ক্ষমতার অপব্যবহার ও মিথ্যা তথ্য দিয়ে সরকারি প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ছেলেমেয়ের বিরুদ্ধে করা পৃথক তিন মামলায় আরও পাঁচজন জন সাক্ষী দিয়েছেন। এ নিয়ে ষষ্ঠ দিনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়েছে।
এদিকে, তিন মামলার আসামি রাজউকের সাবেক সদস্য (স্টেট ও ভূমি) মোহাম্মদ খুরশীদ আলম আত্মসমর্পণপূর্বক জামিন আবেদন দাখিল করলেও বিচারক এজলাসে উপবিষ্ট হওয়ার পরে তিনি আর আসেননি।
মামলার এজাহারভুক্ত পাঁচ নম্বর ওই আসামি আইনজীবীর মাধ্যমে আবেদন জমা দিয়েও আর না আসায়, শুনানি না করায় আবেদন নথিজাত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আদালত সূত্র।
বুধবার (১৫ অক্টোবর) ঢাকার বিশেষ জজ-৫ আদালতে বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন সাক্ষীদের জবানবন্দি রেকর্ড করেন। আসামিরা পলাতক থাকায় তাদের পক্ষে সাক্ষীদের জেরা হয়নি।
সাক্ষীরা হলেন- প্রধান উপদেষ্টা কার্যালয়ের উপ পরিচালক-২ আল মামুন মিয়া, রাজউকের উপসচিব তানজিল্লুর রহমান, সাঁট মুদ্রাক্ষরিক জাকির হোসেন, সাব-রেজিস্টার জাহিদুর রহমান ও মাহবুবুর রহমান।
আগামি ২৯ অক্টোবর অবশিষ্ট সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণের পরবর্তী দিন ধার্য করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী সোহানুর রহমান।
মামলাগুলোর একটিতে শেখ হাসিনাসহ ১২ জন, আরেকটিতে সজীব ওয়াজেদ জয় ও শেখ হাসিনাসহ ১৭ জন এবং অপর মামলায় সায়মা ওয়াজেদ পুতুল ও শেখ হাসিনাসহ ১৮ জন আসামি।
গত ৩১ জুলাই হাসিনা ও তার ছেলেমেয়েসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে তিনটি তামাশায় অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে এ আদালতে বিচার শুরু হয়।
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পূর্বাচলে নতুন শহর প্রকল্পে প্লট বরাদ্দের দুর্নীতির অভিযোগে গত জানুয়ারিতে পৃথক ছয়টি মামলা করে দুদক। মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ (পুতুল), বোন শেখ রেহানা, রেহানার মেয়ে ও ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক, ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ও অপর মেয়ে আজমিনা সিদ্দিকসহ আরও অনেককে আসামি করা হয়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, সরকারের সর্বোচ্চ পদে থাকার সময় ক্ষমতাচ্যূত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার পরিবার ক্ষমতার অপব্যবহার ও মিথ্যা তথ্য দিয়ে পূর্বাচল আবাসন প্রকল্পের ২৭ নম্বর সেক্টরে ১০ কাঠা করে ছয়টি প্লট নিজেদের নামে বরাদ্দ নেন।
প্রসঙ্গত, ঢাকার বিশেষ জজ- ৪ আদালতে শেখ হাসিনা, তার বোন রেহানা ও তার তিন ছেলেমেয়েসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে করা অপর তিন মামলায় সাক্ষ্যগ্রহন চলমান।
এম এ জলিল উজ্জ্বল/এসএন