পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, ‘পরিবেশ এবং বন সংরক্ষণ ও উন্নয়নে পরিবেশ ও বন অধিদপ্তরের কোনো কর্মকর্তা কোনো ধরনের দুর্নীতি, অনিয়ম ও অবহেলা প্রদর্শন করলে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হবে।’
বুধবার (১৪ আগস্ট) বিকেলে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো বন অধিদপ্তর পরিদর্শন এবং কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় রাজধানীর কাঁটাবনের পাখি মার্কেটে বিদ্যমান অনিয়মের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়ে রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘দেশের বনকে বনের মতো রাখতে হবে এবং দেশের পরিবেশের মানোন্নয়নে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সার্বক্ষণিকভাবে নিবেদিত হয়ে কাজ করতে হবে। বন অধিদপ্তরের বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটকে এখানে নিয়মিত মনিটরিং করতে হবে। এখানে সকল প্রকার অবৈধ পাখির ব্যবসা বন্ধে এবং পাখির প্রতি নিষ্ঠুর আচরণকারী ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।’
এ কাজে তিনি শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা নেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে বনের ওপর আগ্রাসন বন্ধে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বনের সীমানা নির্ধারণ করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।
এর আগে সকালে পরিবেশ উপদেষ্টা পরিবেশ অধিদপ্তর পরিদর্শন করেন এবং কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় তিনি পাহাড় ও টিলা কর্তন, নদীর দূষণ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে নির্দেশনা দেন। পরিবেশ অধিদপ্তরের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেন।
তিনি বলেন, ‘জনগণের অভিযোগ দ্রুততম সময়ে নিষ্পত্তির লক্ষ্যে অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে হবে।’ কর্মকর্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, ‘দৃশ্যমান ফলপ্রসূ কাজের মাধ্যমে মানুষের আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে হবে।’
মতবিনিময় সভায় পরিবেশ উপদেষ্টা পরিবেশ ও বন অধিদপ্তরের সমস্যা, সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জসমূহ শোনেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন। এ সময় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, অতিরিক্ত সচিব, বন অধিদপ্তরের প্রধান বন সংরক্ষক, বিভাগীয় বন কর্মকর্তা, বন অধিদপ্তরের অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।