ঢাকা ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
বরিশালের পথে প্রধানমন্ত্রী, একঝলক দেখতে মহাসড়কে নেতাকর্মীদের ভিড় পূবালী ব্যাংকের ‘ক্যাশলেস রাজশাহী’ অনুষ্ঠানে ১৪টি ইলেকট্রনিক বুথের উদ্বোধন পানিবন্দি ৫ শতাধিক পরিবার হাত নেড়ে নেতাকর্মীদের ভালোবাসার জবাব দিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা ঢাকা ও দিল্লির জন্য তাৎপর্যপূর্ণ প্রধানমন্ত্রীর বরিশাল যাত্রা, শুভেচ্ছা জানালেন ফরিদপুরের হাজারো নেতাকর্মী প্রধানমন্ত্রীকে দেখতে মাওয়া প্রান্তে জনতার ঢল অপরূপা প্রজাপতি নীল পুনম শিল্প-শিক্ষা সহযোগিতা জোরদার করতে একসঙ্গে কাজ করবে ইউসিবিডি ও কারমো গ্রুপ ইউসিটিসিতে ‘ফ্রেশারস মিট অ্যান্ড গ্রিট’ অনুষ্ঠিত সেমিফাইনালে চার দৈত্য আদালতের রায়ে আইনি সংকটে মমতা ২৫ বছর পূর্ণের আগে পদত্যাগে মিলবে না পেনশন সুবিধা জয়পুরহাটে বজ্রপাতে যুবকের মৃত্যু দ. চীন সাগরে চীনের দাবিকে অবৈধ বলল ১৪ দেশ ও ইইউ শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাকে জেলে যেতে হবে: চিফ প্রসিকিউটর বরিশালে বিএনপির পৃথক মিছিল, স্পষ্ট বিভাজন! টানা বর্ষণের ক্ষত সড়কে বরিশালের পথে প্রধানমন্ত্রী দেশজুড়ে অব্যাহত থাকবে ভারী বর্ষণ ১৩ জুলাই: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ১৩ জুলাই: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল প্রথমবার ইংলিশ পরীক্ষা দেবেন মেসি পেলে-ম্যারাডোনার পাশে বেলিংহ্যাম ১৩ জুলাই ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি বিশ্বকাপ আমাকে বদলে দিয়েছে: হালান্ড ফ্রান্স-স্পেন ম্যাচ কে জিতবে, অপ্টার ভবিষ্যদ্বাণী সেমিফাইনালের আগে ফ্রান্সকে নিয়ে মন্তব্য, তোপের মুখে স্পেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিশ্বকাপে নতুন ইতিহাসের সামনে মেসি বিশ্বকাপে বিরল কীর্তি গড়ল সেমিফাইনালের ৪ দল

মেঘনায় অবৈধ বালুবাহী বাল্কহেড জব্দ, আটক ৭

প্রকাশ: ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১২:৩৬ পিএম
আপডেট: ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০১:১৯ পিএম
মেঘনায় অবৈধ বালুবাহী বাল্কহেড জব্দ, আটক ৭
চাঁদপুরে মেঘনা নদীতে অবৈধ বালুবাহী দুটি বাল্কহেডসহ সাতজন দুষ্কৃতিকারীকে আটক করেছে কোস্ট গার্ড। ছবি:খবরের কাগজ

চাঁদপুরে মেঘনা নদীতে অবৈধ বালুবাহী দুটি বাল্কহেডসহ সাতজন দুষ্কৃতিকারীকে আটক করেছে কোস্ট গার্ড।

শনিবার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে কোস্ট গার্ড চাঁদপুর স্টেশনের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট এম ফজলুর রহমান এই তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ‘গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার (৩১ জানুয়ারি) রাত ১১টার দিকে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ঢাকা জোন অধীনস্থ বিসিজি স্টেশন চাঁদপুর কর্তৃক চাঁদপুর সদর সংলগ্ন রনগোয়াল এলাকার মেঘনা নদীতে অবৈধ বালুবাহী বাল্কহেড এবং ড্রেজার জব্দের একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে বালুবাহী দুটি বাল্কহেডসহ সাতজন দুষ্কৃতিকারীকে আটক করা হয়েছে।’ 

পরবর্তী জব্দকৃত বাল্কহেড এবং আটক দুষ্কৃতিকারীদের আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চাঁদপুর সদর নৌ পুলিশের নিকট হস্তান্তর করা হয় বলে জানান এই কর্মকর্তা।

ফয়েজ/তাওফিক/ 

পানিবন্দি ৫ শতাধিক পরিবার

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৮ এএম
পানিবন্দি ৫ শতাধিক পরিবার
বুকসমান পানিতে ডুবে গেছে সড়ক। এর মধ্যে দিয়ে স্থানীয়দের প্রয়োজনীয় কাজ করতে হচ্ছে। চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার বড়দুয়ারা গ্রামের ভান্ডারীপাড়া থেকে গতকাল তোলা। ছবি: খবরের কাগজ

টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় সাঙ্গু নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে লোকালয়ে প্রবেশ করেছে। এতে বাজালিয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বড়দুয়ারা গ্রামের ৫ শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এ গ্রামের অধিকাংশ বসতঘরে হাঁটু থেকে বুকসমান পানি। অনেকে ঘরবাড়ি ছেড়ে আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে চলে গেছেন। আবার অনেকে প্রতিবেশীদের বাড়ির দোতলায় অবস্থান নিয়েছেন। অনেক পুরুষকে মসজিদের দোতলায় অবস্থান নিতে দেখা গেছে। কাঁচা-পাকা সড়কগুলো এখন পানির নিচে। কোথাও কোথাও নৌকা ছাড়া চলাচলের উপায় নেই।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গ্রামটিতে ৫ শতাধিক পরিবার বসবাস করে। বন্যার পানি বসতঘরে প্রবেশ করার পর থেকে এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে মাত্র ৫০ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। তবে শনিবার (১১ জুলাই) বিকেলে বড়দুয়ারা মাদক প্রতিরোধ ও সমাজ উন্নয়ন কমিটির উদ্যোগে ২ শতাধিক পানিবন্দি পরিবারের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়। এ ছাড়া গ্রামের বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও প্রবাসীর ব্যক্তিগত উদ্যোগে প্রতিদিন এক বেলা করে রান্না করা খাবার বিতরণ করা হচ্ছে।

আরও জানা যায়, পানিবন্দি অবস্থায় নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা সবচেয়ে বেশি কষ্টে রয়েছেন। নিরাপদ শৌচাগারের অভাব, বিশুদ্ধ পানির সংকট এবং স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ না থাকায় তারা বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। আবার বুড়ির দোকান ব্রিজ এলাকায় কেরানীহাট-বান্দরবান মহাসড়ক কোমরসমান পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় অনেক বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তি সরকারি কিংবা বেসরকারি হাসপাতালে স্বাভাবিকভাবে যাতায়াত করতে পারছেন না। এতে তারা চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ ছাড়া এ গ্রামের বিস্তীর্ণ কৃষিজমি, সবজিখেত, পুকুর ও মাছের প্রজেক্ট পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে অনেকেই আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

বড়দুয়ারা গ্রামের গর্জন্যাপাড়ার বাসিন্দা নুরুল ইসলাম বলেন, ‘তিন বছর পর এত বড় বন্যা দেখলাম। বাড়ির ভেতর পানি উঠে যাওয়ায় পরিবারের সদস্যদের এক নিকটাত্মীয়ের বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়ে আমি এলাকায় অবস্থান করছি। বাড়িতে থাকা আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের অনেক ক্ষতি হয়েছে। কিন্তু দুঃখের বিষয়, এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের সরকারি শুকনো খাবার বা ত্রাণসামগ্রী পাইনি।’

ওই এলাকার বাসিন্দা সাজেদা বেগম বলেন, ‘ছেলেমেয়ে নিয়ে খুব কষ্টে আছি। এক প্রতিবেশীর বাড়ির দোতলায় আশ্রয় নিয়েছি। এখানে রান্না করার কোনো পরিবেশ নেই। সরকারিভাবে কোনো ত্রাণও পাইনি। তবে ব্যক্তি উদ্যোগে প্রতিদিন এক বেলা করে রান্না করা খাবার বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।’

একই গ্রামের বড় হুজুর পাড়ার যুবক মো. মহিউদ্দিন বলেন, ‘২০২৩ সালের পর এবার ভয়াবহ বন্যা দেখলাম। এ বন্যায় আমাদের গ্রামের প্রায় ৯৫ শতাংশ মানুষ পানিবন্দি ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। অথচ যাদের ক্ষতি হয়নি তারাই ত্রাণসামগ্রী পাচ্ছেন। এখানকার বিস্তীর্ণ ফসলে জমি পানির নিচে চলে গেছে। অসংখ্য পুকুরের মাছ ভেসে গেছে।’

সাতকানিয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, ‘উপজেলার জন্য এখন পর্যন্ত ৯ লাখ টাকা ও ১৭৫ টন চাল বরাদ্দ পেয়েছি। এখন পর্যন্ত ওই টাকার শুকনো খাবার এবং ৯০ টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। আমরা পর্যায়ক্রমে প্রতিটি এলাকায় সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছি।’

তিনি বলেন, ‘বাজালিয়া ইউনিয়নের জন্য ১ টন চাল বারাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া দ্রুত সময়ের মধ্যে বড়দুয়ারা এলাকায় ত্রাণসামগ্রী পৌঁছানো হবে। এ বিষয়ে আমি প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং স্থানীয় ইউপি সদস্যের সঙ্গে কথা বলেছি।’

জয়পুরহাটে বজ্রপাতে যুবকের মৃত্যু

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫৬ এএম
জয়পুরহাটে বজ্রপাতে যুবকের মৃত্যু
খবরের কাগজ ইনফোগ্রাফিক

জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলায় বজ্রপাতে রাশেদুল ইসলাম (২৩) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।

রবিবার (১২ জুলাই)  রাত ৮টার দিকে বাঁশখুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। রাশেদুল ইসলাম একই গ্রামের মোজাফ্ফর রহমানের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, রাশেদুল রাত ৮টার দিকে শালাইপুর বাজার থেকে সাইকেলে করে বাড়ি ফিরছিলেন। এসময় বৃষ্টির মধ্যে বজ্রপাতে গুরুতর আহত হন তিনি। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পাঁচবিবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজ মোহাম্মদ রায়হান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, মরদেহ বর্তমানে হাসপাতালে রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে।

সাগর/এএফ

টানা বর্ষণের ক্ষত সড়কে

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪৫ এএম
আপডেট: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫২ এএম
টানা বর্ষণের ক্ষত সড়কে
টানা বর্ষণের কারণে জমে থাকা পানির কারণে সড়কের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে, যা পানি নেমে যাওয়ার পর দৃশ্যমান হয়। চট্টগ্রাম নগরীর রূপাবাদ এলাকা থেকে গতকাল তোলা। ছবি: খবরের কাগজ

চট্টগ্রামে আট দিন ধরে ভারী বর্ষণ চলছে। নগরীতে ঘটেছে পাহাড়ধস আর প্রাণহানির মতো ঘটনা। নষ্ট হয়েছে নিচু এলাকার বাসিন্দাদের ঘর, আসবাবপত্র, দোকানের মালামাল। কোমরসমান পানিতে ভোগান্তিও সয়েছেন অনেকে। বর্তমানে বৃষ্টি অব্যাহত থাকলেও সড়ক থেকে পানি নেমে গেছে। তবে বেরিয়ে এসেছে রাস্তার ক্ষত। ছোট-বড় খানাখন্দ সৃষ্টি হওয়ায় বিপাকে পড়ছেন গাড়িচালকরা। সেই সঙ্গে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন যাত্রীরা।

রবিবার (১২ জুলাই) সকালে সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, নগরীর হালিশহর এলাকায় পোর্ট কানেকটিং রোড, উত্তর আগ্রাবাদ, ঈদগাঁ রোড, সিডিএ অ্যাভিনিউ, মুরাদপুর, অক্সিজেন, বায়েজিদ বোস্তামী সড়ক, জিইসি, অক্সিজেন-কুয়াইশ সংযোগ সড়ক, আমবাগান সড়ক, মুরাদপুরসহ বিভিন্ন এলাকার সড়ক খানাখন্দে ভরা। ঈদগাঁ এলাকার নজির আহমদ সড়ক ও রঙ্গীপাড়া এলাকায় ওয়াসার স্যুয়ারেজ প্রকল্পের কাজের কারণে খোঁড়াখুঁড়ির পর আর ঢালাই করা হয়নি। এসব সড়কে যাতায়াতকারী চালকরা বলছেন, টানা বৃষ্টির কারণে নগরীর বিভিন্ন সড়কে পানি জমে যাওয়ায় ছোট-বড় খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। ফলে গাড়ি চালানো দায় হয়ে পড়েছে। ছোট-বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

নগরীর রঙ্গীপাড়া এলাকার বাসিন্দা আল আমিন বলেন, ‘এই এলাকার সড়কটি দুই বছর আগেও খুব সুন্দর ছিল। ওয়াসার স্যুয়ারেজের কাজের কারণে ভালো পিচ ঢালা সড়কটি মেশিন দিয়ে কেটে ফেলা হয়। এরপর এ অঞ্চলের বাসিন্দাদের জীবনে নেমে আসে ভোগান্তি। দুই বছর ধরে মানুষ কষ্ট পাচ্ছেন। এই এলাকায় গাড়ি আনতে গেলে বাড়তি ভাড়া গুনতে হচ্ছে। সম্প্রতি বৃষ্টির কারণে সড়কের অবস্থা আরও বেহাল হয়ে গেছে। আমরা সিটি করপোরেশনের কাছে এই সড়কটি দ্রুত সংস্কার করে দেওয়ার অনুরোধ জানাই।’

অক্সিজেন এলাকার বাসিন্দা ইমরানুল হক বলেন, ‘অক্সিজেন মোড় থেকে শুরু করে আশপাশের সংযুক্ত সড়কগুলোর অবস্থা বেহাল। কারও কোনো মাথাব্যথা নেই। মুরাদপুর, অক্সিজেন দুই নম্বর গেট সড়কের অবস্থাও ভালো না। অথচ এগুলো নগরীর ব্যস্ত সড়ক। দ্রুত এসব সড়ক মেরামত করা না হলে যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।’

গত এক সপ্তাহের ভারী বর্ষণের সঙ্গে জোয়ারের পানি একত্রিত হওয়ায় নগরীর বিভিন্ন এলাকায় কোথাও কোমরসমান, আবার কোথাও হাঁটুপানি উঠে যায়। ক্ষয়ক্ষতিও হয়েছে অনেক। তবে কী পরিমাণ সড়কের ক্ষতি হয়েছে তা এখনো নিরূপণ করেনি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। সংস্থাটি জানিয়েছে, ক্ষয়ক্ষতি চিহ্নিতকরণ এবং করণীয় ঠিক করতে ৪ সংসদীয় আসনভিত্তিক সমন্বয় কমিটি গঠন করা হবে।

জানতে চাইলে চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, নগরীর জলাবদ্ধতা ও সাম্প্রতিক রেকর্ড বৃষ্টিতে ক্ষয়ক্ষতি চিহ্নিতকরণ এবং করণীয় সুপারিশে চারটি সংসদীয় আসনভিত্তিক সমন্বয় কমিটি গঠন করা হবে। প্রতিটি কমিটিতে সংশ্লিষ্ট সব সেবা সংস্থার প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে, যাতে সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে সমস্যাগুলো দ্রুত চিহ্নিত ও সমাধান করা যায়।

তিনি বলেন, চট্টগ্রামের নাগরিক সমস্যাগুলো কোনো একক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সমাধান করা সম্ভব নয়। সমন্বিত উদ্যোগই এ সমস্যার স্থায়ী সমাধানের একমাত্র পথ। প্রতিটি কমিটিতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ), চট্টগ্রাম ওয়াসাসহ সংশ্লিষ্ট সব সেবা সংস্থার প্রতিনিধিরা থাকবেন। কমিটিগুলো সাম্প্রতিক রেকর্ড বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামোর পরিমাণ, জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকা, খাল-নালা, ড্রেনেজব্যবস্থা এবং ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো সংস্কারে করণীয় সরেজমিনে চিহ্নিত করবে। এরপর সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ নিশ্চিত করা হবে। এতে জনগণের দুর্ভোগ কমবে এবং উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন আরও গতিশীল হবে।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ বিশ্বজিৎ চৌধুরী জানিয়েছেন, গত এক দিনে (রবিবার বেলা ৩টা পর্যন্ত) ১৫১ দশমিক ৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টির প্রবণতা এখনো অব্যাহত রয়েছে। চট্টগ্রামেও ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণের আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতা এবং পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের ঝুঁকিও রয়েছে। 

সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো মরদেহ ভাসানোর খবর গুজব: ইউএনও

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬, ১১:২৪ পিএম
আপডেট: ১২ জুলাই ২০২৬, ১১:২৬ পিএম
সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো মরদেহ ভাসানোর খবর গুজব: ইউএনও
ছবি: সংগৃহীত

সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসান জানিয়েছেন, বন্যার ফলে কবরস্থানে দাফন করার মতো জায়গা না পেয়ে একটি মরদেহ কলাগাছের ভেলায় ভাসিয়ে দেওয়ার যে ভিডিওটি ভাইরাল হয়েছে এটি সম্পূর্ণ গুজব। মূলত যে ব্যক্তি মারা গেছেন তিনি তার ছেলের সঙ্গে কলাগাছের ভেলা নিয়ে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন। তিনি সেখানে হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে মাথা ঘুরে পড়ে যান। এরপর তাকে ওই ভেলায় করে বাড়িতে নেওয়ার পর হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করলে জানাজা সহকারে তার দাফন কার্য সম্পন্ন হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা মাওলানা মাহমুদুল করিম কাসেমী বলেন, ওইদিন আসরের নামাজের পর ফোরকান মাছ ধরার সময় অসুস্থ হয়ে পড়লে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কলাগাছের ভেলার সাহায্যে কেরানীহাট এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করলে পুনরায়  ভেলার সাহায্যে বাড়িতে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে দাফন করার মতো কোন জায়গা না থাকায় আমিসহ স্থানীয় ইউপি সদস্য এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গরা সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে দস্তিদারহাট এলাকার ফকিরমুড়া নামক একটি পাহাড়ে দাফন করার সিদ্ধান্ত হয়। এরপর ওইদিন রাত ৯টার দিকে দস্তিদারহাট বাজারে জানাজা শেষে সেখানে তাকে দাফন করা হয়। আমি নিজেও সেখানে উপস্থিত ছিলাম।

প্রসঙ্গত, উপজেলার কেঁওচিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালক মো. ফোরকান বাড়ির পাশে মাছ ধরার সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মারা যান। এরপরও পরিবারের সদস্যরা তিনি বেঁচে আছেন মনে করে স্থানীয়দের সহযোগিতায় হাসপাতালে নেওয়ার জন্য ৩০০ গজ দূরে অপেক্ষমান সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তোলার জন্য কলাগাছের ভেলার সাহায্যে নিয়ে যাওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি দ্রুত সময়ের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায়। নেটিজেনরা এ ভিডিওটিকে কবর দেওয়ার মতো জায়গা না পেয়ে মরদেহ ভেলায় বেঁধে ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছে দাবি করে প্রচার করতে থাকেন।

আরিফুল ইসলাম/এসএন

সোনারগাঁয়ে বাবা ছেলেকে কুপিয়ে জখম

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬, ১০:২৮ পিএম
সোনারগাঁয়ে বাবা ছেলেকে কুপিয়ে জখম
ছবি: খবরের কাগজ

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের সাত ভাইয়াপাড়া এলাকায় বাবা ছেলেকে কুপিয়ে জখম করেছে প্রতিপক্ষরা।

 শনিবার সকালে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

এ ঘটনায় রবিবার (১২ জুলাই) দুপুরে আহত রাহুল আহমেদ বাদি হয়ে সোনারগাঁ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। 

জানা যায়, উপজেলার সাত ভাইয়া পাড়া গ্রামের জসীমউদ্দিন এলাকায় বিচার শালিস করে থাকেন। একই এলাকার হারকিউলিকসের ছেলে সেজান বিভিন্ন অপরাধ মূলক কর্মকান্ডে জড়িত। এ বিষয়ে শালিশকারী জসীমউদ্দিন শাসন করার তার সাথে বিরোধ দেখা দেয়৷ শনিবার সকালে জসীমউদ্দিনের মুদি দোকানের সামনে সেজানের নেতৃত্বে  রাতুল মিয়া, সজিব মিয়া, মাছুম মিয়া, মাসুদ রানা সহ অজ্ঞাতনামা ৩-৪ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র দা, চাপাতি, চাইনিজ কুড়াল, সুইস গিয়ার চাকু, লোহার রড, এসএস পাইপ নিয়ে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করিতে থাকে। এসময় গালাগালি করিতে নিষেধ করে।

এক পর্যায়ে এলোপাতাড়ীভাবে মারধর করে ও চুরিকাঘাত করে। এসময় দোকানে থাকার মালপত্র ও নগদ টাকা লুট করে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে আহতের পরিবারের লোকজন ও তার ছেলে রাহুল আহমেদ  উদ্ধার করে  তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। দুপুরে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরার পথে ছেলে রাহুল আহমেদকে কুপিয়ে জখম করে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। 

আহত জসীমউদ্দিন বলেন, সেজানকে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়ার কারনে তার লোকজন নিতে তাকে ও তার ছেলেকে কুপিয়ে আহত করে। দোকানে হামলা করে করে লুটপাট ভাংচুর করে। কেউ প্রতিবাদ করতে গিয়ে হামলার শিকার হলে কেউ আর অপরাধের প্রতিবাদ করবে না। 

অভিযুক্ত সেজানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তার ব্যবহৃত মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। খুদে বার্তা দিয়েও সাড়া পাওয়া যায়নি।

সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কমর্কর্তা (ওসি) মো. গোলাম সারোয়ার বলেন, বাবা ছেলেকে কুপিয়ে জখম করার ঘটনায় অভিযোগ গ্রহন করা হয়েছে। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

মো: ইমরান হোসেন/এসএন