মাদক বা মদ গ্রহণ ইসলামে সম্পূর্ণ হারাম। পবিত্র কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘হে ঈমানদাররা! মদ, জুয়া, মূর্তি ও তীর নিক্ষেপ এসব নিকৃষ্ট বস্তু এবং শয়তানের কাজ। কাজেই তোমরা এগুলো বর্জন করো। যাতে তোমরা সফল হতে পারো। শয়তান মদ ও জুয়ার মাধ্যমে তোমাদের মধ্যে পারস্পরিক শত্রুতা ও তিক্ততা ঘটাতে চায় এবং তোমাদের আল্লাহর স্মরণ ও নামাজ থেকে বিরত রাখতে চায়। তবুও কি তোমরা তা থেকে বিরত থাকবে না!’ (সুরা মায়েদা, আয়াত: ৯০-৯১)
একজন মুসলিমের জন্য মদ ক্রয় এবং তার মূল্য গ্রহণ যেমন হারাম, তেমনিভাবে ইহুদি-খ্রিষ্টান বা অন্য কাউকে মদ উপহার দেওয়াটাও হারাম। কোনো মুসলিমের জন্য কাউকে নেশাজাতীয় দ্রব্য উপহার দেওয়া বা কারও থেকে গ্রহণ গ্রহণ করা বৈধ নয়।
মুসলিম মানেই হলো, সে একজন পবিত্র মানব। তাই সে শুধু পবিত্র বস্তুই উপহার হিসেবে দিতে পারে এবং পবিত্র বস্তুই উপহার হিসেবে নিতে পারে। ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, ‘‘এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে এক মশক মদ উপহারস্বরূপ নিয়ে আসে। রাসুলুল্লাহ (সা.) তাকে বললেন, ‘তুমি কি জানো না যে, আল্লাহ সেটা হারাম করে দিয়েছেন?’ সে বলল, ‘না।’ তারপর সে এক ব্যক্তির সঙ্গে কানে কানে কথা বলল। রাসুলুল্লাহ (সা.) সে ব্যক্তিকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘তুমি তাকে গোপনে কী বললে?’ সে বলল, ‘আমি তাকে এটা বিক্রি করার পরামর্শ দিয়েছি।’ এরপর তিনি বললেন, ‘যিনি এটা পান করা হারাম করেছেন তিনি তার বিক্রিও হারাম করে দিয়েছেন।’’ (মুসলিম, হাদিস: ১৫৭৯)
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত আরেকটি বর্ণনায় আরও অতিরিক্ত কথা এসেছে, ‘‘লোকটি বলল, তাহলে কি আমি ইহুদিদের মদ উপঢৌকন হিসেবে দিতে পারব না? নবিজি (সা.) বললেন, ‘যিনি মদ হারাম করেছেন, তিনি ইহুদিদের মদ উপঢৌকন হিসেবে প্রদানকেও হারাম করেছেন।’ তখন সে বলল, তাহলে আমি এই মদ দিয়ে কী করব? নবিজি (সা.) বললেন, ‘এগুলো মরুভূমিতে ফেলে দাও।’’ (মুসনাদুল হুমায়দি, হাদিস: ১০৬৪)
লেখক : আলেম ও গবেষক