কবিতা : বন্দনা
অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্ন: ‘দ্বিতীয়ে প্রণাম করোঁ মাও বাপ পাএ।’ ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: ‘দ্বিতীয়ে প্রণাম করোঁ মাও বাপ পাএ’ কথার মাধ্যমে কবি পৃথিবীতে সন্তানের লালন-পালনে বাবা-মার অবদানের কথা উল্লেখ করে তাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করতে বলেছেন।
‘বন্দনা’ কবিতায় কবি সন্তানদের তার বাবা-মায়ের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করতে বলেছেন। আল্লাহ সবকিছুর সৃষ্টিকর্তা। কিন্তু বাবা-মা হচ্ছেন সন্তানের জন্য উসিলা বা উপায়। তাদের মাধ্যমেই একজন সন্তান এ পৃথিবীতে আসে। তারা অনেক দুঃখ-কষ্ট করে সন্তান লালন-পালন করে থাকেন। তাই কবি আল্লাহর পরেই বাবা-মাকে বন্দনা করার কথা বলেছেন।
প্রশ্ন: ‘কনে বা সুধিব তান ধারক কাহন’ ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: বাবা-মায়ের ঋণ কখনো পরিশোধ করা যায় না বা তাদের অবদানও বলে শেষ করা যায় না।
বাবা-মায়ের দয়াতে আমরা এ পৃথিবীর আলো চোখে দেখেছি, পৃথিবীতে এসেছি। আমরা যখন পৃথিবীতে আসি তখন ছিলাম খুবই দুর্বল ও অসহায়। নিজের কাজটুকু নিজে করার মতো ক্ষমতা আমাদের ছিল না। এমনকি আমাদের খাবার ও পরার দায়িত্ব পালন করেছেন আমাদের বাবা-মা। কঠোর সাধনায় ও পরিশ্রমের বিনিময়ে তারা আমাদের বড় করে তুলেছেন। তাদের ঋণ আমরা কখনো পরিশোধ করতে পারব না। সে কারণেই ‘বন্দনা’ কবিতায় কবি আলোচ্য উক্তিটি করেছেন।
প্রশ্ন: ‘বন্দনা’ কবিতায় শিক্ষককে দ্বিতীয় জন্মদাতা বলার কারণ কী?
উত্তর: শিক্ষক জ্ঞান দান করে শিশুকে প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলেন। তাই তিনি মানবশিশুর দ্বিতীয় জন্মদাতা।
মানবশিশু যখন ভূমিষ্ঠ হয়, পৃথিবীতে আগমন করে তখন তার কোনো সহায় থাকে না। তার কোনো ক্ষমতা থাকে না। সে থাকে একাকী, অসহায়। বাবা-মা তাকে আদর দিয়ে, স্নেহ দিয়ে বড় করে তোলেন। কিন্তু জ্ঞানে-বিদ্যা-বুদ্ধিতে তাকে সত্যিকার মানুষ করে তোলেন শিক্ষক। শিক্ষক মানবশিশুকে সত্যিকার পথের সন্ধান দেখিয়ে প্রকৃত স্থানে পৌঁছে দেন। সে কারণেই শিক্ষককে দ্বিতীয় জন্মদাতা বলা হয়েছে।
প্রশ্ন: ‘দুর্বল ছাবাল’ কথাটি ‘বন্দনা’ কবিতায় কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
উত্তর: মানবশিশু ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর সে খুবই অসহায় থাকে। তার শক্তি ও ক্ষমতা কিছুই থাকে না।
‘বন্দনা’ কবিতায় কবি মানবশিশুর শৈশবকালীন অসহায় অবস্থার বর্ণনা করে আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। মানবশিশু যখন জন্মগ্রহণ করে তখন সে থাকে অসহায়। তাকে সাহায্য করার কেউ থাকে না। খাওয়ানোর-পরানোর এবং আদর-যত্ন করার কেউ থাকে না। সেই অসহায় অবস্থাকে বর্ণনা করেছেন কবি তার ‘বন্দনা’ কবিতায়।
প্রশ্ন: ‘যান দয়া হন্তে জন্ম হৈল বসুধায়’ ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: বাবা-মার মাধ্যমে মানবশিশু এই পৃথিবীতে ভূমিষ্ঠ হয়।
‘বন্দনা’ কবিতায় কবি শাহ মুহম্মদ সগীর সন্তানদের তার বাবা-মায়ের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করতে বলেছেন। আল্লাহ সবকিছুর সৃষ্টিকর্তা, কিন্তু বাবা-মা হচ্ছেন সন্তানের জন্য উসিলা। তাদের মাধ্যমেই একজন শিশু এই পৃথিবীতে আসে। তারা অনেক, দুঃখ-কষ্ট করে সন্তানের লালন-পালন করে থাকেন। তারা সন্তানের জন্য এতটাই ব্যাকুল থাকেন যে, পিঁপড়া কামড় দেবে ভেবে তারা তাদের সন্তানকে মাটিতে পর্যন্ত নামান না। তাদের এই অফুরন্ত ভালোবাসার ঋণ আমরা কখনো শোধ করতে পারব না। তাই আলোচ্য অংশে বাবা-মার স্তুতি করেছেন কবি।
প্রশ্ন: ‘পিঁপিড়ার ভয়ে মাও না থুইলা মাটিত’-এর মাধ্যমে কবি কী বুঝিয়েছেন?
উত্তর: মা তার সন্তানকে কীভাবে লালনপালন করেন সে সম্পর্কে আলোচ্য চরণে আলোকপাত করা হয়েছে।
মা-বাবা আমাদের জন্মদাতা। তাদের মাধ্যমেই আমরা পৃথিবীতে আসতে পেরেছি। বাবা-মা শুধু সন্তানের জন্মদানই করেন না; তারা তাদের অক্লান্ত শ্রমে সন্তানদের বড় করে তোলেন। সন্তানের কল্যাণ চিন্তায় তারা এতটাই ব্যতিব্যস্ত থাকেন যে, সামান্য একটি পিঁপড়া যাতে তাকে কামড় দিতে না পারে সে জন্য তাকে মাটিতে পর্যন্ত নামান না। মায়ের আদর যত্ন ও পরিচর্যা লাভ করে একটি শিশু ধীরে ধীরে বড় হয়ে ওঠে। সন্তানের অমঙ্গল হোক এমন চিন্তা থেকে তার বাবা-মা সর্বদা বিরত থাকেন এবং তাদের সার্বিক মঙ্গল কামনা করেন।
লেখক : সহকারী অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ
রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, উত্তরা, ঢাকা
কবীর