ঢাকা ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
ইউল্যাবে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির ১০৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন অস্ট্রেলিয়ার নতুন ভরসা অধিনায়ক হ্যারি সাউটার রোনালদো–মদ্রিচ নয়, মিডফিল্ডের লড়াইয়েই চোখ ক্রোয়েশিয়া কোচের মৃত্যু দাঁড়িয়ে ছিল গুহার মুখে সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবীদের লম্বা ছুটির সুযোগ ২২ আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে উত্তরা ইউনিভার্সিটির সমঝোতা আয়াতুল্লাহ খামেনির জানাজায় অংশ নিতে ইরানের পথে স্পিকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগে জটিলতা কাটল এক রাতেই শেষ মৌসুমের ফসল নরসিংদীতে পুলিশের কাছ থেকে এক ডজন মামলার আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির ডিজিটাল নজরদারিতে আসছে ‘ট্রি মনিটরিং অ্যাপ’ ঢাকাসহ দেশের ১৬ অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টির আভাস আদাবরে ‘বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে দ্বন্দ্বে’ বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে হত্যা লক্ষ্মীপুরের ২ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনসার নিয়োগ পঞ্চগড়ে ইউএনওর বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ করা নারীর বিরুদ্ধে মামলা পর্তুগাল-ক্রোয়েশিয়ার ম্যাচকে ‘দ্বিতীয় বিশ্বকাপের’ মতো দেখবেন মার্টিনেজ ফুটবল বিশ্বকাপ ঘিরে রমরমা বাণিজ্য মুখোমুখি রোনালদো-মদ্রিচ: বিদায় নেবেন কে? মেসির কাঁধে এমবাপ্পের গরম নিশ্বাস স্পেনের হয়ে পুরো ম্যাচ খেলার মতো ফিট ইয়ামাল: দে লা ফুয়েন্তে বেরোবিতে জুলাই শহিদদের স্মরণে ছাত্রদলের মোমবাতি প্রজ্বালন দোহায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠক: তেহরানের দুই টার্গেট এনসিপি নেতা ভূমি অফিসের দালালকে ছাড়াতে ম্যাজিস্ট্রেটকে ফোন, অডিও ভাইরাল সিলেটে স্কুলছাত্রী ধর্ষণ: ১৪ বছর পর দুজনের মৃত্যুদণ্ড ক্রিপ্টো থেকেই বছরে ট্রাম্পের আয় ১৪০ কোটি ডলার বিলুপ্তির পথে ‘জীবন্ত জীবাশ্ম’ গিটারফিশ ফ্রি কিকে গোল, কে এই মার্কিন গোলস্কোরার? বাজেট পাস: চূড়ান্ত বাজেটে কী বদলাল, কী বদলাল না? নকশাদার উল্কি গান্ধিপোকা মঙ্গোলিয়ার ‘নাদাম ফেস্টিভ্যালে’ সিলেটের রাজীব চৌধুরী

হাম উপসর্গ নিয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেলে আরও ১ শিশুর মৃত্যু, নতুন ভর্তি ৩০

প্রকাশ: ০৩ মে ২০২৬, ০২:২৪ পিএম
আপডেট: ০৩ মে ২০২৬, ০২:৩৯ পিএম
হাম উপসর্গ নিয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেলে আরও ১ শিশুর মৃত্যু, নতুন ভর্তি ৩০
ছবি: খবরের কাগজ

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে সেখানে মোট ২৩ শিশুর মৃত্যু হলো। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৩০টি শিশু ভর্তি হয়েছে।

জানা যায়, গত ২৮ এপ্রিল দুপুর ২টার দিকে ফুলপুর থেকে ৯ মাসের শিশুটিকে হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। শনিবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে শিশুটি মারা যায়।

রবিবার (৩ মে) সকালে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হাম মেডিকেল দলের ফোকালপারসন সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহা. গোলাম মাওলা এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, গত ১৭ মার্চ থেকে ৩ মে সকাল পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মোট এক হাজার ৪৬টি শিশু ভর্তি হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে আরও ৩০টি শিশু।

এ নিয়ে হাসপাতাল থেকে মোট ছাড়া পেয়েছে ৯৪১টি শিশু। এছাড়া বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে মোট ৮২টি শিশু। তিনটি মেডিকেল টিম গঠন করে চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

কামরুজ্জামান মিন্টু/আমান/

এক রাতেই শেষ মৌসুমের ফসল

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ১০:৪৭ এএম
আপডেট: ০২ জুলাই ২০২৬, ১১:৪২ এএম
এক রাতেই শেষ মৌসুমের ফসল
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে পূর্বশত্রুতার জেরে বিষ ছিটিয়ে নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে এক কৃষকের পুরো মৌসুমের ফসল

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে পূর্বশত্রুতার জেরে বিষ ছিটিয়ে নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে এক কৃষকের ফসল। সবুজ ধানখেত পরিণত হয়েছে পুড়ে যাওয়া স্বপ্নে।

বুধবার (১ জুলাই) ভোরে কমলগঞ্জ উপজেলার পৌর এলাকার গোবর্দ্ধ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মো. আতাউর রহমান এ ঘটনায় কমলগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত শুরু করেছে।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আতাউর রহমান জানান, সকালে খবর পেয়ে জমিতে গিয়ে দেখেন তার ৩০ শতক জমির ধানে বিষ ছিটিয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে পুরো ক্ষেতের ধান পুড়ে নষ্ট হয়ে গেছে।

স্থানীয় কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী তাকে জানান, ভোরের দিকে গ্রামের আব্দুল মন্নানের ছেলে মনির মিয়াকে জমির পাশ থেকে বেরিয়ে যেতে দেখা গেছে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘অভিযুক্ত মনির মিয়ার সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জমি ও ব্যক্তিগত বিরোধ চলে আসছিল। সেই বিরোধের জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে এ নাশকতা চালানো হয়েছে বলে তার ধারণা।’

আতাউর রহমান বলেন, এই জমিতে ধান চাষ করতে প্রায় ২৫ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। ধান ঘরে তুলতে পারলে অন্তত ৫০ হাজার টাকার ফসল পাওয়া যেত। ধার-দেনা করে চাষ করেছি। এখন সব শেষ হয়ে গেছে। আমি প্রশাসনের কাছে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও ক্ষতিপূরণের দাবি জানাচ্ছি।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত মনির মিয়া। তিনি বলেন, ‘আমাকে হয়রানি ও ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।’

এদিকে স্থানীয় কৃষক জহির মিয়া, মুকিদ মিয়া ও তনু মিয়া দাবি করেন, অভিযুক্ত মনির মিয়ার বিরুদ্ধে অতীতেও বিভিন্ন কৃষকের ফসল নষ্ট করার অভিযোগ রয়েছে। তাদের ভাষ্য, রাতের আঁধারে বিভিন্ন সময় ক্ষেতের ফসলের ক্ষতি করার কারণে এলাকায় তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, কৃষিজমিতে এমন পরিকল্পিত নাশকতা শুধু একজন কৃষকের ক্ষতিই নয়; এটি সামগ্রিক কৃষি অর্থনীতি ও খাদ্য নিরাপত্তার জন্যও হুমকি। তারা দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় এনে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ জয়ন্ত কুমার রায় বলেন, ‘ইচ্ছাকৃত কৃষিজমিতে বিষ প্রয়োগ করে ফসল নষ্ট করা অত্যন্ত নিন্দনীয় ও অপরাধমূলক কাজ। ধান দেশের অন্যতম প্রধান খাদ্যশস্য। ব্যক্তিগত বিরোধের কারণে জাতীয় সম্পদ নষ্ট করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’

তিনি জানান, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে; স্থানীয় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষককে প্রয়োজনীয় কারিগরি পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হবে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করে কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কমর উদ্দিন বলেন, ধানের জমিতে বিষ প্রয়োগের অভিযোগে একটি লিখিত আবেদন পেয়েছি। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলক পুরকায়স্থ/তামান্না রুপা/

নরসিংদীতে পুলিশের কাছ থেকে এক ডজন মামলার আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ১০:৪৬ এএম
আপডেট: ০২ জুলাই ২০২৬, ১১:৩৩ এএম
নরসিংদীতে পুলিশের কাছ থেকে এক ডজন মামলার আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ
ছবিঃ খবরের কাগজ

নরসিংদীর রায়পুরায় সেলিম মিয়া (৪৫) নামে একজনকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়েছেন স্থানীয়রা। তিনি হত্যাসহ এক ডজন মামলার আসামি।

বুধবার (১ জুলাই) বিকেলে রায়পুরা উপজেলার চরাঞ্চল শ্রীনগর ইউনিয়নের সায়দাবাদ ফেরিঘাটে এ ঘটনা ঘটে বলে জানান স্থানীয়রা।
 
আসামি সেলিম মিয়া (৪৫) রায়পুরা উপজেলার শ্রীনগর ইউনিয়নের সায়দাবাদ গ্রামের মৃত তায়েব উদ্দিনের ছেলে।

রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মজিবুর রহমান জানান, হত্যাসহ তিনটি মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি সেলিমকে গ্রেপ্তার করতে গেলে ফেরিঘাটে স্থানীয় লোকজন জড়ো হওয়ার কারণে সৃষ্ট ভিড়ের মধ্যে পালিয়ে যাওয়ায় তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয়রা জানান, একাধিক হত্যা, বাড়ি পুড়ানো, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, মারামারিসহ নানা অভিযোগে সেলিম মিয়ার বিরুদ্ধে এক ডজন মামলা রয়েছে। বিকালে শ্রীনগর ইউনিয়নের গোপীনাথপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে পুলিশ সেলিম মিয়াকে নিয়ে থানার উদ্দেশে রওনা দেয়। পুলিশের গাড়িটি সায়দাবাদ ফেরিঘাটে পৌঁছালে স্থানীয় লোকজন জড়ো হয়ে পুলিশের কাছ থেকে আসামি সেলিমকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

শাহিন/হীরা/

লক্ষ্মীপুরের ২ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনসার নিয়োগ

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ১০:২৯ এএম
আপডেট: ০২ জুলাই ২০২৬, ১০:৩৯ এএম
লক্ষ্মীপুরের ২ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনসার নিয়োগ
কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

লক্ষ্মীপুরের রামগতি ও কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সার্বিক নিরাপত্তা ও চিকিৎসকদের কর্মপরিবেশ নির্বিঘ্ন করতে ২০ জন সশস্ত্র আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

বুধবার (১ জুলাই) সরকারের বিশেষ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দুই উপজেলায় ১০ জন করে আনসার নিয়োগ করা হয়।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, এই সশস্ত্র আনসার মোতায়েনের ফলে হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা বাড়বে।

একই সঙ্গে বহিরাগতদের আনাগোনা ও হাসপাতালে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।

জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকদের নিরাপত্তা ও নিরাপদ কর্মপরিবেশের দাবি জানিয়ে আসছিল উপজেলা হেলথ অ্যান্ড ফ্যামিলি প্ল্যানিং অফিসার্স ফোরাম।

সার্বক্ষণিক সহযোগিতার জন্য চিকিৎসকদের সুরক্ষায় সরকারের এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সাধারণ জনগণ। একই সঙ্গে আন্তরিক প্রচেষ্টা ও সার্বক্ষণিক সহযোগিতার জন্য ইউএইচএফপিও ফোরামের সব কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় প্রতিনিধিকে বিশেষ ধন্যবাদ জানানো হয়।

হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, নতুন এই নিরাপত্তা ব্যবস্থার মাধ্যমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোর শৃঙ্খলা ফিরে আসবে এবং রোগীরা কোনোরকম ভয়ভীতি ছাড়াই নির্বিঘ্নে শতভাগ চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করতে পারবেন।

এ বিষয়ে রামগতি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কামনা শীষ মজুমদার বলেন, 'আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি ও বর্তমান সরকারের প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে হাসপাতালে ১০ জন সশস্ত্র আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। হাসপাতালগুলোতে প্রায়ই নানা ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হতো। যা চিকিৎসকদের নিরবচ্ছিন্ন সেবা প্রদানে বাধা সৃষ্টি করত। এখন সশস্ত্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু হওয়ায় হাসপাতালের সার্বিক শৃঙ্খলা ফিরে আসবে এবং আমাদের চিকিৎসক ও স্টাফরা নির্ভয়ে ও মনোযোগী হয়ে রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিতে পারবেন। প্রধানমন্ত্রী এবং সার্বক্ষণিক সহযোগিতার জন্য ইউএইচএফপিও ফোরামের প্রতিনিধিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।'

কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহবুবুর রহমান বলেন, 'দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতের দাবি জানানো হয়েছে। কমলনগরে ১০ জন সশস্ত্র আনসার সদস্যের যোগদানের মধ্য দিয়ে হাসপাতালের সার্বিক নিরাপত্তায় ধন্যবাদ জানাই। প্রায়ই বহিরাগতদের কারণে হাসপাতালের স্বাভাবিক চিকিৎসা কার্যক্রম ব্যাহত হতো এবং চিকিৎসক-নার্সরা এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক ঝুঁকিতে থাকতেন। এই সশস্ত্র পাহারার ফলে হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বজায় থাকবে এবং রোগীরাও নিরাপদ ও শান্তিময় পরিবেশে সেবা নিতে পারবেন।

রফিকুল ইসলাম/তামান্না রুপা/

পঞ্চগড়ে ইউএনওর বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ করা নারীর বিরুদ্ধে মামলা

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ১০:২১ এএম
আপডেট: ০২ জুলাই ২০২৬, ১০:৩৪ এএম
পঞ্চগড়ে ইউএনওর বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ করা নারীর বিরুদ্ধে মামলা

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজ শাহীন খসরুর বিরুদ্ধে গ্রামপুলিশে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভ করা রেহেনা বেগম উর্মির বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা করা হয়েছে।

বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে তেঁতুলিয়া থানায় মামলাটি করেন তেঁতুলিয়া উপজেলা প্রশাসনের চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী মনোয়ার হোসেন।

মামলায় ওই নারীসহ অজ্ঞাতনামা ৫-৬ জনকে আসামি করা হয়েছে। 

এই তথ্য নিশ্চিত করে পঞ্চগড় পুলিশ সুপার আবু সাইম বলেন, মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে আসামি গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া চলছে।

গত সোমবার তেঁতুলিয়া উপজেলার পরিষদ চত্বরে ইউএনও আফরোজ শাহীন খসরুর বিরুদ্ধে ছেলের গ্রামপুলিশে চাকরি দেওয়ার কথা বলে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ তুলে ফেইসবুকে লাইভ করেন তেঁতুলিয়া মাগুরা এলাকার বাসিন্দা রেহেনা বেগম উর্মি। পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ওই নারী জেলা প্রশাসক বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেন। ঘটনার পর থেকে নানা হুমকি ধামকি ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিলেন বলে দাবি করেন ওই নারী।

এ বিষয়ে জানতে মামলার বাদী মনোয়ার হোসেনের নাম্বারে একাধিকবার কল করলেও থাকে পাওয়া যায়নি। 

রনি মিয়াজী/আজহার/

সোনারগাঁয় সেতুর নিচের ময়লার ভাগাড়, অতিষ্ট জনজীবন

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ১১:১০ পিএম
সোনারগাঁয় সেতুর নিচের ময়লার ভাগাড়, অতিষ্ট জনজীবন
সোনারগাঁওয়ে মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকায় সেতুর নিচে ময়লার ভাগাড়, দুর্গন্ধে নাকাল স্থানীয়রা। ছবি: খবরের কাগজ

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকায় মারিখালি নদীর ওপর নির্মিত সেতুর নিচে অবাধে ময়লা-আবর্জনা ফেলার কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। দীর্ঘদিন ধরে জমতে থাকা বর্জ্যের স্তূপ এখন স্থায়ী ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। দ্রুত ময়লা অপসারণের দাবি জানান পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

এদিকে পরিবেশ রক্ষায় নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিবেশ অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও স্থানীয় প্রশাসনসহ বিভিন্ন দপ্তরে স্বারকলিপি দেওয়া হয়েছে বলে জানান পরিবেশ রক্ষা ও উন্নয়ন সোসাইটি কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন স্থানীয়দের সহযোগিতায় ১৮ জুন ওই এলাকায় পরিদর্শন গিয়ে ময়লা অপসারণ করেন। এলাকায় যাতে কেউ আর ময়লা না ফেলে সে নির্দেশনা দেওয়া হলেও কেউই মানছেন না।

জানা যায়, এ সেতুর নিচেই দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় এলাকাবাসী ও বাজারের লোকজন ময়লা ফেলেই ভাগাড়ে পরিনত করেছেন। ময়লা থেকে নির্গত তীব্র দুর্গন্ধ আশপাশের পরিবেশকে অসহনীয় করে তুলেছে। এ সেতুর নিচ দিয়ে যানবাহন ও লোকজনের চলাচলের জন্য ইউর্টান রয়েছে। এ পথে প্রতিনিয়ত অনেক পথচারীর পারাপার।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনের পর দিন বিভিন্ন এলাকা থেকে ট্রলি, ভ্যান ও ছোট যানবাহনে করে এখানে ময়লা এনে ফেলা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর নজরদারি না থাকায় ময়লার পরিমাণ ক্রমেই বাড়ছে। এতে একদিকে যেমন পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে, অন্যদিকে জনস্বাস্থ্যের জন্যও তৈরি হচ্ছে মারাত্মক ঝুঁকি।

স্থানীয় বাসিন্দা আশরাফুল আলম বলেন, মোগরাপাড়া চৌরাস্তা দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করে। কিন্তু ময়লার দুর্গন্ধের কারণে এখানে কয়েক মিনিট দাঁড়ানোও কঠিন। বৃষ্টি হলে ময়লার পানি আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে। তখন পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। নদীর পানিও দূষিত হচ্ছে।

পরিবেশ রক্ষা ও উন্নয়ন সোসাইটির সভাপতি মোহাম্মদ হোসাইন জানান, এ এলাকায় যেন ময়লা ফেলার প্রতিযোগিতা চলে। প্রতিদিনই ব্যাপক ময়লা ফেলা হয়। সামান্য বৃষ্টিতেই ময়লার পাশে পানি জমে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। এতে মশা-মাছির উপদ্রব বাড়ছে। ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, খোলা জায়গায় এভাবে ময়লা ফেলা পরিবেশ সংরক্ষণের নীতিমালার পরিপন্থী। দ্রুত ময়লা অপসারণের পাশাপাশি একটি আধুনিক ও পরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ আল জিনাত বলেন, সেতুর নিচে ময়লার স্তুপ তৈরি হওয়া সত্যিই দুঃখজনক। সমস্যাটি সমাধানে আমরা কাজ করছি। আমরা ইতিপূর্বে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে কিছু ময়লা অপসারণ করা হয় এবং এ এলাকায় ময়লা না ফেলার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সমস্যাটির স্থায়ী সমাধানে পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, তিন ধাপে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা হবে। প্রথম ধাপে বর্তমান ময়লার স্তূপ সম্পূর্ণ অপসারণ ও এলাকা পরিষ্কার করা হবে। দ্বিতীয় ধাপে সেখানে যাতে আর কেউ ময়লা ফেলতে না পারে, সে জন্য প্রয়োজনীয় নজরদারি ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তৃতীয় ধাপে উপজেলার জন্য একটি নির্ধারিত ও পরিবেশসম্মত স্থায়ী ডাম্পিং ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে। পরিবেশ রক্ষায় প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

ইমরান/এএফ