সরকারি চাকরি থেকে অবসরের পর তিন বছরের মধ্যে জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়া যাবে না। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে জারি করা কয়েকটি রিটের নিষ্পত্তি করে সোমবার (৪ ডিসেম্বর) এ রায় দেন হাইকোর্টের বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি কাজী জিনাত হকের বেঞ্চ।
শুনানিতে রিটের পক্ষে বক্তব্য উপস্থাপন করেন ব্যারিস্টার তানিয়া আমীর ও অ্যাডভোকেট প্রবীর নিয়োগী। নির্বাচন কমিশনের পক্ষে ব্যারিস্টার খান মোহাম্মদ শামীম আজিজ ও রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত দাশগুপ্ত।
রায়ের প্রতিক্রিয়ায় রিটকারী অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার শামীম কামাল সাংবাদিকদের বলেন, ‘মনে হচ্ছে, সরকারি চাকরি করে আমরা নৈতিক শৃঙ্খলাজনিত অপরাধ করেছি।’ তিনি এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন বলেও জানান।
রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে অবসরের পর তিন বছরের মধ্যে নিবার্চনে অংশ নেওয়ার বিধান কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি রুল জারি করেছিলেন হাইকোর্ট। প্রধান নির্বাচন কমিশনার, আইন সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, জনপ্রশাসন সচিব, স্থানীয় সরকার সচিব ও লালমনিরহাট জেলা প্রশাসককে চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়।
নির্বাচনে প্রার্থী হতে সরকারি চাকরিজীবীদের অযোগ্যতার বিষয়ে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও)-১৯৭২ এর ১২ (১) (চ) ধারায় বলা হয়েছে, ‘প্রজাতন্ত্রের বা সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষের বা প্রতিরক্ষা কর্ম বিভাগের কোনো চাকরি থেকে পদত্যাগ করেছেন বা অবসরে গমন করেছেন এবং উক্ত পদত্যাগ বা অবসর গমনের পর তিন বৎসর অতিবাহিত না হয়ে থাকে তাহলে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন না।’ এ বিধানকে চ্যালেঞ্জ করে গত জানুয়ারি মাসে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. শামীম কামাল হাইকোর্টে রিট করেন। পরে অবসরে যাওয়া আরও অনেক সরকারি কর্মকর্তা পৃথক কয়েকটি রিট করেন। ওইসব রিটের শুনানি নিয়ে বিভিন্ন সময়ে হাইকোর্ট একইরকম রুল জারি করেন। সংশ্লিষ্টরা জবাব দিলে সব রুলের চূড়ান্ত শুনানি শুরু হয় গত ৭ নভেম্বর। শুনানি শেষ হয় ২০ নভেম্বর।
এমএ/