বাংলাদেশ থেকে যেসব উমরাযাত্রী উমরা করতে যান, এদের মধ্যে খুব অল্পসংখ্যক মানুষেরই বিদেশ ভ্রমণের পূর্ব অভিজ্ঞতা থাকে বা আগে উমরা পালনের অভিজ্ঞতা থাকে। অধিকাংশ মানুষেরই পূর্ব কোনো অভিজ্ঞতা থাকে না। উমরার মাসয়ালা-মাসায়েল সম্পর্কেও তেমন জানাশোনা থাকে না। সুতরাং বিমানযাত্রা, সৌদি আরবে গমন, পরবর্তী কার্যক্রম এবং সঠিক বিধিবিধান মেনে উমরা পালনে এদের কম বোঝা এবং ভুল হওয়া স্বাভাবিক। অবশ্য অনেকের প্রচুর পরিমাণে ভুলও হয়। অনেকে আবার সঠিক ও নির্ভরযোগ্য এজেন্সি নির্বাচন করতে না পারার দরুন প্রতারিতও হন। উমরার কাজেও ব্যত্যয় ঘটে। আমার দীর্ঘ ২২ বছরের অভিজ্ঞতায় মনে হয়েছে, তিনটা বিষয় প্রত্যেক উমরাযাত্রীর লক্ষ করা উচিত। এ তিনটি বিষয় মেনে চললে, উমরার সফর সুন্দর হবে এবং মূল চার কাজ করতে সুবিধা হবে।
প্রথমত, মধ্যস্বত্যভোগী শ্রেণির সঙ্গে যুক্ত না হয়ে সরাসরি কোনো না কোনো নির্ভরযোগ্য ও অভিজ্ঞ এজেন্সি মালিকের সঙ্গে যুক্ত হয়ে উমরা পালনে যাওয়া উচিত। দালালদের সঙ্গে গেলে টাকা বেশি লাগে এবং ভালো সেবাও পাওয়া যায় না। ফলে উমরাযাত্রীদের বঞ্চনার শিকার হতে হয় এবং অনেক কষ্টও পোহাতে হয়।
দ্বিতীয়ত, কোনো না কোনো অভিজ্ঞ ও আমলি আলেম-মুয়াল্লিম বা উমরা গাইডের সঙ্গে উমরা পালনে যাওয়া উচিত। আলেম গাইডের সঙ্গে হজ-উমরায় না গেলে অনেক ভুল কাজ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। অপ্রয়োজনীয় এবং খুবই নরমাল বিষয়েও সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে।
তৃতীয়ত, মানুষ মনে করেন—আমি লক্ষাধিক টাকা খরচ করব, সৌদি আরব যাব-আসব, আমার উমরা হয়ে যাবে; মূলত ব্যাপারটি এ রকম নয়। সেখানে গিয়ে উমরার মূল কাজগুলো ইসলামের নির্দেশনা মেনে সঠিক পদ্ধতিতে পালন করতে হবে। অযথা সময় নষ্ট না করে আমল-ইবাদত, কোরআন তেলাওয়াত, জিকির-আজকারে নিয়োজিত থাকতে হবে। ইসলাম সম্পর্কে বেসিক জ্ঞান অর্জনের চেষ্টা করতে হবে। সেখানে নিজেকে পরিবর্তনের সাধনা করতে হবে। দেশে ফিরে নিজেকে আমল-ইবাদতে জড়িয়ে রাখতে হবে। সবার মধ্যে পরিবর্তনের বার্তা ছড়িয়ে দিতে হবে।
বিশেষ করে আমি মনে করি, উমরায় যাওয়ার আগে বই পড়ার মাধ্যমে বা আলেমদের কাছ থেকে উমরা বিষয়ে ভালোভাবে জেনে নেওয়া প্রয়োজন।
লেখক: স্বত্বাধিকারী, জুয়েল এভিয়েশন সার্ভিসেস