ময়মনসিংহ অঞ্চলের সবচেয়ে বড় চামড়ার হাট শহরতলির শম্ভুগঞ্জে প্রতি বছরের মতো এবারও কোরবানির পশুর চামড়ায় লবণ লাগিয়ে সংরক্ষণ করা হয়েছে। চামড়ার ন্যায্য দাম পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
শনিবার (১৪ জুন) ট্যানারি মালিকসহ তাদের প্রতিনিধিরা হাটে লবণযুক্ত চামড়া কিনতে আসবেন। এদিন ভালো দাম পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় হাটের ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, ট্যানারি মালিকরা সিন্ডিকেট করে দাম কমিয়ে দিতে পারেন। এতে এ ব্যবসায় ধীরে ধীরে ধস নামতে পারে।
সরেজমিন হাটে গিয়ে দেখা যায়, বিপুল পরিমাণ চামড়ায় লবণ লাগিয়ে সংরক্ষণ করা হয়েছে। মাঠের চারদিকে প্লাস্টিকের পর্দার নিচে চামড়া রাখা হয়েছে। পর্দার বাইরে থাকা লবণযুক্ত চামড়াগুলো বৃষ্টির পানি থেকে রক্ষা করতে পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে।
জানা যায়, ঈদের দিন ও পরের দিন গরুর চামড়ার পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ খাসির চামড়া হাটে এসেছে। কিন্তু কোনো ব্যবসায়ী খাসির চামড়া কেনেননি। কারণ খাসির চামড়া কেনার পর প্রতি পিস চামড়ায় লবণ বাবদ ২০ টাকা খরচ হয়। এর মধ্যে রয়েছে শ্রমিকদের মজুরি। ট্যানারি মালিকরা খাসির চামড়ার দাম দিতে চান না। ফলে চামড়ার মৌসুমি ব্যবসায়ীরা খাসির চামড়া বিক্রি করতে এসে দাম না পেয়ে হাটে ফেলে চলে গেছেন। এ ছাড়া অনেকে খাসির চামড়া মাটিতে পুঁতে ফেলেছেন।
হাটের ব্যবসায়ীরা জানান, সর্বোচ্চ ভালোমানের গরুর চামড়া ৬০০-৭০০ টাকা ও তুলনামূলক খারাপ মানের চামড়াগুলো ১০০-২০০ টাকায় কিনেছেন হাটের ব্যবসায়ীরা। লবণ ও শ্রমিকের মজুরি বাবদ প্রতি পিস চামড়ায় আরও ৩০০ টাকা খরচ হয়েছে। ট্যানারি মালিকদের কাছে প্রতি পিস চামড়া ১ হাজারের ওপর বিক্রি করতে হবে। এবার ট্যানারি মালিকরা সিন্ডিকেট করে দাম কম দিলে ব্যবসায়ীরা চরম ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তাই ট্যানারি মালিকদের দিকে তাকিয়ে আছেন সব ব্যবসায়ী। হাটের ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হলে ভবিষ্যতে অনেক ব্যবসায়ী পশুর চামড়া ব্যবসা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে।
খাসির চামড়া বিক্রি করতে হাটে গিয়ে বিক্রি করতে পারেনি মৌসুমি ব্যবসায়ী আরিফুল ইসলাম। তিনি খবরের কাগজকে বলেন, ‘ঈদের দিন বিকেলে ৮০ পিস খাসির চামড়া সংগ্রহ করেছি। কিন্তু হাটে আনার পর ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, তারা কিনবেন না। এমন অবস্থায় ক্ষোভে হাটেই চামড়াগুলো ফেলে চলে এসেছি।’
আনিছ মিয়া নামের হাটের একজন ব্যবসায়ী বলেন, ‘খাসির চামড়ার দাম ট্যানারি মালিকরা একেবারেই দিতে চান না। তারা যে দাম বলেন, সে দামে বিক্রি করা সম্ভব নয়। তাই খাসির চামড়া কেউ কেনেননি। মান ভেদে গরুর চামড়া বিভিন্ন দামে কেনা হয়েছে।’
শম্ভুগঞ্জ চামড়া হাটের ইজারাদার মো. শহীনুর রহমান শহীন বলেন, ‘আগামী শনিবার ট্যানারি মালিকসহ তাদের প্রতিনিধিরা এ হাটে আসতে পারেন। এদিন ময়মনসিংহ বিভাগসহ দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে ফড়িয়া ব্যবসায়ীরা এখানে লবণযুক্ত চামড়া নিয়ে আসবেন। ট্যানারি মালিকরা ন্যায্য দামে চামড়া কিনলে ব্যবসায়ীরা লাভবান হবেন। আর সিন্ডিকেট করলে চরম ক্ষতিগ্রস্ত হবেন হাটের ব্যবসায়ীরা।’
জেলা প্রশাসক মুফিদুল আলম বলেন, ‘লিল্লাহ বোর্ডিংসহ বিভিন্ন স্থানে বিনামূল্যে লবণ দিয়েছি। মৌসুমি ব্যবসায়ীরা হাটে চামড়া বিক্রি করে ক্ষতিগ্রস্ত হননি। ট্যানারি মালিকদের কাছে হাটের ব্যবসায়ীরা যথাযথ দামে চামড়া বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছি। এ ছাড়া চামড়া যেন সীমান্ত এলাকা দিয়ে পাচার না হয়, সেজন্য সীমান্তে বিজিবি সতর্ক রয়েছে।’