ঢাকা ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিতে চাকরির সুযোগ প্রাণীর বিভিন্নতা ও শ্রেণিবিন্যাস অধ্যায়ের ১০টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৫ম পর্ব, এইচএসসির জীববিজ্ঞান ২য় পত্র কোকা-কোলা বাংলাদেশে ফ্রন্ট লাইন মার্কেটিং পরিচালক লায়লা ফারজানা দেওয়ানগঞ্জে নদীভাঙন কবলিত পরিবারকে বিজিবির ত্রাণ বিতরণ বন্দি বিনিময় চুক্তিতে শেখ হাসিনাকে ফেরানোর কাজ চলছে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ফরিদপুরে ফ্ল্যাটে অচেতন হয়ে নিঃসঙ্গ ব্যক্তির মৃত্যু জনগণের স্বার্থ বিবেচনায় সংস্কারে আইএমএফ সম্মত হয়েছে: অর্থমন্ত্রী লালদিয়াচর টার্মিনালের চুক্তি বাতিল বা পুনঃচুক্তি হবে না: নৌপরিবহনমন্ত্রী ইউএনও পরিচয়ে ফোন করে চাওয়া হচ্ছে বন্যার্তদের তালিকা, সতর্ক থাকার আহ্বান বাংলাদেশ ডিস্যাবিলিটি ইনক্লুসিভ সোসাইটির রোল মডেল হবে: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী অতিবৃষ্টি ও বন্যা কেন আসে? ‘আসুন চেষ্টা করি যেখানে-সেখানে আবর্জনা না ফেলতে’ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পাহাড়ি ঢলে প্লাবিত নিম্নাঞ্চল, বন্যার শঙ্কা বর্তমান পারফরমেন্স কে এগিয়ে ফ্রান্স না স্পেন? শাহরাস্তি উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীর মরদেহ উদ্ধার মৌলভীবাজারে পানি নামলেও কমেনি দুর্ভোগ মারিয়ানো রাখয়ের বর্ণবাদী মন্তব্যে যা বললেন স্পেন ডিফেন্ডার সিলেটের নতুন জেলা প্রশাসকের যোগদান প্রাথমিক বৃত্তিতে আবারও সেরা আখাউড়ার মোগড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মেক্সিকোতে ট্রাকের ধাক্কায় দুই শিশুসহ নিহত ১০ শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নতুন প্রস্তাব দিলো ইইউ হবিগঞ্জে নেমেছে বন্যার পানি, কৃষি ও মৎস্য চাষে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি আগামী এক বছরে ৪১ লাখ পরিবার ফ্যামিলি কার্ড পাবে: প্রধানমন্ত্রী ভারতে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে বর্জ্যের স্তূপ ধস, ৯ শ্রমিক নিহত ‘জুরাসিক পার্ক’ খ্যাত অভিনেতা স্যাম নিল আর নেই ৩৬ বছরের রেকর্ড ভাঙলো ২০২৬ বিশ্বকাপ অধরা স্বপ্ন পূরণের মিশনে কেইন রাজশাহী চিড়িয়াখানাকে সাফারি পার্ক করা হবে: প্রতিমন্ত্রী টুকু বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক সংস্থার সমাজ উন্নয়ন কার্যক্রম অধ্যায়ের ১টি সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর, ৪র্থ পর্ব, এইচএসসির সমাজকর্ম ২য় পত্র চাঁপাইনবাবগঞ্জে শ্রমিক ইউনিয়নের মৃত সদস্যদের সন্তানদের বিয়েতে সহায়তা

তৃণমূল পর্যায়ে ক্ষুদ্রঋণের গুরুত্ব বাড়ছে

প্রকাশ: ০৫ জানুয়ারি ২০২৪, ১০:৩৯ এএম
আপডেট: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৯:০০ এএম
তৃণমূল পর্যায়ে ক্ষুদ্রঋণের গুরুত্ব বাড়ছে

ক্ষুদ্রঋণকে দারিদ্র্য দূরীকরণের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে আর্থসামাজিক উন্নয়নের হাতিয়ার হিসেবে বর্ণনা করা হয়। নিম্ন আয়ের মানুষের আর্থিক সক্ষমতা বাড়াতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। সংসারের নানা প্রয়োজন মেটানো, বেকার জনগোষ্ঠীর আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি, গ্রামাঞ্চলে ব্যক্তি ও পারিবারিক ব্যবসা সম্প্রসারণসহ শিক্ষা ও চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে ক্ষুদ্রঋণ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। গত এক বছরে ক্ষুদ্রঋণের গ্রাহকসংখ্যা বেড়েছে ৬ দশমিক ৬৩ শতাংশ। এর মধ্যে ঋণগ্রহীতার সংখ্যা বেড়েছে ৫ দশমিক ৯১ শতাংশ। মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি বা ক্ষুদ্রঋণ নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের (এমআরএ) গবেষণায় বলা হয়েছে, দারিদ্র্যপীড়িত লোকজন তাদের অবস্থানের উন্নতি ঘটাতে ক্ষুদ্রঋণ নিয়ে থাকে।

এমআরএর তথ্য থেকে জানা গেছে, ২০২২ সালের জুন শেষে দেশে ক্ষুদ্রঋণগ্রহীতা ছিল ২ কোটি ৯৭ লাখ ৪০ হাজার। গত বছর অর্থাৎ ২০২৩ সালের জুন শেষে এ সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ১৫ লাখ। এমআরএর অনুমোদিত ৩৭৯ বেসরকারি সংস্থার হিসাবের ভিত্তিতে এ সংখ্যা প্রকাশ করা হয়েছে। গ্রামীণ ব্যাংক ও সরকারের বিভিন্ন ঋণদান সংস্থার তথ্য বিবেচনায় নিলে এই সংখ্যা আরও বেশি হবে।

এমআরএ নিবন্ধিত এনজিওগুলো গত এক বছরে ঋণ বিতরণ করেছে ২ হাজার ৮৬১ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। ২০২২ সালের জুলাই মাসের আগে এক বছরে ঋণ বিতরণ হয়েছিল ১ হাজার ৯১৮ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। অর্থাৎ এক বছরে বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা।

ঋণ নিতে আসা পরিবারগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রবাসফেরত, কৃষক, ভূমিহীন কিছু বসতভিটা আছে এমন ব্যক্তি, শিক্ষক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও ব্যবসা করতে আগ্রহী লোকজন। উচ্চ সুদহার সত্ত্বেও তৃণমূলের মানুষ এনজিওর কাছ থেকে ক্ষুদ্রঋণ নিচ্ছে। কাজের ব্যাপ্তিতে এনজিওগুলোর পরিচালন ব্যয় অনেক বেশি। তাই ইচ্ছা থাকলেও কোনো এনজিও কম সুদে ঋণ দিতে সমর্থ নয়। অন্যদিকে অবকাঠামো ও জনবল বিবেচনায় ব্যাংকও ক্ষুদ্রঋণে যেতে পারে না। এনজিওগুলোর ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচির একটি বড় শক্তি হলো, এটি ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি ও ঘরে ঘরে যোগাযোগ সৃষ্টি করেছে।

অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ ক্ষুদ্রঋণগ্রহীতার সংখ্যা বৃদ্ধিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে মন্তব্য করে খবরের কাগজকে বলেন, ‘মানুষের অর্থের চাহিদা বেড়েছে। কারণ যে হারে জীবনযাপন ব্যয় বেড়েছে, সে তুলনায় আয় ও কর্মসংস্থান বাড়েনি। দীর্ঘ সময় ধরে দেশে টানা যে হারে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে, এমন পরিস্থিতি আগে কখনো আসেনি। তাই মানুষের আয় ও ব্যয়ে সঙ্গতি থাকছে না। ফলে বাধ্য হয়ে মানুষ ঋণ করছে। সারা দেশে এমনিতেও ঋণ গ্রহণের অনুপাত বেড়েছে। কেউ প্রয়োজন মেটাতে, আবার কেউ পরিশোধ করতে ঋণ নিচ্ছে। এতে ঋণগ্রহীতা একটি দুষ্টচক্রেও আটকে যাচ্ছে।’

ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম শুরু হয়েছিল স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে বিচ্ছিন্নভাবে। দেশের পুনর্গঠনে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা বা এনজিওগুলো ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম শুরু করে। পরে ১৯৭৬ সালে গ্রামীণ ব্যাংক এ কার্যক্রমকে একটা সুশৃঙ্খল প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়ে ব্যাপকভাবে কাজ শুরু করে। পরবর্তী সময়ে শত শত এনজিও এসেছে। একপর্যায়ে সরকারও ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম শুরু করে। কমপক্ষে ১০টি সরকারি এজেন্সি এখন ক্ষুদ্রঋণ বিতরণ করে।

বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও বিআইডিএসের সাবেক মহাপরিচালক ড. মুস্তফা কে মুজেরি খবরের কাগজের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘সামাজিক উন্নয়নে এনজিও পরিচালিত ক্ষুদ্রঋণ একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনে সারা দেশে, বিশেষ করে তৃণমূল পর্যায়ে। মাইক্রোক্রেডিট এখন মাইক্রোফিন্যান্স বা ক্ষুদ্র আর্থিক সেবায় পরিণত হয়েছে। এটা এখন স্বীকৃত। কারণ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ক্ষুদ্রঋণের ধারণাগত পরিবর্তন হয়েছে। মাইক্রোফিন্যান্স এই অর্থে যে, এটি এখন শুধু ঋণ নয়; এটি এখন একটি প্যাকেজ বা পরিপূর্ণ আর্থিক সেবা।’

এটি সত্য যে, ক্ষুদ্রঋণের ব্যাপকতা বেড়েছে। এই বৃদ্ধি মূলত চাহিদার কারণে। অর্থনীতিতে চাহিদা ও সরবরাহ দুটিই যখন গতিময় হয় তখন প্রবৃদ্ধি ঘটে। ঋণ নেওয়া ও তা নিয়মিত পরিশোধ করার তাগিদ ঋণগ্রহীতার পরিবারে ও ব্যক্তিপর্যায়ে এক ধরনের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা তৈরি করে। এই আর্থিক ব্যবস্থাপনা একটি পরিবারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ঋণের অর্থ কাজে লাগিয়ে যদি আয় বৃদ্ধি করে কিস্তি পরিশোধ করার ব্যবস্থা সৃষ্টি হয়, সেটি অবশ্যই অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতিশীলতা তৈরি করে। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এই আর্থিক ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা তৈরি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যেহেতু ক্ষুদ্রঋণ বিতরণ করা সংস্থাগুলো শুধু ঋণ দেয় না, পরিচর্যা করে ও ঋণগ্রহীতা পরিবারের যাবতীয় খোঁজখবর নেয়; তাই সামগ্রিক অর্থে ক্ষুদ্রঋণের গুরুত্ব ব্যাপক। তবে এর নেতিবাচক দিকও রয়েছে। ঋণগ্রহীতা যেন দারিদ্র্যের বা ঋণের দুষ্টচক্রে না পড়ে, সেদিকটায় ক্ষুদ্রঋণ বিতরণে নিয়োজিত সংস্থাগুলোকে আরও যত্নবান হতে হবে। প্রয়োজনে কর্মীদের এ ব্যাপারে প্রশিক্ষিত করে গড়ে তুলে তারপরই মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমে নিযুক্ত করতে হবে।

অপ্রতিরোধ্য মব সহিংসতা শক্ত হাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করুন

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০২:০৪ পিএম
শক্ত হাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করুন

দেশে মব সহিংসতার ধারাবাহিকতা এখনো চলমান। যখন-তখন যেখানে-সেখানে যে কেউ মব বা অন্যায়ভাবে শারীরিক সহিংসতার শিকার হচ্ছেন। এটি সুস্থ সমাজে কোনোভাবেই কাম্য নয়। এরই মধ্যে বেড়েছে সাইবার মব। অর্থাৎ তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে কাউকে নাজেহাল করার চেষ্টা। দেশব্যাপী সাইবার মবের তৎপরতা এমন যে প্রধানমন্ত্রীর পরিবার থেকে শুরু করে সংসদ সদস্য বা সংস্কৃত অঙ্গনের মানুষও এতে বিদ্ধ হচ্ছেন প্রতিনিয়ত। দীর্ঘদিন ধরে চলমান বটবাহিনীর তাণ্ডবও একধরনের সাইবার মব। অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে পুলিশের মনোবল ও সাংগঠনিক কাঠামো বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। সেই সুযোগে বিভিন্ন ব্যক্তি বা গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে টার্গেট করে সংঘবদ্ধ মব সহিংসতা ঘটাতে শুরু করে, যা পরে একধরনের মব কালচারে রূপ নেয়। এদিকে গত শনিবার অনুষ্ঠিত এইচএসসি পরীক্ষায় ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় একটি কেন্দ্রে নকল করতে বাধা দেওয়ায় শিক্ষার্থীরা মব সৃষ্টি করে বিশৃঙ্খলা তৈরি করে। এরপর পুলিশ ও শিক্ষার্থী সংঘর্ষে দুজন পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এটি শিক্ষার্থীদের নৈতিক শিক্ষার সংকটকে সামনে এনেছে।

অতি সম্প্রতি এক পুলিশ সদস্য মারধরের শিকার হয়ে দুঃখ-কষ্টে কান্নায় ভেঙে পড়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে সচেতন মহলসহ পুলিশ সদস্যদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। অনেক পুলিশ সদস্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়ে চরম ক্ষোভ ও সমাজের প্রতি হতাশা প্রকাশ করেন। বারবার টার্গেট হচ্ছে পুলিশ।

পুলিশ সদর দপ্তর থেকে জানা গেছে, কর্তব্যরত অবস্থায় অপরাধী ও দুষ্কৃতকারীদের মব সন্ত্রাস বা বিভিন্নভাবে পুলিশের ওপর ধারাবাহিকভাবে হামলার ঘটনা ঘটছে। গুজবনির্ভর এ ধরনের হামলা শুধু আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য হুমকিই নয়, বরং বাংলাদেশে গড়ে ওঠা নব্য ‘মব সংস্কৃতি’ প্রকারান্তরে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, বিচার-প্রক্রিয়া ও জননিরাপত্তার প্রতি মারাত্মক হুমকি। এটি একটি শাস্তিযোগ্য ফৌজদারি অপরাধও। এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটিয়ে স্বার্থসংশ্লিষ্ট কোনো পক্ষ বাংলাদেশ পুলিশ তথা সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে তাদের কায়েমি স্বার্থ হাসিলের অপচেষ্টায় লিপ্ত বলে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন আশঙ্কা করছে। 
পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্যমতে, জানুয়ারি থেকে জুন- গত ছয় মাসে সারা দেশে ৩১৯ পুলিশ সদস্য মব বা সংঘবদ্ধ হামলার শিকার হয়েছেন। মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্যমতে, গত ছয় মাসে (জানুয়ারি থেকে জুন) দেশের বিভিন্ন স্থানে মব সন্ত্রাসের শিকার হয়ে ১১৩ জন নিহত হয়েছেন।

অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আইনকানুন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। মব কেন ঘটছে এবং কারা কী কারণে করছে, সেগুলো খুঁজে বের করতে হবে। এ বিষয়ে কার্যকর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হলে মব সন্ত্রাস দমন করা সম্ভব হবে।

সামাজিক অপরাধ বিশেষজ্ঞ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক খবরের কাগজকে বলেন, মবের মতো আইনবিরুদ্ধ কাজও সমাজে যখন প্রতিনিয়ত ঘটে এবং একধরনের ‘বৈধতা পায়’, তখন একটা শ্রেণির কাছে তা ‘স্বাভাবিক’ বলে প্রতীয়মান হওয়া বিচিত্র নয়। কেউ কেউ মনে করেন, এভাবেও বিচার করা যায় বা বিচার হয়। বাংলাদেশে এই বাধা বা প্রতিবন্ধকতার সূত্র ধরে মব সহিংসতা ক্রমান্বয়ে দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ছে। স্বয়ং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও মবের আক্রমণ থেকে রেহাই পাচ্ছেন না, যা সচেতন নাগরিকদের মধ্যে উদ্বেগ ও শঙ্কা  ছড়াচ্ছে।

মব সহিংসতা বন্ধ করতে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। বিশেষ করে মবের সঙ্গে জড়িত রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সাংগঠনিকভাবে আশ্রয়-প্রশ্রয় বন্ধ করতে হবে। যেকোনো ধরনের মবের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স অনুসরণ করতে হবে। দেশে আইনের শাসন নিশ্চিত করতে হবে। আশা করছি, সরকার দেশের জনকল্যাণে মব সহিংসতা দূর করতে দূরদর্শী ভূমিকা রাখবে।

অনলাইনে প্রকাশ্যে অস্ত্র কেনাবেচা জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিন

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ১২:২৫ পিএম
জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিন

হাত বাড়ালেই এখন অস্ত্র কেনা যাচ্ছে। অনলাইনে প্রকাশ্যেই অস্ত্র কেনাবেচা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন গোপনীয় গ্রুপে এবং প্রকাশ্য ওয়েব পেজে আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি কেনাবেচা চলছে। তবে এগুলো অধিকাংশই প্রতিবেশী দেশে বা অন্য দেশে বসে নিয়ন্ত্রণ করা হয়ে থাকে। দেশের ভেতরেও এ ধরনের প্রবণতা লক্ষ করছেন অপরাধ বিশ্লেষকরা। ইদানীং পার্বত্য চট্টগ্রামসহ বেশ কিছু সীমান্ত এলাকায় অনলাইন যোগাযোগে অস্ত্র কেনাবেচার কিছু খবর পাওয়া যাচ্ছে। অন্যদিকে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন অঞ্চলের দোকানে মেটাল বডির হুবহু নকল পিস্তল, রিভলবারও বিক্রি হচ্ছে। অনেক সময় এগুলোকে খেলনা পিস্তল হিসেবে প্রদর্শন করে বিভিন্ন দামসহ ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এই খেলনা পিস্তলের আড়ালে মূলত প্রকৃত পিস্তল বেচাকেনা হচ্ছে কি না, সে বিষয় খতিয়ে দেখা জরুরি। চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে থানাসহ পুলিশের বিভিন্ন স্থাপনা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র, গোলাবারুদ এবং সন্ত্রাসীদের হাতে থাকা অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের কারণে আগামী দিনগুলো আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা দুষ্কর হয়ে পড়বে।

পুলিশ সদর দপ্তরের সর্বশেষ তথ্য মতে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দেশের বিভিন্ন থানা, ফাঁড়ি ও স্থাপনায় হামলা চালিয়ে পুলিশের ৫ হাজার ৭৬৩টি আগ্নেয়াস্ত্র লুট করা হয়। লুট হওয়া এসব অস্ত্রের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৪ হাজার ৪৪৫টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো ১ হাজার ৩১৮টি আগ্নেয়াস্ত্রের কোনো হদিস জানতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এসব মারণাস্ত্র কার হাতে বা কোথায় আছে, তাও অজানা। পুলিশ সদর দপ্তর থেকে বলা হয়েছে, গত ১ মে থেকে সারা দেশে মাদক ও অস্ত্রবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এই বিশেষ অভিযানে গত সোমবার পর্যন্ত ২২টি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। অবৈধ অস্ত্রের পাশাপাশি পুলিশের লুট হওয়া অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারেও সব ইউনিটকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পেশাদার সন্ত্রাসী, উগ্রবাদী ও রাজনৈতিক ক্যাডার–এই তিন শ্রেণির হাতে লুট হওয়া অস্ত্র, গোলাবারুদ থাকতে পারে। জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকার এসব অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান চালালেও তা ফলপ্রসূ হয়নি। বর্তমান সরকার এখন দৃশ্যমান তেমন কোনো অভিযান পরিচালনা করতে পারেনি। দল-মতনির্বিশেষে নির্মোহভাবে অস্ত্র উদ্ধার অভিযানে নামতে হবে। সম্মিলিত অভিযান পরিচালনা ছাড়া বিকল্প নেই। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অভিযান দৃশ্যমান করতে হবে।

অপরাধ বিশেষজ্ঞ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক খবরের কাগজকে বলেন, সরকারি বাহিনী বা সংস্থার সদস্যদের বাইরে যে কারও হাতে আগ্নেয়াস্ত্র থাকা মানে সমাজের সাধারণ মানুষের জন্য ভীতিকর বা আতঙ্কের বিষয়। আমরা বিভিন্নভাবে আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার ও মহড়া দেখতে পাচ্ছি। সে অনুসারে জোরালো অভিযান চোখে পড়ছে না। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার স্বার্থে যেকোনো মূল্যে লুট হওয়া আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারসহ অবৈধ অস্ত্রের বিরুদ্ধে সরকারকে আরও কঠোর হতে হবে।

অনলাইনে প্রকাশ্যে অস্ত্র কেনাবেচার সঙ্গে জড়িতদের কঠোর নজরদারির আওতায় এনে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। একটি দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে স্বাভাবিক রাখতে হলে এ ধরনের অপতৎপরতা রুখতে সংশ্লিষ্ট বাহিনীকে আরও সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে। সমাজে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে হলে এবং সাধারণ মানুষের  জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে অবৈধ অস্ত্রের (অনলাইন অফলাইন) ব্যবহার বন্ধ করা খুবই জরুরি।

প্রকোপ ঠেকাতে সচেতন হওয়া জরুরি দেশজুড়ে ডেঙ্গুর ব্যাপক বিস্তার

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ১২:০৪ পিএম
দেশজুড়ে ডেঙ্গুর ব্যাপক বিস্তার

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ডেঙ্গুর বিস্তার আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। হাসপাতালগুলোতে প্রতিদিনই বাড়ছে ডেঙ্গু উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীর সংখ্যা। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুম এলেই ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তে থাকে। কিন্তু এ সময়টাতে সে অনুযায়ী কার্যকর ও সমন্বিত কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখা যায় না। মাঠপর্যায়ের বর্তমান যে চিত্র দেখা যায়, তাতে এ বিষয়টি স্পষ্ট পরিলক্ষিত হয়। খবরের কাগজের সরেজমিন প্রতিবেদনের তথ্যমতে, রাজধানীতে কয়েক দিনের বৃষ্টিতে খাল, নালা, ড্রেন ও পরিত্যক্ত স্থানে পানি জমে রয়েছে। অনেক স্থানে গিয়ে দেখা গেছে, আবর্জনায় ভরা স্থির পানি এডিস মশার প্রজননক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিয়মিত ফগিং হলেও লার্ভা ধ্বংস ও জমে থাকা পানি অপসারণে কার্যকর উদ্যোগের ঘাটতি রয়েছে।

জানা গেছে, চলতি বছর ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন; বিশেষ করে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনকে ডেঙ্গু ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে এ লক্ষ্যে একটি বিশেষ টাস্কফোর্সও গঠন করা হয়েছে। এই কমিটির সদস্যরা রাজধানীর বাড়ি বাড়ি গিয়ে এডিস মশার লার্ভা শনাক্ত ও ধ্বংসে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছেন। ইতোমধ্যে রাজধানীতে বিভিন্ন এলাকায় এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সম্প্রতি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠক হয়েছে। সেখানে ডেঙ্গু মোকাবিলায় একাধিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

কীটতত্ত্ববিদদের মতে, ঢাকাসহ দেশের অনেক জেলায় এডিস মশার ঘনত্বের সূচক এখন ২০-এর বেশি। বৃষ্টিপাত, তাপমাত্রা, আর্দ্রতা এবং রোগীর সংখ্যা বিশ্লেষণ করে তৈরি পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে দেশের বেশ কয়েকটি জেলায় ডেঙ্গুর সংক্রমণ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়তে পারে। এ ছাড়া গত দুই বছরের অভিজ্ঞতাও তেমন সন্তোষজনক পর্যায়ে নেই। ২০২৫ সালে দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছিলেন ১ লাখ ২ হাজার ৮৬১ জন, মৃত্যু হয়েছিল ৪১৩ জনের। ২০২৪ সালে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ১ হাজার ২১৪ এবং প্রাণ হারান ৫৭৫ জন। সেই অভিজ্ঞতায় এবার বর্ষার শুরুতেই সতর্ক হওয়ার তাগিদ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। 

চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন, বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই বৃষ্টিপাত শুরু হওয়ায় এবার ডেঙ্গুর প্রকোপও আগেভাগেই দেখা দিয়েছে। কার্যকর প্রতিরোধব্যবস্থার অভাবে ডেঙ্গু এখন আর রাজধানীকেন্দ্রিক নয়, দেশের বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে। ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন মশাবাহিত রোগের বিস্তার জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারি সংস্থাগুলোকে নিয়মিত মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা, লার্ভা ধ্বংস এবং কার্যকর তদারকি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে জনসচেতনতা বাড়িয়ে ব্যক্তি ও সামাজিক পর্যায়ে প্রতিরোধমূলক উদ্যোগ জোরদার করা জরুরি। সময়মতো এসব ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে সামনের মাসগুলোতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। 

ডেঙ্গুর প্রকোপ ঠেকাতে সরকারকে মাঠপর্যায়ে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।  ইতোমধ্যেই আমরা জেনেছি, রাজধানীর দক্ষিণ সিটির ২৭টি ওয়ার্ডকে চরম ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং উত্তর সিটির ২৪টি ওয়ার্ড উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এসব স্থানে লার্ভা ধ্বংস ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালিত হয়নি। তাই এখন থেকেই  মাঠপর্যায়ে লার্ভি সাইডিং, নিয়মিত ফগিং, খাল-নালা পরিষ্কার এবং আবর্জনা অপসারণে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যক্রমের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। কার্যকর প্রতিরোধব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হলে জনসচেতনতা বাড়াতেও পদক্ষেপ নিতে হবে। সরকার দ্রুত এসব উদ্যোগ নিলে মাঠপর্যায়ে ডেঙ্গুর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।

চট্টগ্রাম অঞ্চলে টানা বর্ষণ ও পাহাড়ধস দুর্ভোগ লাঘবে জরুরি ব্যবস্থা নিন

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ১২:১৭ পিএম
দুর্ভোগ লাঘবে জরুরি ব্যবস্থা নিন

১৯৮৩ সালের পর ৪৩ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয়েছে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে। স্মরণকালের সর্বোচ্চ বৃষ্টিতে এবং পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও পার্বত্য জেলাগুলোর বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে সড়ক, রেল ও বিমান যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে। পাহাড়ি ঢল, বন্যা, দেয়াল ও পাহাড়ধসে বেশ কয়েকজন নিহত হয়েছেন। ঝুঁকিতে রয়েছেন সেখানকার লাখো বাসিন্দা। পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন কয়েক শ আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করেছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছে। জানমালের নিরাপত্তা রক্ষায় খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের সব পর্যটনকেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন চট্টগ্রাম ও রাঙামাটি জেলার গতকালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বান্দরবানের সার্বিক পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। জেলার বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ধসের আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। দুই দিনের অতিভারী বর্ষণে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলজুড়ে পাহাড়ধস, জলাবদ্ধতা, সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন, নদীর পানি বাড়ার কারণে জনজীবনে দুর্ভোগ নেমে এসেছে। টানা বৃষ্টিতে বিপাকে পড়েছেন শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষ।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা বিভাগ জানিয়েছে, নালা-খাল পরিষ্কারের কাজ চললেও অতিবৃষ্টি ও জোয়ারের কারণে পানি নামতে সময় লাগছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চসিকের বিশেষ টিম মাঠে কাজ করছে। প্রাণহানি এড়াতে ৯টি ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে নির্দেশ দিয়েছে জেলা প্রশাসন। সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন নগরের নিম্নাঞ্চল পরিদর্শন করে বলেছেন, প্লাস্টিকজাতীয় পণ্য আটকে থাকায় খাল-নালা দিয়ে স্বাভাবিক পানি চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। প্রবল বৃষ্টির সঙ্গে জোয়ারের পানি যোগ হয়ে অনেক এলাকায় জলজট তৈরি হয়েছে।

২০১৭ সালে উখিয়া ও টেকনাফে বনভূমি উজাড় করে গড়ে তোলা ৩৩টি রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে বর্তমানে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা বসবাস করছে। সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, এর মধ্যে অন্তত ১ লাখ মানুষ ভূমিধসের উচ্চঝুঁকিতে রয়েছে। 
বন্যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে বন্যা ও পাহাড়ধসের ঝুঁকি বাড়বে। এদিকে ফেনীতে ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যার স্মৃতি কাটিয়ে উঠতে পারেনি ফেনীর মানুষ। সেই ক্ষত না শুকাতেই উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে টানা বর্ষণে জেলার প্রধান নদীগুলোর পানি আবারও বাড়তে শুরু করেছে। এদিকে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, বর্তমানে অধিকাংশ নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে থাকলেও আগামী কয়েক দিনে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির কারণে কয়েকটি নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়তে পারে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে টানা বর্ষণে জনসাধারণকে বড় ধরনের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে নিম্ন আয় ও খেটে খাওয়া মানুষের অসুবিধা চরমে। শুধু পার্বত্য চট্টগ্রামই নয়, এ সময়ে দেশের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল টানা বৃষ্টিতে প্লাবিত হচ্ছে। এ অবস্থায় মানুষের জানমালের নিরাপত্তায় সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি। সম্ভাব্য পাহাড়ধস ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে যাতে সাধারণ মানুষের ক্ষয়ক্ষতি না ঘটে, সে বিষয়ে সরকারকে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। ভূমিধসের উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা এলাকাগুলোতে শুধু সতর্কতা জারি করলেই হবে না, তাদের বিকল্প বাসস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। অব্যাহত বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে জনসাধারণের ভোগান্তি যাতে আর না বাড়ে, সে জন্য সরকারি সংস্থাগুলোকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। আশা করি, সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে এ ব্যাপারে দিকনির্দেশনা দেওয়া হবে।

এইচএসসিতে ঝরে পড়ার হার উদ্বেগজনক অবস্থা উত্তরণে কৌশল নির্ধারণ জরুরি

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৩:১১ পিএম
অবস্থা উত্তরণে কৌশল নির্ধারণ জরুরি

চলতি উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি ও সমমান) পরীক্ষায় এবার অনুপস্থিতি আগের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি। বিষয়টি শিক্ষাসংশ্লিষ্টদের কাছে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ বছর নিয়মিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৩৬ শতাংশ পরীক্ষা দেওয়ার জন্য ফরমই পূরণ করেনি। দুই বছর আগে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাস করে একাদশ শ্রেণিতে নিবন্ধন করেছিল প্রায় ১৫ লাখ শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে এবার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার জন্য ফরম পূরণ করেছে প্রায় সাড়ে ৯ লাখ শিক্ষার্থী, অর্থাৎ নিয়মিত শিক্ষার্থীদের প্রায় সাড়ে ৫ লাখ পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে না। প্রথম তিন দিনের অনুপস্থিতির সংখ্যাটি যোগ করলে পরীক্ষা না দেওয়া পরীক্ষার্থীর সংখ্যা আরও বেশি হবে। এমন ব্যাপক অনুপস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিক্ষাব্যবস্থার কঙ্কাল বেরিয়ে এসেছে। এখন প্রয়োজন এ সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসার কৌশল দ্রুত নির্ধারণ করা।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উচ্চমাধ্যমিকে অনুপস্থিতির হার ক্রমাগত বাড়ছে। বিভিন্ন বোর্ডের তুলনামূলক অনুপস্থিতির হার দেখলেই তা অনুমান করা যায়। প্রথমত, ১১টি শিক্ষা বোর্ডে ২০২৫ সালের পরীক্ষার প্রথম দিন ১৯ হাজার ৭৫৯ পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল। ২০২৪ সালে প্রথম দিনে অনুপস্থিত ছিল ১৫ হাজার ২০৩ পরীক্ষার্থী। এর আগের বছর ২০২৩ সালে আটটি শিক্ষা বোর্ডের অধীন অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিল ৫ হাজার ৫২২ জন। ওই বছর বন্যার কারণে চট্টগ্রাম, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা পরে শুরু হয়েছিল।

এইচএসসি পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগে বহিষ্কারের সংখ্যাও বেড়েছে। তা ছাড়া বিপুলসংখ্যক পরীক্ষার্থী ঝরে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাজারও স্বপ্ন ঝরে পড়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ হারে ঝরে পড়ার কারণ খুঁজে বের করা দরকার। সরকারকে তা বুঝতে হবে। আমরা কতটা যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ দিতে পেরেছি, সেটাও দেখতে হবে। আমাদের শিক্ষক, অভিভাবক- সবাইকে সচেতন হতে হবে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটা ধারণা জন্মেছে যে, রাস্তায় নামলেই সবকিছু পেয়ে যাবে। ২০২৪ সালের আন্দোলনের পর শিক্ষার্থীদের দ্রুত ক্লাসে পড়া উচিত ছিল। কিন্তু তা হয়নি। 
সচিবালয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় নিয়মিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৩৬ শতাংশই অংশ না নেওয়ার বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাব দেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। শ্রেণিকক্ষে ঠিকমতো পড়াশোনা হচ্ছে না, অন্যদিকে এখন পরীক্ষা সঠিকভাবে হচ্ছে। সবকিছু মিলিয়ে এবার হয়তো কিছুসংখ্যক ছাত্রছাত্রী চিন্তা করেছে... বিগত দিনের মতো প্রস্তুতি ছাড়া কেউ যেতে (পরীক্ষার হলে) পারছে না। সে জন্য বোধহয় হারটি বেড়েছে। কিন্তু এটি খুব খারাপ ইন্ডিকেটর (সূচক)। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। এ জন্য শিক্ষক প্রশিক্ষণের ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান খবরের কাগজকে বলেন, সরকারের বর্তমান নকলবিরোধী অবস্থানের কারণে যাদের প্রস্তুতি ভালো নয়, তারা আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। সরকারের এ উদ্যোগকে কেউ কেউ সমালোচনা করছে বা ট্রল করছে। তবে দীর্ঘ মেয়াদে ভালো হয়েছে। নকলবিরোধী অবস্থানের কারণে উপস্থিতি কমেছে, কিন্তু কঙ্কালটা বেরিয়ে এসেছে, শিক্ষাব্যবস্থার চিত্রটা উঠে এসেছে। এই ক্ষত শুকাতে এখন সরকারকে কৌশল নির্ধারণ করতে হবে।

এইচএসসি পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশের অনুপস্থিতি মনে করিয়ে দেয় শিক্ষাব্যবস্থার মূলে কিছু পদ্ধতিগত সমস্যা রয়েছে। এ ছাড়া পারিবারিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও ব্যক্তিগত কারণ থাকতে পারে। এ অবস্থার উত্তরণে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। আশঙ্কার বিষয় হবে বিপুলসংখ্যক তরুণ জনগোষ্ঠী আনুষ্ঠানিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হবে এবং তারা অদক্ষ মানবসম্পদে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকবে। আশা করছি, সরকার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এই উদ্বেগজনক পরিস্থিতি মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ কৌশল নির্ধারণ করবে।