ঢাকা ২২ আষাঢ় ১৪৩৩, সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
King Lear and Three Daughters বিষয়ক Story Writing নিয়ে আলোচনা, ৯ম পর্ব, এইচএসসির ইংরেজি ১ম পত্র চট্টগ্রামে পাহাড়ধসের ঝুঁকি, বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ চলমান সংকট রাজনৈতিকভাবেই মোকাবিলা করতে হবে বিশ্ববাজারে কমেছে স্বর্ণের দাম রাবিতে ১০ লাখ টাকা বৃত্তি দেওয়ার আশ্বাস ভূমিমন্ত্রীর হোটেল আমারি ঢাকায় শুরু হলো ইন্টারন্যাশনাল লাঞ্চ বুফে নোয়াখালীতে শিশু ধর্ষণ-হত্যা মামলায় আসামির মৃত্যুদণ্ড জার্সির পেছনে কার নাম লিখে খেলছেন হালান্ড? বাংলা কিউআর প্রচারে মার্কেন্টাইল ব্যাংকের র‌্যালি শেরপুরে শাশুড়ির ভরসায় পরীক্ষা দিলেন পুত্রবধূ যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীনে কাজের সুযোগ স্ত্রীকে হত্যা করে থানায় জিডি করতে গেলেন স্বামী, তারপর... দারাজে ৭.৭ সুপার সেভিংস সেল: বিশাল ছাড়, জ্যাকপট পুরস্কার ও কেনাকাটার দারুণ সুযোগ হামের উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু সাঙ্গু নদীর উজানে ভ্রমণে সতর্কতা, আটকা দেড় শতাধিক পর্যটক নিম্নচাপের প্রভাবে হাতিয়ায় ফিরেছে শত শত মাছ ধরার ট্রলার পরিকল্পনা প্রণয়ন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ অধ্যায়ের ১৪টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ২য় পর্ব, এইচএসসির ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র আজ বিশ্ব চুমু দিবস মেঘদূতের বার্তা নিয়ে আসে কদম চাঁদপুরে শর্টগান ও ১২ রাউন্ড গুলি জব্দ ঈশ্বরদীতে র‍্যাবের অভিযানে দেশি-বিদেশি অস্ত্র জব্দ, গ্রেপ্তার ৪ প্রধানমন্ত্রীকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ যুবরাজের ক্রিশ্চিয়ান সার্ভিস সোসাইটিতে চাকরির সুযোগ, পদ ৩৫০ ঈশ্বরগঞ্জে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস উদযাপিত শেখ হাসিনার দেশে ফিরতে আইনি বাধা নেই: রুমিন ফারহানা গাজায় যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও ইসরায়েলের হামলা, নিহত ৪ ইয়ামাল জানালেন তার কঠিন প্রতিপক্ষের নাম ধামরাইয়ে গ্যাসের দাবিতে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ পানছড়িতে ইউপিডিএফ-জেএসএসের গোলাগুলি, ৩ জন নিহত চারঘাট-বাঘায় কোনো কাঁচা রাস্তা থাকবে না: এমপি চাঁদ

বিপ্লব উদ্যানে মাসব্যাপী ইফতার ও সাহরির আয়োজন

প্রকাশ: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:১৬ এএম
বিপ্লব উদ্যানে মাসব্যাপী ইফতার ও সাহরির আয়োজন
ছবি: খবরের কাগজ

দৃষ্টিনন্দন গেট, সুবিশাল প্যান্ডেল। ভেতরে হাজারও মানুষের একসঙ্গে বসে ইফতার করার জন্য সাজানো টেবিল চেয়ার। দেখে মনে হবে রাষ্ট্রীয় কোনো ভিআইপির জন্য বিশাল কোনো আয়োজন। বাস্তবে শহরের ছিন্নমূল মানুষদের জন্যই এই এলাহি আয়োজন। চট্টগ্রাম নগরীর বিপ্লব উদ্যানে এ আয়োজন করা হয়েছে। এখানে প্রথম রোজা থেকে প্রতিদিন ইফতার ও সাহরি খাচ্ছেন হাজারও মানুষ। তবে শুধু নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য এই আয়োজন সীমাবদ্ধ রাখা হয়নি। এখানে প্রতিদিন আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে শহরের বিত্তবানদেরও। তারাও অভাবীদের সঙ্গে এক টেবিলে একই মেন্যু দিয়ে ইফতার ও সাহরি করছেন। প্রথম দিন তাদের সঙ্গে ইফতার করে কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। 

গত শুক্রবার সরেজমিন পরিদর্শনকালে কথা হয় চট্টগ্রাম নগরের সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক দবির মিয়ার সঙ্গে। তিনি জানান, সারা দিন অটোরিকশা চালিয়ে ইফতারের আগে প্রতিদিন তিনি হাজির হন বিপ্লব উদ্যানে। শুধু তিনি নন, তার মতো আরও অনেকেই ইফতারের আগে চলে আসেন ষোলশহর দুই নম্বর গেটের এই উদ্যানে। যেখানে প্রতিদিন প্রথম রোজা থেকে হাজারও মানুষ ইফতার করছেন। বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন আয়োজিত এই ইফতার আয়োজনে ধনী-গরিবের কোনো ভেদাভেদ নেই। আপ্যায়নেও নেই কোনো বৈষম্য। সবাই একসঙ্গে বসেন। এখানে সবাইকে একই ধরনের খাবার দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়। ইফতার করতে আসা দবির মিয়া গত বছর থেকেই এখানে ইফতার করেন বলে জানান। 

তুলাতলী থেকে পরিবার নিয়ে সাহরি খেতে আসা কয়েকজন জানান, বাসায় সাহরি খাওয়ার সামর্থ্য থাকলেও প্রতিদিন মাংস, ডিম খাওয়ার সামর্থ্য নেই। তবে বিদ্যানন্দের এই আয়োজনে মাংস এবং ডিমের মতো পুষ্টিকর খাবার থাকে। তাই আমরা নিয়মিত আসার চেষ্টা করি। তারাও আন্তরিকতার সঙ্গে আপ্যায়ন করছেন। যেন অনেক পুরোনো আত্মীয়। 

তারা বলেন, ‘আমরা যারা সমাজের অভাবী মানুষ তাদের নিত্যদিনের প্রয়োজন মেটাতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। তাদের জন্য এই ধরনের আয়োজন বিরাট ব্যাপার। দুশ্চিন্তা দূর হওয়ার পাশাপাশি ভালোভাবে পেট পুরে খাওয়ার সুযোগ মিলছে।’ 

জানতে চাইল বিদ্যানন্দের কর্মী মোহাম্মদ ওমর ফারুক খবরের কাগজকে বলেন, প্রথম দিন দেড় হাজার রোজাদার বিপ্লব উদ্যানে ইফতার করেছেন। সাহরি খেয়েছেন তিন শতাধিক মানুষ। সাহরি ও ইফতারে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে বলে তিনি জানান। 

তিনি জানান, এই আয়োজনটা সবার জন্য। চলতি পথে যেসব মানুষ ইফতারির সময় দুই নম্বর গেট এলাকা হয়ে যান তাদের অনেকেই এখানে ইফতার করেন। বেশকিছু রিকশা ও অটোরিকশা চালক, শ্রমিক, ভিক্ষুক নিয়মিত সাহরি ও ইফতার খেতে আসছেন। এ ছাড়া তুলাতলী, ষোলশহর রেলস্টেশনসহ আশপাশের কিছু লোক পরিবার নিয়ে নিয়মিত সাহরি ও ইফতার খেতে আসছেন, যারা হয়তো পরিবারের সদস্যদের জন্য ভালো সেহরি ও ইফতারের আয়োজন করতে পারছেন না। তারাই পরিবার নিয়ে আসছেন বলে তার ধারণা। 

আয়োজকরা জানান, ইফতারিতে ছোলা, জিলাপি, বেগুনি, ডিম চপ, সালাদ, খেজুর, পায়েস, শরবত, তেহারি, মুড়ি দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়।

সাহরিতে আপ্যায়ন করা হয়, গরুর মাংস, মুরগির মাংস, ভাত,তেহারি, ডিম ও সালাদ দিয়ে।

বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের পরিচালক জামাল উদ্দিন খবরের কাগজকে জানান, এক টাকায় আহার কর্মসূচির আওতায় আমরা চট্টগ্রামে লক্ষ মানুষের মাসব্যাপী ইফতারের আয়োজন করেছি। আমাদের স্লোগান হলো ‘সিয়াম সাধনায় একসঙ্গে’। এখানে রয়েছে সাহরির ব্যবস্থাও। এই কর্মসূচির মাধ্যমে আমরা নিম্ন আয়ের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি। এই আয়োজনের মাধ্যমে রোজাদাররা তৃপ্তিসহকারে ইফতার ও সাহরি খেতে পারছেন। অনেকেই পরিবারের ছোট সদস্যদেরও নিয়ে আসছেন। তাতে তাদের পরিবারের সাহরি ও ইফতার নিয়ে দুশ্চিন্তা দূর হচ্ছে। এটাই সবচেয়ে বড় আনন্দের ব্যাপার। বিদ্যানন্দ গত বছরও এই ধরনের আয়োজন করেছিল। তাতে ব্যাপক সাড়া পাওয়ার পর এ বছরও আমরা অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে একই ধরনের আয়োজন করেছি। চট্টগ্রামের আয়োজনে সার্বিক সহযোগিতা করছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন। 

তিনি বলেন, ইফতারে যাতে রোজা ভাঙার পাশাপাশি সামাজিক বৈষম্যও ভাঙতে পারি সেই উদ্দেশ্যেই আনুষ্ঠানিকভাবে এত বড় আয়োজন আমরা করেছি। এখানে সমাজের বিত্তবান ও সাদা মনের মানুষদেরকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়। তিনি বলেন ফাউন্ডেশন ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও কুড়িগ্রামে তিন লাখ মানুষের ইফতার ও সাহরির আয়োজন করছে এবার।

চট্টগ্রামে পাহাড়ধসের ঝুঁকি, বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ

প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৫:৩২ পিএম
আপডেট: ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৫:৩৭ পিএম
চট্টগ্রামে পাহাড়ধসের ঝুঁকি, বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ
ফাইল ফটো

নিম্নচাপের কারণে টানা বৃষ্টিতে চট্টগ্রামে পাহাড়ধসের আশঙ্কায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে মাইকিং করছে জেলা প্রশাসন।

সোমবার (৬ জুলাই) সকাল থেকে নগরের বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মাইকিং করে সতর্ক বার্তা দেওয়া হয়।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন জানায়, আকবরশাহ ঝিল ১, ২ ও ৩ নম্বর, বিজয়নগর পাহাড়, শান্তিনগর পাহাড়, বেলতলীঘোনা পাহাড়, টাংকির পাহাড়, আমিন জুট মিল এলাকা, পাহাড়িকা, সমবায় আবাসিক এলাকা, মিয়ার পাহাড়, মুরাদপুর রেলস্টেশন-সংলগ্ন রেলওয়ের পাহাড়, মতিঝর্ণা, লালখান বাজারের পোড়া কলোনি, ঢেবারপাড়, আমবাগান এবং উত্তর হালিশহর উপকূলসংলগ্ন এলাকায় বিশেষভাবে মাইকিং করে বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

উড়িষ্যা ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ ঝাড়খন্ড এলাকায় অবস্থানরত মৌসুমি স্থল নিম্নচাপের প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।  

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, উক্ত এলাকায় আবহাওয়া অধিদপ্তর ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত জারি করেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে পাহাড়ধসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তাই মাইকিং করে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে বসবাসকারীদের আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাওয়ার জন্য বলা হচ্ছে। মানুষের জানমাল রক্ষায় জেলা প্রশাসনের কয়েকটি দল মাঠে কাজ করছে। মাইকিংয়ের পাশাপাশি মানুষকে ঝুঁকিপূর্ণ স্থান থেকে সরে যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকা থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এছাড়াও পাহাড়সংলগ্ন স্কুল, কলেজ, মসজিদ ও মাদ্রাসাগুলোকেও অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

নাঈম/

নোয়াখালীতে শিশু ধর্ষণ-হত্যা মামলায় আসামির মৃত্যুদণ্ড

প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৪:৫৭ পিএম
নোয়াখালীতে শিশু ধর্ষণ-হত্যা মামলায় আসামির মৃত্যুদণ্ড
ছবি: খবরের কাগজ

নোয়াখালীর চাটখিলে পাঁচ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় শাহাদাত (২৬) নামে এক আাসামিকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে একলাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে তাকে।

সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে নোয়াখালী চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ফারজানা আকতার এ রায় ঘোষণা করেন।

নিহত শিশু আসমা আক্তার চাটখিলের বদলকোট ইউনিয়নের মেঘা গ্রামের মৃধা বাড়ির মাওলানা শাহজাহানের মেয়ে এবং দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শাহাদাত একই গ্রামের বাবুল হোসেনের ছেলে।

শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট সেলিম শাহী রায়ের বিষয়টি খবরের কাগজকে নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, আদালতের দেওয়া এ রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। আশা করছি দ্রুত সময়ের মধ্যে আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের মধ্য দিয়ে সামনের দিনগুলোতে সমাজে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে।

মামলার সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের ২৪ মার্চ দুপুর দেড়টার দিকে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় শিশু আসমা। পরে সন্দেহজনকভাবে শাহাদাতকে আটক করলে ঘটনার ৯ দিন পর তার দেওয়া তথ্য বাড়ির পেছনের সেপটিক ট্যাংকি থেকে আসমার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

তদন্ত চলাকালে শাহাদাত আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জানায়, বাড়ির পাশে পরিত্যক্ত একটি ঘরে নিয়ে আসমাকে প্রথমে ধর্ষণ করেন শাহাদাত। এরপর ঘটনা প্রকাশ হয়ে পড়ার ভয়ে তিনি শিশুটিকে শ্বাসরোধে হত্যা করে মরদেহ সেপটিক ট্যাংকিতে লুকিয়ে রাখেন।

এমন ঘটনার পর বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয়রা শুরু থেকেই দ্রুত বিচার ও আসামির ফাঁসির দাবি জানিয়ে আসছেন।

ইকবাল হোসেন/এএফ

শেরপুরে শাশুড়ির ভরসায় পরীক্ষা দিলেন পুত্রবধূ

প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৪:৪৯ পিএম
শেরপুরে শাশুড়ির ভরসায় পরীক্ষা দিলেন পুত্রবধূ
শাশুড়ি সুফিয়া বেগমের কোলে নাতী সাইদা ফাতিহা।

শেরপুরে তিন মাস বয়সী এক শিশুকে শাশুড়ির কোলে রেখে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন জুঁই আক্তার নামে এক শিক্ষার্থী।

সোমবার (৬ জুলাই) শেরপুর সরকারি কলেজ পরীক্ষা কেন্দ্রে দেখা যায় হৃদয়ছোঁয়া এ দৃশ্য।

এটি উপস্থিত শিক্ষক, পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে।

পরীক্ষার্থী জুঁই আক্তার শেরপুর মহিলা কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী। পরীক্ষা চলাকালে কেন্দ্রের বাইরে তার তিন মাস বয়সী মেয়েশিশু সাইদা ফাতিহাকে কোলে নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন শাশুড়ি সুফিয়া বেগম।

পুত্রবধূ যেন নির্বিঘ্নে পরীক্ষা দিতে পারেন, সে জন্যই শিশুটির দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন তিনি।

সুফিয়া বেগম বলেন, ‘আমার ইচ্ছা, আমার ছেলের বউ পড়াশোনা শেষ করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হবে। মা শিক্ষিত হলে তার সন্তানরাও শিক্ষিত হবে। তাই সংসারের কাজের চেয়ে আমি ওর পড়াশোনাকেই বেশি গুরুত্ব দিই।’

তিনি জানান, কামালপুর এলাকার বাসিন্দা তার ছেলে আব্দুর রহমানের সঙ্গে জুঁইয়ের বিয়ে হয় এসএসসি পরীক্ষার আগেই। তবে বিয়ের পরও কখনো পুত্রবধূর পড়াশোনায় বাধা দেননি। বরং সংসারের দায়িত্ব ভাগ করে নিয়ে নিয়মিত লেখাপড়া চালিয়ে যেতে সবসময় উৎসাহ দিয়েছেন।

পরীক্ষার্থী জুঁই বলেন, ‘আমার শাশুড়ি সবসময় আমাকে সাহস দিয়েছেন। আজও তিনি আমার শিশুকে দেখাশোনা করছেন বলেই আমি নিশ্চিন্তে পরীক্ষা দিতে পারছি। তার সহযোগিতা না থাকলে এত দূর আসা সম্ভব হতো না।’

শাকিল/রিফাত/

সাঙ্গু নদীর উজানে ভ্রমণে সতর্কতা, আটকা দেড় শতাধিক পর্যটক

প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৪:২৯ পিএম
সাঙ্গু নদীর উজানে ভ্রমণে সতর্কতা, আটকা দেড় শতাধিক পর্যটক
ছবি: খবরের কাগজ

বান্দরবানের থানচিতে টানা বৃষ্টিতে সাঙ্গু নদীর উজানে পানি বেড়ে যাওয়ায় তিন্দু, রেমাক্রী ও নাফাখুম এলাকায় পর্যটকদের ভ্রমণ থেকে বিরত থাকার জন্য মৌখিক সতর্কতা জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন। বৃষ্টিতে ওই এলাকায় দেড় শতাধিক পর্যটক আটকা পড়েছেন।

সোমবার (৬ জুলাই) বিষয়টি নিশ্চিত করেন থানচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল।

স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ জুলাই থেকে এলাকায় মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। এতে সাঙ্গু নদীসহ আশপাশের ছোট ছোট পাহাড়ি ছড়াগুলোতে পানির প্রবাহ দ্রুত বেড়েছে। দুর্ঘটনার আশঙ্কায় আপাতত তিন্দু, রেমাক্রী ও নাফাখুমে পর্যটকদের ভ্রমণ না করার অনুরোধ জানিয়েছে প্রশাসন।

এদিকে, তিন্দু নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বামং খিয়াং মিংলেন জানান, তিন্দুর বড় পাথর এলাকায় পর্যটকবাহী একটি নৌকা তীব্র স্রোতে ডুবে যায়। তবে নৌকার মাঝি আগে থেকেই পর্যটকদের নিরাপদে নামিয়ে দেওয়ায় কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।

থানচি পর্যটক গাইড সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রশীদ বলেন, সাঙ্গু নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় তিন্দু, রেমাক্রী ও নাফাখুম এলাকায় দেড় শতাধিক পর্যটক আটকা পড়েছেন। এর মধ্যে শুধু নাফাখুম এলাকাতেই সোমবার প্রায় ৭০ জন পর্যটক অবস্থান করছেন। তাদের সঙ্গে থানচি পর্যটক গাইড সমিতির সভাপতিও রয়েছেন। বৃষ্টি কমে নদীর পানি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তাদের ফিরে আসা সম্ভব হবে না।

তবে পর্যটক আটকা পড়ার বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের কাছে কোনো তথ্য নেই বলে জানিয়েছেন ইউএনও মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল।

তিনি বলেন, ‘অতিবৃষ্টিতে ছোট ছোট খাল এবং সাঙ্গু নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সম্ভাব্য প্রাণহানি এড়াতে আপাতত তিন্দু, রেমাক্রী ও নাফাখুম ভ্রমণের বিষয়ে মৌখিক সতর্কতা জারি করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পর্যটকদের এসব এলাকায় ভ্রমণ থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানানো হচ্ছে।’

রিজভী রাহাত/অমিয়/

নিম্নচাপের প্রভাবে হাতিয়ায় ফিরেছে শত শত মাছ ধরার ট্রলার

প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৪:২৮ পিএম
নিম্নচাপের প্রভাবে হাতিয়ায় ফিরেছে শত শত মাছ ধরার ট্রলার
ছবি: খবরের কাগজ

গভীর বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে বৈরী আবহাওয়া ও উত্তাল সাগরের কারণে নোয়াখালীর হাতিয়ায় মাছ শিকার কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলায় উপজেলার উপকূলীয় বিভিন্ন এলাকার শত শত মাছ ধরার ট্রলার গভীর সাগর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরে এসেছে। এতে চরম অনিশ্চয়তা ও আর্থিক সংকটে পড়েছেন জেলে ও ট্রলার মালিকরা।

সোমবার (৬ জুলাই) সরেজমিনে হাতিয়ার চেয়ারম্যানঘাট, বাংলাবাজার, বৌবাজার, কাজীর বাজার, সূর্যমুখী, রহমত বাজার, কাদিরা সুইজ, বুড়িরদোনা, জঙ্গলিয়া, রাতারখাল, এম আলী সুইজ, নিঝুমদ্বীপ, কাটাখালী, চরচেঙ্গা, তমরদ্দি, সুখচর ও নলচিরাসহ বিভিন্ন মাছঘাট ঘুরে দেখা যায়, শত শত মাছ ধরার ট্রলার সারিবদ্ধভাবে নোঙর করে রাখা হয়েছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে জেলেরা গভীর সাগরে মাছ শিকারে যেতে পারছেন না।

জেলেরা জানান, ৫৮ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা শেষে আশানুরূপ ইলিশ ও অন্যান্য মাছ না পাওয়ায় অধিকাংশ ট্রলার লোকসানের মুখে পড়ে। সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে অনেকেই ঋণ ও ধারদেনা করে আবার ট্রলার নিয়ে সাগরে যান। কিন্তু নিম্নচাপের কারণে সাগর উত্তাল হয়ে ওঠায় মাত্র দুই থেকে তিন দিনের মধ্যেই তাদের ফিরে আসতে হয়েছে। একটি ট্রলার সাগরে পাঠাতে এক লাখ থেকে চার লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যয় হলেও সেই অর্থের বড় অংশই ওঠেনি।

ট্রলার মালিক আকবর হোসেন বলেন, ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে দুই দফায় ট্রলার সাগরে পাঠিয়েছি। দুইবারই লোকসান হয়েছে। পরে ঋণ করে আবার ট্রলার পাঠালেও গভীর সাগরে উত্তাল ঢেউয়ের কারণে মাত্র দুই দিনের মাথায় ফিরে আসতে হয়েছে। এখন আবার ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত জারি হওয়ায় নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

সূর্যমুখী এলাকার ট্রলার মাঝি মো. সেলিম বলেন, নিষেধাজ্ঞা শেষে কাঙ্ক্ষিত মাছ না পাওয়ায় ট্রলার মালিকরা এমনিতেই লোকসানে ছিলেন। এর মধ্যে বৈরী আবহাওয়া পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে জেলেরা আবার সাগরে যেতে পারবেন বলে আশা করছি।

স্থানীয় মৎস্যসংশ্লিষ্টরা জানান, কয়েকদিন ধরে উত্তাল সাগর ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে মাছ শিকার কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। ফলে শুধু জেলেরাই নন, মাছের আড়ৎ, বরফকল, পরিবহন ও মাছ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত হাজারো মানুষের জীবিকায়ও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

উল্লেখ্য, হাতিয়া উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় প্রায় সাত লাখ মানুষের বসবাস। সরকারি হিসাবে নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ২৫ হাজার ৯৯৫ জন। তবে মাছ ধরা, আড়ৎ, বরফকল, পরিবহন ও মাছ ব্যবসার সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত মানুষের সংখ্যা লক্ষাধিক। বৈরী আবহাওয়া অব্যাহত থাকলে তাদের আর্থিক সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

হানিফ/নাঈম