অন্তর্বর্তী সরকারকে ‘উৎখাত ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে’ অংশ নেওয়ার অভিযোগে করা রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন বিষয়ে শুনানি শুরু হয়েছে।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯-এর বিচারক আব্দুস সালামের আদালতে এ শুনানি শুরু হয়।
রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী অভিযোগ গঠনের পক্ষে শুনানি করেন। এরপর এ মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকা ৩০ আসামির মধ্যে ২০ জনের মামলা থেকে অব্যাহতির শুনানি করেন তাদের আইনজীবীরা। আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি অপর আসামিদের অব্যাহতির বিষয়ে শুনানির দিন ধার্য রেখেছেন আদালত।
পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের পক্ষে শুনানি করেন।
শুনানিতে তিনি বলেন, ক্ষমতাচ্যুত পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নেতা-কর্মীদের সঙ্গে জুম মিটিংয়ে অংশগ্রহণ করেন। দেশবিরোধী বক্তব্য দেওয়াসহ অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে উৎখাতের নির্দেশ দেন। তার ওই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তদন্তে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করার আবেদন জানান।
সংশ্লিষ্ট আদালতের পিপি রুহুল আমিন জানান, এ মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকা ৩০ আসামি মামলা থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেন। তাদের মধ্যে ২০ জনের পক্ষে আবেদন শুনানি করেন আইনজীবীরা। অন্যদের পক্ষে শুনানির জন্য পরবর্তী দিন ধার্য করা হয়েছে।
এ মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য সাবিনা আক্তার তুহিনসহ ৩০ জন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন।
কারাগারে থাকা অপর আসামিদের মধ্যে রয়েছেন খুলনার যুবলীগ নেতা পারভেজ খান ইমন, চট্টগ্রাম জয় বাংলা ব্রিগেডের প্রধান কবিরুল ইসলাম আকাশ, জয় বাংলা ব্রিগেড বরিশাল বিভাগের অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, সোহানা পারভীন রুনা, হাফিজুর রহমান ইকবাল, অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান মধু, এ কে এম আক্তারুজ্জামান, আল মারুফ, এলাহী নেওয়াজ মাছুম ও সাজ্জাদুল আনাম।
শুনানির আগে কারাগারে থাকা আসামিদের কড়া নিরাপত্তায় আদালতের এজলাসে আনা হয়। শুনানির পর তাদের ফের কারাগারে পাঠানো হয়।
গত ৫ জানুয়ারি মামলাটি অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানির জন্য ধার্য ছিল। ওই দিন আক্তারুজ্জামানকে আদালতে হাজির না করায় শুনানি হয়নি।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতা হারিয়ে ভারতে চলে যাওয়ার পর থেকে সেখানেই আছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।
শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনের বিষয়ে গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। পলাতক দেখিয়েই মামলার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
গত ২৭ মার্চ শেখ হাসিনাসহ ৭৩ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে এ মামলা করেন সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার মো. এনামুল হক।
তদন্ত শেষে গত ৩০ জুলাই শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত বছরের ১৯ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সহসভাপতি রাব্বী আলমের নেতৃত্বে জয় বাংলা ব্রিগেডের জুম মিটিংয়ে অংশগ্রহণ করেন কয়েক শ নেতা-কর্মী। এ সময় শেখ হাসিনা নেতা-কর্মীদের সামনে দেশবিরোধী বক্তব্য দেন। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে উৎখাতের নির্দেশ দেন তিনি। এ বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
নথি সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ১৪ আগস্ট চার্জশিট গ্রহণ করে পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। ১১ সেপ্টেম্বর আসামিদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। ১৪ অক্টোবর পলাতকদের আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়ে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে বলা হয়। গেজেট প্রকাশের পর গত ১১ নভেম্বর বিচারের জন্য জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতে পাঠানো হয়।