ঢাকা ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবীদের লম্বা ছুটির সুযোগ ২২ আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে উত্তরা ইউনিভার্সিটির সমঝোতা আয়াতুল্লাহ খামেনির জানাজায় অংশ নিতে ইরানের পথে স্পিকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগে জটিলতা কাটল দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির ডিজিটাল নজরদারিতে আসছে ‘ট্রি মনিটরিং অ্যাপ’ ঢাকাসহ দেশের ১৬ অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টির আভাস আদাবরে ‘বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে দ্বন্দ্বে’ বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে হত্যা লক্ষ্মীপুরের ২ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনসার নিয়োগ পঞ্চগড়ে ইউএনওর বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ করা নারীর বিরুদ্ধে মামলা পর্তুগাল-ক্রোয়েশিয়ার ম্যাচকে ‘দ্বিতীয় বিশ্বকাপের’ মতো দেখবেন মার্টিনেজ ফুটবল বিশ্বকাপ ঘিরে রমরমা বাণিজ্য মুখোমুখি রোনালদো-মদ্রিচ: বিদায় নেবেন কে? মেসির কাঁধে এমবাপ্পের গরম নিশ্বাস স্পেনের হয়ে পুরো ম্যাচ খেলার মতো ফিট লামিন ইয়ামাল: দে লা ফুয়েন্তে বেরোবিতে জুলাই শহিদদের স্মরণে ছাত্রদলের মোমবাতি প্রজ্বালন দোহায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠক: তেহরানের দুই টার্গেট এনসিপি নেতা ভূমি অফিসের দালালকে ছাড়াতে ম্যাজিস্ট্রেটকে ফোন, অডিও ভাইরাল সিলেটে স্কুলছাত্রী ধর্ষণ: ১৪ বছর পর দুজনের মৃত্যুদণ্ড ক্রিপ্টো থেকেই বছরে ট্রাম্পের আয় ১৪০ কোটি ডলার বিলুপ্তির পথে ‘জীবন্ত জীবাশ্ম’ গিটারফিশ ফ্রি কিকে গোল, কে এই মার্কিন গোলস্কোরার? বাজেট পাস: চূড়ান্ত বাজেটে কী বদলাল, কী বদলাল না? নকশাদার উল্কি গান্ধিপোকা মঙ্গোলিয়ার ‘নাদাম ফেস্টিভ্যালে’ সিলেটের রাজীব চৌধুরী আগামীতেও  পথ দেখাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়: ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী কেন মাঠ ছাড়তে হলো মার্কিন ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগানকে? লোকোমোটিভ, ক্যারেজসংকট: ২৬৭৮১ কোটির মহাক্রয় প্রকল্প নিচ্ছে রেলওয়ে পাসিংয়ের শিল্প ও প্রেসিংয়ের ঝড় শেষ ষোলোয় কার মুখোমুখি হবে যুক্তরাষ্ট্র? ২ জুলাই: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল

রংপুরে পশুখাদ্যের দাম বেশি হওয়ায় লোকসানের শঙ্কা

প্রকাশ: ২১ মে ২০২৫, ১১:৪৩ এএম
রংপুরে পশুখাদ্যের দাম বেশি হওয়ায় লোকসানের শঙ্কা
ফাইল ফটো

রংপুরে কোরবানির ঈদ ঘিরে গরু, ছাগল ও ভেড়া মিলিয়ে সাড়ে তিন লাখের বেশি পশু প্রস্তুত হয়েছে। খামারিরা ভালো দামের আশায় প্রস্তুতি নিচ্ছেন। অনেকে অনলাইনেও বিক্রি শুরু করেছেন। তবে পশুখাদ্যের দাম বেশি হওয়ায় ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তারা। খামারিরা খাদ্যে ভর্তুকি চান। বাজার ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা চেয়েছেন সংশ্লিষ্টদের কাছে।

জেলা প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর চাহিদার চেয়ে প্রায় দেড় লাখ পশু বেশি রয়েছে। কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ৩ লাখ ৬৩ হাজার গবাদিপশু প্রস্তুত করেছেন গৃহস্থ ও খামারিরা। এর বিপরীতে চাহিদা রয়েছে ২ লাখ ২৪ হাজার ৭৫১টি। ফলে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৫৬১টি পশু উদ্বৃত্ত থাকবে।

চলতি বছর জেলায় ২৫ হাজার ৬৭১টি খামার থেকে গরু উৎপাদন হয়েছে ১ লাখ ৫৪ হাজার ৩২৩টি। এর মধ্যে ষাঁড় ৯৭ হাজার ৪৭১টি, বলদ ২৩ হাজার ২২৫টি, গাভী ৩৩ হাজার ৬২৭টি, মহিষ ১৫২টি, ছাগল ১ লাখ ৯১ হাজার ৫৩টি এবং ভেড়া ১৭ হাজার ৭৬৮টি।

উপজেলা পর্যায়ে চাহিদা ও উৎপাদনের হিসাব অনুযায়ী, রংপুর সদরে চাহিদা ২৭ হাজার ৩৪১টি, উৎপাদন ৫৭ হাজার ৩৪৭টি পশু। বদরগঞ্জে চাহিদা ২১ হাজার ২৬২টি, উৎপাদন ৪০ হাজার ৭২৩টি পশু। মিঠাপুকুরে চাহিদা ৬৩ হাজার ৮৬টি, উৎপাদন ৮৬ হাজার ৬৪১টি পশু। পীরগঞ্জে চাহিদা ৪৪ হাজার ৪৩৮টি, উৎপাদন ৬৯ হাজার ৮২টি পশু। পীরগাছায় চাহিদা ১৯ হাজার ৭৪০, উৎপাদন ৩৮ হাজার ৩৬৩টি পশু। কাউনিয়ায় চাহিদা ১৭ হাজার ২৩৯টি, উৎপাদন ২৫ হাজার ৬৪২টি পশু। গঙ্গাচড়ায় চাহিদা ১৭ হাজার ৬০৩টি, উৎপাদন ২৩ হাজার ১৯৩টি পশু এবং তারাগঞ্জে চাহিদা ১৪ হাজার ৪১, উৎপাদন ২২ হাজার ১২১টি পশু।

এদিকে কোরবানির হাটে ভালো দামের আশায় খামারিরা পশুর অতিরিক্ত পরিচর্যা শুরু করেছেন। অনেক খামারি ইতোমধ্যে বিক্রিও শুরু করেছেন। দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম। তবে পশুখাদ্যের দাম তুলনামূলকভাবে বেশি হওয়ায় লোকসানের শঙ্কা করছেন খামারি ও গৃহস্থরা। এ জন্য তারা পশুপালনে ভর্তুকি এবং পশুখাদ্যের দাম কমানোর দাবি জানিয়েছেন।

সদরের বধু কমলা এলাকার খামারি রীনা বেগম বলেন, ‘আমার খামারে ৩৮টি গরু আছে। এই গরু পালন করি ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনা চালানোর জন্য। কিন্তু পশুখাদ্যের যে দাম, তাতে এখন গরু পালন করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তাই সংশ্লিষ্টদের কাছে অনুরোধ, পশুখাদ্যের দাম কমানো হোক।’

রংপুর ডেইরি ফার্মার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি লতিফুর রহমান মিলন বলেন, ‘এই অঞ্চলে কোরবানির ঈদ উপলক্ষে স্বাভাবিকভাবে গরু উদ্বৃত্ত থাকে। এই গরুগুলোকে যেন অন্যান্য অঞ্চলে নেওয়া যায়, যেখানে চাহিদা বেশি- সেই ব্যবস্থা করতে হবে। বাজার বিপণন ব্যবস্থাটা সুষ্ঠু করতে হবে, যাতে খামারিরা ক্ষতির মুখে না পড়েন। আর পশুখাদ্যের যে দাম, তা রাষ্ট্রীয়ভাবে কমানো গেলে খামারি ও গৃহস্থরা স্বস্তি পাবেন।’

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আবু ছাঈদ বলেন, ‘এবার রংপুরে যে পশু উদ্বৃত্ত আছে, তাতে করে রংপুরের খামারিরা ভালো দাম পাবে। হাট-বাজারগুলোতে আমাদের মেডিকেল টিম থাকবে, যেন অসুস্থ পশুকে দ্রুত চিকিৎসা দেওয়া যায়। আর রাস্তাঘাটে গরু পরিবহনের সময় ট্রাক থেকে যেন কোনো চাঁদা না নেওয়া হয়, সে বিষয়টি পুলিশ প্রশাসনকে নিশ্চিত করতে হবে।’

লক্ষ্মীপুরের ২ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনসার নিয়োগ

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ১০:২৯ এএম
আপডেট: ০২ জুলাই ২০২৬, ১০:৩৯ এএম
লক্ষ্মীপুরের ২ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনসার নিয়োগ
কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

লক্ষ্মীপুরের রামগতি ও কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সার্বিক নিরাপত্তা ও চিকিৎসকদের কর্মপরিবেশ নির্বিঘ্ন করতে ২০ জন সশস্ত্র আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

বুধবার (১ জুলাই) সরকারের বিশেষ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দুই উপজেলায় ১০ জন করে আনসার নিয়োগ করা হয়।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, এই সশস্ত্র আনসার মোতায়েনের ফলে হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা বাড়বে।

একই সঙ্গে বহিরাগতদের আনাগোনা ও হাসপাতালে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।

জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকদের নিরাপত্তা ও নিরাপদ কর্মপরিবেশের দাবি জানিয়ে আসছিল উপজেলা হেলথ অ্যান্ড ফ্যামিলি প্ল্যানিং অফিসার্স ফোরাম।

সার্বক্ষণিক সহযোগিতার জন্য চিকিৎসকদের সুরক্ষায় সরকারের এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সাধারণ জনগণ। একই সঙ্গে আন্তরিক প্রচেষ্টা ও সার্বক্ষণিক সহযোগিতার জন্য ইউএইচএফপিও ফোরামের সব কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় প্রতিনিধিকে বিশেষ ধন্যবাদ জানানো হয়।

হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, নতুন এই নিরাপত্তা ব্যবস্থার মাধ্যমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোর শৃঙ্খলা ফিরে আসবে এবং রোগীরা কোনোরকম ভয়ভীতি ছাড়াই নির্বিঘ্নে শতভাগ চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করতে পারবেন।

এ বিষয়ে রামগতি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কামনা শীষ মজুমদার বলেন, 'আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি ও বর্তমান সরকারের প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে হাসপাতালে ১০ জন সশস্ত্র আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। হাসপাতালগুলোতে প্রায়ই নানা ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হতো। যা চিকিৎসকদের নিরবচ্ছিন্ন সেবা প্রদানে বাধা সৃষ্টি করত। এখন সশস্ত্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু হওয়ায় হাসপাতালের সার্বিক শৃঙ্খলা ফিরে আসবে এবং আমাদের চিকিৎসক ও স্টাফরা নির্ভয়ে ও মনোযোগী হয়ে রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিতে পারবেন। প্রধানমন্ত্রী এবং সার্বক্ষণিক সহযোগিতার জন্য ইউএইচএফপিও ফোরামের প্রতিনিধিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।'

কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহবুবুর রহমান বলেন, 'দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতের দাবি জানানো হয়েছে। কমলনগরে ১০ জন সশস্ত্র আনসার সদস্যের যোগদানের মধ্য দিয়ে হাসপাতালের সার্বিক নিরাপত্তায় ধন্যবাদ জানাই। প্রায়ই বহিরাগতদের কারণে হাসপাতালের স্বাভাবিক চিকিৎসা কার্যক্রম ব্যাহত হতো এবং চিকিৎসক-নার্সরা এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক ঝুঁকিতে থাকতেন। এই সশস্ত্র পাহারার ফলে হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বজায় থাকবে এবং রোগীরাও নিরাপদ ও শান্তিময় পরিবেশে সেবা নিতে পারবেন।

রফিকুল ইসলাম/তামান্না রুপা/

পঞ্চগড়ে ইউএনওর বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ করা নারীর বিরুদ্ধে মামলা

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ১০:২১ এএম
আপডেট: ০২ জুলাই ২০২৬, ১০:৩৪ এএম
পঞ্চগড়ে ইউএনওর বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ করা নারীর বিরুদ্ধে মামলা

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজ শাহীন খসরুর বিরুদ্ধে গ্রামপুলিশে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভ করা রেহেনা বেগম উর্মির বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা করা হয়েছে।

বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে তেঁতুলিয়া থানায় মামলাটি করেন তেঁতুলিয়া উপজেলা প্রশাসনের চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী মনোয়ার হোসেন।

মামলায় ওই নারীসহ অজ্ঞাতনামা ৫-৬ জনকে আসামি করা হয়েছে। 

এই তথ্য নিশ্চিত করে পঞ্চগড় পুলিশ সুপার আবু সাইম বলেন, মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে আসামি গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া চলছে।

গত সোমবার তেঁতুলিয়া উপজেলার পরিষদ চত্বরে ইউএনও আফরোজ শাহীন খসরুর বিরুদ্ধে ছেলের গ্রামপুলিশে চাকরি দেওয়ার কথা বলে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ তুলে ফেইসবুকে লাইভ করেন তেঁতুলিয়া মাগুরা এলাকার বাসিন্দা রেহেনা বেগম উর্মি। পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ওই নারী জেলা প্রশাসক বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেন। ঘটনার পর থেকে নানা হুমকি ধামকি ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিলেন বলে দাবি করেন ওই নারী।

এ বিষয়ে জানতে মামলার বাদী মনোয়ার হোসেনের নাম্বারে একাধিকবার কল করলেও থাকে পাওয়া যায়নি। 

রনি মিয়াজী/আজহার/

সোনারগাঁয় সেতুর নিচের ময়লার ভাগাড়, অতিষ্ট জনজীবন

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ১১:১০ পিএম
সোনারগাঁয় সেতুর নিচের ময়লার ভাগাড়, অতিষ্ট জনজীবন
সোনারগাঁওয়ে মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকায় সেতুর নিচে ময়লার ভাগাড়, দুর্গন্ধে নাকাল স্থানীয়রা। ছবি: খবরের কাগজ

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকায় মারিখালি নদীর ওপর নির্মিত সেতুর নিচে অবাধে ময়লা-আবর্জনা ফেলার কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। দীর্ঘদিন ধরে জমতে থাকা বর্জ্যের স্তূপ এখন স্থায়ী ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। দ্রুত ময়লা অপসারণের দাবি জানান পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

এদিকে পরিবেশ রক্ষায় নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিবেশ অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও স্থানীয় প্রশাসনসহ বিভিন্ন দপ্তরে স্বারকলিপি দেওয়া হয়েছে বলে জানান পরিবেশ রক্ষা ও উন্নয়ন সোসাইটি কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন স্থানীয়দের সহযোগিতায় ১৮ জুন ওই এলাকায় পরিদর্শন গিয়ে ময়লা অপসারণ করেন। এলাকায় যাতে কেউ আর ময়লা না ফেলে সে নির্দেশনা দেওয়া হলেও কেউই মানছেন না।

জানা যায়, এ সেতুর নিচেই দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় এলাকাবাসী ও বাজারের লোকজন ময়লা ফেলেই ভাগাড়ে পরিনত করেছেন। ময়লা থেকে নির্গত তীব্র দুর্গন্ধ আশপাশের পরিবেশকে অসহনীয় করে তুলেছে। এ সেতুর নিচ দিয়ে যানবাহন ও লোকজনের চলাচলের জন্য ইউর্টান রয়েছে। এ পথে প্রতিনিয়ত অনেক পথচারীর পারাপার।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনের পর দিন বিভিন্ন এলাকা থেকে ট্রলি, ভ্যান ও ছোট যানবাহনে করে এখানে ময়লা এনে ফেলা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর নজরদারি না থাকায় ময়লার পরিমাণ ক্রমেই বাড়ছে। এতে একদিকে যেমন পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে, অন্যদিকে জনস্বাস্থ্যের জন্যও তৈরি হচ্ছে মারাত্মক ঝুঁকি।

স্থানীয় বাসিন্দা আশরাফুল আলম বলেন, মোগরাপাড়া চৌরাস্তা দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করে। কিন্তু ময়লার দুর্গন্ধের কারণে এখানে কয়েক মিনিট দাঁড়ানোও কঠিন। বৃষ্টি হলে ময়লার পানি আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে। তখন পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। নদীর পানিও দূষিত হচ্ছে।

পরিবেশ রক্ষা ও উন্নয়ন সোসাইটির সভাপতি মোহাম্মদ হোসাইন জানান, এ এলাকায় যেন ময়লা ফেলার প্রতিযোগিতা চলে। প্রতিদিনই ব্যাপক ময়লা ফেলা হয়। সামান্য বৃষ্টিতেই ময়লার পাশে পানি জমে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। এতে মশা-মাছির উপদ্রব বাড়ছে। ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, খোলা জায়গায় এভাবে ময়লা ফেলা পরিবেশ সংরক্ষণের নীতিমালার পরিপন্থী। দ্রুত ময়লা অপসারণের পাশাপাশি একটি আধুনিক ও পরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ আল জিনাত বলেন, সেতুর নিচে ময়লার স্তুপ তৈরি হওয়া সত্যিই দুঃখজনক। সমস্যাটি সমাধানে আমরা কাজ করছি। আমরা ইতিপূর্বে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে কিছু ময়লা অপসারণ করা হয় এবং এ এলাকায় ময়লা না ফেলার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সমস্যাটির স্থায়ী সমাধানে পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, তিন ধাপে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা হবে। প্রথম ধাপে বর্তমান ময়লার স্তূপ সম্পূর্ণ অপসারণ ও এলাকা পরিষ্কার করা হবে। দ্বিতীয় ধাপে সেখানে যাতে আর কেউ ময়লা ফেলতে না পারে, সে জন্য প্রয়োজনীয় নজরদারি ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তৃতীয় ধাপে উপজেলার জন্য একটি নির্ধারিত ও পরিবেশসম্মত স্থায়ী ডাম্পিং ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে। পরিবেশ রক্ষায় প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

ইমরান/এএফ

টেকনাফে জেলের জালে মিলল ৫ কোটি ১০ লাখ টাকা মূল্যের ইয়াবা

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ০৯:০৮ পিএম
টেকনাফে জেলের জালে মিলল ৫ কোটি ১০ লাখ টাকা মূল্যের ইয়াবা
জব্দ করা ইয়াবা ও আটক ছদ্মবেশী জেলে। ছবি: খবরের কাগজ

কক্সবাজারের টেকনাফে ছদ্মবেশী এক জেলের জাল থেকে ১ লাখ ৭০ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ ইয়াবার বাজার মূল্য ৫ কোটি ১০ লাখ টাকা। এ সময় আজিজুল হক (৩৮) নামে ছদ্মবেশী এক জেলেকে আটক করে বিজিবি।

বুধবার (১ জুলাই) টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি)-এর অধীনস্থ নাজিরপাড়া বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। 

বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন, টেকনাফ ব্যাটালিয়ন ২ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল হানিফুর রহমান ভুঁইয়া।

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারেন মায়ানমার থেকে নাফ নদী পেরিয়ে ইয়াবার একটি বড় চালান টেকনাফ সদর নাজির পাড়া সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করবে। এ তথ্য পেয়ে আলু গোলা পোস্ট সংলগ্ন শফি চেয়ারম্যানের মাছের ঘের এলাকায় বিজিবির একটি বিশেষ দল অবস্থান নেয়। পরে আনুমানিক বেলা ১১টার দিকে তিনজন জেলেকে আসতে দেখে বিজিবি। ওই জেলেরা আসলে জেলের ছদ্মবেশে মাছ ধরার অভিনয় করে ইয়াবার চালানটি নিয়ে বেড়িবাঁধের দিকে আসছিল। এ সময় বিজিবি সদস্যরা তাদের থামার সংকেত দিলে তারা পালানোর চেষ্টা করেন। পরে বিজিবি তাদের ধাওয়া করে একজনকে আটক করতে পারলেও অন্য দুজন পালিয়ে যান।

আটক ব্যক্তির সঙ্গে থাকা ঠেলা জাল তল্লাশি করে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা ১ লাখ ৭০ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করে বিজিবি। আটক আজিজুল হক টেকনাফ উপজেলার দক্ষিণ ডেল পাড়া এলাকার বাসিন্দা।

এ বিষয়ে টেকনাফ ব্যাটালিয়ন ২ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল হানিফুর রহমান ভুঁইয়া জানান, সীমান্তে মাদক, চোরাচালান ও অন্যান্য অপরাধ দমনে বিজিবির অভিযান, গোয়েন্দা নজরদারি এবং টহল কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। আটক আসামিকে ও জব্দ করা ইয়াবা নিয়মিত মামলার মাধ্যমে টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

শাহিন/নাঈম

আখাউড়ায় কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে সার ও বীজ বিতরণ

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫০ পিএম
আখাউড়ায় কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে সার ও বীজ বিতরণ
ছবি: খবরের কাগজ

চলতি বর্ষার আমন মৌসুমের শুরুতেই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় প্রায় দুই হাজার প্রান্তিক কৃষকের মাঝে সরকারি প্রণোদনার সার, বীজ ও চারা বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। চাষের শুরুতেই সরকারের এই সময়োপযোগী সহায়তা স্থানীয় চাষিদের আমন আবাদে দারুণভাবে উৎসাহিত করছে।

বুধবার (১ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলা পরিষদ মাঠে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাপসী রাবেয়া।

উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, চলতি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় উপজেলার ১ হাজার ৯৪৪ জন কৃষকের মধ্যে বিনামূল্যে আমন ধানের বীজ, মরিচ ও বিভিন্ন সবজির বীজ, রাসায়নিক সার এবং বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা বিতরণ করা হবে।

অনুষ্ঠানে উপজেলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা তামান্না ইসলাম, বিএনপির সভাপতি মো. জয়নাল আবেদীনসহ কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, কৃষিতে উৎপাদন বৃদ্ধি, আধুনিক চাষাবাদে কৃষকদের উৎসাহিত করা এবং খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার নিয়মিতভাবে কৃষি প্রণোদনা দিয়ে আসছে। এমন উদ্যোগ কৃষকের উৎপাদন ব্যয় কমানোর পাশাপাশি কৃষিকে আরও সমৃদ্ধ করতে ভূমিকা রাখবে বলেও তারা আশা প্রকাশ করেন তারা।

জুটন/এএফ