রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আড়ানী ও রুস্তমপুর হাট-বাজারের ইজারা সংক্রান্ত অর্থ, ভ্যাট ও আয়কর ফাঁকির অভিযোগে সাবেক পৌর মেয়রসহ আটজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, রাজশাহীতে এ মামলা করা হয়।
মামলার বাদী দুদকের উপসহকারী পরিচালক মাহবুবুর রহমান জানান, আড়ানী পৌরসভার সাবেক মেয়র মুক্তার আলী ও ভারপ্রাপ্ত মেয়র কার্ত্তিক চন্দ্র হালদার ২০১৬-১৭ থেকে ২০২১-২২ অর্থবছর পর্যন্ত হাট ইজারা দেন। কিন্তু নীতিমালা অনুযায়ী চুক্তিপত্র স্বাক্ষর ও অর্থ জমা ছাড়াই নিয়মবহির্ভূতভাবে ইজারাদারদের কাছে হাট ইজারা দেওয়া হয়।
অভিযুক্তরা অন্যরা হলেন- রুস্তমপুর হাটের সাবেক ইজারাদার মামুন হোসেন, আবুল খায়ের সুমন ও একরামুল হক; আড়ানী হাটের সাবেক ইজারাদার ওবাইদুল ইসলাম, ৬ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মো. আসাদুজ্জামান, পৌরসভার সাবেক সহকারী প্রকৌশলী ও ভারপ্রাপ্ত সচিব শহিদুল ইসলাম।
দুদকের তদন্তে উঠে আসে, ইজারাদারেরা প্রস্তাবিত ইজারামূল্যের মাত্র ৩০ শতাংশ বিডি হিসেবে জমা দিয়েও বাকি অর্থ, ভ্যাট ও আয়কর পরিশোধ করেননি। নীতিমালার চরম লঙ্ঘন ঘটিয়ে পৌর কর্তৃপক্ষ চুক্তিপত্র ছাড়াই ইজারা প্রদান করেন। এতে সরকার বঞ্চিত হয় মোট ১ কোটি ৩৯ লাখ ৩৮ হাজার ১০৮ টাকা থেকে। এর মধ্যে ইজারামূল্য ১ কোটি ২২ লাখ ৮০ হাজার ৮৬৫ টাকা, ভ্যাট ১৫ লাখ ৭ হাজার ২২৬ টাকা এবং আয়কর ১ লাখ ৫০ হাজার ১৭ টাকা।
দুদক জানিয়েছে, পৌর কর্তৃপক্ষ ও ইজারাদারেরা পরস্পর যোগসাজশে বিবিধ রসিদ দেখিয়ে অর্থ আদায় করলেও তা পৌরসভায় জমা দেননি। দীর্ঘ অনুসন্ধানে এই দুর্নীতির প্রমাণ মেলায় মামলাটি করা হয়। মামলার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আদালতকে ইতিমধ্যে অবহিত করা হয়েছে।
এদিকে, আসামিদের অন্যতম, সাবেক পৌর মেয়র মুক্তার আলী এর আগে আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত হন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তিনি গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে কারাগারে আছেন। তার বিরুদ্ধে সম্প্রতি আরও দুটি দুর্নীতির মামলা করেছে দুদক। অভিযোগ অনুযায়ী, পৌরসভায় গাড়ি না থাকা সত্ত্বেও তিনি ১৪ লাখ ৫২ হাজার টাকা জ্বালানি খরচ বাবদ উত্তোলন করেন এবং ভুয়া কর্মচারী দেখিয়ে ৪ লাখ ৪৮ হাজার টাকা বেতন-ভাতা আত্মসাৎ করেন।
রিফাত/