কক্সবাজারের রামুতে একটি রাবার বাড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন এ জাতে মিলবে উচ্চমাত্রার ল্যাটেক্স। বাণিজ্যিক চাষাবাদ শুরু করা গেলে নতুন তিন জাতেই ফিরতে পারে দেশের রাবারশিল্পের সুদিন, এমনটিই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্ট গবেষকদের।
রাবারশিল্পে মন্দা ঘোচাতে এবং উৎপাদন বৃদ্ধিতে প্রথমবারের মতো মালয়েশিয়ান উন্নত জাত থেকে রাবারের উদ্ভাসিত নতুন ক্লোন জাত নিয়ে পাইলট প্রকল্প শুরু করেছে বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই)। পাইলট আকারে লাগানো হয়েছে অর্ধশতাধিক রাবার চারা। প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির দাঁতমারা ইউনিয়নে। ২০১৭ সালে রাবার চাষকে লাভজনক করে গড়ে তুলতে মালয়েশিয়া থেকে আনা উচ্চফলনশীল একটি রাবারগাছের বীজ থেকে টিস্যু সংগ্রহ করে সফলভাবে নতুন তিনটি জাত উদ্ভাবন করে বিএফআরআই। বাণিজ্যিক চাষাবাদে দেশি জাতগুলোর চেয়ে তিন গুণের বেশি লাভবান হওয়া যাবে বলে আশা করছেন গবেষকরা।
বাংলাদেশ রাবার বোর্ডের তথ্যমতে, দেশে রাবার বাগান আছে ৫ হাজার ৫০০টি। বছরে ৬৭ হাজার ৯৬৯ টন ল্যাটেক্স উৎপাদন হয়। যা চাহিদার তুলনায় কম।
বিএফআরআইয়ের সিলডি কালচার জেনেটিক্স বিভাগের গবেষণা কর্মকর্তা ড. ওয়াহিদা পারভীন বলেন, ‘২০১৭ সালে মালয়েশিয়ার রাবার বাড থেকে বীজ সংগ্রহ করা হয়। পরবর্তী সময়ে মধুপুর ও শ্রীমঙ্গলের সাদগাঁও রাবার বাগানের উচ্চমাত্রায় ল্যাটেক্স দেওয়া কয়েকটি গাছ থেকে বীজ এনে বাড গ্রাফটিং করা হয়। বর্তমানে মাঠপর্যায়ে গবেষণার জন্য সেখানে রাবারগাছগুলো পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এই নতুন জাতগুলো থেকে উচ্চমাত্রায় ল্যাটেক্স পাওয়া যাবে।’
নতুন জাত তিনটির নামকরণ করা হয়েছে আরএম ০০১, আরএম ০০২, আরএম ০০৩। বেলে ও দোঁআশ দুই ধরনের মাটিতেই এই জাতের রাবারগাছ চাষ করা যায়। জুন থেকে আগস্টের মধ্যে রাবারের এই নতুন জাতের চারাগুলো রোপণ করতে হয়। চারা রোপণ থেকে ল্যাটেক্স উৎপন্ন পর্যন্ত একটি রাবারগাছের চার বছর সময় লাগবে। সমতল ভূমিতে ৪৪৫টি রাবারগাছ রোপণ করা যাবে। বাণিজ্যিক চাষাবাদে দেশি জাতগুলোর চেয়ে তিন গুণের বেশি লাভবান হওয়া যাবে বলে আশা করছেন গবেষকরা।
মালয়েশিয়ার প্রতি হেক্টর জমিতে ৩ হাজার কেজি ল্যাটেক্স উৎপাদন করা হয়। বাংলাদেশে চাষ করা প্রতি হেক্টর রাবার বাগান থেকে বছরে গড়ে মাত্র ৫০০ কেজি ল্যাটেক্স পাওয়া যায়। যে কারণে রাবার বাগান মালিকদের লোকসান গুনতে হচ্ছে। বাংলাদেশে কীভাবে উচ্চফলনশীল রাবারের জাত উদ্ভাবন করা যায় তা নিয়ে গবেষক দল গবেষণা করে ২০১৭ সালে। এরই অংশ হিসেবে উচ্চমাত্রায় ল্যাটেক্স দেওয়া মালয়েশিয়ান একটি রাবারগাছের জাতকে ক্লোন করে নতুন তিনটি জাত উদ্ভাবন করেছেন তারা। ইতোমধ্যে এর প্রয়োগ শুরু হয়েছে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বন ও পরিবেশ বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. আখতার হোসেন খবরের কাগজকে বলেন, ‘বর্তমানে চাষ করা দেশি জাতের চেয়ে তিন থেকে চার গুণ বেশি ল্যাটেক্স পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’
বাংলাদেশে যেসব জাতের রাবার চাষ করা হয় সেগুলোর উৎপাদন খুবই কম। যে কারণে রাবার চাষ করেও কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন না পেয়ে অনেকে হতাশ হয়েছেন। গবেষকরা এ বিষয়ে আশার বাণী শুনিয়েছেন, রাবারশিল্পে সুদিন ফিরবে। মালয়েশিয়া ও ভারত অনেক আগে থেকে উচ্চ ল্যাটেক্স উৎপাদনকারী জাতের চাষ শুরু করেছে। যে কারণে রাবারশিল্পে তারা অনেকটাই এগিয়ে। বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদ শুরু করলে রাবারশিল্পের সম্ভাবনা বহু গুণ বেড়ে যাবে। বাংলাদেশে গবেষকদের প্রায়োগিক গবেষণা সফলতার হাত ধরে রাবারচাষিদের নতুন স্বপ্ন দেখাবে, সেটাই প্রত্যাশা।