ঢাকা ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
ফ্রান্সে বন্দুকধারীদের গুলিতে আহত ৪ চুয়াডাঙ্গায় টানা ভারী বর্ষণে জনজীবন বিপর্যস্ত সাতক্ষীরায় নিখোঁজের ২ দিন পর কিশোরের মরদেহ উদ্ধার কোটি কোটি নতুন সমর্থকই বেলজিয়ামের প্রেরণা: গার্সিয়া তিস্তার 'ক্রেডিট' নিতে জামায়াতের আন্দোলন: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ভেজা বাতাস চারিত্রিক অবক্ষয় রোধে পর্দা রক্ষাকবচ কালো মেঘ শাদা মেঘ কুমিল্লায় সংস্কৃতি মন্ত্রী: প্রস্তুতি শেষ, শিগগিরই চালু হচ্ছে জুলাই জাদুঘর বান্দরবানে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও, সড়ক যোগাযোগ এখনও ব্যাহত সাগরে লঘুচাপ, চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি প্রত্যাহার শ্রাবণের চিঠি জলছবি কক্সবাজারে সৈকতে গলিত কঙ্কাল দিনাজপুরে ট্রাকের ধাক্কায় আরোহী মৃত্যু, স্ত্রী আহত আদি বৃষ্টি সাজেকে আটকা পড়া ৩১১ পর্যটককে উদ্ধার করল সেনাবাহিনী চকরিয়ায় আশ্রয়ের খোঁজে নৌকাডুবিতে কিশোরী নিখোঁজ মৌলভীবাজারে বন্যার পানিতে বৃদ্ধের মৃত্যু ব্যাঙের শিক্ষা নরসিংদীতে বৃদ্ধা পরিচ্ছন্নতাকর্মী হত্যা ও টাকা লুট, গ্রেপ্তার ৫ জলের আঙুল মেঘ আষাঢ়ের জলাভিসার আষাঢ়ের মুখ চবির লাকসাম-মনোহরগঞ্জ স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃত্বে ইসরাত ও বাবলু যদিও এই সজল বর্ষা প্রাইমারি স্কুলের অনিয়মে নজর দিন হবিগঞ্জে বাঁধ ভাঙনে ২৫ গ্রাম পানিবন্দি, ভোগান্তিতে ৩০ হাজার বাসিন্দা

ধর্ষকের শাস্তি চাইলেন তারকারা

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৫, ০৬:৩০ পিএম
ধর্ষকের শাস্তি চাইলেন তারকারা
ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লার মুরাদনগরের একটি গ্রামে দরজা ভেঙে এক তরুণীকে (২৫) ধর্ষণের অভিযোগে ক্ষোভে ফুঁসছে পুরো দেশ। ভয়ংকর সেই ঘটনার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই স্যোসাল মিডিয়ায় চলছে তীব্র প্রতিক্রিয়া, প্রতিবাদ আর ধিক্কার।

এই বিভৎস ঘটনার প্রতিবাদে সরব হয়েছেন দেশের শোবিজ অঙ্গনের তারকারাও। একের পর এক তারকা নিজেদের সোশ্যাল হ্যান্ডেলে ক্ষোভ প্রকাশ করে ধর্ষকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। লাক্সতারকা আজমেরী হক বাঁধন লিখেছেন, ‘ধর্ষণ একটি ভয়াবহ অপরাধ। কিন্তু এই দেশে, এটি দীর্ঘদিন ধরে স্বাভাবিক বলে বিবেচিত হচ্ছে।

মানুষ কেবল তখনই এটি নিয়ে কথা বলে, যখন একটি মর্মান্তিক ঘটনা ভাইরাল হয়, একটি ভিডিও ক্লিপ, একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট। তারপর হঠাৎ করেই সবাই ক্ষেপে যায়। কিন্তু অল্প সময়ের জন্য। শীঘ্রই, মানুষ এগিয়ে যায়, ভুলে যায় সব। কারণ প্রতিদিন একটি নতুন নাটক, নতুন কেলেঙ্কারি। একজন মহিলার যন্ত্রণা তার আরেকটি অংশ হয়ে ওঠে।

এটা কেন স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে? আমরা ধর্ষণকে সংবাদের মতো বিবেচনা করি, এটিকে গুরুতর সংকটের মতো নয়? আরও খারাপ কথা, কিছু লোক এই অপরাধগুলি রেকর্ড করে, শেয়ার করে, সোশ্যাল মিডিয়ায় বিনোদনের মতো ছড়িয়ে দেয়। তারা নির্দোষ নয়। তারা অপরাধের অংশ। এবং তাদেরও শাস্তি পেতে হবে।

আমার হৃদয় ভেঙে যাচ্ছে, প্রচন্ড রেগে আছি আমি এবং হ্যাঁ, আমি ভীত। কারণ আমি একজন নারী এবং আমি এদেশে নিরাপদ বোধ করি না। বাস্তবে তো অবশ্যই, এমনকি অনলাইনেও না। ধর্ষণ তৃপ্তিদায়ক কোনও বিষয় নয়। ট্রমা নাটক নয়। আর এটা চলতে পারে না।’ 

অভিনেত্রী রাফিয়াত রশীদ মিথিলা এক ফেসবুক পোস্টে ঘটনাটির জন্য ধিক্কার জানিয়েছেন মিথিলা। তিনি লিখেন, ‘ধিক্কার।’ এরপর হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে অভিনেত্রী লিখলেন, ‘ধর্ষকের শাস্তি চাই।’ তমা মির্জা লিখেছেন, ‘মুরাদনগর, কুমিল্লা! বিভৎসতা! লজ্জা…!’ নুসরাত ফারিয়া লিখেছেন, ‘স্টপ রেপ।’ 

প্রার্থনা ফারদিন দীঘি লিখেছেন, ‘ধর্ষণকে না বলুন। এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান। নীরবতাই সমর্থন। ধর্ষণ বন্ধ করুন।’ মৌসুমী হামিদ প্রতিবাদ জানিয়ে লিখেছেন, ‘মানুষ আর মানুষ নেই। পৃথিবী শেষ হয়ে যাচ্ছে। কারণ আর কোনও মানুষ থাকবে না। খুব শীঘ্রই।’ অভিনেত্রী চমক লিখেছেন, যারা মেয়েটির বিবস্ত্র ভিডিওটি শেয়ার করেছেন, প্লিজ দয়া করে সেটা ডিলিট করে দিন। আপনার কাছের লোকদেরও অনুরোধ করুন। ন্যায় বিচারের জন্য আওয়াজ তুলুন, তবে মেয়েটির ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও সম্মানকে রক্ষা করে। 

মিশা সওদাগর অপরাধীর ফাঁসির দাবী জানিয়ে লিখেছেন, ‘দেশের প্রতিটি মানুষ শান্তিতে থাকুক। প্রতিটি নারী নিরাপদে থাকুক। প্রতিটি অন্যায়ের ন্যায় বিচার হোক। প্রতিটি ধর্ষকের ফাঁসি হোক। মুরাদনগরে ঘটে যাওয়া ধর্ষণের তীব্র ঘৃণা এবং নিন্দা জানাচ্ছি। ধর্ষকের ফাঁসির দাবি করছি।’ 

জিয়াউল রোশান লিখেছেন, ‘কুমিল্লার মুরাদনগরের ঘটনায় ধর্ষকদের একটাই শাস্তি চাই। জনসম্মুখে ফাঁসি। তারা কোন দল করে, কোন ধর্মের সেটা জানা দরকার নাই, জানতেও চাই না। জাস্ট জনসম্মুখে ফাঁসি চাই। আর আপনারা যারা সমবেদনা জানিয়ে সেই ভিডিওটি শেয়ার করছেন, আবার কেউ কেউ ভিউ পাবার লোভে সেই ভিডিওটা আপলোড করছেন, আপনারাও সে ধর্ষণকারীর মতোই অপরাধী। আপনারা ভিউখোর রাক্ষস। ফাজলামি ছেড়ে দেন আর অতি সত্তর এইসব ডিলেট করেন।’ 

আরশ খান লিখেছেন, ‘কাপুরুষত্ব যখন চরম পর্যায়ে পৌছায় তখন তা কুপুরুষত্বে রুপ নেয়। জন্ম পরিচয়হীন না হলে একজন নারীর সাথে এমন করা সম্ভব না। একবার জারজ সবসময় জারজই থাকে।’ নির্মাতা শিহাব শাহীন লিখেছেন, ‘পুলিশ এখনও (সুদিনের অপেক্ষায়) নিরাসক্ত, দায়সারা ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সেই আগের মতোই নেতা-নেত্রী তোষণ করে উন্নতির উপায় খুঁজছে। পথেঘাটে চলতে ফিরতে গেলে এমনই বোধ হয়। বাংলাদেশে কিছুই বদলায় না। পুলিশও বদলাবে না।’ 

নির্মাতা নঈম ইমতিয়াজ নেয়ামুল লিখেছেন, ‘বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থাটা যেন একটা কৌতুক, আবার কষ্টের ট্র্যাজেডি। মনে হয়, পুরো দেশটা যেন এক বিশাল পরীক্ষাগার, আর সেই পরীক্ষার দায়িত্বটা দেওয়া হয়েছে এমন কারও হাতে, যার জ্ঞান নেই, দায়িত্ববোধ নেই। ঠিক যেন বান্দরের হাতে লাঠি। যার হাতে দেশের হাল, সে বুঝেই না, সে কী করছে। শক্তি আছে, ক্ষমতা আছে, কিন্তু বিচক্ষণতা নেই, দেশপ্রেম নেই।

যে লাঠি দিয়ে দেশকে সামলানোর কথা, সেই লাঠি দিয়েই গুঁতো দিচ্ছে দেশের স্বপ্ন, সম্ভাবনা আর শান্তি। মানুষের ব্যথা-কষ্টের খবর কেউ রাখে না। নীতির জায়গায় এখন নীতিহীনতা, দেশের অবস্থা এমন এক নাটকের দৃশ্য, যেখানে দর্শক কাঁদছে-কিন্তু মঞ্চে যারা নাচছে, তারা বুঝতেই পারছে না, মানুষ হাসছে না, কাঁদছে। বাংলাদেশ এখন ঠিক সেই অবস্থায়, যেখানে বান্দরের হাতে লাঠি, আর দেশটা কেবল সহ্য করে যাচ্ছে।’ 

সংগীতশিল্পী লুৎফর হাসান লিখেছেন, ‘কোনও অপরাধী গ্রেফতার হলেই আমরা খুশি হই। আমরা থেমে যাই। আমাদের থেমে যাওয়ার পরই শুরু হয় আসল প্রক্রিয়া। আলগোছে অপরাধী মুক্ত হয়। বিদেশে পালিয়ে যায়। দেশে জায়গা বদল করে। যেকোনো এক উপায়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আমাদের সাথে মিশে যায়। ইতিহাস থেকে উঠে যায় অপরাধীর শাস্তি কার্যকরের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।’ 

কণ্ঠশিল্পী সিঁথি সাহা লিখেছেন, ‘কোন দেশে আছি? এ কি দেখলাম? ঘেন্না ঘেন্না ঘেন্না, থু থু থু!’ কণ্ঠশিল্পী ও অভিনয়শিল্পী পারশা মাহজাবীন পূর্ণী লিখেছেন, ‘বিবস্ত্র বাংলাদেশ।’

প্রসঙ্গত, কুমিল্লার মুরাদনগরে আলোচিত ধর্ষণ মামলায় প্রধান অভিযুক্ত ফজর আলীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এছাড়াও আরও চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতাররা হলেন- মুরাদনগর উপজেলার পাঁচকিত্তা বাহেরচর গ্রামের আব্দুল হান্নানের ছেলে সুমন, জাফর আলীর ছেলে রমজান, মো. আলমের ছেলে মো. আরিফ ও মো. তালেম হোসেনের ছেলে মো. অনিক। 

/এমএস  

এবার বাস্তবের ‘মোয়ানা’ আসছে পর্দায়

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৮:০৭ পিএম
এবার বাস্তবের ‘মোয়ানা’ আসছে পর্দায়
ছবি: সংগৃহীত

অ্যানিমেশন সিনেমাপ্রেমীদের কাছে ‘মোয়ানা’ ভীষণ জনপ্রিয় একটি নাম। ডিজনির এই মিউজিক্যাল অ্যাডভেঞ্চার সিনেমা মুক্তি পায় ২০১৬ সালে। দর্শকদের দারুণ সাড়া পাওয়া সিনেমাটি বক্স অফিসও মাত করেছে। ঘরে তুলেছে প্রায় ৭০০ মিলিয়ন ডলার। ২০২৪ সালের নভেম্বরে ডিজনি নিয়ে আসে এর সিকুয়েল ‘মোয়ানা ২’।

এর সাফল্য ছাড়িয়ে যায় আগের সিনেমাকেও। আয় করে ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি। শুধু তাই নয়, বিশ্বজুড়ে অগণিত ‘মোয়ানা’ ভক্ত তৈরি হয়ে যায়। আর এই ভক্তদের আকাঙ্ক্ষা পূরণে আবারও পর্দায় আসছে ‘মোয়ানা’। তবে এবার অ্যানিমেশন নয়, লাইভ অ্যাকশনে। এবার চরিত্রগুলোতে অভিনয় করেছেন বাস্তবের শিল্পীরা। অবশ্য অ্যানিমেশনও থাকবে কিছু কিছু। টমাস কাইল পরিচালিত ওয়াল্ট ডিজনি পিকচার্সের এই সিনেমা আন্তর্জাতিকভাবে মুক্তি পেতে যাচ্ছে ১০ জুলাই। বাংলাদেশের দর্শকরা আনন্দিত হতে পারেন এজন্য যে, একই দিনে স্টার সিনেপ্লেক্সেও মুক্তি পাবে সিনেমাটি।

লাইভ-অ্যাকশন মোয়ানার অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক হলো মাউই চরিত্র। সিনেমায় এ চরিত্রে অভিনয় করেন ডোয়াইন জনসন। তিনি এই চরিত্রটিতে ২০১৬ সালের অ্যানিমেটেড সংস্করণে কণ্ঠ দিয়েছিলেন। এই অভিনেতার কাছে মাউই কেবল একটি চরিত্র নয়, বরং পলিনেশীয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যেরও একটি অংশ। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে অ্যানিমেশনে ‘মাউই’ চরিত্রের নেপথ্যে কণ্ঠ দেওয়ার পর, এবার সরাসরি ক্যামেরার সামনে সেই চরিত্রে অভিনয় করাকে নিজের ক্যারিয়ারের অনন্য অভিজ্ঞতা বলে উল্লেখ করেছেন ডোয়াইন জনসন। এক সাক্ষাৎকারে ‘মাউই’ নিয়ে আবেগী হয়ে পড়েন দ্য রক, ‘লাইভ অ্যাকশনে মাউই চরিত্রে অভিনয় করা আমার ক্যারিয়ারের অন্য সব কাজ থেকে একদম আলাদা।

পর্দায় যখন রক্ত-মাংসের মানুষের মাধ্যমে আমাদের পলিনেশীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও মূল্যবোধ ফুটে ওঠে, তখন অনুভূতিটাই বদলে যায়।’ জনসন জানান, গত এক দশকে একজন বাবা হিসেবে তার জীবনের নানা অভিজ্ঞতা ও উত্থান-পতন এ চরিত্রটিকে আরও গভীরভাবে পর্দায় ফুটিয়ে তুলতে সাহায্য করেছে। এ ছাড়া চরিত্রটির সঙ্গে তার একটি ব্যক্তিগত আবেগও জড়িয়ে আছে। ‘মাউই’ চরিত্রের মধ্যে তিনি নিজের দাদার প্রতিচ্ছবি খুঁজে পান। পাশাপাশি হাওয়াইতে কাটানো তার শৈশব ও বেড়ে ওঠার দিনগুলোর স্মৃতি জড়িয়ে আছে এই গল্পের সঙ্গে। অন্যদিকে, বিশ্বজুড়ে ৩২ হাজারেরও বেশি আবেদনকারীর মধ্য থেকে কাস্টিং প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মোয়ানা সিনেমার প্রধান নারী চরিত্রে নবাগত ক্যাথরিন লাগাইয়াকে নেওয়া হয়েছে।

পরিচালক টমাস কাইল বলেন, প্রথম অডিশনেই তিনি মুগ্ধ হয়েছিলেন, যখন অভিনেত্রী ‘হাউ ফার আই’ল গো’ গানটি গেয়ে চরিত্রটির বিশ্ব ভ্রমণের আকাঙ্ক্ষা ফুটিয়ে তুলেছিলেন। অস্ট্রেলিয়ায় জন্ম নেওয়া সামোয়ান বংশোদ্ভূত ক্যাথরিন লাগাইয়া বলেন, মোয়ানা এমন একজন আদর্শ যিনি তার শৈশবের সঙ্গী ছিলেন। এই অভিনেত্রী বিশ্বাস করেন মোয়ানার সাহস, কৌতূহল ও উচ্চাকাঙ্ক্ষা তাকে আজকের মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতেও সাহায্য করেছে। যার ফলে তিনি স্বাভাবিকভাবেই চরিত্রটির সঙ্গে একাত্ম হতে পেরেছেন।

সিনেমার গল্পের কেন্দ্রে রয়েছে সাহসী কিশোরী মোয়ানা, যে নিজের দ্বীপ ও জনগণকে রক্ষা করতে এক বিপজ্জনক সমুদ্রযাত্রায় বের হয়। এই অভিযানে তার সঙ্গী হয় শক্তিশালী কিন্তু অহংকারী অর্ধ-দেবতা মাউই। নানা বাধা পেরিয়ে তারা প্রকৃতির ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করে। মূল গল্পের আবেগ, পরিবার, দায়িত্ববোধ এবং নিজের পরিচয় খুঁজে পাওয়ার বিষয়গুলো লাইভ-অ্যাকশন সংস্করণেও গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে রাখা হয়েছে। এরই মধ্যে সিনেমাটি নিয়ে ভক্তদের যে উচ্ছ্বাস দেখা যাচ্ছে তাতে আরও একটি দুর্দান্ত সাফল্যের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

মোশাররফ করিম ও নীলার ‘ভাসুর’

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ১১:১০ এএম
মোশাররফ করিম ও নীলার ‘ভাসুর’

ভিন্নরকম গল্পের নাটক ‘ভাসুর’। নাটকটি রচনা ও পরিচালনা করেছেন মহিন খান। নাটকের গল্পে দেখা যাবে, নীলাঞ্জনা নীলা ভালোবেসে মোশাররফ করিমের ছোট ভাইকে বিয়ে করে। বেশ ভালোই সংসার চলছিল তাদের। কিন্তু একসময় নীলাঞ্জনা নীলাকে গর্ভাবস্থা রেখে তার স্বামী মারা যায়। মারা যাওয়ার পর নীলা ও তার আগত সন্তান নিয়ে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি হতে যাচ্ছিল নীলা।

কিন্তু সন্তানের আগত দিনের কথা এবং নীলার জীবনের কথা বিবেচনা করে একসময় ভাসুর মোশাররফ করিম নীলাকে বিয়ে করেন। আর এরই মধ্য দিয়ে নাটকটির গল্প শেষ হয়। ইতোমধ্যে ইউটিউবে নাটকটি প্রকাশিত হয়েছে।

মোশাররফ করিম বলেন, ‘নাটকটিতে বেশ কিছুদিন আগে অভিনয় করেছিলাম। গল্পটা অন্যরকম। মহিন সমাজের ভেতরের নানান ধরনের সত্যিকার অর্থেও সমস্যাই তুলে আনার চেষ্টা করে গল্পে। ভাসুর নাটকটির গল্প আমাদের সমাজেরই গল্প। এমন ঘটনা ঘটে। নাটকে হয়তো এমন গল্প খুব কমই উঠে আসে।’  

নীলাঞ্জনা নীলা বলেন, ‘মোশাররফ ভাইয়ের সঙ্গে এর আগেও বেশকিছু সুন্দর গল্পের নাটকে অভিনয় করেছি। তবে ভাসুর নাটকের গল্পটা একেবারেই ব্যতিক্রম। আমাদের সমাজে এমন গল্প আছে বলেই পরিচালক তা তুলে ধরেছেন। নাটকটি প্রচারের পর বেশ ভালো সাড়া পাচ্ছি। মোশাররফ ভাইয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা সব সময় আমাকে অনুপ্রেরণা দেওয়ার জন্য, অভিনয়ের সময় সহযোগিতা করার জন্য।’ 
মোশাররফ করিম ও নীলা অভিনীত জনপ্রিয় নাটকগুলো হচ্ছে ‘সুখে থাকতে ভূতে কিলায়’, ‘সন্তান আমার অফিসার’, ‘জামাই বউ অতি চালাক’, ‘বউয়ের মামলা’, ‘বিড়ম্বনায় বাবলু’, ‘গরিবের সুন্দরী বউ’, ‘ভ্রমর’ ইত্যাদি।

/এমটি 

আইস্ক্রিনে ফুটবলের সেরা দুই সিনেমা ‘দামাল’ ও ‘জাগো’

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৫:২৪ পিএম
আইস্ক্রিনে ফুটবলের সেরা দুই সিনেমা ‘দামাল’ ও ‘জাগো’

চলমান ফুটবল বিশ্বকাপের উত্তাপে যখন মেতে উঠেছে গোটা দেশ, ঠিক তখনই ফুটবলপ্রেমীদের জন্য বিশেষ আয়োজন নিয়ে এসেছে আইস্ক্রিন। বাংলাদেশের ফুটবলভিত্তিক দুই জনপ্রিয় ও প্রশংসিত চলচ্চিত্র ইমপ্রেস টেলিফিল্ম প্রযোজিত ‘দামাল’ এবং ‘জাগো’ এখন দেখা যাচ্ছে একমাত্র আইস্ক্রিনে।

মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের অনুপ্রেরণাদায়ক গল্প নিয়ে নির্মিত ‘দামাল’ পরিচালনা করেছেন জনপ্রিয় নির্মাতা রায়হান রাফী। অন্যদিকে দেশের প্রথম পূর্ণাঙ্গ ফুটবলভিত্তিক চলচ্চিত্র হিসেবে পরিচিত ‘জাগো’ নির্মাণ করেছেন খিজির হায়াত খান। 

দুটি সিনেমাই ফুটবলের আবেগ, সংগ্রাম, দেশপ্রেম এবং অনুপ্রেরণার গল্পকে ভিন্ন আঙ্গিকে তুলে ধরেছে। বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচের উত্তেজনার পাশাপাশি যারা ফুটবলকে আরও গভীরভাবে অনুভব করতে চান, তাদের জন্য ‘দামাল’ ও ‘জাগো’ হতে পারে দারুণ পছন্দের। মাঠের রোমাঞ্চের সঙ্গে সিনেমার আবেগ মিলিয়ে ফুটবলের ভিন্ন এক অভিজ্ঞতা উপভোগ করা যাবে আইস্ক্রিনে।

২০২২ সালে মুক্তি পাওয়া তারকাবহুল ‘দামাল’-এ অভিনয় করেছেন বিদ্যা সিনহা সাহা মীম, শরিফুল রাজ, সিয়াম আহমেদ ও শাহনাজ সুমির মতো তারকারা। সিনেমায় একটি কাল্পনিক কাহিনি উপস্থাপন করা হয়েছে, যা স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল থেকে অনুপ্রাণিত। দলটি মুক্তিযুদ্ধের জন্য আন্তর্জাতিক সচেতনতা ও অর্থনৈতিক সমর্থন বাড়াতে ভারতজুড়ে সফর করে মোট ১৬টি প্রীতি ম্যাচে অংশ নেয়। 

অন্যদিকে তরুণদের ফুটবল খেলা নিয়ে নির্মিত ‘জাগো’ মুক্তি পায় ২০১০ সালের ১৫ জানুয়ারি। এ সিনেমার গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন ফেরদৌস, বিন্দু, আরিফিন শুভ, রওনক হাসান, তারিক আনাম খান, ফারুক, সোবহান নাঈম প্রমুখ।

/এসএল

উর্মি খানের নতুন গান ‘ভাবনার মিছিল’

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৫:২১ পিএম
উর্মি খানের নতুন গান ‘ভাবনার মিছিল’

জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী উর্মি খানের নতুন মৌলিক গান ‘ভাবনার মিছিল’ প্রকাশিত হয়েছে। সম্প্রতি গানটি শ্রোতাদের জন্য উন্মুক্ত করেন তিনি। প্রকাশের পর থেকেই গানটি শ্রোতা-দর্শকদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে এবং সংগীতপ্রেমীদের প্রশংসা কুড়াচ্ছে।

‘ভাবনার মিছিল’ গানটির কথা লিখেছেন মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম চৌধুরী। গানটির সুর ও সঙ্গীতায়োজন করেছেন সালমান জাইম। কথার গভীরতা, সুরের মাধুর্য এবং উর্মি খানের আবেগঘন কণ্ঠের সমন্বয়ে গানটি শ্রোতাদের কাছে নতুন এক সংগীতানুভূতি তৈরি করেছে।

ছোটবেলা থেকেই সংগীতচর্চার সঙ্গে যুক্ত উর্মি খান। শৈশব থেকেই বিভিন্ন জাতীয় ও আঞ্চলিক সংগীত প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে তিনি সাফল্য অর্জন করেন এবং একাধিকবার পুরস্কৃত হন। তার নিষ্ঠা, অধ্যবসায় ও সংগীতের প্রতি ভালোবাসা তাকে আজকের অবস্থানে পৌঁছে দিয়েছে।

উর্মি খানের সংগীতজীবনের অন্যতম উল্লেখযোগ্য অর্জন চ্যানেল আই ‘সেরা কণ্ঠ ২০১০’ প্রতিযোগিতায় টপ-১৫-এ স্থান লাভ। সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতায় বর্তমানে তিনি দেশের একজন নিয়মিত টেলিভিশন শিল্পী হিসেবে বিভিন্ন চ্যানেলের অনুষ্ঠান, বিশেষ আয়োজন ও সরাসরি মঞ্চে সংগীত পরিবেশন করে দর্শক-শ্রোতাদের মুগ্ধ করে চলেছেন।

নতুন গান প্রসঙ্গে উর্মি খান বলেন, “প্রতিটি শিল্পীর কাছেই নতুন সৃষ্টি বিশেষ অনুভূতির। ‘ভাবনার মিছিল’ আমার হৃদয়ের খুব কাছের একটি গান। নিজের জন্মদিনে এটি শ্রোতাদের উপহার দিতে পেরে আমি আনন্দিত। গানটি সবার ভালো লাগবে–এটাই আমার প্রত্যাশা।”

গানটি প্রকাশের পর থেকেই বিভিন্ন মাধ্যমে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া মিলছে। শ্রোতাদের মতে, গানের কথা, সুর ও পরিবেশনার সমন্বয় ‘ভাবনার মিছিল’কে একটি হৃদয়স্পর্শী সৃষ্টি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। সংগীতসংশ্লিষ্টদের বিশ্বাস, এই গান উর্মি খানের সংগীতজীবনে নতুন একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে এবং তার মৌলিক গানের ভান্ডারে যুক্ত করবে আরও একটি সফল সংযোজন।

/এসএল

মনির খানের ‘মন ভালো নাই’

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ১০:০৫ এএম
মনির খানের ‘মন ভালো নাই’

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত সংগীতশিল্পী মনির খান ‘মন ভালো নাই’ শিরোনামের একটি নতুন গান প্রকাশ করলেন। গানটি লিখেছেন আহসান কবির, সুর করেছেন জিয়াউল হাসান পিয়াল। গানটি ইতোমধ্যে ‘এমকে মিউজিক টোয়েন্টিফোর’-এ প্রকাশিত হয়েছে। গানটি প্রসঙ্গে মনির খান বলেন, ‘খুব প্রিয় মানুষ ভালোবাসার মানুষ যখন চলে যায়, আর ফিরে আসে না। সেই না ফিরে আসায় একজন মানুষের মনের যে কষ্ট তা এই গানে ফুটে উঠেছে।

প্রিয় মানুষ চলে গেলে আর ফিরে না এলে সত্যিই মন ভালো থাকে না। গানটির কথা যেমন সুন্দর সুরটাও চমৎকার। সত্যি বলতে কী এখন তো গান শুধু প্রকাশের জন্যই প্রকাশ করি না, গান যেন শ্রোতা-দর্শকের ভালো লাগে সেই ভাবনা মাথায় রেখেই গান করি। গানটি প্রকাশের পর বেশ ভালো সাড়া পাচ্ছি।’ 

এদিকে কিছুদিন আগে দুবাইয়ে একটি স্টেজ শোতে পারফর্ম করে এলেন মনির খান। ২০০১ সালে প্রেমের তাজমহল’, ২০০২ সালে লাল দরিয়া’ ও ২০০৫ সালে দুই নয়নের আলো’ সিনেমাতে প্লে-ব্যাক করার জন্য তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত হন শ্রেষ্ঠ গায়ক হিসেবে। ১৯৮৯ সালে মনির খান খুলনা রেডিওতে অডিশন দিয়ে আধুনিক গানের শিল্পী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। ১৯৯১ সালের আগস্ট মাস পর্যন্ত তিনি এখানে একজন নিয়মিত শিল্পী হিসেবে গান করেন। 

১৯৯১ সালের ৫ সেপ্টেম্বর এখান থেকে এনওসি নিয়ে তিনি ঢাকায় চলে আসেন। ঢাকাতে আসার পরও তিনি বেশ কিছু গুরুজনদের কাছে গান শিখেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন আবুবক্কার সিদ্দিক, মঙ্গল চন্দ্র বিশ্বাস, সালাউদ্দীন আহমেদ, অনুপ চক্রবর্তীসহ আরও অনেকে। তিনি যখন যার মধ্যে ভালো কিছু পেয়েছেন সেগুলো নিজের আয়ত্তে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন।

১৯৯৬ সালে বিউটি কর্নার থেকে তার ১২টি গানের প্রথম একক অ্যালবাম ‘তোমার কোনো দোষ নেই’ বের হয়। অ্যালবামটি দারুণ জনপ্রিয়তা পায়। অ্যালবামটি জনপ্রিয়তা পাওয়ার পর মনির খান রাতারাতি বিখ্যাত হয়ে গেলেন। এরপর মনির খান আর থেমে থাকেননি। তিনি একের পর গানের অ্যালবাম বের করেছেন এবং প্রতিটি অ্যালবামে সফলতা পেয়েছেন।

/এমটি