অবৈধপথে ভারতে গিয়ে কারাভোগ শেষে দেশে ফিরলেন ১২ বাংলাদেশি নাগরিক। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দরের ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে তারা দেশে ফেরেন। ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলা চেকপোস্টের ইমিগ্রেশন পুলিশ তাদের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।
তাদের মধ্যে আটজন পুরুষ ও চারজন নারী। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ সময় ভারতের আগরতলায় নিযুক্ত সহকারী হাইকমিশনার মো. আরিফুর রহমান, আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাবেয়া আক্তার, থানার পুলিশ পরিদর্শক নুরে আলম, ইমিগ্রেশন পুলিশ ইনচার্জ হাছান আহাম্মদ ভূঁইয়াসহ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও ভারতীয় সীমান্তরক্ষী (বিএসএফ) সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
দেশে ফেরত আসা বাংলাদেশিরা হলেন সুনামগঞ্জ জেলার জবা রানী রায় ও তার ছেলে জগদীশ রায়, নেত্রকোনা জেলার মোছা. বিউটি, চাঁদপুর জেলার রিয়াদ হোসেন, যশোর জেলার বিনা বেগম ও শেখ সাদি, নওগাঁ জেলার শাহিনা বেগম, জামালপুর জেলার মো. শামীম মিয়া, তার ভাই সোহান মিয়া, মো. ফারুক হোসেন, মো. ফারুক হোসেন ও তার স্ত্রী আসমা বেগম এবং ঝালকাটি জেলার তৃষ্ণা অধিকারী।
দেশে ফেরা বাংলাদেশি নাগরিকরা জানান, দালালদের খপ্পরসহ কাজের সন্ধানে অবৈধভাবে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তারা আটকা পড়েন। ১২০ দিন কারাভোগের পর তারা আরও ছয় মাস থেকে দুই বছর পর্যন্ত আটকা ছিলেন। ত্রিপুরায় বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনের সহযোগিতায় তাদের পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ত্রিপুরায় বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনার আরিফ মোহাম্মদ বলেন, ‘১২ জন বাংলাদেশি অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিল। ভারতের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হয়ে কারাভোগ শেষে তাদের সেখানকার একাধিক সেন্টারে রাখা হয়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’
এ সময় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের অধীনে তাদের জরুরি সহায়তা হিসেবে খাবার, কাউন্সেলিং সেবা ও নগদ ২ হাজার করে টাকা অর্থ সাহায্য দেওয়া হয়। ব্র্যাক মাইগ্রেশন ম্যানেজার সজীব কুমার পান্ডে, ডেপুটি ম্যানেজার শায়লা শারমিন ও আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাবেয়া আক্তার তাদের হাতে এসব তুলে দেন।


