

রাত সোয়া ১১টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন চাকসুর আবাসন ও যোগাযোগ সম্পাদক ইসহাক ভুঁইয়া। তিনি বলেন, টিউশন শেষে ক্যাম্পাসে ফেরার পথে খালেদা জিয়া হল সংলগ্ন এলাকায় আশরাফুল বিষধর সাপের দংশনের শিকার হন।

চাকসুর পাঠাগার ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ বলেন, সাপে দংশনের সঙ্গে সঙ্গেই আমরা কয়েকজন তাকে উদ্ধার করে হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাই। চিকিৎসকরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিচ্ছেন। তবে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া প্রয়োজন। কিন্তু নগরে জলাবদ্ধতা থাকায় তাকে সেখানে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ড. কামরুল হোসাইন বলেন, 'ঘটনার বিষয়ে আমরা অবগত আছি এবং শিক্ষার্থীর সার্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রয়েছে। কিন্তু জলাবদ্ধতার কারণে আপাতত চট্টগ্রাম শহরে নেওয়া যাচ্ছে না। পরিস্থিতি অনুকূলে এলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'

আক্রান্ত শিক্ষার্থীর সহপাঠী উদয় খীসা জানান, বর্তমানে আশরাফুলের অবস্থা স্বাভাবিক আছে কিন্তু একবার বমি করেছে। তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

এদিকে, এ ঘটনার পর আবারও ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সড়কে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা না থাকায় রাতে চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে টানা বৃষ্টিতে ঝোপঝাড় ও সড়কে সাপের উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বৃদ্ধি পেয়েছে।

শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের প্রতিটি সড়কে দ্রুত শক্তিশালী সড়কবাতি স্থাপন, ঝোপঝাড় পরিষ্কার এবং নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের জরুরি উদ্যোগ দাবি করেছেন।

আল আরাফ/আজহার/