ঢাকা ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
আসামির মৃত্যুর গুজবে আগৈলঝাড়া থানায় হামলা, পুলিশসহ আহত ১২ দুই দিন পর ফিরলেন সাজেকে আটকে পড়া ১৫০ পর্যটক চীনে জুতা কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত ২৮ সাতকানিয়ায় পানিবন্দি ৮ নারী ও শিশুকে উদ্ধার করলেন এসিল্যান্ড ইরান হামলা না থামালে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা আরও ভয়ানক হবে: ট্রাম্প চট্টগ্রাম-২ আসনের এমপি হলেন সরোয়ার আলমগীর চাঁপাইনবাবগঞ্জ জার্নালিস্ট ফোরাম, ঢাকার সভাপতি মোবারক, সম্পাদক সবুজ মাছ ধরতে গিয়ে তলিয়ে যাওয়া নিখোঁজ তরুণের মরদেহ উদ্ধার জঙ্গি সন্দেহে সিঙ্গাপুর ফেরত ২ জন রিমান্ডে লাল কার্ডের রাজা এবার ফ্রান্স-মরক্কো ম্যাচের রেফারি গঙ্গা চুক্তি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত, আশাবাদ ব্যক্ত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর ‘মদ ও জুয়া নিষিদ্ধকরণ’ বিলসহ সংসদে দুইটি বিল প্রত্যাহার এবার বাস্তবের ‘মোয়ানা’ আসছে পর্দায় দুই বছর পর খুলল আখাউড়া-ভারত ভ্রমণ ভিসার পথ মার্কিন বিমান হামলায় ৩ আইআরজিসি সদস্য নিহত সাতকানিয়ায় পানির স্রোতে ভেসে উঠলো ৩টি মরদেহ ফ্যান্টাসী কিংডম-খবরের কাগজ প্রতিদিনের অনলাইন কুইজ বিজয়ী আরও দুটি নতুন ইলেকট্রিক বাইক আনলো রিভো বাংলাদেশ ৩১ আগস্ট স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ভোটার তালিকা প্রকাশ করবে ইসি আর্জেন্টিনা কি সত্যিই বাড়তি সুবিধা পাচ্ছে? আর্জেন্টিনা শিবিরে স্বস্তির খবর চকরিয়ায় পাহাড়ধসে ২ শিশুর মৃত্যু, পানিবন্দি লাখো মানুষ একটু অসচেতনতায় হারিয়ে যাচ্ছে অসামান্য উপহার জামালপুরে সাবেক এমপি নূর মোহাম্মদ শোন অ্যারেস্ট বহিরাগত প্রবেশে নিরাপত্তা শঙ্কায় ইবির শিক্ষার্থীরা বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে জাতীয় পরিবেশ পদক পেলেন আদনান আজাদ জনপ্রশাসনে বড় পদোন্নতি, ১৭২ জন হলেন যুগ্মসচিব কারেনের সেঞ্চুরিতে জিম্বাবুয়ের পুঁজি ২৪৭ প্রিয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় খাদ্যে ভেজাল নিয়ে সংসদে এমপিদের অসন্তোষ, খাদ্য প্রতিমন্ত্রীর আশ্বাস

শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডে গণহত্যার শিকারদের ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়নি: অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল

প্রকাশ: ১৮ নভেম্বর ২০২৫, ১০:৫১ এএম
আপডেট: ১৮ নভেম্বর ২০২৫, ১১:০৯ এএম
শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডে গণহত্যার শিকারদের ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়নি: অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
ছবি: সংগৃহীত

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মহাসচিব অ্যাগনেস ক্যালামার্ড বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায়ের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

অ্যাগনেস ক্যালামার্ড বলেন, "২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্টে ছাত্র-নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের জন্য যারা ব্যক্তিগতভাবে দায়ী তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই তদন্ত করতে হবে এবং ন্যায্য বিচারের মাধ্যমে তাদের বিচার করতে হবে। তবে, এই বিচার এবং সাজা ন্যায্য বা ন্যায়সঙ্গত নয়। ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার এবং জবাবদিহিতা প্রয়োজন, তবুও এই মৃত্যুদণ্ড কেবল মানবাধিকার লঙ্ঘনকে আরও জটিল করে তোলে। এটি চূড়ান্ত নিষ্ঠুর, অবমাননাকর এবং অমানবিক শাস্তি এবং কোনও বিচার প্রক্রিয়ায় এর কোনও স্থান নেই।" 

তিনি আরো বলেন, "২০২৪ সালের জুলাই থেকে আগস্টের মধ্যে ১,৪০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত এবং হাজার হাজার আহত হয়েছেন। বেঁচে যাওয়া এবং ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করে এমনভাবে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মান পূরণ করে কঠোরভাবে স্বাধীন এবং নিরপেক্ষ বিচার পরিচালনা করা হোক। কিন্তু তার পরিবর্তে, এই বিচার এমন একটি আদালতে পরিচালিত হয়েছে যার স্বাধীনতার অভাব এবং অন্যায্য কার্যক্রমের ইতিহাসের জন্য অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল দীর্ঘদিন ধরেই সমালোচনা করে আসছে। অধিকন্তু, শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে এই বিচারের অভূতপূর্ব গতি এবং রায় জটিলতার সৃষ্টি করে। ন্যায্য বিচার প্রতিষ্ঠা না করার উদ্বেগ তৈরি করে। যদিও আদালতে শেখ হাসিনার প্রতিনিধিত্বকারী একজন আদালত-নিযুক্ত আইনজীবী ছিলেন, কিন্তু তার আত্মপক্ষ সমর্থনের প্রস্তুতির জন্য স্পষ্টতই পর্যাপ্ত সময় ছিল না।" 

সেক্ষেত্রে, বেঁচে যাওয়া এবং ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ন্যায়বিচার দাবি করে এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের মান পূরণ করে এমন স্বাধীন এবং নিরপেক্ষ বিচারপ্রক্রিয়া পরিচালিত হোক।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মহাসচিব আরো যুক্ত করেন, "এটি একটি সুষ্ঠু বিচার প্রক্রিয়া ছিল না। ২০২৪ সালের জুলাইয়ের ভুক্তভোগীরা আরও ভালো কিছু (ন্যায়বিচার) পাওয়ার যোগ্য। বাংলাদেশের এমন একটি ন্যায়বিচার প্রক্রিয়া প্রয়োজন যা পক্ষপাতের সন্দেহের বাইরে। সম্পূর্ণরূপে ন্যায্য ও নিরপেক্ষ হবে এবং মৃত্যুদণ্ডের মাধ্যমে আরও মানবাধিকার লঙ্ঘনের আদেশ দেবে না। তবেই প্রকৃত এবং অর্থপূর্ণ সত্য, ন্যায়বিচার এবং ক্ষতিপূরণ প্রদান করা সম্ভব হবে।" 

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সব ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ডের বিরোধিতা করে। সেটি অপরাধের প্রকৃতি বা পরিস্থিতি, অপরাধবোধ, বা ব্যক্তির অন্যান্য বৈশিষ্ট্য, অথবা মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার জন্য রাষ্ট্র কর্তৃক ব্যবহৃত পদ্ধতি নির্বিশেষে।  

এরপর অ্যাগনেস ক্যালামার্ডের বিবৃতিতে এই বিচারপ্রক্রিয়া এবং ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সমগ্র প্রেক্ষাপট নিয়ে নীচের 'পটভূমি' অংশটুকু যুক্ত করা হয়।

২০২৪ সালের জুলাই মাসে মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের (বিক্ষোভকারীরা যাদের ক্ষমতাসীন দলের সমর্থক বলে মনে করত) জন্য সরকারি চাকরিতে ৩০ শতাংশ কোটা পুনর্বহালের প্রতিক্রিয়ায় ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়। বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর বেআইনি সহিংসতা চালালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ তীব্রতর হয়। এরপর মারাত্মক সহিংসতার পর হাসিনা বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে যান এবং জুন মাসে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তার ,সরকারের অন্যান্য সদস্য এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন প্রসিকিউটররা। 

গত বছর, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সারা দেশে ছাত্র-নেতৃত্বাধীন কোটা-সংস্কার বিক্ষোভের প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশে সংঘটিত সহিংসতা ও দমন-পীড়নের ঘটনা নথিভুক্ত করেছে। আমরা ছাত্র ও বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে মারাত্মক এবং কম-প্রাণঘাতী উভয় ধরণের বেআইনি শক্তি ব্যবহারের প্রমাণ সহ একটি যাচাইকরা ভিডিও সিরিজ প্রকাশ করেছি।

চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, যিনি সাবেক পুলিশ প্রধান ছিলেন এবং রাষ্ট্রীয় সাক্ষী হয়েছিলেন, তাকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তিনি দোষ স্বীকার করেছেন এবং  সরাসরি তার বিচার করা হয়েছে। 

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বারবার রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত এবং পদ্ধতিগত ন্যায্য বিচার লঙ্ঘনের জন্য বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সমালোচনা করেছে, যার মধ্যে মৃত্যুদণ্ডের জন্য চাপ প্রয়োগ এবং বিরোধীদের বিরুদ্ধে অবমাননার মামলা ( ২০১৩ সালের বিবৃতি, ২০১৪ সালের বিবৃতি ) অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। 

সুলতানা দিনা/

চীনে জুতা কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত ২৮

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩১ পিএম
আপডেট: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩১ পিএম
চীনে জুতা কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত ২৮
ছবি: সংগৃহীত

চীনের পূর্বাঞ্চলের একটি জুতা কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে এবং এতে অন্তত ২৮ জন নিহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) জিনজিয়াং শহরে এ ঘটনা ঘটে।

রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার জানায়, প্রাথমিক হিসাবে নিহতের সংখ্যা অন্তত ২৮ জন।

কর্তৃপক্ষ জানায়, জিনজিয়াং শহরের ওই কারখানায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে দমকল ও উদ্ধারকর্মীদের কয়েক ডজন সদস্য কাজ করছেন।

চীনের জরুরি ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, স্থানীয় সময় দুপুরের দিকে ফুজিয়ান প্রদেশের জিনজিয়াং শহরের  হুইতেং শুজ কারখানায় আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুন লাগার কয়েক ঘণ্টা পরও কারখানার ভেতরে মানুষ আটকে ছিলেন। তাদের উদ্ধারে ১৮৩ জন দমকল ও উদ্ধারকর্মী এবং ৩৫টি যানবাহন মোতায়েন করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয় জানায়, অগ্নিকাণ্ডে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। তবে কতজন নিহত বা আহত হয়েছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার খবরে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এ ঘটনায় ‘ব্যাপক প্রাণহানির’ কথা উল্লেখ করে শোক প্রকাশ করেছেন। তবে তিনি নিহতের নির্দিষ্ট সংখ্যা জানাননি।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সিসিটিভির সরাসরি সম্প্রচারিত দৃশ্যে দেখা যায়, দমকলকর্মীরা আগুনে পুড়ে যাওয়া বহুতল ভবনে পানি ছিটিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন। ভবনের ভাঙা জানালা দিয়ে ঘন ধূসর ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়।

শোকবার্তায় শি জিনপিং বলেন, ‘অনুসন্ধান ও উদ্ধারকাজে কোনো ধরনের প্রচেষ্টার ঘাটতি রাখা যাবে না।’ তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোরও নির্দেশ দেন।

তিনি আরও বলেন, ‘দুর্ঘটনার কারণ যত দ্রুত সম্ভব উদঘাটন করতে হবে এবং দায়ীদের কঠোরভাবে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।’

জরুরি ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় জানায়, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পাশাপাশি আটকে পড়া ব্যক্তিদের উদ্ধার এবং আহতদের চিকিৎসায় ‘সর্বাত্মক’ প্রচেষ্টা চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সিনহুয়া জানিয়েছে, কয়েকজন ব্যক্তি এখনও কারখানার ভেতরে আটকে রয়েছেন এবং তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

গত নভেম্বরে হংকংয়ে কয়েকটি বহুতল ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৬৮ জন নিহত হওয়ার পর চীন দেশজুড়ে উঁচু ভবনগুলোতে অগ্নিঝুঁকি প্রতিরোধে বিশেষ অভিযান শুরু করে। এর এক মাস পর দক্ষিণ চীনের গুয়াংডং প্রদেশের একটি আবাসিক ভবনে আগুন লেগে ১২ জন নিহত হন।

এএফ/

ইরান হামলা না থামালে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা আরও ভয়ানক হবে: ট্রাম্প

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৯:১২ পিএম
ইরান হামলা না থামালে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা আরও ভয়ানক হবে: ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

ইরান হরমুজ প্রণালীতে জাহাজে হামলা অব্যাহত রাখলে তাদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের বোমা হামলা আরও ব্যাপক ও ভয়াবহ হবে বলে সতর্ক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

বুধবার (৮ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইরানের একটি স্থাপনায় কথিত বোমা হামলার একটি ছবি পোস্ট করে ট্রাম্প বলেন, ‘এটি ইরানের গতকালের জাহাজে বোমা হামলার প্রতিশোধ। যদি আবার এমনটি ঘটে, তাহলে পরিস্থিতি আরও অনেক ভয়াবহ হবে!’

পরে তুরস্কে ন্যাটো সম্মেলন শেষে এয়ার ফোর্স ওয়ানে ফেরার পথে সাংবাদিকদের সঙ্গেও একই ধরনের বক্তব্য দেন তিনি।

ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা তাদের ওপর খুব কঠোরভাবে আঘাত হেনেছি। আমি বলব, তারা আমাদের একবার আঘাত করলে আমরা তাদের ২০ গুণ জবাব দেব।’

তিনি আরও বলেন, ‘গত রাতেও আমরা সেটাই করেছি। তারা আজ সামান্য কিছু করেছে, কিন্তু সেটিও মূলত গত রাতের হামলার প্রতিশোধ হিসেবে।’ সূত্র: এএফপি 

নাঈম/

মার্কিন বিমান হামলায় ৩ আইআরজিসি সদস্য নিহত

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৮:০২ পিএম
মার্কিন বিমান হামলায় ৩ আইআরজিসি সদস্য নিহত
প্রতীকী ছবি।

ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় খুজেস্তান প্রদেশে মার্কিন বিমান হামলায় দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) তিন সদস্য নিহত হয়েছেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ভোরে প্রদেশটির বিভিন্ন এলাকায় এই বিমান হামলা চালানো হয়।

আইআরজিসির জনসংযোগ ও তথ্য বিভাগের এক বিবৃতির বরাত দিয়ে ইরনা জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের আকস্মিক এই হামলায় ঘটনাস্থলেই তিন সেনা সদস্য প্রাণ হারান।

বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত পানিপথ ‘হরমুজ প্রণালী’। সম্প্রতি এই প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী বিভিন্ন জাহাজকে তেহরান লক্ষ্যবস্তু করার পর, যুক্তরাষ্ট্র টানা দ্বিতীয় দিনের মতো ইরানের ওপর এই হামলা চালালো।

ইরান অবশ্য শুরু থেকেই জোর দিয়ে বলে আসছে যে, হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করার আগে যেকোনো জাহাজকে অবশ্যই ইরানি কর্তৃপক্ষের সাথে সমন্বয় করতে হবে। পাশাপাশি নির্ধারিত পথ ছাড়া অন্য কোনো পথ দিয়ে যাতায়াত করা যাবে না বলেও তেহরানের পক্ষ থেকে কঠোর নির্দেশনা রয়েছে।

উল্লেখ্য, দীর্ঘ সামরিক সংঘাতের অবসান এবং একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তির লক্ষ্যে গত ১৭ জুন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি সমঝোতা স্মারকে (MoU) পৌঁছেছিল।

তবে সেই শান্তির সুবাতাস বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হঠাৎ ঘোষণা দেন যে, এই চুক্তিটি ‘শেষ’ হয়ে গেছে। ট্রাম্পের এই ঘোষণার পরপরই দুই দেশের মধ্যে নতুন করে সামরিক সংঘাতের সূত্রপাত হলো। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি।

এএফ/

বেলুচিস্তানে বিদ্রোহীদের হামলায় সেনা-পুলিশসহ নিহত ৪২

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৩:৪৮ পিএম
আপডেট: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৪:০২ পিএম
বেলুচিস্তানে বিদ্রোহীদের হামলায় সেনা-পুলিশসহ নিহত ৪২
পাকিস্তানের বেলুচিস্তানের জিয়ারত হাসপাতালে, রাতে হামলায় নিহত পুলিশদের মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স আসার দৃশ্য দেখছেন সাধারণ মানুষ/ ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ বেলুচিস্তানে পৃথক হামলায় ১৮ পুলিশ কর্মকর্তা এবং ১১ সেনা সদস্যকে হত্যা করেছে বিদ্রোহীরা। সোমবার থেকে শুরু হওয়া ধারাবাহিক প্রাণঘাতী হামলার পর নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪২ জনে।

দেশটির সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে এই তথ্য জানানো হয়।

বুধবার (৮ জুলাই) এক টেলিভিশনে সংবাদ সম্মেলনে সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী জানান, সোমবার থেকে শুরু হওয়া ধারাবাহিক প্রাণঘাতী হামলার পর নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪২ জনে। নিহতদের মধ্যে চারজন বেসামরিক নাগরিকও রয়েছেন।

অন্যদিকে, নিরাপত্তা বাহিনীও বিভিন্ন অভিযানে ৫৪ জন বিদ্রোহী যোদ্ধাকে হত্যা করেছে।

হামলার পেছনে আফগান নাগরিকের হাত রয়েছে দাবি করে চৌধুরী বিদ্রোহীদের হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, 'আমরা তোমাদের পিছু নেব, তোমাদের আঘাত করব।'

তিনি আরও যোগ করেন, 'আমরা প্রতিটি সন্ত্রাসী, তাদের সহায়তাকারী, যারা তাদের আশ্রয় দেয়, লালন-পালন করে এবং যারা তাদের ঘাঁটি সরবরাহ করে তারা যেখানেই থাকুক না কেন, তাদের সবার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেব।'

সোমবার বেলুচিস্তানের জিয়ারত জেলায় মাঙ্গি বাঁধ প্রকল্পের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা একটি পোস্টে কয়েক ডজন বিদ্রোহী হামলা চালায় এবং সেখান থেকে ১৮ জন পুলিশ কর্মকর্তাকে অপহরণ করে হত্যা করে। ওই হামলায় আরও ৯ জন কর্মকর্তা নিহত হন।

এরপর, বুধবার বেলুচিস্তানের একটি মহাসড়কে বিদ্রোহীদের অতর্কিত হামলায় একটি সামরিক যান আক্রান্ত হয় এবং এতে আরও ১১ জন সেনা সদস্য নিহত হন বলে জানান মুখপাত্র আহমেদ শরিফ চৌধুরী। সূত্র: আল জাজিরা

তামান্না রুপা/

ইরানে ২০ গুণ বড় মার্কিন হামলার ভিডিও শেয়ার করলেন ট্রাম্প

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০২:৪৩ পিএম
আপডেট: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০২:৫০ পিএম
ইরানে ২০ গুণ বড় মার্কিন হামলার ভিডিও শেয়ার করলেন ট্রাম্প
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের ওপর পূর্বের তুলনায় ২০ গুণ বড় আকারের ভয়াবহ মার্কিন বিমান হামলার একটি ভিডিও চিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেছেন ট্রাম্প।

টানা দ্বিতীয় দিনের মতো মার্কিন বাহিনী ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালানোর সময় ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) এই বিমানঘাঁটির কিছু অংশ ব্যবহার করেছিল। ট্রাম্প তার হুমকিও আরও জোরদার করেছেন এবং সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘হরমুজ প্রণালীতে তেহরান যেভাবে জাহাজ লক্ষ্য করে হামলা চালায়, তার চেয়ে ২০ গুণ বেশি কঠোরভাবে মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানবে।’

ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে জানানো হয়, দেশটির দক্ষিণ উপকূলীয় অঞ্চলের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনায় একের পর এক শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটেছে। এর মধ্যে বুশেহরে অবস্থিত ইরানের প্রধান পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র কমপ্লেক্সের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দর নগরী চাবাহার, কোনারক, বন্দর আব্বাস এবং সিরিক অন্যতম। এ ছাড়াও ইরানশাহরে অবস্থিত একটি প্রধান বিমান ঘাঁটিও মার্কিন সামরিক বাহিনীর তীব্র হামলার শিকার হয়েছে।

উল্লেখ্য, পারস্য উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোতে সাম্প্রতিক ইরানি হামলা এবং কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজে আক্রমণের জবাবে ওয়াশিংটন এই পাল্টা জোরালো সামরিক অভিযান শুরু করে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আগেই হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, ইরানের সঙ্গে পূর্বের যুদ্ধবিরতির চুক্তিটি এখন পুরোপুরি ‘অকার্যকর’ হয়ে গেছে। সূত্র:  এনডিটিভি

আজহার/