ঢাকা ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
ফ্রান্স ও মরক্কোর শুরুর একাদশে আছেন যারা হলুদের ফাঁদে ১৮ তারকা ফ্রান্স-মরক্কো লড়াই অনলাইনে দেখবেন যেভাবে কেন গুগলে নিজের নাম সার্চ দিতে বললেন আর্লিং হালান্ড? দুই ম্যাচ নিষিদ্ধ ইংলিশ ডিফেন্ডার মাশহাদে সমাহিত হলেন খামেনি ফ্রান্স-মরক্কো ম্যাচে কার জয়ের সম্ভাবনা কত, জানাল সুপারকম্পিউটার ডেঙ্গুতে আরও ২ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ১৯০ হামে মৃত্যু ৭৪৭, এক দিনেই শনাক্ত ৯৪৬ মুক্তাগাছায় প্রতিবন্ধী শিশুদের মধ্যে হুইলচেয়ারসহ সহায়ক উপকরণ বিতরণ হঠাৎ দিক হারিয়ে সিরিজ হারল বাংলাদেশ মুনিরের সঙ্গে আরাঘচির ফোনালাপ, মার্কিন বক্তব্যের কড়া সমালোচনা সাঙ্গু নদীতে কাঠ সংগ্রহ করতে গিয়ে যুবদল কর্মী নিখোঁজ সিলেটের নতুন ডিসি আব্দুল্লাহ আল মামুন রাষ্ট্রীয় শোকযাত্রা শেষে মাশহাদে খামেনির মরদেহ সিএফমোটো ও ব্রেম্বোর নতুন অধ্যায় শুরু রাঙামাটিতে পাহাড়ধসের মধ্যেই বন্যার আশঙ্কা উখিয়ার পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে দুর্যোগ সচিব গোপালগঞ্জে ভিমরুলের কামড়ে শিশুর মৃত্যু আসামির মৃত্যুর গুজবে আগৈলঝাড়া থানায় হামলা, পুলিশসহ আহত ১২ দুই দিন পর ফিরলেন সাজেকে আটকে পড়া ১৫০ পর্যটক চীনে জুতা কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত ২৮ সাতকানিয়ায় পানিবন্দি ৮ নারী ও শিশুকে উদ্ধার করলেন এসিল্যান্ড ইরান হামলা না থামালে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা আরও ভয়ানক হবে: ট্রাম্প চট্টগ্রাম-২ আসনের এমপি হলেন সরোয়ার আলমগীর চাঁপাইনবাবগঞ্জ জার্নালিস্ট ফোরাম, ঢাকার সভাপতি মোবারক, সম্পাদক সবুজ মাছ ধরতে গিয়ে তলিয়ে যাওয়া নিখোঁজ তরুণের মরদেহ উদ্ধার জঙ্গি সন্দেহে সিঙ্গাপুর ফেরত ২ জন রিমান্ডে লাল কার্ডের রাজা এবার ফ্রান্স-মরক্কো ম্যাচের রেফারি গঙ্গা চুক্তি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত, আশাবাদ ব্যক্ত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

আমরা গৎবাঁধা পথে চলি বলেই নতুন পৃথিবীর কথা চিন্তা করি না: ড. ইউনূস

প্রকাশ: ১৪ মে ২০২৫, ০৭:৩৩ পিএম
আমরা গৎবাঁধা পথে চলি বলেই নতুন পৃথিবীর কথা চিন্তা করি না: ড. ইউনূস
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পঞ্চম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ছবি: প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ভবিষ্যৎ করণীয় নির্ধারণে ছাত্রসমাজ ঠিক করবে তারা কি ধরনের ভবিষ্যৎ চায়। আমরা যে ধরনের বিশ্ব গড়তে চাই তা করার ক্ষমতা আমাদের আছে। সকল মানুষের আছে। কিন্তু আমরা গৎবাঁধা পথে চলে যাই বলে নতুন পৃথিবীর কথা আমরা চিন্তা করি না। তিনি জোবরা গ্রামকে নিজের বিশ্ববিদ্যালয় উল্লেখ করে বলেছেন, এই বিশ্ববিদ্যালয় তাকে এসব শিখিয়েছেন।

বুধবার (১৪ মে) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পঞ্চম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন জীবনের একটা মস্তবড় ঘটনা। সারাজীবন স্মরণ করে। ছবিটি সংরক্ষণ করে নিজের পরের প্রজন্মকে দেখায়। সেই বিশেষ দিনটি আজকে। এই দীর্ঘ সময় পরে এই সমাবর্তন অনুষ্ঠান হতে পারল এজন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে অভিনন্দন জানাই। দুর দুরান্ত থেকে যেসব শিক্ষার্থী এসেছে তাদেরকেও অভিনন্দন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় সময়টা কত তাড়াতাড়ি চলে যায় বোঝা যায় না। যখন শেষ হয়ে যায় তখন মনে মনে কষ্ট লাগে। আনন্দের দিন শেষ হল। জীবনের বড় একটা অধ্যায় শেষ হল। নতুন অধ্যায় শুরু। আমার ব্যক্তিগত আনন্দ আজ অন্য বিষয়ে। তোমাদের সঙ্গে দেখা হওয়া সেটা অবশ্যই ভীষণ আনন্দের। এই ক্যাম্পাসে বহুবছর পর ফিরে আসা সেটাও আনন্দের ব্যাপার। তথাপি নতুন সনদ প্রাপ্তদের অভিনন্দন জানানো সেটাও আনন্দের।

স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ৭২ সালে যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে আসি। তখন শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলাম। তখন বুঝতে পারিনি কী পরিবর্তন হতে যাচ্ছে আমার ভিতরে। অত্যন্ত উৎসাহ সহকারে দায়িত্ব পালন করছিলাম। এরমধ্যে ৭৪ সালে বিরাট দুর্ভিক্ষ হয়ে গেল। সবকিছু উলটপালট হয়ে গেল। মনের মধ্যে বহু জিজ্ঞাসার সৃষ্টি হল। মনে মনে ভাবলাম সারা বাংলাদেশের দুর্ভিক্ষ ঠেকানোর ক্ষমতা আমার নেই। আমি চেষ্টা করতে পাারি। বাংলাদেশের একটি ক্ষুদ্র অংশের কয়েকটি পরিবারের দুর্ভিক্ষ ঠেকাতে পারলে সেটা আমার জন্য কৃতিত্বের বিষয় হবে। যেকারণে নজর পড়ল পার্শ্ববর্তী গ্রাম জোবরায়। কী করবো জোবরাতে? সারাদেশে হাহাকার। জোবরাতে তখনো কেউ মারা যায়নি। অবস্থা খারাপ। মনের মধ্যে প্রশ্ন জাগল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং জোবরা গ্রামের মাঝে অনেক জমি পড়ে আছে। সেখানে অনেক ফসল হওয়ার কথা। যাতে সারাবছরের সংস্থান হয়ে যায়। জিজ্ঞেস করলাম, তারা জানাল ফসল হয় না। কেন হয় না? বৃষ্টি না হলে হয় না। উত্তরে জানালেন তারা। রাউজানে তখন সবেমাত্র ইরি ধান চাষ শুরু হয়েছে। তখন বিশ্ববিদ্যালয়কে জিজ্ঞাসা করলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা কী।

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় যদি জ্ঞানের ভাণ্ডার হয় সেই জ্ঞান পাশের গ্রামে উপচে পড়ে না কেন? তারা জানেনা কেন? কেউ কোন সদুত্তর দিল না। বা দেয়ার চেষ্টাও করল না। তখন আমি চিন্তা করলাম তাদের দিয়ে চাষাবাদ করা যায় কিনা। তখন তারা জানাল পানি নেই। রাউজানে ডিপটিউবওয়েল আছে। এখানে নেই। ডিপটিউবওয়েল তখন সবে দেশে এসেছে। শীতকালে চাষ অবিশ্বাস্য ছিল। মানুষ বিশ্বাস করতো যদি শীতকালে চাষাবাদের বিষয় থাকতো তাহলে আল্লাহতায়ালা শীতকালে বৃষ্টি দিতেন। আপনি জোর করে আল্লাহ এর হুমুক উল্টিয়ে দিয়েন না। আমি তাদের জন্য ডিপটিউবওয়েলের ব্যবস্থা করলাম। ফসল হল। পরের বছর জিজ্ঞাসা করলাম। তখন তারা জানাল গতবছর চিটা ধান পেয়েছি। কারণ পানির টানাটানি ছিল। পর্যাপ্ত পানি পায়নি। একজন বলল এবার ডিপটিউবওয়েলে চাষ হবে না। আমরা বারমাসিয়া খাল থেকে পানি নেব। তখন এলাকাবাসী জানাল পাশের বারমাসিয়া খাল থেকে পানি নেয়া যায়। গিয়ে দেখলাম সেখানে পানি আছে। তাদের জিজ্ঞেস করলাম আল্লাহ এর পানি তো এখানে আছে চাষ করলেন না কেন? তারা জানাল এতদিন কেউ করেনি, তাই আমরাও করিনি। সবাই মিলে বাঁধ দিলাম। বাঁধে যে পানি এল তা ডিপটিউবওয়েলের চেয়ে অনেক বেশি পানি পাওয়া গেল। নতুন শিক্ষা লাভ হল। গরজ না থাকলে ইচ্ছে না থাকলে সবকিছু থাকা সত্ত্বেও অভাব থেকে যায়। জমি আছে, পানি আছে। চাষ করা যায়। কিন্তু কেউ করেনি কোনদিন আমরা কেন করবো? এর থেকে শিক্ষা লাভ হলো। এরপর জন্মলাভ করল তেভাগা খামার। এই চাষ সমস্যা হলো ইরি ধান চাষ করতে হলে লাইন ধরে রোপা লাগাতে হয়। কষ্ট করতে হয়। কৃষকরা বললেন বেশি কষ্ট। আমি বললাম, খাবার যখন খাবেন কষ্ট করবেন না।? অদ্ভুত একটা মানসিকতা। তখন আমি ছাত্রদের নিয়ে বসলাম। আমরা মাঠে নামি। সুতা ধরবো এবং চারা লাগাবে। ওই সময়ের আমার ছাত্র-ছাত্রীরা যারা ছিল তাদের সারাজীবন মনে থাকবে। দলে দলে তারা মাঠে নেমে লাইন করে ধানের চারা লাগাল। জোবরাতে আমরা ইরি ধানের চাষ শুরু করে দিয়ে আসছি। তার থেকে আসতে আসতে নজর পড়ল জোবরার আশপাশের গ্রামে।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আজ এই কথা বলছি, এই কারণে আমি এখানে এসেছি শিক্ষক হিসেবে। যতই দিন গেল দেখলাম আমি ছাত্র হয়ে গেছি। আমি আর শিক্ষকতার ভূমিকায় নাই। আমি ক্রমাগত শিখছি। জোবরা এবং আশপাশের মহিলারা আমার শিক্ষক। তাদের কাছ থেকে অনেক কিছু শিখলাম। আমার ছাত্র-ছাত্রীরা যারা আমার সঙ্গে ছিল। আজ অনেকেই উপস্থিত আছে। যারা মহিলাদের কাছে আমাকে নিয়ে গেল তাদের কাছ থেকে পাঠদান নেয়ার জন্য। অবাক হয়ে গেলাম। যা ক্লাশরুমে পড়াই তার সঙ্গে কিছুই মিল না। যে কাজে হাত দিলাম তা মহিলাদের কাছে অনেক পছন্দের বিষয় হয়ে গেল। তাদের ঋণ দিলাম। তাদের হাতে ৫ টাকা, ১০ টাকা দিলাম। ৫ টাকা ১০ টাকা যে মানুষের জীবনের এত আনন্দ আনতে পারে, কোনদিন ভাবিনি। আমি কোন মাগনা টাকা তাদেরকে দিচ্ছিলাম না। আমি তাদেরকে বললাম টাকা দিচ্ছি রোজগার করে আমার টাকা আমাকে ফেরৎ দেবেন। তাতেই তারা খুশি। অনেক কাহিনী তাদের কাছ থেকে শুনলাম। তারা নিজের নাম পর্যন্ত বলতে পারেনা। আমাদের সমাজ মহিলাদের তার নিজের নাম শেখার বা জানারও সুযোগ দেয়নি। ছোটবেলায় অমুকের, মেয়ে, বিয়ে হলে অমুকের বউ, মা হলে অমুকের মা। সে যে কে সে নিজেও জানেনা। আমরা প্রথম চেষ্টা করলাম তার নাম বের করার। যাতে করে সে সেটা লিখতে পারে। আমার ছাত্রীরা তাদের লেখা শেখাতে গিয়ে তার জীবনের অনেক কাহিনী আসল।

এর থেকে আমি একটা সিদ্ধান্তে আসলাম এবং সভা সমিতিতে বললাম ঋণ মানুষের মানবিক অধিকার। সবাই হাসাহাসি করেন। আপনি ঋণের কথাও বলেন, অধিকারের কথাও বলেন। ইকোনোমিকসে তো অধিকারের কথা নেই। তাও আবার মানবিক অধিকার। আপনি কোন সাবজেক্টে লেখাপড়া করেন। অনেক খটকা। একটা খটকার পর আরেকটা খটকা। তারপর বললাম আমরা দারিদ্রকে জাদুঘরে পাঠাব। বলে আপনি কে জাদুঘরে পাঠানোর। আমি বললাম আমি আপনার মতই একজন মানুষ। আমি পাঠাইতে চাই, আপনি বাধা দিতে চাইলে বাধা দেন। তখন আমাকে বলা হল, আপনি কে, এটা তো সরকারের কাজ। তাহলে আমি আমার কাজ করতে থাকি। সরকার বাধা দিলে তখন দেখবো।

জোবরার মহিলাদের কাছ থেকে নতুন অর্থনীতি শেখা আরম্ভ করলাম। সে হিসেবে জোবরা আমার নতুন বিশ্ববিদ্যালয় দাঁড়িয়ে গেল। আজ পর্যন্ত যা কিছু করে যাচ্ছি, এই জোবরা থেকে যা শিখেছি তারই বহি:প্রকাশ। এখন যে অর্থনীতি আমরা পড়াচ্ছি তা ব্যবসার অর্থনীতি। মানুষের অর্থনীতি না।

তিনি বলেন, যেকোন অর্থনীতি যদি শুরু করতে হয় মানুষকে দিয়ে করতে হয়। ব্যবসাকে দিয়ে নয়। আজকে যে শুরুটা হল সেই শুরুটা আমাদের ভুল পথে নিয়ে গেল। আমরা এক ব্যবসাকেন্দ্রিক সভ্যতা গড়ে তুললাম। এই সভ্যতা আত্মঘাতি সভ্যতা। এটা টিকবে না। ওইযে, যে নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ে আমি পড়াশোনা শুরু করলাম, সেই নতুন বিশ্ববিদ্যালয় আমাকে বলল এই বিদ্যার পৃথিবী ধ্বংসপ্রাপ্ত হবে। এর থেকে রেহাই পাওয়ার কোন উপায় নেই। তখন আরো বড় আকারের জিনিসের মধ্যে ঢুকলাম।  বললাম, আমাদের নতুন সভ্যতা গড়তে হবে। আমি ভাবলাম এটা বললে তো আমার সহকর্মী যারা আছেন, যারা অথর্নীতি পাঠদান করেন,  লেখালেখি করেন তারা আমাকে অনেক আগেই ত্যায্য করেছে। তারা একেবারেই শেষ করে দেবে। এর সাথে কথা বলার দরকার নেই।

কিন্তু ওই নতুন শিক্ষাপ্রাপ্ত ছাত্র আমার মাথায় সেটা রয়ে গেল। আমাদেরকে নতুন সূত্রে যাত্রা শুরু করতে হবে। যে অর্থনীতির ভিত্তি হবে মানুষ। যে অর্থনৈতিক ভিত্তি হবে তার ভবিষ্যত পরিকল্পনা। ভবিষ্যত চিন্তাধারা। কিভাবে সে নিজেকে আবিষ্কার করবে। যেদিকে তাকে ছুটিয়ে দেয়া হয়েছে তার থেকে বের করে আনা। এগুলো সমস্ত কিছুর বীজ বপন হয়েছে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের বিশ্ববিদ্যালয় জোবরা থেকে। সেজন্য আমি জোবরার কাছে কৃতজ্ঞ। চবির কাছে কৃতজ্ঞ যেহেতু এই বিশ্ববিদ্যালয় আমাকে জায়গা দিয়েছে। এরপর যে একটা নোবেল পুরস্কার পাব সেটা কল্পনা করিনি। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় যখন পরিচয় দেয় আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নোবেল পুরস্কার পেয়েছি। গৌরব করে।

ভ্যান্ডারবিল্ট বিশ্ববিদ্যালয় গৌরব করে, আমি তাদের ছাত্র ছিলাম। আমি তাদের বলি চবির গৌরব করার কারণ দুইটি। পুরো কর্মসূচি নোবেল পুরস্কার পাওয়ার গোড়াপত্তন হয়েছে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাহচর্যে।

গ্রামীণ ব্যাংক নিয়ে ড. ইউনুস বলেন, আসলে এই বিশ্ববিদ্যালয় দুটি নোবেল পুরস্কারের জন্য গৌরব বোধ করতে পারে। একটিতো হলো আমি ব্যক্তিগতভাবে নোবেল পেয়েছি। দ্বিতীয়ত হল যে গ্রামীণ ব্যাংক সৃষ্টি হল সেটির গোড়াতেও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। গ্রামীণ ব্যাংকের আইনে পরিস্কারভাবে লেখা আছে গ্রামীণ ব্যাংক কোথা থেকে আসল। ব্যাংকের জন্ম হল চবি অর্থনীতি বিভাগে সেটি পরিস্কার লেখা আছে। কাজেই দুটো নোবেল পুরস্কারের ইতিহাস নিজেদের ছাত্রছাত্রীদের জানাতে পারে।

পাঠদান ও গবেষণা কর্মসূচির বিষয়ে তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ করণীয় নির্ধারণে ছাত্রসমাজ ঠিক করবে তারা কি ধরনের ভবিষ্যৎ চায়। আমরা যে ধরনের বিশ্ব গড়তে চাই তা করার ক্ষমতা আমাদের আছে। সকল মানুষের আছে। কিন্তু আমরা গৎবাঁধা পথে চলে যাই বলে নতুন পৃথিবীর কথা আমরা চিন্তা করি না। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা সবসময় যেন এটা মনে রেখে পাঠদান ও গবেষণা কর্মসূচি চালু রাখে। আমি খন্ডিত বিষয়ে গবেষণা চালানোর জন্য নিয়োজিত নই। প্রত্যেকটি গবেষণার পেছনে আমাদের উদ্দেশ্য হল সমস্ত বিশ্বকে মনের মতো করে সাজানো। আমাদের যদি সেই লক্ষ্য না থাকে তাহলে গন্তব্যবিহীন গবেষণা ও শিক্ষাতে পরিণত হবে।

আমরা যেভাবে বিশ্ব গড়তে চাই সেভাবেই বিশ্ব গড়তে পারি। আমি যেভাবে বলেছি সেভাবে গড়তে হবে এমন কোন কথা নেই। আমি আমার কথাটা বলে যাচ্ছি। অন্যরা অন্যদের কথা বলবে। তোমরা তোমাদের কথা বলবে। কিন্তু নিজের মনের একটা স্বপ্ন থাকতে হবে। আমরা কি ধরনের বিশ্ব চাই, কি ধরনের সমাজ চাই, কি ধরনের সংসার চাই কি ধরনের শিক্ষা ব্যবস্থা চাই । এগুলো মনের মাধুরি মিশিয়ে আমাদেরকে বের করে নিতে হবে।

আজকে দুই বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং মহিলাদের যে বিশ্ববিদ্যালয় আমার জন্য সৃষ্টি হয়েছিল জোবরা এবং আশপাশের গ্রামে। তাদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চবি উপাচার্য ড. ইয়াহ্ইয়া আখতার। এসময় উপস্থিত ছিলেন মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এস এম এ ফায়েজ, চবি উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান এবং উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) মো. কামাল উদ্দিন প্রমুখ। 

ডেঙ্গুতে আরও ২ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ১৯০

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ১১:২১ পিএম
ডেঙ্গুতে আরও ২ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ১৯০
খবরের কাগজ গ্রাফিকস

দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে। ২৪ ঘণ্টায় এ রোগে আক্রান্ত হয়ে আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ডেঙ্গু নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ১৯০ জন।

 বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে মৃত দুজনের মধ্যে একজন ঢাকা বিভাগের ও অপরজন খুলনা বিভাগে মারা গেছেন। এ নিয়ে চলতি বছর দেশে ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৪ জনে। মৃতদের মধ্যে ১২ জন পুরুষ এবং ১২ জন নারী। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত দেশে মোট ৭ হাজার ৭৪৭ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৪ হাজার ৭৪৯ জন পুরুষ এবং ২ হাজার ৯৯৭ জন নারী।

এদিকে ২০২৫ সালে দেশে মোট ১ লাখ ২ হাজার ৮৬১ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন ও মারা যান ৪১৩ জন। এর আগের বছর ২০২৪ সালে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ১ হাজার ২১৪ জন এবং মৃত্যু হয়েছিল ৫৭৫ জনের।

এসএন/

হামে মৃত্যু ৭৪৭, এক দিনেই শনাক্ত ৯৪৬

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ১১:১৫ পিএম
হামে মৃত্যু ৭৪৭, এক দিনেই শনাক্ত ৯৪৬
খবরের কাগজ ইনফোগ্রাফ

দেশে হামের প্রাদুর্ভাব এখনো উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ৯৪৬ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। ফলে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে হাম ও এর উপসর্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৪৭ জনে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সংস্থাটি জানায়, গত এক দিনে ঢাকা ও সিলেট বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে একজন করে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে এ সময়ে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে সরাসরি কোনো মৃত্যু হয়নি। 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে ১২৮ জনের শরীরে হাম নিশ্চিত হয়েছে। একই সঙ্গে আরও ৮১৮ জনের মধ্যে রোগটির উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। সব মিলিয়ে এক দিনে হাম ও এর উপসর্গে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৪৬ জনে।

এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সারা দেশে মোট ১ লাখ ৮ হাজার ৯৯৮ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে পরীক্ষায় ১৩ হাজার ১৯৮ জনের শরীরে হাম নিশ্চিত হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, একই সময়ে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে সারা দেশে মোট ৯২ হাজার ৩১ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে এ পর্যন্ত ৮৮ হাজার ৪১৯ জন হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন।

এসএন/

মুক্তাগাছায় প্রতিবন্ধী শিশুদের মধ্যে হুইলচেয়ারসহ সহায়ক উপকরণ বিতরণ

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ১০:৫৮ পিএম
মুক্তাগাছায় প্রতিবন্ধী শিশুদের মধ্যে হুইলচেয়ারসহ সহায়ক উপকরণ বিতরণ
ছবি: সংগৃহীত

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় প্রতিবন্ধী শিশুদের মধ্যে হুইলচেয়ার, ওয়াকার, হিয়ারিং এইড, আই গ্লাসসহ বিভিন্ন সহায়ক উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) উপজেলা পরিষদ হলরুমে প্রতিবন্ধী কমিউনিটি সেন্টারের উদ্যোগে এবং 'ইআরইডিএমসিএম' (EREDMCM) প্রকল্পের আওতায় এ বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রতিবন্ধী শিশুদের মধ্যে হুইলচেয়ার, এএফও, এফও, হ্যান্ড স্প্লিন্ট, ওয়াকার, স্পেশাল জুতা, হিয়ারিং এইড এবং আই গ্লাস বিতরণ করা হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন মুক্তাগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কৃষ্ণ চন্দ্র। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম। এছাড়া সরকারি কর্মকর্তা, এনজিও প্রতিনিধি, যুব গ্রুপের সদস্য এবং স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় বক্তারা বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী আরও জোরদার করার পাশাপাশি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার নিশ্চিত করতে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। তারা বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সমাজের মূলধারায় সম্পৃক্ত করে মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত সবার লক্ষ্য।

সভাপতির বক্তব্যে ইউএনও কৃষ্ণ চন্দ্র বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রতি কেবল সহানুভূতি নয়, তাদের প্রাপ্য অধিকার ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত। তারা সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ; তাদের বাদ দিয়ে উন্নয়নের পূর্ণতা সম্ভব নয়।

তিনি আরও বলেন, একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য। তাদের জন্য এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যেখানে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তাদের এগিয়ে যাওয়ার পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়াবে না।

আলোচনায় অংশ নেওয়া বক্তারা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ক্ষমতায়ন এবং সমাজের মূলধারায় তাদের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন কৌশল ও করণীয় তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে ইআরইডিএমসিএম প্রকল্পের সমন্বয়কারী মো. ইকবাল হোসেন উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সামগ্রিক উন্নয়ন ও অধিকার বাস্তবায়নে প্রকল্পটি কাজ করে যাচ্ছে। ভবিষ্যতে স্থানীয় কমিউনিটিকে সহায়ক উপকরণ ব্যবস্থাপনায় আরও সক্ষম করে তোলার পাশাপাশি এ ধরনের জনকল্যাণমূলক ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

এসএন/

চট্টগ্রাম-২ আসনের এমপি হলেন সরোয়ার আলমগীর

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৯:১২ পিএম
আপডেট: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪০ পিএম
চট্টগ্রাম-২ আসনের এমপি হলেন সরোয়ার আলমগীর
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে ঢাকায় জাতীয় সংসদ ভবনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে শপথ নেন চট্টগ্রাম-২ আসনের নবনির্বাচিত বিএনপির বিজয়ী প্রার্থী সরোয়ার আলমগীর। ছবি: পিআইডি

দীর্ঘ প্রায় পাঁচ মাসের আইনি জটিলতার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে চট্টগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন বিএনপির বিজয়ী প্রার্থী সরোয়ার আলমগীর।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদের শপথ কক্ষে তাকে শপথবাক্য পাঠ করান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। 

এর আগে নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-২ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে সরোয়ার আলমগীরের প্রাথির্তা বৈধ এবং তাকে বিজয়ী ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।  

গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে চট্টগ্রাম-২ আসন থেকে সরোয়ার আলমগীর প্রায় ৭০ হাজার ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হন। তবে ঋণখেলাপির অভিযোগে তার প্রার্থিতা নিয়ে আইনি জটিলতার কারণে ফলাফলের গেজেট প্রকাশ স্থগিত ছিল। সম্প্রতি বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ তার প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করলে সব আইনি বাধা দূর হয়। এরপর আদালতের রায়ের আলোকে নির্বাচন কমিশন তাকে চূড়ান্ত বিজয়ী ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করে।

এর আগে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা তার প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করলেও ঋণখেলাপির অভিযোগ তুলে একই আসনের জামায়াতের প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমিন নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন। আপিলের পর কমিশন তার প্রার্থিতা বাতিল করলে সরোয়ার আলমগীর হাইকোর্টে রিট করেন।

হাইকোর্ট কমিশনের সিদ্ধান্ত স্থগিত করে তাকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অনুমতি দেন। পরে আপিল বিভাগ তাকে নির্বাচন করার সুযোগ দিলেও চূড়ান্ত আইনি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ফলাফল স্থগিত রাখার নির্দেশ দেন। এরপর হাইকোর্টের চূড়ান্ত রায়ের পর তার সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের সব আইনি বাধা দূর হয়।

এলিস/এএফ

গঙ্গা চুক্তি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত, আশাবাদ ব্যক্ত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৮:২২ পিএম
গঙ্গা চুক্তি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত, আশাবাদ ব্যক্ত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

ভারতের সঙ্গে গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি নবায়ন নিয়ে আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নয়াদিল্লি চুক্তিটির গুরুত্ব অনুধাবন করবে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে... চুক্তি নিয়ে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। তবে এ মুহূর্তে আলোচনার সব বিষয় প্রকাশ করা সম্ভব নয়।’

শামা বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বাস করে ভারত এ চুক্তির গুরুত্ব এবং উভয় দেশের জন্য গঙ্গার পানির তাৎপর্য সম্পর্কে অবগত।

তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, ভারত বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এবং আমাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক যাতে কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেই অভিন্ন স্বার্থকে সামনে রেখে সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে।’

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে অল্প সময় বাকি থাকলেও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গঠিত দল ও কমিটি এ বিষয়ে ভারতের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।

এ বিষয়ে আশাবাদের কারণ জানতে চাইলে শামা ওবায়েদ বলেন, চলমান আলোচনা সম্পর্কে এ মুহূর্তে এর বেশি কিছু বলা সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, ‘এ মুহূর্তে এর বেশি কিছু ব্যাখ্যা করার সুযোগ নেই। আমরা আশাবাদী।’

তিনি আরও বলেন, চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে প্রায় ছয় মাস বাকি রয়েছে এবং এর নবায়নের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ভারতের ওপর নির্ভর করছে।

শামা বলেন, ‘আমি আগেই বলেছি, আশা করি ভারত গঙ্গা চুক্তির গুরুত্ব উপলব্ধি করবে এবং সে অনুযায়ী এগিয়ে আসবে।’

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ৩০ বছর মেয়াদি গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর স্বাক্ষরিত হয়। চলতি বছরের ডিসেম্বরে এর মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা।

চুক্তিটি দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে গঙ্গার পানি বণ্টনের কাঠামো নির্ধারণ করে। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ৫৪টি অভিন্ন নদী রয়েছে।

অভিন্ন নদীর পানি বণ্টনসহ বিভিন্ন নদী-সংক্রান্ত বিষয়ে দুই দেশ যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) মাধ্যমে আলোচনা করে থাকে। এই কমিশন যৌথ পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো হিসেবে কাজ করছে।

এসএন/