বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আর এক মাস ভারতে থাকতে পারবেন। তারপর তাকে অন্য বন্দোবস্ত করতে হবে।
মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) বিবিসি বাংলায় ‘ঠিক কোন স্ট্যাটাসে এখন ভারতে রয়েছেন শেখ হাসিনা?’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনে একথা জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, দিল্লির উপকণ্ঠে একটি আধা সামরিক বাহিনীর সেফ হাউসে বোন শেখ রেহানার সঙ্গে আছেন শেখ হাসিনা। তবে তাদের ঠিকানা ভারত সরকার প্রকাশ করেনি।
ভারতীয় কর্মকর্তারা বলছেন, শেখ রেহানার ক্ষেত্রে অবশ্য এই জটিলতা নেই। কারণ, তিনি যুক্তরাজ্যের পাসপোর্টধারী। এর ফলে তিনি সাধারণ ‘ভিসা অন অ্যারাইভালে’ (ভারতের মাটিতে পা রাখার পর যুক্তরাজ্যের নাগরিকদের যে ভিসা মঞ্জুর করা হয়) কার্যত যত দিন খুশি, ভারতে থাকতে পারেন।
দিল্লিতে একাধিক শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা বিবিসি বাংলাকে আভাস দিয়েছেন, ভারতে শেখ হাসিনার এই মুহূর্তে অবস্থানের ভিত্তিটা হলো ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘সংশোধিত ট্রাভেল অ্যারেঞ্জমেন্ট’। ২০১৮ সালের ১৫ জুলাই ঢাকায় দুই দেশের সরকারের মধ্যে এই সমঝোতা সই হয়।
সমঝোতাপত্রের ১ (এ) ধারাতে পরিষ্কার উল্লেখ আছে, উভয় দেশের ডিপ্লোমেটিক ও অফিশিয়াল পাসপোর্টধারীদের ৪৫ দিনের মেয়াদে ভিসা ছাড়াই বসবাসের জন্য (ভিসা ফ্রি রেজিম) থাকতে দিতে দুই দেশ পারস্পরিকভাবে রাজি হয়েছে। অর্থাৎ এই সমঝোতা অনুযায়ী, বাংলাদেশের ডিপ্লোমেটিক বা অফিশিয়াল পাসপোর্টধারী ব্যক্তিরা ভারতে ভিসা ছাড়াই ৪৫ দিন থাকতে পারবেন। আবার অন্যদিকে ভারতের এই বিশেষ ধরনের পাসপোর্টধারী ব্যক্তিরা বাংলাদেশেও ঠিক একই সুবিধা পাবেন।
বাংলাদেশে সদ্য দায়িত্ব নেওয়া অন্তর্বর্তী সরকার শেখ হাসিনার পাসপোর্ট বাতিল করেছে বলে এখন পর্যন্ত কোনো খবর নেই। এর ফলে যত দিন এই পাসপোর্ট বহাল থাকছে, তার ভিত্তিতেই দুই দেশের মধ্যকার সমঝোতা অনুযায়ী শেখ হাসিনা টেকনিক্যালি কোনো ধরনের ভিসা ছাড়াই ৪৫ দিন ভারতে অবস্থান করতে পারবেন। যার মধ্যে মাত্র ১৫ দিন অতিক্রান্ত হয়েছে।
শেখ হাসিনার বর্তমান পাসপোর্ট ‘রিভোকড’ বা বাতিল করা হয়, তাহলে ভারতের কী করণীয় বিবিসির এমন প্রশ্নের জবাবে দিল্লির একজন শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা বলেন, ‘সেটাও বড় কোনো সমস্যা নয়। কারণ, এ ধরনের পরিস্থিতিতে আমাদের প্ল্যান বি বা প্ল্যান সি প্রস্তুত রাখতেই হয়। এখানেও নিশ্চয়ই সেটা তৈরি আছে।’