রংপুরে কোরবানির ঈদ ঘিরে গরু, ছাগল ও ভেড়া মিলিয়ে সাড়ে তিন লাখের বেশি পশু প্রস্তুত হয়েছে। খামারিরা ভালো দামের আশায় প্রস্তুতি নিচ্ছেন। অনেকে অনলাইনেও বিক্রি শুরু করেছেন। তবে পশুখাদ্যের দাম বেশি হওয়ায় ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তারা। খামারিরা খাদ্যে ভর্তুকি চান। বাজার ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা চেয়েছেন সংশ্লিষ্টদের কাছে।
জেলা প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর চাহিদার চেয়ে প্রায় দেড় লাখ পশু বেশি রয়েছে। কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ৩ লাখ ৬৩ হাজার গবাদিপশু প্রস্তুত করেছেন গৃহস্থ ও খামারিরা। এর বিপরীতে চাহিদা রয়েছে ২ লাখ ২৪ হাজার ৭৫১টি। ফলে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৫৬১টি পশু উদ্বৃত্ত থাকবে।
চলতি বছর জেলায় ২৫ হাজার ৬৭১টি খামার থেকে গরু উৎপাদন হয়েছে ১ লাখ ৫৪ হাজার ৩২৩টি। এর মধ্যে ষাঁড় ৯৭ হাজার ৪৭১টি, বলদ ২৩ হাজার ২২৫টি, গাভী ৩৩ হাজার ৬২৭টি, মহিষ ১৫২টি, ছাগল ১ লাখ ৯১ হাজার ৫৩টি এবং ভেড়া ১৭ হাজার ৭৬৮টি।
উপজেলা পর্যায়ে চাহিদা ও উৎপাদনের হিসাব অনুযায়ী, রংপুর সদরে চাহিদা ২৭ হাজার ৩৪১টি, উৎপাদন ৫৭ হাজার ৩৪৭টি পশু। বদরগঞ্জে চাহিদা ২১ হাজার ২৬২টি, উৎপাদন ৪০ হাজার ৭২৩টি পশু। মিঠাপুকুরে চাহিদা ৬৩ হাজার ৮৬টি, উৎপাদন ৮৬ হাজার ৬৪১টি পশু। পীরগঞ্জে চাহিদা ৪৪ হাজার ৪৩৮টি, উৎপাদন ৬৯ হাজার ৮২টি পশু। পীরগাছায় চাহিদা ১৯ হাজার ৭৪০, উৎপাদন ৩৮ হাজার ৩৬৩টি পশু। কাউনিয়ায় চাহিদা ১৭ হাজার ২৩৯টি, উৎপাদন ২৫ হাজার ৬৪২টি পশু। গঙ্গাচড়ায় চাহিদা ১৭ হাজার ৬০৩টি, উৎপাদন ২৩ হাজার ১৯৩টি পশু এবং তারাগঞ্জে চাহিদা ১৪ হাজার ৪১, উৎপাদন ২২ হাজার ১২১টি পশু।
এদিকে কোরবানির হাটে ভালো দামের আশায় খামারিরা পশুর অতিরিক্ত পরিচর্যা শুরু করেছেন। অনেক খামারি ইতোমধ্যে বিক্রিও শুরু করেছেন। দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম। তবে পশুখাদ্যের দাম তুলনামূলকভাবে বেশি হওয়ায় লোকসানের শঙ্কা করছেন খামারি ও গৃহস্থরা। এ জন্য তারা পশুপালনে ভর্তুকি এবং পশুখাদ্যের দাম কমানোর দাবি জানিয়েছেন।
সদরের বধু কমলা এলাকার খামারি রীনা বেগম বলেন, ‘আমার খামারে ৩৮টি গরু আছে। এই গরু পালন করি ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনা চালানোর জন্য। কিন্তু পশুখাদ্যের যে দাম, তাতে এখন গরু পালন করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তাই সংশ্লিষ্টদের কাছে অনুরোধ, পশুখাদ্যের দাম কমানো হোক।’
রংপুর ডেইরি ফার্মার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি লতিফুর রহমান মিলন বলেন, ‘এই অঞ্চলে কোরবানির ঈদ উপলক্ষে স্বাভাবিকভাবে গরু উদ্বৃত্ত থাকে। এই গরুগুলোকে যেন অন্যান্য অঞ্চলে নেওয়া যায়, যেখানে চাহিদা বেশি- সেই ব্যবস্থা করতে হবে। বাজার বিপণন ব্যবস্থাটা সুষ্ঠু করতে হবে, যাতে খামারিরা ক্ষতির মুখে না পড়েন। আর পশুখাদ্যের যে দাম, তা রাষ্ট্রীয়ভাবে কমানো গেলে খামারি ও গৃহস্থরা স্বস্তি পাবেন।’
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আবু ছাঈদ বলেন, ‘এবার রংপুরে যে পশু উদ্বৃত্ত আছে, তাতে করে রংপুরের খামারিরা ভালো দাম পাবে। হাট-বাজারগুলোতে আমাদের মেডিকেল টিম থাকবে, যেন অসুস্থ পশুকে দ্রুত চিকিৎসা দেওয়া যায়। আর রাস্তাঘাটে গরু পরিবহনের সময় ট্রাক থেকে যেন কোনো চাঁদা না নেওয়া হয়, সে বিষয়টি পুলিশ প্রশাসনকে নিশ্চিত করতে হবে।’