দীর্ঘ মেয়াদে ভারতেই থাকবেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে রাজনৈতিক আশ্রয়ে নয়, ভিসা নিয়ে দেশটিতে অবস্থান করবেন তিনি।
শুক্রবার (৯ আগস্ট) সিএনএনের সহযোগী প্রতিষ্ঠান নিউজ-১৮ এক প্রতিবেদনে এ কথা জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিরাপদে কোনো দেশে চলে যাওয়ার বিষয়টি এখনই কার্যকর হচ্ছে না। ভারতে আশ্রয় বা শরণার্থী আইন না থাকায় ভিসা নিয়ে অবস্থান করবেন তিনি।’
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, চাকরিতে বিতর্কিত কোটা পদ্ধতি নিয়ে শেখ হাসিনার সরকারের বিরুদ্ধে সহিংস বিক্ষোভের পর তিনি প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন এবং তার বোন শেখ রেহানার সঙ্গে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান। গত সোমবার তিনি বাংলাদেশের সামরিক বিমানে দিল্লির কাছে হিন্দন বিমান ঘাঁটিতে যান। খবর ছিল যে তারা যুক্তরাজ্যে থাকতে চেয়েছেন, যেখানে রেহানার মেয়ে টিউলিপ সিদ্দিক লেবার এমপি। তবে গতকাল পর্যন্ত তা হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রও হাসিনার ভিসা বাতিল করেছে বলে জানা গেছে। তিনি এখন সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ইউরোপীয় দেশগুলোতে আশ্রয়ের জন্য তার বিকল্পগুলো অন্বেষণ করছেন।’
সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে নিউজ-১৮ আরও জানায়, ভারতের এক কর্মকর্তা বলেছেন, ‘ভারতে আমাদের আশ্রয় বা শরণার্থী আইন নেই। তাই আইনগত অবস্থান হলো আমরা কাউকে শরণার্থী বা আশ্রয়ের মর্যাদায় রাখতে পারি না। সরকারি নীতির কারণে তিব্বতের নেতা দালাই লামা এখানে আছেন।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা নিউজ-১৮কে আরও বলেন, ‘একবার শরণার্থী এবং আশ্রয়ের মর্যাদা দিলে তারা তাদের অধিকার দাবি করেন এবং আদালতে যান। এতে আরও সমস্যা তৈরি হয়। আমরা কেস-টু-কেস ভিত্তিতে থাকার অনুমতি দিই, তবে এমন কোনো আইন নেই।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যদি আইন করি, তাহলে ইরান, আফগানিস্তান বা পাকিস্তান থেকে কেউ এসে আশ্রয় চাইতে পারেন। তারা আদালতে যাবেন এবং আদালত সিদ্ধান্ত নিতে অনেক সময় নেবেন।’
নির্বাচনের ঘোষণা দিলেই ফিরবেন শেখ হাসিনা, দলের স্বার্থে সক্রিয় রাজনীতির জন্য প্রস্তুত জয়
এবার রাজনীতির ময়দানে নামতে চলেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়। সক্রিয় রাজনীতিতে নামার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত তিনি। আওয়ামী লীগ ও বাংলাদেশের জনগণকে বাঁচাতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। ভারতের সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমনটি জানিয়েছেন জয়।
সাক্ষাৎকারে জয় যুক্তরাষ্ট্র থেকে বলেন, ‘পদত্যাগের দিন থেকে শেখ হাসিনা ভারতে রয়েছেন। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যখন নির্বাচনের ঘোষণা দেবে, তখনই তিনি বাংলাদেশে ফিরে যাবেন।’
জয় আরও বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমাদের দল এবং কর্মীরা সংকটে রয়েছেন। তাদের প্রতিহিংসার হাত থেকে বাঁচাতে যা যা করা দরকার, তা আমি করব। যদি রাজনীতিতে নামা প্রয়োজন পড়ে আমি পিছিয়ে আসব না। আমার রাজনীতিতে আসার তেমন কোনো ইচ্ছা ছিল না। যুক্তরাষ্ট্রেই পাকাপাকিভাবে থাকতে চেয়েছিলাম। কিন্তু বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি আমাকে ভাবাচ্ছে। দেখে মনে হচ্ছে, দেশের নেতৃত্বে শূন্যস্থান তৈরি হয়েছে। দলের স্বার্থে আমি সক্রিয় রাজনীতির জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। দল ও বাংলাদেশের জনগণকে বাঁচাতেই হবে। আমি সামনে এগিয়ে যাব।’