রাজধানীর কাফরুল এলাকায় প্রেমিকাকে ধর্ষণের দায়ে প্রেমিক জাহাঙ্গীর হোসেনকে (৩২) আমৃত্য কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তাকে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। এ ছাড়া আসামির স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে অর্থদণ্ডের টাকা ক্ষতিগ্রস্তকে দেওয়ার জন্য জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।
রায় ঘোষণার আগে আসামিকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। রায়ের পর সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। তবে ভুক্তভোগী নারী ও সন্তান আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।
রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি মো. এরশাদ আলম (জর্জ) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, ভুক্তভোগীর গর্ভজাত নাবালক সন্তানের বয়স ২১ বছর হওয়া পর্যন্ত আসামির স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি থেকে ভরণপোষণের ব্যবস্থা করার জন্য জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ট্রাইব্যুনাল বিচার চলাকালে ৫ জন সাক্ষী দিয়েছেন। মামলার তদন্ত শেষে ২০১৯ সালের ২৫ নভেম্বর আসামির বিরুদ্ধে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক আকলিমা আক্তার।
চার্জশিটে বলা হয়, ডিএনএ পরীক্ষায় ভুক্তভোগীর গর্ভজাত নবজাতক সন্তানের বাবা আসামি মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলে প্রমাণিত।
ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, ভুক্তভোগী ওই নারী জাহাঙ্গীর হোসেনের পূর্ব পরিচিত। ঘটনার ১১ মাস আগে ভুক্তভোগীরা স্বামীর মৃত্যু হয়। পূর্বপরিচিত হওয়ায় জাহাঙ্গীর প্রায়ই তার বাসায় আসা-যাওয়া করতেন। একপর্যায়ে তার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়। ২০১৮ সালের ১৫ জানুয়ারি রাত সাড়ে ১০টায় জাহাঙ্গীর হোসেন কাফরুল থানার ইব্রাহিমপুরের এক বাসায় তাকে ধর্ষণ করেন। বিষয়টি আশপাশের মানুষকে জানাতে চাইলে ভুক্তভোগীকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে পরবর্তী সময়ে একাধিকবার ধর্ষণ করে। ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে বিয়ে করতে অস্বীকার করে জাহাঙ্গীর।
ওই ঘটনায় ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন ভুক্তভোগী ওই নারী।
উজ্জ্বল/এসজি/