মেঘরাজ্যে একদল বড় মেঘ ছিল। সব সময় ক্ষমতার দাপট দেখাত। ইচ্ছেমতো গর্জে উঠত, বৃষ্টি ঝরাত, বিদ্যুৎ চমকাত– আরও কত কী!
এদিকে ছোট্ট মেঘেরা ভয়ে থাকত, অসহায় প্রজার মতো। নেই তাদের স্বাধীনতা। নেই কোনো চাওয়া-পাওয়া। বাতাসে ভর করে ছুটত। এদিক-সেদিক। কখন কোথায় যেত, ভেবেই পেত না।
তেমনি মেঘবতী নামে একখণ্ড ছোট্ট মেঘ ছিল। মাঝে মধ্যে তার প্রচণ্ড মন খারাপ হতো। কান্নায় ভেঙে পড়ত। তা হবে না-ই বা কেন? বড় মেঘেরা ছোট্ট মেঘদের পাত্তাই দিত না। মুখ ভেংচাত। হিংসায় জ্বলত। এসব অবিচার দূর থেকে লক্ষ করত বাতাস। মেঘবতীর দুঃখ-কষ্ট বুঝত। একবার তার কাছে এসে বলল, ‘কাঁদছ কেন, মেঘবতী? তোমার দুঃখটুকু জানতে পারি? মনে হয়, তুমি বড্ড একা। আর কেঁদো না, লক্ষ্মীটি।’
বাতাসের দরদমাখা কথায় মেঘবতীর কান্না আসে। হো হো করে কেঁদে ফেলল। বাতাস চোখের পানি মুছে দিল। মেঘবতী তখন ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে বলল, ‘বাতাস ভাই, আমরা ছোট্ট মেঘেরা কবে বড় হব? কবে গর্জে উঠব? আর কবেই বা বৃষ্টি ঝরাব? কেন বড় মেঘেরা আমাদের তুচ্ছ মনে করে? কিছু বলতে পারো?’
ক্রমাগত নালিশ জানাল। বাতাস শুধু মাথা নাড়ল এবং মেঘবতীকে উপদেশ দিল, ‘তোমরা ছোট্ট মেঘেরা একে অপরের সঙ্গে সই পাতাবে। সুখে-দুঃখে পাশে থাকবে। ইচ্ছে হলে নাচবে, গাইবে, খেলবে যাতে বন্ধুত্ব অটল থাকে। তবে জেনে রেখ, একতাই বল।’
সেই থেকে মেঘরাজ্যে ছোট্ট মেঘেরা একত্রিত হতে লাগল। এভাবে কয়েকদিন কাটল। অবশেষে দুই ডজন ছোট্ট মেঘ একদল হলো। সেখানকার নেতৃত্ব দিচ্ছে স্বয়ং মেঘবতী। ক্ষণিকেই বেড়ে গেল সবার বন্ধুত্ব ও ভালোবাসা।
এদিকে ঘটল কি জানো? ভাবলে অবাক হবে! সেদিন বিকেলবেলার কথা। পুব আকাশে বড় মেঘের কালো ছায়া ঢেকে গেছে। সে পথে মেঘবতীর দল ছুটল এবং বড় মেঘের সঙ্গে ধাক্কা খেল। সর্বনাশ! এ কী কাণ্ড! সঙ্গে সঙ্গে ভয়ানক গর্জন। শুরু হলো টুপটাপ বৃষ্টি। পৃথিবীতে আছড়ে পড়ছে বৃষ্টির ফোঁটা। সবুজ গাছপালা প্রাণ খুলে হাসছে। মেঘবতীরা বিশ্বাস করতে পারছিল না কী করে তারা বৃষ্টি ঝরাল! তখন নিজেদের ধন্য মনে করল। এ সার্থকতার মূলে ছিল বাতাসের সুপরামর্শ। মেঘরাজ্যে এখন তারা মুক্ত ও স্বাধীন।