চাকরি জাতীয়করণের দাবিতে কয়েক দিন ধরে পথে নেমেছিলেন আনসার সদস্যরা। তারা জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনের রাস্তা ছেড়ে সচিবালয় অবরোধ করেন। সচিবালয়ে সব গেট বন্ধ করে অবরোধ কর্মসূচি পালন করায় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। এ ঘটনার রেশ ধরে রাতে আন্দোলনকারী আনসার সদস্যদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়।
এতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দুই সমন্বয়ক ও আনসার সদস্যসহ অন্তত ৫০ জন আহত হন। সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ছাত্রদের ধাওয়ার মুখে আন্দোলনকারী আনসার সদস্যরা পিছিয়ে যান। কিছু আনসার সদস্য সচিবালয়ের ভেতরে আটকা পড়েন। তাদের আটক করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী থানায় নিয়ে যায়।
সচিবালয় অবরুদ্ধ করে ভাঙচুর ও হামলার মামলায় আনসার বাহিনীর ৩৭৭ সদস্যকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ বলেন, আন্দোলনকারী আনসার সদস্যদের সঙ্গে ব্যাটালিয়ন আনসারের কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি বলেন, আন্দোলনকারীরা অঙ্গীভূত আনসার, যাদের সঙ্গে ব্যাটালিয়নের কোনো সম্পর্ক নেই।
আইএসপিআরের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত রবিবার আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মোতায়েনরত সেনাসদস্যরা সচিবালয় এলাকার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এবং সচিবালয়ের সব গেটে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেন। আনসার সদস্যরা একত্রিত হয়ে সচিবালয় ঘেরাও করে অন্তর্বর্তী সরকারের সাত উপদেষ্টাসহ সচিবালয়ের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জিম্মি করে রাখেন।
উত্তেজিত আনসার সদস্যদের শান্ত করার জন্য বিকেলে মহাপরিচালক, আনসার ও ভিডিপি সচিবালয়ে আসেন এবং তাদের সব দাবি মেনে নেন। এর পরও উত্তেজিত আনসার সদস্যরা সচিবালয় এলাকা ত্যাগ না করে আনসার ও ভিডিপির মহাপরিচালককে অবরুদ্ধ করে রাখেন। কিছু আনসার সদস্য সচিবালয়ের ৩ নম্বর গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করেন।
এ সময় আনসার সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছাত্রদের ওপর হামলা করেন এবং সচিবালয়ের নিরাপত্তায় নিয়োজিত সেনাবাহিনীর টহলের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপসহ লাঠি দিয়ে আঘাত করেন। এতে ছয় সেনাসদস্য আহত হন।
অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেছেন, যারা আনসারের ছদ্মবেশে এসেছিল, তাদের দাবি আদায়ের এজেন্ডা ছিল না, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করাই তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল।
সচিবালয় অবরুদ্ধ করে রাখার পেছনে আনসার সদস্যদের ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্য বা রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে সরকার। ইতোমধ্যে ঘটনার নেপথ্য কুশীলবদের খুঁজে বের করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিনের যৌক্তিক দাবি পূরণে সব ধরনের আলোচনার পথ খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ তাদের দাবিদাওয়া নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন। এতে রাজধানীতে যানজট যেমন বেড়েছে, তেমনি সরকারের স্বাভাবিক কাজেও বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। এটি কোনোভাবেই কাম্য নয়।
প্রশাসন পরিচালনার প্রাণকেন্দ্র হলো সচিবালয়। সেই প্রাণকেন্দ্রকে ঘিরে বিক্ষোভের নামে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জিম্মি করে দাবি আদায় কখনো কাম্য হতে পারে না। কিছুদিন ধরে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন, সচিবালয় ঘেরাও করে তাদের দাবিদাওয়া আদায়ে রাজপথে নামেন।
আনসার সদস্যরাও সচিবালয়ে দাবিদাওয়া আদায়ে সেখানে গেলে এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সৃষ্টি হয়। একটি নতুন অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নিয়েছে। দাবি পূরণে নতুন সরকারকে যৌক্তিক সময় দিতে হবে। বাংলাদেশের প্রত্যেক নাগরিকের এটি মাথায় রাখতে হবে। আনসার বাহিনীকে সহনশীলতার পরিচয় দিতে হবে। দাবি আদায়ে কাউকে জিম্মি করা বা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করা, এমন কর্মকাণ্ড থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে।