বাণিজ্য মেলায় উদ্যোক্তাদের দক্ষতা তুলে ধরার সুযোগ রয়েছে উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেছেন, চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা একটি ঐতিহ্যবাহী মেলা। প্রতিবছর আয়োজনকরা সফলভাবে মেলাটির আয়োজন করে আসছেন। এখানে বিদেশি পণ্যসামগ্রীর পাশাপাশি আমাদের নিজেদের উৎপাদিত পণ্যগুলো তুলে ধরার সুযোগ রয়েছে। উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ীরা তাদের দক্ষতাও তুলে ধরার সুযোগ রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিকালে ৩১তম চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী বাজার স্থিতিশীল রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। রোজায় ভোগ্যপণ্যের চাহিদা তুলনামূলকভাবে বেড়ে যায়। আমরা বলি না দ্রব্যমূল্য কমাতে হবে। আমরা চাই দ্রব্যমূল্যের স্থিতিশীলতা। কাজেই আমাদের সবাইকে সেদিকে নজর রাখতে হবে। পণ্যের উৎপাদক বা আমদানিকারকদের সহযোগী মনোভাব নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে।
মেলার উদ্বোধন করেন বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু। আগামী মেলায় হস্তশিল্পের পণ্যগুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিয়ে বাণিজ্য নগরী চট্টগ্রামে আসা দরকার বলে আমি মনে করেছি। বর্তমানে আমাদের প্রধান লক্ষ্য হল দ্রব্যমূল্য ক্রয়-ক্ষমতার মধ্যে রাখা। আমরা খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করেছি। সুষ্ঠুভাবে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারলে পণ্যের দাম বাড়বে না বলে ব্যবসায়ীরা কথা দিয়েছেন। আমরাও আমাদের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। আগামী মেলায় আমরা হস্তশিল্পের পণ্যগুলোকে গুরুত্ব দিব। ই-কর্মাসের মাধ্যমে হস্তশিল্পের বাজার প্রসারিত করার ব্যবস্থা করব। আমি আপনাদের সঙ্গে নিয়ে আমার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে চাই।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটির সদস্য এম এ লতিফ এমপি বলেন, একসময় তলাবিহীন ঝুঁড়ির দেশ বলে খ্যাত এই বাংলাদেশ আজ এগিয়ে যাচ্ছে। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে আমরা সবাই চেষ্টা করে যাচ্ছি। কিছু প্রশ্ন উঠেছে। খেলার মাঠে মেলা কেন? এটা আদৌ আন্তর্জাতিক মেলা কী না? আন্তর্জাতিক মেলা মানেই বিদেশি পণ্য থাকা নয়। আমরা মেলায় আমাদের পণ্যকে তুলে ধরব। চট্টগ্রামে এই মেলা আয়োজন করার জন্য একটা স্থায়ী ভ্যানু প্রয়োজন। পতেঙ্গা এলাকায় একটি ভ্যানু করার চিন্তা-ভাবনা করা হচ্ছে। আর খেলার মাঠে মেলা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কিন্তু খেলতেও হবে, মেলাও করতে হবে।
গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দ্য ফেডারেশন অফ বাংলাদেশ চেম্বার্স অফ কমার্স এণ্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) সভাপতি মাহবুবুল আলম। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, এই মেলার জন্য একটা স্থায়ী ভ্যানু প্রয়োজন। আগামী দু'বছরের মধ্যে এ কাজটা করতে হবে। আমরা ব্যবসায়ীরা কিছু সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছি। এসব সমস্যার সমাধান করতে হবে।
মেলা কমিটির উপদেষ্টা ও চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি ওমর হাজ্জাজ বলেন, বেসরকারি খাতে দেশের সর্ববৃহৎ মেলা চট্টগ্রাম বাণিজ্য মেলা। ১৯৯৩ সাল থেকে এ মেলার আয়োজন করা হচ্ছে। মাসব্যাপী মেলাটি এখন সবার প্রাণের মেলায় পরিণত হয়েছে। আশা করছি সকলের অংশগ্রহণে মেলাটি স্বার্থক হবে। একটা স্থায়ী ভ্যানুর অভাবে প্রতিবছর মেলার আয়োজন করতে কষ্ট হয়। এফবিসিসিআই সভাপতি বিষয়টি দেখবেন বলেছেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রামে নিযুক্ত ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার রাজীব রঞ্জন, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ এইচ এম সফিকুজ্জামান, উপপরিচালক ফয়েজ উল্যাহ ও চট্টগ্রাম চেম্বারের সকল পরিচালক উপস্থিত ছিলেন।
প্রায় চার লাখ বর্গফুট জায়গা নিয়ে মেলার আয়োজন। মেলার প্রবেশ টিকেট ২০ টাকা। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত মেলা চলবে। নগরীর বিভিন্ন স্কুলের প্লে থেকে ৭ম শ্রেণির ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য বিনামূল্যে টিকেটের ব্যবস্থা করা হয়েছে যা মাসজুড়ে পুরো মেলায় ব্যবহার করা যাবে।
মেলায় ১৬টি প্রিমিয়ার প্যাভিলিয়ন, ৫৬টি প্রিমিয়ার স্টল, ৯৪টি গোল্ড স্টল, ৪৮টি মেগা স্টল, ১১টি ফুড স্টল, ৩টি আলাদা জোন নিয়ে মোট ৪০০টি স্টলে তিন শতাধিক প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করছে। মেলায় নিজস্ব পণ্য নিয়ে অংশগ্রহণকারী অন্যান্য দেশ যেমন- ভারত, থাইল্যান্ড ও ইরানের উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীরা তাদের পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রয় করবে।


