এবার চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) একুশে স্মারক সম্মাননা পদক ও সাহিত্য পুরস্কার পেয়েছেন ১৬ জন। তার মধ্যে ১০ জনকে একুশে স্মারক সম্মাননা পদক এবং ৬ জনকে সাহিত্য পুরস্কার দেওয়া হয়।
শুক্রবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সিআরবি শিরীষতলায় অমর একুশে বইমেলা মঞ্চে তাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।
স্মারক সম্মাননা ও পুরষ্কারপ্রাপ্তদের রয়েছেন- মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা আন্দোলনে শহীদ সাইফুদ্দিন খালেদ চৌধুরী (মরণোত্তর)। শিল্প উন্নয়ন ও সমাজসেবায় মো. নাছির উদ্দিন (মরণোত্তর), চিকিৎসায় ডা. মো গোফরানুল হক। নাট্যকলায় শিশির দত্ত, শিক্ষায় অধ্যাপক প্রদীপ চক্রবর্তী, সাংবাদিকতায় জসীম চৌধুরী সবুজ, সংবাদপত্র শিল্পের বিকাশ ও মানোন্নয়নে দৈনিক সুপ্রভাত বাংলাদেশের সম্পাদক রুশো মাহমুদ। এছাড়া সঙ্গীতে শ্রেয়সী রায়, ক্রীড়ায় জাকির হোসেন লুলু ও স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে শৈবাল চৌধুরী। তাছাড়া প্রবন্ধে (গবেষণা)-শামসুল আরেফীন ও ড. শামসুদ্দীন শিশির। কবিতায় আবসার হাবীব ও ডা. ভাগ্যধন বড়ুয়া। শিশুসাহিত্যে অরুণ শীল ও শিবুকান্তি দাশ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এমপি বলেন, বইমেলা মঞ্চ আজকে উনাদের সম্মানিত করার মাধ্যমে আমরা সম্মানিত হয়েছি৷ এভাবে গুণীজনদের সম্মাননা না জানালে জাতিতে গুণীজনদের জন্ম হবে না৷ বাংলাদেশে একটি সাংস্কৃতিক জাগরণ দরকার৷ যে জাগরণের জোয়ারে মৌলবাদ, জঙ্গীবাদ ভেসে যাবে৷ আমরা মানবিক ও সামাজিক কল্যাণ রাষ্ট্র গড়তে চাই৷ সেজন্য সবাইকে ভূমিকা রাখতে হবে৷
সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম সিটি মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা মো রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, চসিকের অমর একুশে বইমেলাকে আমি আন্তর্জাতিক বইমেলায় পরিণত করতে চাই৷ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রকাশনা ও বিখ্যাত লেখকদের মিলনমেলায় পরিণত করতে আয়োজন করতে চাই চট্টগ্রাম বইমেলা। এজন্য সকলের সহযোগিতা চাই। পাশাপাশি চসিকের নিজস্ব অর্থায়নে শিশুপার্ক করার জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সহযোগিতা চান মেয়র৷
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মুহম্মদ তৌহিদুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন অমর একুশে বইমেলার আহ্বায়ক ড. নিছার উদ্দিন আহমেদ মঞ্জু৷
এদিকে, ভাষা সৈনিক অধ্যাপক আসহাব উদ্দীন আহমদকে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) একুশে সম্মাননা মনোনীত করে অনুষ্ঠানের আগের দিন তার নাম বাদ দেয়ার কারণে চট্টগ্রামে সমালোচনার ঝড় উঠে। আসহাব উদ্দীনের নাতি বাঁশখালী উপকূলীয় কলেজের উপাধ্যক্ষ বশির উদ্দীন কনক জানান, চসিকের উপ-সচিব আশেক রসুল টিপু তাকে সপ্তাহ খানেক আগে ফোন করে ছিলেন। ফোনে তিনি জানান, তার (বশির) দাদা সম্মাননা পাচ্ছেন। তবে গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠানের আগের দিন ফোন করে জানান, তালিকা থেকে আসহাব উদ্দীনের নাম বাদ পড়েছেন।
জুড়িবোর্ডের সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাংবাদিক নওশের আলী খান খবরের কাগজকে জানান, তারা যে তালিকা দিয়েছেন সেখানে আসহাব উদ্দীনের নাম ছিল। পরে সিটি কর্পোরেশন কি কারণে তার নাম বাদ দিয়েছে তা তার জানা নেই।


