আমাদের কাছে প্রায়ই মানুষ জীবনঘনিষ্ঠ বিভিন্ন মাসয়ালার উত্তর জানতে চান। বিভিন্ন সমস্যার সমাধান চান। যেমন—একজন জানতে চেয়েছেন, এক নারীর সন্তান না হওয়ায় স্বামী তাকে তালাক দিয়ে দেয়। ইদ্দত শেষ হওয়ার পর নারীর দ্বিতীয় বিয়ে হয়। দ্বিতীয় স্বামী থেকে তার একটি মেয়েসন্তানের জন্ম হয়। এ মেয়েটি তার মায়ের প্রথম স্বামীর মাহরাম হবে কি না এবং বড় হওয়ার পর তার সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ করতে পারবে কি না?
মেয়েটি তার মায়ের প্রথম স্বামীর মাহরাম গণ্য হবে। কেননা মেয়েটির মায়ের সঙ্গে তার প্রথম স্বামীর মিলন হয়েছে। তাই উক্ত নারীর গর্ভজাত মেয়ে অন্য স্বামী থেকে হলেও প্রথম স্বামীর জন্য নিজ স্ত্রীর গর্ভজাত সন্তান হওয়ার কারণে সে তার মাহরামের অন্তর্ভুক্ত। বড় হওয়ার পর তার সঙ্গে দেখা করতে পারবে। আল্লাহ বলেন, ‘তোমাদের প্রতি হারাম করা হয়েছে তোমাদের মা এবং মেয়ে, বোন, ফুফু, খালা, ভাইঝি, ভাগিনি, দুধমা, দুধবোন, শাশুড়ি, তোমাদের স্ত্রীদের মধ্যে যার সঙ্গে সঙ্গত হয়েছ তার আগের স্বামীর ঔরসজাত মেয়ে যারা তোমাদের তত্ত্বাবধানে আছে, কিন্তু যদি তাদের সঙ্গে তোমরা সহবাস না করে থাক, তবে (তাদের বদলে তাদের মেয়েদের বিয়ে করলে) তোমাদের প্রতি গুনাহ নেই এবং (তোমাদের প্রতি হারাম করা হয়েছে) তোমাদের ঔরসজাত পুত্রের স্ত্রী এবং একসঙ্গে দুই বোনকে (বিবাহ বন্ধনে) রাখা, আগে যা হয়ে গেছে, হয়ে গেছে, নিশ্চয়ই আল্লাহ পরম ক্ষমাশীল, দয়ালু।’ (সুরা নিসা, আয়াত: ২৩; আলবাহরুর রায়েক, খণ্ড: ৩, পৃষ্ঠা: ১০১; ফাতাওয়া হিন্দিয়া, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ২৭৪)
নারীদের মাহরাম ১৪ জন। যথা—
বাবার সমপর্যায়ের ৪ জন
- ১. বাবা
২. চাচা
৩. মামা
৪. শ্বশুর
ভাইয়ের সমপর্যায়ের ৫ জন
৫. সহোদর ভাই
৬. দাদা
৭. নানা
৮. নাতি
৯. দুধভাই
ছেলের সমপর্যায়ের ৫ জন
১০. ছেলে
১১. ভাইয়ের ছেলে
১২. বোনের ছেলে
১৩. মেয়ের জামাই
১৪. দুধছেলে
লেখক: আলেম, গবেষক ও সাংবাদিক