প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, “বিএনপি গণতন্ত্রের ‘গ’ও বোঝে না। ‘গ’ কেন, গণতন্ত্র বানানও করতে পারবে না। তারা জানে, জীবন্ত মানুষকে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মারতে। গাড়ি, লঞ্চ, রেলে আগুন দিতে। তারা ২০১৩ সালে আগুন-সন্ত্রাস করেছে। ২০১৪ ও ১৫ সালেও এসব করেছে। ৭ জানুয়ারির নির্বাচন ঠেকাতে তারা ট্রেনে আগুন দিয়েছে। তাদের আগুনে মা সন্তানকে বুকে নিয়ে পুড়ে কয়লা হয়ে গেছে। এই দৃশ্য মানুষ সহ্য করতে পারেনি। এসব কারণে বিএনপি যতই চিৎকার-চেঁচামেচি করেছে, জনগণ তাতে সাড়া দেয়নি। যারা এই ধরনের জঘন্য কাজ করেছে, তাদের কোনো ছাড় নেই। তাদের বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি, নেব। তাদের খুঁজে বের করে গ্রেপ্তার করা হবে। ইতোমধ্যে অনেককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যারা জ্বালাও-পোড়াও করার হুকুম দিয়েছে, তাদেরও আমরা গ্রেপ্তার করেছি।”
রবিবার (১৪ জানুয়ারি) গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলা পরিষদ চত্বরে আয়োজিত শুভেচ্ছা ও মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘৭ জানুয়ারির নির্বাচনে আপনারা আমাকে ভোট দিয়েছেন। কোটালীপাড়াবাসী ও টুঙ্গিপাড়াবাসী আমার সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিয়ে আপনারাই আমার নির্বাচন করেছেন। আর আপনাদের ভোটেই জয়ী হয়ে আজকে আমি বাংলাদেশের জনগণের সেবা করার সুযোগ পেয়েছি। তাই আমি এসেছি শুধু আপনাদের কাছে কৃতজ্ঞতা জানাতে।’
বিগত নির্বাচন নিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশে পঁচাত্তরের পর যে কয়টি নির্বাচন হয়েছে, সেখানে জনগণের ভোট ছিল না। মিলিটারি এসেছে, জনগণের ভোট নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছে। কিন্তু আওয়ামী লীগ আসার পরই জনগণের ভোটের অধিকার নিশ্চিত হয়েছে। মানুষের খাদ্যনিরাপত্তা থেকে শুরু করে উন্নয়ন হয়েছে।
জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ‘রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, করোনাভাইরাসের কারণে জিনিসপত্রে দাম বেড়েছে। আবার হামলা শুরু হয়েছে। এ জন্য সামনে আরও দুর্দিন আসতে পারে। আমাদের দেশের মাটি উর্বর। আমাদের মানুষ আছে। এক ইঞ্চি জমিও যেন অনাবাদি না থাকে। সঙ্গে সঙ্গে হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগল পালন করতে হবে। আমাদের খাদ্য আমাদের উৎপাদন করতে হবে।’
এর আগে রবিবার সকালে টুঙ্গিপাড়ায় নিজ বাসভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেন। এরপর দুপুরে সড়কপথে টুঙ্গিপাড়া থেকে তিনি কোটালীপাড়া পৌঁছান। কোটালীপাড়ায় মতবিনিময় সভা শেষে তিনি ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন।
প্রসঙ্গত, দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে শনিবার বেলা সাড়ে ১১টায় টুঙ্গিপাড়ায় পৌঁছান শেখ হাসিনা। বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পরে দলীয়প্রধান হিসেবে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী পরিষদের সদস্যদের নিয়ে বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে শ্রদ্ধা জানান। এরপর দুপুরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজ বাসভবনে নবনিযুক্ত মন্ত্রীদের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে অংশ নেন।
এমএ/