রাষ্ট্রের ৩৫৮ কোটি টাকার ক্ষতিসাধনের অভিযোগে রেলের সাবেক মহাপরিচালক শামসুজ্জামানসহ ছয়জন রেল কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
মামলাটি করেছেন দুদকের উপ-সহকারী পরিচালক মো. হাবিবুর রহমান।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, এই ছয়জন শীর্ষ কর্মকর্তা সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে ‘রোলিং স্টক অপারেশনস ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্ট অব বাংলাদেশ রেলওয়ে’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ১২৫টি লাগেজ ভ্যান কিনে রাষ্ট্রকে ৩৫৮ কোটি টাকার ক্ষতি করেছেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করে তারা লোকসানি ও অনুপযুক্ত লাগেজ ভ্যান কেনার একটি প্রকল্প পাস করিয়েছিলেন তৎকালীন সরকারের আমলে। প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে সম্ভাব্যতা যাচাই প্রক্রিয়াতেও গলদ ছিল। এছাড়াও, বাজার চাহিদা যাচাই করা হয়নি উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) প্রণয়নের আগে।
রেলের সাবেক মহাপরিচালক শামসুজ্জামানের পাশাপাশি মামলার অন্য অভিযুক্তরা হলেন- সম্ভাব্যতা যাচাই প্রণয়ন কমিটির দুই সদস্য: রেলওয়ের অতিরিক্ত প্রধান মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার আহমেদ মাহবুব চৌধুরী এবং রেলওয়ের পরিচালক মৃণাল কান্তি বণিক; প্রকল্প পরিচালক আব্দুল মতিন চৌধুরী; এবং রেলওয়ের দুই সাবেক মহাব্যবস্থাপক মো. হারুন-অর রশীদ ও মো. মিজানুর রহমান।
দুদকের অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ২০১৮ সালে ‘রোলিং স্টক অপারেশনস ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্ট অব বাংলাদেশ রেলওয়ে’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় রেলওয়ের ব্রডগেজ লাইনের (বিজি) জন্য ৫০টি লাগেজ ভ্যান এবং মিটারগেজ (এমজি) লাইনের জন্য ৭৫টি লাগেজ ভ্যান কেনার জন্য আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র আহ্বান করা হয়। রেলওয়ের ডিপিপিতে উল্লেখ ছিল, লাগেজ ভ্যান কেনার মূল উদ্দেশ্য বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শাক-সবজি, ফল, খাদ্যশস্য, মাংস, দুধ ও মৌসুমি ফলসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্য পরিবহন করা।
ক্রয় পরিকল্পনায় ৭৫টি এমজি লাগেজ ভ্যান কেনার জন্য ১৭৬ কোটি টাকা এবং ৫০টি বিজি লাগেজ ভ্যানের জন্য ১৫২ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছিল। সংরক্ষণ, মেরামতসহ অন্যান্য খাতে মোট বাজেট প্রাক্কলন করা হয় ৩২৮ কোটি টাকা।
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, ওই ছয় কর্মকর্তা ২০২৩-২৪ ও ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দুর্নীতির আশ্রয় নেন। তারা প্রকল্পের অবমূল্যায়িত মুনাফা হিসেবে ২০২৩-২০২৪ সালে ৩২ কোটি ৪৬ লাখ টাকা এবং ২০২৪-২৫ সালে ২৮ কোটি ৬ লাখ টাকা আয় হয়েছে বলে নথি উত্থাপন করেন।
কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৪ সালের প্রথম আট মাসে লাগেজ ভ্যান থেকে আয় হয়েছে প্রায় ৮ কোটি ২৯ লাখ টাকা, যেখানে ২০২৩ সালের প্রথম আট মাসে আয় হয়েছিল প্রায় ৯ কোটি টাকা। অথচ ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে মুনাফা প্রক্ষেপণ করা হয়েছিল ৩২ কোটি ৪৬ লাখ টাকা।
জয়ন্ত সাহা/রিফাত/