চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার ছদাহা কেফায়েত উল্লাহ কবির আহমেদ উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রী গণধর্ষণের শিকার হয়েছে। এ সময় তার সঙ্গে থাকা অষ্টম শ্রেণির আরেক ছাত্রী শ্লীলতাহানির শিকার হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযান চালিয়ে ৪ মৎস্য প্রজেক্টের শ্রমিককে গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ।
বুধবার (১৩ মে) উপজেলার ছদাহা ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের সিন্দুপ্যা পাড়ার ও সমতলের বিভিন্ন জায়গা থেকে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এর আগে একই দিন দুপুর ১২টা থেকে বিকেল পর্যন্ত উপজেলার ছদাহা ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী বাজালিয়া ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের মাহালিয়া গ্রামের সহুদের নালা এলাকায় মৎস্য প্রজেক্টের ৭ শ্রমিক মিলে ওই স্কুল ছাত্রীকে পালাক্রমে গণধর্ষণ করে বলে জানা গেছে।
গ্রেপ্তাররা হলো, উপজেলার ছাদাহা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সিন্দুপ্যা পাড়ার মো. ছৈয়দ (১৫), মো. রাকিব (২০), মো. মানিক ইসলাম (২০), ও আব্দুর রহিম (১৮)।
জানা গেছে, গণধর্ষণের শিকার ওই ছাত্রী ও তার সঙ্গী মিলে বুধবার বেলা ১১টার দিকে ছদাহা ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের ফজুর পাড়া থেকে পার্শ্ববর্তী বাজালিয়া ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের মাহালিয়া গ্রামের সহুদের নালা ও ছদাহার পাহাড়ি মৎস্য প্রজেক্ট এলাকায় ঘুরতে যায়। সেখান থেকে তারা দুপুর ১২টার দিকে বাড়িতে ফিরে আসার সময় মৎস্য প্রজেক্টে কর্মরত ৭ শ্রমিক মিলে ২ ছাত্রীকে জোরপূর্বক পাহাড়ে নিয়ে যায়। এরপর তারা ভুক্তভোগীকে পাহাড়ের গভীরে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। এ সময় অভিযুক্তরা ভুক্তভোগীর সঙ্গীর শ্লীলতাহানি করে এবং পাহাড়ের অন্য প্রান্তে জোরপূর্বক আটকে রাখে।
আরও জানা গেছে, ওই দুই স্কুলছাত্রী বাড়িতে ফিরে আসার পর বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়রা ধর্ষকদের খুঁজতে থাকেন। খবর পেয়ে একই দিন রাত সাড়ে ৭টার দিকে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাতকানিয়া সার্কেল) মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকীর নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম স্থানীয়দের সহযোগিতায় পাহাড় ও সমতলের বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে চার জনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হন। বাকি ৩ জনের খোঁজে সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাতকানিয়া সার্কেল) মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান চালিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়াও দুই স্কুলছাত্রীকে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। গ্রেপ্তাররা প্রাথমিকভাবে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাকি ৩ জনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
আরিফুল ইসলাম/নাঈম