ঢাকা ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
এমি অ্যাওয়ার্ডে সর্বোচ্চ ২৫টি মনোনয়ন পেল ‘দ্য পিট’ বদনজর লাগলে যে দুটি কাজ করবেন ময়মনসিংহে শিশু হত্যা মামলায় ৩ আসামির মৃত্যুদণ্ড, একজনের কারাদণ্ড বিশ্বকাপ ফাইনাল মাতাবেন যারা ইরানে ২০ গুণ বড় মার্কিন হামলার ভিডিও শেয়ার করলেন ট্রাম্প টেক্সাসে ‘চেতনাতে নজরুল’: হৃদি হকের ব্যতিক্রমী সংগীত-নাট্য উপস্থাপনা ঘুষ নিয়ে ধরা বিমান কর্মকর্তা রাশেদ দণ্ডিত স্বাস্থ্যসেবায় নতুন ধারণা দিচ্ছে ডক্টরস২৪ জামালপুরে গৃহবধূ হত্যায় ১৩ বছর পর স্বামীর মৃত্যুদণ্ড চীনে বন্যায় নিহত ৩৯ মিসর-আর্জেন্টিনা ম্যাচের বিতর্কিত সিদ্ধান্তে রেফারিদের পাশে কলিনা কুতুবদিয়ায় পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু বর্ষায় সঙ্গে রাখতে হবে যেসব জিনিস পর্তুগালের নতুন কোচ হতে যাচ্ছেন জর্জ জেসুস! আলমডাঙ্গায় জমি নিয়ে বিরোধে বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যা বাংলাদেশের অর্থনীতি চ্যালেঞ্জের মধ্যেও স্থিতিশীল: এডিবি আগামী নির্বাচন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হবে: আইনমন্ত্রী ফ্যাটি লিভারের চিকিৎসায় ওষুধের কার্যকারিতা নারীর মুড সুইংয়ের বৈজ্ঞানিক কারণ পরিবেশ ও জাতীয় বৃক্ষমেলা উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী প্রকৃতির কোলে এক নির্মল জলভূমি সিরাজগ‌ঞ্জে আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল সমর্থকদের সংঘর্ষ, আহত ১০ নারীরা কেন এত ক্লান্ত? অদৃশ্য শ্রম ও মানসিক চাপের বোঝা সুনামগঞ্জে বছরের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড বান্দরবানে পাহাড়ধসে পৃথক দুই পরিবারের ৫ জনের মৃত্যু সারোয়ার আলমগীরের শপথে বাধা নেই: হাইকোর্ট ফেনীতে বিশ্ব পরিবেশ দিবসে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ সিংড়ায় মাছ শিকারে গিয়ে বজ্রপাতে প্রাণ গেল যুবকের ষোলশহর-জানালীহাট সেকশন রেললাইনকে ৫ ফুট উঁচু করা হবে: রেল প্রতিমন্ত্রী ঝিনাইদহে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উদযাপন

দ্বিতীয় মেয়াদে আইজিপি হওয়ার আগ্রহ ছিল না: আইজিপি মামুন

প্রকাশ: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১১:১১ এএম
দ্বিতীয় মেয়াদে আইজিপি হওয়ার আগ্রহ ছিল না: আইজিপি মামুন
ছবি: সংগৃহীত

গত বছরের ৫ জুলাই এক প্রজ্ঞাপনে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হিসেবে চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের মেয়াদ দ্বিতীয়বারের মতো বাড়ানো হয়েছিল, এতে তার আগ্রহ ছিল না। তিনি এই অনাগ্রহের কথা তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবকে জানিয়েছিলেন।

বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টম্বের) বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ মামলার পলাতক আসামি শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী (স্টেট ডিফেন্স) আমির হোসেনের জেরায় সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন ওইসব কথা জানান। 

চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন ইতোমধ্যে অপরাধের দায় স্বীকার করে রাজসাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন। তিনি রাজসাক্ষীর মর্যাদায় কারাগারে আছেন। গতকাল সকালে তাকে কারাগার থেকে এনে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। 

বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে জেরা শুরু করেন আইনজীবী মো. আমির হোসেন। মাঝে নামাজের জন্য এক ঘণ্টা বিরতি দেওয়া হয়। জেরা কার্যক্রম চলে প্রায় ৫টা পর্যন্ত। পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আগামী ৮ ও ৯ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য রেখেছেন ট্রাইব্যুনাল। 

গতকালের জেরায় চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন বলেন, ‘পুলিশে গোপালগঞ্জকেন্দ্রিক দ্বন্দ্বের কারণে দ্বিতীয়বারও আমাকে আইজিপি পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।’ 

জেরায় বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে মামুন বলেন, ‘২০১৮ সালের নির্বাচনের সময় আমি ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে কর্মরত ছিলাম। তৎকালীন আইজিপি জাবেদ পাটোয়ারী রাতের বেলায় ব্যালট বাক্সে প্রায় ৫০%-এর মতো ভোট রাখার পরামর্শ সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দিয়েছেন বলে শুনেছি। মাঠপর্যায়ে সরকারের পক্ষ থেকে রাতে ব্যালট বাক্সে ভোট দেওয়ার ব্যাপারে নির্দেশনা পাঠানো হয়। রাজনৈতিক নেতাদের সহযোগিতা ও উদ্যোগে জেলা প্রশাসন, ডিসি, ইউএনও, এসিল্যান্ড, এসপি ও থানার ওসিরা মুখ্য ভূমিকা পালন করেন। পরবর্তী সময়ে পুলিশের বিপিএম ও পিপিএম পদক নির্বাচনের ক্ষেত্রে নির্বাচনসহ রাজনৈতিক ক্ষেত্রে সক্রিয় পুলিশ অফিসারদের বিবেচনা করা হতো। এক্ষেত্রে সঠিকভাবে পেশাদারত্ব দেখানো হয়নি। তবে আমিও ওই নির্বাচনের আগে-পরে ৩টি বিপিএম ও পিপিএম পদক পেয়েছিলাম। কিন্তু আমাকে এই পদকগুলো কেন দেওয়া হয়েছিল, তা আমি এই মুহূর্তে নিশ্চিত করে বলতে পারব না। ২০১৮ সালের পর পুলিশ বাহিনীতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও প্রভাব বেশি বৃদ্ধি পায়। কতিপয় পুলিশ অফিসার প্রভাবশালী পুলিশ অফিসার হিসেবে স্বীকৃতি পান। তারা বাহিনীর চেইন অব কমান্ড ভঙ্গ করে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসায় প্রতি রাতে মিটিং করতেন। আমি সেসব মিটিংয়ে উপস্থিত থাকতাম না। আমি মিটিংয়ে অংশ নেওয়া অফিসারদের নিষেধ করতাম, যেন পরবর্তী সময়ে এসব মিটিংয়ে তারা আর না যান। কিন্তু তারা আমার কথা শুনতেন না। সততা ও দক্ষতার কারণে আইজিপি হিসেবে আমাকে নিয়োগ প্রদান করেন। পুলিশ বাহিনীর সুনাম ও অফিসারদের মধ্যে প্রকাশ্যে দ্বন্দ্ব আড়ালে রাখার স্বার্থে আমাকে পরবর্তী সময়ে দুইবার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়। প্রথম দফায় আমি রাজি থাকলেও দ্বিতীয়বার আমি বলেছিলাম, আমার পরের ব্যাচ থেকে আইজিপি নিয়োগ দিতে। আমি রাজি ছিলাম না। আমি প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবের কাছে মৌখিকভাবে এই অনাগ্রহের কথা জানাই। কিন্তু গ্রুপিং আড়ালে রাখতে আমাকে দ্বিতীয় বারেও এক্সটেনশন (বর্ধিত) দেওয়া হয়।’

জেরায় আমির হোসেন প্রশ্ন করেন, ‘গোপালগঞ্জকেন্দ্রিক গ্রুপিংয়ের কারণে আপনাকে (চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন) আইজিপি হিসেবে এক্সটেনশন (মেয়াদ বৃদ্ধি) দেওয়ার কথা আপনি জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছেন, যা অসত্য।’ উত্তরে চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন বলেন, ‘জবানবন্দিতে আমার সব বক্তব্য সত্য।’ তখন আমির হোসেন প্রশ্ন করেন, ‘গোপালগঞ্জকেন্দ্রিক গ্রুপিংয়ের জন্য নয়, আপনি তদবির করে নিজের স্বার্থে এক্সটেনশন নিয়েছেন।’ উত্তরে চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন বলেন, ‘এ কথা সত্য নয়।’ আমির হোসেন বলেন, ‘এক্সটেনশন নেওয়ার সময় ‘না’ করেছেন?’ উত্তরে চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন বলেন, ‘প্রথম এক্সটেনশনে রাজি হয়েছিলাম। তবে দ্বিতীয়বার এক্সটেনশনের সময় আগ্রহী ছিলাম না।’ আমির হোসেন প্রশ্ন করেন, ‘আপনি যে আগ্রহী ছিলেন না, এ কথা কাকে বলেছেন?’ উত্তরে চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন বলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবকে আমার অনাগ্রহের কথা মৌখিকভাবে জানিয়েছিলাম।’

আমির হোসেন বলেন, ‘এ কথা (মুখ্য সচিবকে জানানো) আপনি মিথ্যা বললেন।’ চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন বলেন, ‘সত্য বলছি।’

আমির হোসেন প্রশ্ন করেন, ‘যখন র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) টিএফআই সেলে ব্যারিস্টার আরমানকে আটক রাখা হয়েছিল, তখন কি কোনো ব্যবস্থা নিয়েছিলেন।’ মামুন বলেন, ‘আমি র‌্যাবের মহাপরিচালক থাকার সময় টাস্কফোর্স ইন্টারোগেশন বা টিএফআই সেলে বন্দি থাকা ব্যারিস্টার আরমানকে মুক্ত করার চেষ্টা করেছিলাম। তবে কোনো ব্যবস্থা করতে পারিনি।’

বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত জেরা কার্যক্রম চলে। 

রাজসাক্ষী মামুনের ক্ষমা বিষয়ে সিদ্ধান্ত ট্রাইব্যুনালের: একপর্যায়ে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন প্রসিকিউশনকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘দোষ স্বীকার করলেই অপরাধ থেকে রেহাই পাওয়া যায় না।’ এ বিষয়ে প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম বলেন, ‘রাজসাক্ষী চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন তার অপরাধ থেকে ক্ষমা পাবেন কিনা, সে সিদ্ধান্ত নেবেন ট্রাইব্যুনাল।’

জেরা কার্যক্রমের বিরতির সময় ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের প্রশ্নে উত্তরে আমির হোসেন বলেন, ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল কোনো অপরাধ করেছেন বা তারা কোনো হত্যার সঙ্গে জড়িত ছিলেন, এমন কথা তো আমি বলিনি। আমার কথা হলো উনি (মামুন) দোষ স্বীকার করেছেন যে, তিনি হত্যার সঙ্গে জড়িত। তিনি সব অপরাধের সঙ্গে জড়িত সেটা স্বীকার করেছেন। যেহেতু তিনি স্বীকার করেছেন, সেহেতু তিনি অপরাধের দায় থেকে নিষ্কৃতি পেতে পারেন না। আমার বক্তব্য হলো, আমার আসামিদ্বয় (শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামাল) কোনো অপরাধ করেননি, তারা কোনো হত্যার সঙ্গে জড়িতও ছিলেন না এবং তারা কোনো অপরাধের নির্দেশও দেননি। 

মিজানুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘তিনি (মামুন) তার জবানবন্দিতে বলেছেন, ওই সময় তিনি কোনো ব্যবস্থা নেননি। তার কারণে তার অধীনস্তরা অপরাধ সংঘটিত করেছেন, এসবের দায় তার। দায় যখন তিনি স্বীকার করেছেন, এই প্রশ্নটা অবান্তর। দায় স্বীকার করলে তাকে শাস্তি দেওয়া যাবে কিনা, সেই ক্ষেত্রে আগে বলা হয়েছে, এখনো বলছি, তাকে শাস্তি দেবেন কি দেবেন না, সেটা ট্রাইব্যুনাল ঠিক করবেন।’

উল্লেখ্য, চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর আইজিপির দায়িত্ব নেন। চাকরির স্বাভাবিক মেয়াদ অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ১১ জানুয়ারি তার অবসরে যাওয়ার কথা ছিল। ২০২৩ সালের ১২ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ১১ জুলাই পর্যন্ত তাকে চুক্তিভিত্তিক আইজিপি নিয়োগ দেয় তৎকালীন সরকার। গত বছরের জুলাই মাসে তার মেয়াদ এক বছর বাড়ানো হয়েছিল।

 

ঘুষ নিয়ে ধরা বিমান কর্মকর্তা রাশেদ দণ্ডিত

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০২:৩৮ পিএম
আপডেট: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০২:৪৩ পিএম
ঘুষ নিয়ে ধরা বিমান কর্মকর্তা রাশেদ দণ্ডিত
ছবি: সংগৃহীত

ঘুষের টাকাসহ হাতেনাতে ধরা পড়া বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) জুনিয়র লাইসেন্স পরিদর্শক এইচ. এম. রাশেদ সরকারকে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে ১ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন আদালত। 

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন এ রায় দেন।

রায় ঘোষণার সময় আসামি হাজির ছিলেন। রায়ের পর সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে আদালত সূত্র। 

রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটর জহিরুল ইসলাম রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে বলেন, অনৈতিক দাবি আদায়কারীদের জন্য এটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকলো। 

অন্যদিকে, আসামির আইনজীবী ইব্রাহিম জুয়েল উষ্মা প্রকাশ করেন। উচ্চ আদালতে আপিল করবেন বলে জানান। 

মামলার বিবরণে জানা গেছে, বিচার চলাকালে ২৪ জনের মধ্যে ২৩ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। ২০২৩ সালের ৬ মার্চ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মামলার বিচার শুরু হয়। এর আগে ২০২২ সালের ৬ জুন তদন্ত কর্মকর্তা জাহিদ কালাম আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। 

ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, ফিলিপাইন থেকে কমার্শিয়াল পাইলট লাইসেন্স (CPL) অর্জনকারী মো. রাকিব হাসানের বাংলাদেশি লাইসেন্স রূপান্তরের আবেদনটি রাশেদ সরকার অনলাইন সিস্টেমে বাতিল করেন। পরে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার বিনিময়ে ১ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। 
রাকিব হাসানের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ফাঁদ পাতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। পরে ২০১৯ সালের ৬ ডিসেম্বর উত্তরা ১৩ নম্বর সেক্টরের ‘বিএফসি’ রেস্টুরেন্টে ঘুষের টাকাসহ হাতেনাতে গ্রেপ্তার হন রাশেদ সরকার।

২০১৯ সালের ৬ ডিসেম্বর দুদকের সহকারী পরিচালক তাহসীন মোসাবিল হক বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

জলিল উজ্জ্বল/অন্তরা/

জামালপুরে গৃহবধূ হত্যায় ১৩ বছর পর স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০২:২৬ পিএম
আপডেট: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০২:৪২ পিএম
জামালপুরে গৃহবধূ হত্যায় ১৩ বছর পর স্বামীর মৃত্যুদণ্ড
ছবি: খবরের কাগজ

জামালপুরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে গলাটিপে হত্যা মামলার ১৩ বছর পর স্বামীকে মৃত্যুদণ্ড ও ৫ লাখ টাকা জরিমানার রায় ঘোষণা করেছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মুহাম্মদ আব্দুর রহিম এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হলেন, দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার সানন্দবাড়ী ইউনিয়নের লম্বাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. আনোয়ার হোসেন।

মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) অ্যাডভোকেট মো. ফজলুল হক জানায়, ২০১২ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি আনোয়ার হোসেন তার স্ত্রী ইসমত আরার কাছে এক লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। ইসমত আরা টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় তাকে রাতেই গলাটিপে হত্যা করা হয়। পরে ইসমত আরার বড় ভাই মজনু বাদী হয়ে দেওয়ানগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন।

মামলার তদন্ত, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও আলামত পর্যালোচনা করে আদালত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আজ (৯ জুলাই) আসামি আনোয়ার হোসেনে অনুপস্থিতিতেই তাকে মৃত্যুদণ্ড এবং ৫ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডের আদেশ দেয় আদালত।

মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট মো. ফজলুল হক ও আসামি পক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট বাকী বিল্লাহ ও মো. নাজমুল ইসলাম।

আসমাউল আসিফ/খাদিজা রুমি/

সারোয়ার আলমগীরের শপথে বাধা নেই: হাইকোর্ট

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০১:০৫ পিএম
আপডেট: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০১:২৫ পিএম
সারোয়ার আলমগীরের শপথে বাধা নেই: হাইকোর্ট
বিএনপি প্রার্থী সারোয়ার আলমগীর। ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-২ আসনে বিজয়ী বিএনপি প্রার্থী সারোয়ার আলমগীর সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিতে পারবেন বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) হাইকোর্টের বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে সারোয়ারের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করে রায় দেন।

২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী সারোয়ার আলমগীর অংশ নেন। তবে নির্বাচনে তার ফলাফল প্রকাশ সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তে স্থগিত রয়েছে।

এর আগে সারোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বাতিল হয়। পরে প্রার্থিতা ফিরে পেতে হাইকোর্টে রিট করেন সারোয়ার। রিটের প্রাথমিক শুনানিতে সারোয়ার আলমগীরকে নির্বাচন করার অনুমতি দিয়ে রুল জারি করে এবং 'ধানের শীষ' প্রতীক বরাদ্দ দিতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।

তবে হাইকোর্টের ওই আদেশের বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির অভিযোগ এনে আপিলের আবেদন করেন একই আসনের জামায়াত প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমিন। গত ৩ ফেব্রুয়ারি আপিল আবেদন মঞ্জুর করেন আপিল বিভাগ। এতে বলা হয়, যদি সারোয়ার আলমগীর নির্বাচনে বিজয়ী হন, তবে সংশ্লিষ্ট আসনের নির্বাচনের ফলাফল আপিলের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত প্রকাশ স্থগিত থাকবে।

পরে ৩১ মার্চ আপিল করেন জামায়াত প্রার্থী। ১৬ জুন ওই আপিলের শুনানি শেষে আপিল বিভাগ দ্রুত, সম্ভব হলে দুই সপ্তাহের মধ্যে, হাইকোর্টকে রুল নিষ্পত্তি করতে আদেশ দেন। এ ছাড়াও রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত গত ৩ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগের দেওয়া আদেশ বহাল থাকবে বলেও উল্লেখ করা হয়। অর্থাৎ রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তার নির্বাচনী ফলাফল প্রকাশ স্থগিত থাকবে।

আপিল বিভাগের আদেশের পর রিটটি চূড়ান্ত শুনানির জন্য ২১ জুন হাইকোর্টের কার্যতালিকায় ওঠে। সেদিন আদালত রুল শুনানির জন্য দিন ধার্য করেন। এর ধারাবাহিকতায় শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

থিওটোনিয়াস/

আপিল বিভাগের রায়ে গণভোট ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বহাল

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ১০:৪৪ এএম
আপডেট: ০৯ জুলাই ২০২৬, ১০:৫৬ এএম
আপিল বিভাগের রায়ে গণভোট ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বহাল
হাইকোর্ট

সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে আনা কয়েকটি বিষয় অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। ফলে সংবিধানে ফিরেছে গণভোট ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকালে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

আপিল বিভাগ একই সঙ্গে আদেশ দিয়েছেন, পঞ্চদশ সংশোধনীর রাষ্ট্রীয় মূলনীতিসংক্রান্ত বিষয়গুলোতে সিদ্ধান্ত নেবে সংসদ। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা, গণভোট এবং সংবিধানে হস্তক্ষেপ করলে রাষ্ট্রদ্রোহিতার শাস্তির বিধানও বাতিল করেছেন আপিল বিভাগ।

২০১১ সালে সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের নেতৃত্বে আপিল বিভাগ তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বাতিল করে রায় দেন। ওই বছরের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে পঞ্চদশ সংশোধনী পাস হয়। পরে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের রায়ের আলোকে আওয়ামী লীগ সরকার এ সংশোধনী আনে।

সংশোধনীতে নারীদের সংরক্ষিত আসন ৫০ করা হয়। অবৈধভাবে ক্ষমতা গ্রহণ, সংবিধান স্থগিত বা বাতিলের ক্ষেত্রে শাস্তির বিধানসহ প্রায় ৫৪টি বিষয় সংযুক্ত করা হয়েছিল। এছাড়া ধর্মনিরপেক্ষতা, সংরক্ষিত নারী আসনের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির পিতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়ও এতে অন্তর্ভুক্ত ছিল।

শেখ হাসিনা সরকার পতনের পর এ সংশোধনী বাতিল চেয়ে রিট করেন সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার। পরে আরও চারজন পক্ষভুক্ত হন। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে হাইকোর্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসহ কয়েকটি বিষয় অবৈধ ঘোষণা করেন। এর বিরুদ্ধে আপিল করেন রিটকারীরা।

গত রবিবার থেকে টানা তিন দিনের শুনানিতে রিটকারীরা পুরো পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিলের আবেদন জানান। তবে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষের আইনজীবীরা সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক বিষয়গুলো আদালতের মাধ্যমে বাতিলের আবেদন করেন। রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিসংক্রান্ত বিষয়গুলো সংসদের ওপর ছেড়ে দেওয়ার আবেদনও জানান তারা।

অমিয়/

দুর্নীতির মামলায় সাবেক মন্ত্রী মেননকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৫ পিএম
দুর্নীতির মামলায় সাবেক মন্ত্রী মেননকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষক নিয়োগে ‘অনিয়ম-দুর্নীতির’ অভিযোগে করা এক মামলায় ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেননকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত।

দুদকের আবেদনের প্রেক্ষিতে বুধবার (৮ জুলাই) ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. শাহজাহান কবিরের আদালত এই আদেশ দেন।

গত ৩০ জুন মেননকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক মো. ফেরদৌস রহমান। আসামির উপস্থিতিতে শুনানির জন্য দিন ধার্য করা হয়। 

গতকাল শুনানির আগে তাকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। দুদকের প্রসিকিউটর দেলোয়ার জাহান রুমী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

অনিয়ম ও প্রতারণার মাধ্যমে পূর্বপরিচিত ১৩ জন প্রার্থীকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগে রাশেদ খান মেননসহ ২০ জনের বিরুদ্ধে গত বছরের ২২ ডিসেম্বর মামলা দায়ের করে দুদক।

মামলায় বলা হয়, বিধি অনুযায়ী বিশেষ গভর্নিং কমিটির নিয়োগ দেওয়ার ক্ষমতা না থাকা সত্ত্বেও উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজে অবৈধভাবে নিয়োগ বোর্ড গঠন করা হয়। বোর্ডে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) বা তার প্রতিনিধি এবং বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক রাখা হয়নি। বিজ্ঞাপনে চাহিত এনটিআরসিএ সনদ ছাড়াই প্রার্থীদের অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়। এমনকি লিখিত পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বরধারী প্রার্থীকে মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিতে দেওয়া হয়নি। এ ছাড়া নিয়োগ পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার আগেই নিয়োগপত্র ও যোগদানপত্র ইস্যু করা হয়।

সাবেক সংসদ সদস্য রাশেদ খান মেনন ছাড়াও মামলার অন্য আসামিরা হলেন, স্কুলটির সাবেক অধ্যক্ষ ও গভর্নিং বডির সাবেক সদস্যসচিব অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল আলমগীর হোসেন, গভর্নিং বডির সাবেক সদস্য মাহবুব উর রহমান, মো. আবুল হোসেন, মীর মোশাররফ হোসেন ও জহিরুল ইসলাম খান, শিক্ষক শ্যামলী হোসেন, মাহমুদা সুলতানা, আয়শা সিদ্দিকা, নাসরিন আফরোজ, মোহাম্মদ আব্দুল কাইয়ুম, তুহিন বিশ্বাস, মো. বজলুর রহমান, মো. রাসেল, মো. হারুন-অর-রশিদ খান, মো. মোশারফ হোসেন, উৎপল বিশ্বাস, এ কে এম মাসুদ রানা ও মো. আরিফুল ইসলাম।

২০২৪ সালের ২২ অগাস্ট ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি মেননকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর থেকে তিনি কারাগারে আটক রয়েছেন। 

বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে হত্যার ঘটনায় দায়ের হওয়া একাধিক মামলায় তাকে আসামি করা হয়েছে। এছাড়াও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী একটি মামলায় তার বিচার চলছে।

এম এ জলিল উজ্জ্বল/এএফ