আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছেন নড়াইলের খামারিরা। সদর উপজেলার তারাপুর গ্রামের মিল্টন হোসেন সিকদার তার খামারে প্রস্তুত করছেন ৬০টি গরু। এই খামারের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ একটি গরু। নাম ‘ব্ল্যাক ডায়মন্ড’। দাবি করা হচ্ছে, এটি নড়াইলের সবচেয়ে বড় গরু। ওজন প্রায় ১ হাজার ৪০০ কেজি। দাম হাঁকানো হয়েছে ১২ লাখ টাকা।
খামার মালিক জানান, ‘ব্ল্যাক ডায়মন্ড’ যিনি কিনবেন, তাকে উপহার হিসেবে একটি ‘খাসি’ ফ্রি দেওয়া হবে। গরুটি দেশীয় পদ্ধতিতে মোটাতাজা করা হয়েছে। ‘চিত্রা অ্যাগ্রো’ নামের এই খামারটি মিল্টন হোসেন সিকদারের নিজস্ব মালিকানায় পরিচালিত। গরুগুলোকে খৈল, ভুসি, ঘাসসহ দেশীয় খাদ্য খাইয়ে মোটাতাজা করা হয়েছে। মিল্টন বলেন, ‘ব্ল্যাক ডায়মন্ড’ গরুটিকে সন্তানের মতো লালন-পালন করেছি। প্রায় ৪ বছর ধরে এটি বড় করেছি কোরবানির জন্যই।
খামারে কর্মরত শাহারিয়ার হোসেন সিকদার বলেন, ‘নিজেদের জমিতে উৎপাদিত কাঁচা ঘাস, খৈল, ভুসি দিয়ে গরু মোটাতাজা করেছি। পুরোটা দেশীয় পদ্ধতিতে।’ তিনি আরও বলেন, ‘গরু মোটাতাজাকরণের খরচ বেড়েছে। আগে যেখানে এক লাখ টাকা লাগত, এখন লাগছে প্রায় এক লাখ ৩০ হাজার টাকা।’
খামারের আরেক সহযোগী আশরাফুল শেখ বলেন, ‘এই খামারের গরুগুলো দেশীয় পদ্ধতিতে লালন-পালন করা হয়। কাঁচা ঘাস, খড়, খৈল খাওয়ানো হয়। ফলে এদের শক্তি অন্যদের চেয়ে বেশি।’
ব্ল্যাক ডায়মন্ড দেখতে প্রতিদিন অনেক মানুষ ভিড় করছে। কেউ কেউ দূর-দূরান্ত থেকে আসছেন। স্থানীয় শোলপুর এলাকার রেজাউল ইসলাম বলেন, ‘এত বড় ষাঁড় আগে টিভিতে দেখেছি। আজ চোখে দেখলাম। দেশীয় পদ্ধতিতে লালন-পালন করা এমন গরু সত্যিই অসাধারণ।’ মহিষখোলা এলাকার লায়লা সুমন পশমী বলেন, ‘শুনেছিলাম গরুটি বড়। কিন্তু নিজের চোখে দেখে মনে হচ্ছে যেন হাতি! এত বড় গরু আগে দেখিনি। আনন্দ লাগছে।’
মিল্টন হোসেন সিকদার বলেন, ‘আমার খামারে ৬০টি গরু কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। ক্রেতাদের কথা মাথায় রেখে ছোট-বড় সব ধরনের গরু রয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ব্ল্যাক ডায়মন্ড যিনি কিনবেন, তাকে উপহার হিসেবে একটি খাসি দেওয়া হবে। আশা করি, সবাই সুস্থ ও সবল গরু কোরবানির জন্য কিনবেন।’
জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, নড়াইলে সাড়ে ৪ হাজার খামারি রয়েছেন। তারা কোরবানির ঈদ সামনে রেখে মোট ৫৪ হাজার ৫৮৫টি গরু ও ছাগল মোটাতাজা করেছেন। এর মধ্যে গরু ২৩ হাজার ২৩৩টি এবং ছাগল ৩১ হাজার ৩৫২টি।
জেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে ৪০ হাজার ৫১৬টি। ফলে ১৪ হাজার ৬৯টি পশু উদ্বৃত্ত থাকবে। যেটা দেশের অন্যান্য জেলায় সরবরাহ করা হবে।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘খামারিরা দেশীয় পদ্ধতিতে গরু মোটাতাজা করছেন। ফলে অন্যান্য জেলায়ও এখানকার পশুর চাহিদা রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘জেলার ৯টি পশুর হাটে আমাদের ৫টি মেডিকেল টিম থাকবে। অসুস্থ পশু যাতে কেউ বিক্রি না করতে পারে, সে বিষয়ে কড়া নজরদারি থাকবে।’