ফটিকছড়ি কলেজে ছাত্রলীগের কমিটি গঠন নিয়ে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশের লাঠিচার্জে তিনজন আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ফটিকছড়ি কলেজ প্রাঙ্গনে এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ফটিকছড়ি ছাত্রলীগের সভাপতি মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন খবরের কাগজকে বলেন, ‘ফটিকছড়ি কলেজ ছাত্রলীগের ২০২২-২০২৩ শিক্ষাবর্ষের ছাত্রদের নিয়ে ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মিছিল থেকে একটু ভুল বুঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছিল। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করে। তবে, আমরা সাংগঠনিকভাবে বসে সমস্যার সমাধান করবো বলে জানিয়েছি তাদের।’
জানা গেছে, বুধবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) ফটিকছড়ি কলেজ ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে দ্বিতীয় বর্ষের (২০২২-২০২৩) কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে ছাত্র মাইসান মোহাম্মদ মুন্নাকে সভাপতি ও মোহাম্মদ ইনজামামুল হুদা রাকিব উদ্দিনকে সেক্রেটারি করে ১৪ জনের একটি কমিটি ঘোষণা করা হয়।
এ কমিটিকে চ্যালেঞ্জ করে বৃহস্পতিবার ফটিকছড়ি কলেজ ছাত্রলীগের চতুর্থ যুগ্ম আহ্বায়ক শহিদুল্লাহ শহিদ স্বাক্ষারিত আবদুল্লাহ আল আরফাতকে সভাপতি ও আবদুর রহমানকে সাধারণ সম্পাদক করে পাল্টা কমিটি ঘোষণা করেন। এতে এ পাল্টা কমিটির সদস্যরা কলেজে মিছিল বের করার চেষ্টা করে বৃহস্পতিবার দুপুরে। এ সময় ফটিকছড়ি কলেজের মূল আহ্বায়ক কমিটিকে ভূয়া ভূয়া বলে স্লোগান দেয়। তাদের বাধা দেয় কলেজ ছাত্রলীগের মূল কমিটির সদস্যরা। এক পর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া মারামারির ঘটনা ঘটে।
এ সময় একপক্ষ অপর পক্ষের দিকে ইট পাটকেল ছুড়ে মারে। এতে কলেজ ছাত্রলীগের সদস্য সিকদার রণি (১৮), ফাহিম (১৮) ইভানের (১৮) মাথা ফেঁটে যায়।
এদিকে কলেজের পাশে থানা হওয়ায় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের ইট পাটকেল থানায় গিয়ে পড়ে। এতে থানার জানালার কয়েকটি গ্লাস ভেঙ্গে যায়। এক পর্যায়ে পুলিশ ছাত্রলীগের দুই পক্ষের ওপর লাঠিচার্জ করে। এ সময় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা পালিয়ে যায়।
ফটিকছড়ি কলেজ ছাত্রলীগের আহ্বায়ক মোহাম্মদ রাহুল খবরের কাগজকে বলেন, ‘আমি আহ্বায়ক হিসেবে ফটিকছড়ি কলেজ দ্বাদশ শ্রেণির বৈধ কমিটি দিয়েছি। এতে সাজ্জাদ গ্রুপের শহিদুল্লাহ শহিদ পাল্টা কমিটি দিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে। তারা বৃহস্পতিবার মিছিল করতে চেয়েছিল কলেজে কিন্তু মূল কমিটির সদস্যরা তা করতে দেয়নি। ফলে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। সাজ্জাদ গ্রুপের সদস্যরা থানায় হামলা চালিয়েছে। পুলিশের কাছে এর ছবি এবং ভিডিও রয়েছে। তারা থানায় হামলা চালিয়ে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা করেছিল।’
সূত্র জানায়, ফটিকছড়ি কলেজে ইউনিটি ৭১, প্রজন্ম ৭১, ভাই ভাই গ্রুপ নামের তিনটি কিশোর গ্যাং সক্রিয় রয়েছে। একটি কিশোর গ্যাংয়ের নেতৃত্ব দেয় সাজ্জাদুল আলম সাজ্জাদ। অপর দুই গ্রুপের নেতৃত্ব দেয় জামাল ও মেজবাহ নামের দুই ছাত্রলীগ নেতা। এ তিন গ্রুপের বিশৃঙ্খলায় ফটিকছড়ি কলেজের সাধারণ ছাত্ররা অসহায়।
এ ব্যাপারে ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) আবু জাফর খবরের কাগজকে বলেন, ছাত্রদের একটি পক্ষ থানায় ইট পাটকেল ছুড়ে মেরেছে। ফলে থানার পুলিশ গিয়ে লাঠিচার্জ করতে বাধ্য হয়েছে। এতে ছাত্ররা ছত্রভঙ্গ হয়েছে কলেজ ক্যাম্পাস ছেড়ে পালিয়ে যায়। বিষয়টি ফটিকছড়ি পৌরসভার মেয়র ইসমাইল হোসেন সমাধান করবেন বলেছিলেন। তাই ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি।
ইফতেখারুল ইসলাম/ইসলাম চৈতি/অমিয়/


