ঢাকার আলোচিত লোকমান হোসেন ভুঁইয়ার (ক্যাসিনো লোকমান হিসেবেই বেশি পরিচিত) বিরুদ্ধে এবার প্রতারণা মামলা করেছেন তার শাশুড়ি রেহেনা হুদা। মামলায় তার স্ত্রীকেও আসামি করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর হাকিমের আদালতে করা মামলার বিবরণে বলা হয়, ১ নম্বর আসামি বাদীর মেয়ের স্বামী এবং ২ নম্বর আসামি আপন মেয়ে।
মামলায় লোকমান হোসেনকে একজন অসৎ, শঠ, মতলববাজ, ঠকবাজ, জোর-জুলুমবাজ, চিহ্নিত প্রতারক এবং দেশজুড়ে আলোচিত ক্যাসিনো কাণ্ডের অন্যতম কুশীলব বলে উল্লেখ করা হয়।
মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, বাদী ১৯৭৭ সালে ৯৯ বছরের জন্য রাজউক থেকে ৫.৮৮ কাঠা আয়তনের ১৩ নং প্লটটি বরাদ্দ পান। যা ১৯৮৭ সালের ১৬ আগস্ট গুলশান সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে রেজিস্ট্রি হয়। নিজ মেয়ের জামাই হওয়ার সুবাদে এবং বাদী নিজে বেশির ভাগ সময় আমেরিকায় বসবাস করার কারণে একই সঙ্গে লোকমান হোসেনের একান্ত অনুরোধে ও আশ্বস্ততায় তার প্লটটি দেখাশুনা এবং ভাড়া আদায়ের দায়িত্ব মৌখিকভাবে তাকে দেন। এই সুযোগে লোকমান হোসেন নানা ছলাকলায় তার কাছ থেকে দলিলাদি হাতিয়ে নেন। যা আর ফেরত দেননি। এ ছাড়াও বিভিন্ন খরচের অজুহাতে ৩ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। বাদীর বিনা অনুমতিতে ওই প্লটে ভবন নির্মাণ করে ভাড়া দেন। বাদীর বাকি তিন কন্যাও আমেরিকা প্রবাসী হওয়ার কারণে কেউ আর প্লটের খোঁজখবর রাখতে পারেননি।
২০২২ সালের আগস্টে তারা জানতে পারেন কেউ একজন জাল-জালিয়তির মাধ্যমে আমমোক্তারনামা তৈরি করে তা রাজউকে জমা দিয়ে তাদের প্লটটি অন্যের নামে হস্তান্তরের পাঁয়তারা করছে। তা জানার পর তিনি রাজউকে যোগাযোগ করে জালিয়াতির চেষ্টার সত্যতা পান। বাদী গুলশান সাব-রেজিস্ট্রি অফিস থেকে ওই জাল আমমোক্তারনামার সত্যায়িত কপি তুলে হতবাক হয়ে পড়েন। তার আপন কন্যার জামাতা এই কাজটি করেছেন এবং তার মেয়ে এ কাজে সহযোগিতা করেছেন। জালিয়াতকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তিনি রাজউকে আবেদন করেন।
বাদীর আপত্তির ভিত্তিতে রাজউকের লিখিত অনুরোধে বিষয়টি তদন্ত করছে সিআইডি।
মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়, ১নং ও ২নং আসামিরা এরই মধ্যে জাল আমমোক্তারনামা ব্যবহার করে নিজের নামে বিদ্যুতের মিটার ইত্যাদি নিয়েছেন, যা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং অবৈধ।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে লোকমান হোসেন ভুঁইয়া খবরের কাগজকে বলেন, ‘মামলায় যা লিখছে তার একটি বাক্যও ঠিক না। মূলত তার নামে একটি মামলা হয়েছিল। ওই মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন তিনি। তার শাশুড়ি রেহেনা হুদা সেই সুযোগ নিয়েছেন। তিনি তার শাশুড়িকে ৬০ লাখ টাকা দিয়ে জমিটি কিনে নিয়েছেন। দলিলে সাক্ষী হিসেবে রেহেনা হুদার দুই মেয়ের স্বাক্ষর আছে। তার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। মামলাটি সিআইডি তদন্ত করছে উল্লেখ করে বলেন, তদন্তে আসল সত্য বেরিয়ে আসবে। তদন্তকারী সংস্থাকে তিনি তার সব তথ্য উপস্থাপন করবেন।’


