শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে এনে বিচার করা আমাদের ‘কমিটমেন্ট’ (অঙ্গীকার) বলে জানিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার উইং।
রবিবার (৮ ডিসেম্বর) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রেস সচিব শফিকুল আলম এ কথা জানান।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের বন্দিবিনিময় চুক্তি আছে। এই চুক্তির আওতায় শেখ হাসিনাকে ফেরত আনতে হলে সরকারকে কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। আর পর্যায়ক্রমে এসব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।’
প্রেস সচিব বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার নির্দেশে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে দেড় হাজারের বেশি ছাত্র-জনতাকে হত্যা করা হয়েছে। আপনারা দেখেছেন, অর্থনীতির শ্বেতপত্রে ১৬ বিলিয়ন অর্থ পাচারের কথা বলা হয়েছে। এই দুর্নীতির সঙ্গে শেখ হাসিনাও জড়িত। তাই শেখ হাসিনাকে ফেরত এনে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘আগের সরকার ইউটিউবার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের বিরুদ্ধেও অ্যাকশনে যেত। আমরা তা করতে চাই না। তবে কিছু ব্যক্তি বানানো ও মনগড়া তথ্য ছড়াচ্ছেন, যা দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতার জন্য হুমকিস্বরূপ। যারা এমন অপপ্রচার চালাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
শফিকুল আলম বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক আরও ভালো হবে বলে আশা করছি। যাতে দুই দেশের মানুষ উপকৃত হয়। তবে তা হতে হবে ন্যায্যতা ও সমতার ভিত্তিতে।’
প্রেস সচিব বলেন, ‘শেখ হাসিনার বিদ্বেষমূলক বক্তব্য মেটা পর্যবেক্ষণ করবে। পাশাপাশি আওয়ামী লীগের যেসব পেজ থেকে ভুল তথ্য ছড়ানো হচ্ছে তার বিরুদ্ধেও মেটা পদক্ষেপ নেবে।’ এ সময় বাংলাদেশের প্রকৃত পরিস্থিতি দেখতে ভারতের সাংবাদিকদের বারবার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।
বাজারে সয়াবিন তেলের ঘাটতি নেই জানিয়ে তিনি বলেন, ‘রমজানে পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে সরকার।’
সহকারী প্রেস সচিব অপূর্ব জাহাঙ্গীর বলেন, “আজ ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় মেটার মানবাধিকার নীতিমালাবিষয়ক পরিচালক মিরান্ডা সিসন্স প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আসেন। এ সময় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান ‘মেটা’কে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট কিছু দেশ থেকে পরিচালিত বিভ্রান্তিমূলক বা মিথ্যা প্রচারণা প্রতিরোধ করার আহ্বান জানিয়েছেন।”
অপূর্ব জাহাঙ্গীর আরও বলেন, ‘সাক্ষাৎকালে প্রধান উপদেষ্টা জানিয়েছেন, এসব বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানকে নস্যাৎ করার উদ্দেশ্যে চালানো হচ্ছে। আমরা এর শিকার।’
সহকারী সচিব বলেন, ‘মিরান্ডা সিসন্স প্রধান উপদেষ্টাকে মেটার মানবাধিকার নীতিমালা ব্যাখ্যা করেন এবং জানান যে, তারা তাদের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে কেউ যেন বিভ্রান্তিমূলক বা মিথ্যা তথ্য ছড়াতে না পারে তা প্রতিরোধে সতর্ক রয়েছে।’
প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব অপূর্ব জাহাঙ্গীর বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে অসম চুক্তি নিয়ে আলোচনা করা হবে।’ তা ছাড়া ভারতের পররাষ্ট্র সেক্রেটারির সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার সাক্ষাৎ হতে পারে বলেও জানান তিনি।
নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘২০২৫ সালের ডিসেম্বরে জাতীয় নির্বাচন নিয়ে শিক্ষা উপদেষ্টা যে বক্তব্য দিয়েছেন তা ওনার ব্যক্তিগত মতামত। প্রধান উপদেষ্টার পক্ষ থেকে এখনো জাতীয় নির্বাচন নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।’