ঢাকা ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
২৯ জুন: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল সঞ্চয়পত্রে কর রেয়াত সুবিধা কমায় মধ্যবিত্তের চাপ বাড়বে কুড়িগ্রামে দুধকুমারের পানি বিপৎসীমার ওপরে সাম্বার ছন্দ বনাম সামুরাই শৃঙ্খলা ২৯ জুন ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি হট ফেবারিট জার্মানি, চমকের অপেক্ষায় প্যারাগুয়ে শেষ ১৬-তে কানাডার প্রতিপক্ষ কে? কেপ ভার্দের অধিনায়কের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ শেষ মুহূর্তের গোলে শেষ ষোলোতে কানাডা, স্বপ্নভঙ্গ দক্ষিণ আফ্রিকার কানাডার একের পর এক সুযোগ নষ্ট, প্রথমার্ধে গোলশূন্য লড়াই দেম্বেলের হ্যাটট্রিক আর জামার্নির হার বিশ্বকাপের গ্রুপপর্ব শেষে সেরা একাদশে জায়গা পেলেন যারা যাদের নিয়ে নকআউটের প্রথম ম্যাচে নামছে কানাডা-দ.আফ্রিকা ঐতিহাসিকভাবে জামায়াতে ইসলামী সবসময় ‘সুবিধাবাদী’, একাত্তরে তারা স্বাধীনতা চায়নি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অধিবেশনের শেষ সময়ে ওয়াকআউট বিরোধী দলের কক্সবাজারসহ কয়েকটি জেলায় ভূমিকম্প অনুভূত ৭১-এর ভূমিকার জন্য জামায়াতের ক্ষমা চাওয়া উচিত ছিল: মির্জা ফখরুল জার্মানি-প্যারাগুয়ে ম্যাচ কে জিতবে, সুপারকম্পিউটারের ভবিষ্যদ্বাণী বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর দক্ষিণ কোরিয়ার কোচের পদত্যাগ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সুদের টাকা নিয়ে দুই গ্রামের সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ৩০ এনসিটি পরিচালনায় বিশ্বমানের অপারেটর 'ডিপি ওয়ার্ল্ড': কৌশলগত অংশীদারিত্বের নতুন সমীকরণ তাপপ্রবাহে ইউরোপে অতিরিক্ত ১৩০০ জনের বেশি মৃত্যুর রেকর্ড : ডব্লিউএইচও আফ্রিকার জয়জয়কার, হতাশ এশিয়া খবরের কাগজের মহিউদ্দিন পলাশ রানারআপ ঘুষ ছাড়া মিলছে না ধান বিক্রির সুযোগ, বিপাকে কৃষকরা স্বাধীনতা যুদ্ধের সঙ্গে জুলাই আন্দোলনের তুলনার সুযোগ নেই: ত্রাণমন্ত্রী নক্ষত্রের পতন হয়নি জিম্বাবুয়েতে বাংলাদেশের ব্যাটিং বিধ্বস্ত রোনালদোকে নিয়ে বেশি ঝুঁকি নিচ্ছে পর্তুগাল? নাঈম হাসানকে থানায় হেনস্তা: তিন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থার সুপারিশ

আজ চাঁদ দেখা গেলে কাল থেকে রোজা

প্রকাশ: ১১ মার্চ ২০২৪, ০৯:০৩ এএম
আপডেট: ১১ মার্চ ২০২৪, ০৪:৪১ পিএম
আজ চাঁদ দেখা গেলে কাল থেকে রোজা

দেশে আজ চাঁদ দেখা গেলে আগামীকাল মঙ্গলবার শুরু হবে রোজা। চাঁদ উঠলে আজ এশার পর থেকেই শুরু হবে তারাবির নামাজ। এ ছাড়া ভোররাতে সাহরি খেয়ে রোজা শুরু করবেন রোজাদাররা।

এদিকে সৌদি আরবে রবিবার (১০ মার্চ) দেখা গেছে রমজান মাসের চাঁদ। ফলে আজ সোমবার থেকে দেশটিতে শুরু হবে রমজান মাস। সৌদি আরবের সুপ্রিম কোর্ট গতকাল ওই ঘোষণা দেন বলে গালফ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়। 

এর আগে ওই আদালতের নির্দেশে স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে ৫টার পর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে চাঁদের খোঁজ শুরু হয়। এ সময় চাঁদ দেখার জন্য খালি চোখের পাশাপাশি অত্যাধুনিক টেলিস্কোপও ব্যবহার করা হয়। গালফ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, গতকাল স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় চাঁদের দেখা মেলে।

এ ছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমানসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে আজ রোজা শুরু হবে।

অন্যদিকে সৌদি আরবে চাঁদ দেখা গেলে পরদিন বাংলাদেশেও সাধারণত দেখা যায়। সেই হিসাবে আজ চাঁদ দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে আগামীকাল এখানে রোজা শুরু হতে পারে।

এ ছাড়া অস্ট্রেলিয়া, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়ায় আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে রোজা শুরু হবে বলে সেসব দেশের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

চাঁদ দেখে রোজা শুরু ও শেষ করার বিধান
ইসলামের মৌলিক পাঁচ স্তম্ভের অন্যতম রোজা। চাঁদ দেখে রোজা রাখতে হবে এবং চাঁদ দেখে ভাঙতে হবে, মানে শেষ করতে হবে। এটাই ইসলামি শরিয়তের বিধান। কোরআন-হাদিস দ্বারা প্রমাণিত আমল। রমজান মাসে প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিম নারী-পুরুষের রোজা রাখা ফরজ। এ ফরজ বিধানটি চান্দ্র মাসের সঙ্গে সম্পর্কিত। আর আরবি মাসের গণনার শুরু ও শেষ হয় চাঁদের হিসাব অনুসারে। সুতরাং ইসলামি শরিয়ত মোতাবেক চাঁদ দেখা বা না দেখার সঙ্গে রোজার শুরু এবং শেষ হওয়া সম্পৃক্ত। রমজান মাসের চাঁদ দেখা গেলে রোজা রাখতে হবে এবং শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেলে রোজা ছাড়তে বা শেষ করতে হবে। 

পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা এরশাদ করেছেন, রমজান মাস- যাতে মানুষের জন্য হেদায়েত ও সত্য-অসত্যের পার্থক্যকারীরূপে কোরআন নাজিল হয়েছে। তোমাদের মাঝে যে এই মাস (এই মাস শুরুর চাঁদ) প্রত্যক্ষ করবে, সে যেন রোজা রাখে। (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৮৫)

নিজে চাঁদ দেখা বা চাঁদ দেখেছে, এমন ব্যক্তির সাক্ষ্য গ্রহণ করা কিংবা শাবান মাস পূর্ণভাবে (৩০ দিন) অতিবাহিত করা ছাড়া রাসুলুল্লাহ (সা.) কখনো রমজানের রোজা পালন শুরু করতেন না। ইবনে ওমর (রা.) বলেন, ‘মানুষ সম্মিলিতভাবে চাঁদ দেখতে লাগল, তাদের মাঝে আমি রাসুল (সা.)-কে এসে সংবাদ প্রদান করলাম- আমি চাঁদ দেখেছি। এ সংবাদের ওপর ভিত্তি করে রাসুল (সা.) নিজে রোজা রাখলেন এবং সবাইকে রোজা রাখার নির্দেশ দিলেন।’ (আবু দাউদ, হাদিস: ২৩৪২)

কোনো কারণে চাঁদ দেখা না গেলে শাবান মাস পূর্ণ করে রমজান মাসের রোজা শুরু করতে হবে। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা চাঁদ দেখে রোজা রাখো এবং চাঁদ দেখেই তা ভঙ্গ করো। চাঁদ দেখাকে অভ্যাসে পরিণত করো। যদি চাঁদ না দেখা যায়, তা হলে (শাবান মাস) ৩০ দিন পূরণ করো। যদি দুই ব্যক্তি সাক্ষ্য প্রদান করে, তবে তোমরা রোজা রাখো এবং রোজা ভঙ্গ করো।’ (নাসায়ি, হাদিস: ২১১৬)

বর্তমানে অনেক কিছুই সহজ হয়ে গেছে। দুরবিন বা টেলিস্কোপের সাহায্যে চাঁদ অনুসন্ধান করতে অসুবিধা নেই। তবে এসব প্রযুক্তির ব্যবহার জরুরি নয়। কারণ, হাদিসের বাহ্যিক বর্ণনা দ্বারা বোঝা যায়, স্বাভাবিক দৃষ্টির ওপর নির্ভর করাই যথেষ্ট। সম্মিলিতভাবে চাঁদ দেখা আবশ্যক। (মাজমুইল ফাতাওয়া, ১৯/৩৬-৩৭)

শাবানের ২৯ তারিখে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হওয়ার কারণে যদি চাঁদ দেখা না যায় এবং কোথাও থেকে চাঁদ দেখার কোনো সংবাদ না আসে, তখন শাবানের ৩০ তারিখকে হাদিসের পরিভাষায় সন্দেহের দিন বলা হয়। এ দিন রোজা রাখাতে নিষেধ করা হয়েছে। রাসুল (সা.) সন্দেহের দিনে রোজা পালনের ব্যাপারে নিষেধ করে বলেছেন, ‘তোমরা রমজান আগমনের পূর্বে রোজা পালন করো না। চাঁদ দেখে রোজা রাখো এবং চাঁদ দেখে রোজা ভঙ্গ করো। যদি আকাশ মেঘে ঢেকে যায়, তবে ৩০ দিন পূর্ণ করো। (নাসায়ি, হাদিস: ২১৩০) 

সুতরাং কোনো কারণে শাবান মাসের ২৯ তারিখে চাঁদ দেখা না গেলে বা আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকায় কোথাও থেকে নির্ভরযোগ্য কোনো সংবাদ পাওয়া না গেলে শাবান মাস ৩০ দিন পূরণ করার পর রোজা রাখতে হবে। 

লেখক: আলেম, গবেষক ও সাংবাদিক

২৯ জুন ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬, ০৭:০০ এএম
২৯ জুন ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি
জুন, ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচির ছবি

প্রতিদিন সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। নামাজ (সালাত) ইসলাজুনর পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি এবং ইসলাজুনর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত।

আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, (হে আল্লাহর রাসুল!) আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয় আমল কোনটি? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘নামাজ (বুখারি ও মুসলিম)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সেভাবে নামাজ আদায় করো, যেভাবে আমাকে নামাজ আদায় করতে দেখেছ।’ (বুখারি, ৬৩১)

সঠিকভাবে নামাজ আদায় করতে হলে, নামাজের সময় জানতে হবে।

আজ ২৯ জুন ২০২৬, শুক্রবার । ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো— 

জোহর

১২.০৪ মিনিট

আসর

৪.৪০ মিনিট

মাগরিব

৬.৫৩ মিনিট

এশা

৮.১৯ মিনিট

 

ফজর (২৫ জুন)

.৪৫মিনিট

 

বিভাগীয় শহরের জন্য উল্লিখিত সময়ের সঙ্গে যেসব বিভাগে সময় যোগ-বিয়োগকরতে হবে।

বিয়োগ

চট্টগ্রাম: ৫ মিনিট

সিলেট: ৬ মিনিট

যোগ

খুলনা: ৩ মিনিট

রাজশাহী: ৭ মিনিট

রংপুর: ৮ মিনিট

বরিশাল: ১ মিনিট

 

সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন

কোনো বিষয়ে ভয় অনুভব করলে যে আমলটি করবেন

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ০৭:০০ পিএম
কোনো বিষয়ে ভয় অনুভব করলে যে আমলটি করবেন
ছবি: সংগৃহীত


মানুষের যখন সব দরজা বন্ধ হয়ে যায়, তখনও হতাশাগ্রস্ত মানুষের জন্য রবের দ্বার উন্মুক্ত রয়। রবের সেই উন্মুক্ত দ্বার থেকে প্রাপ্তির মাধ্যম হলো দোয়া। আল্লাহ তায়ালা মানুষকে সৃষ্টিই করেছেন অতি দুর্বল ভাবে। আর সেই দুর্বলতার প্রকাশ ঘটে, কোনো বিষয় গ্রহণ ও ত্যাগ করতে ভয় অনুভব করা মাধ্যমে। আর জীবনের এই পথকে সহজ করতে রাসুল (সা.) আমাদেরকে কিছু দোয়া শিখিয়েছেন যা আমলে সহজ আর প্রতিদানে ব্যাপক। তাই কোনো কাজে ভয় পেলে রাসুল (সা.) এর আমলকৃত এই দোয়াটি আমাদের পাথেয় হতে পারে। 

হজরত সাওবান (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কোন কিছু দেখে ভয় অনুভব করতেন, তখন তিনি এ দোয়া পড়তেন-
দোয়াটির আরবি উচ্চারণ : هُوَ اللَّهُ، اللَّهُ رَبِّي لَا شَرِيكَ لَهُ

বাংলা উচ্চারণ: হুয়াল্লাহু, আল্লাহু রাব্বি লা-শারিকালাহ।
অর্থ: তিনিই আল্লাহ, তিনি আমার প্রভু, তাঁর কোন শরিক নেই।

ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যু হলে ইসলামের বিধান কী?

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ০৩:১১ পিএম
ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যু হলে ইসলামের বিধান কী?
ছবি: সংগৃহীত

জীবন বাঁচানোর তাগিদে আমরা চিকিৎসকের শরণাপন্ন হই কিন্তু কখনো কখনো সেই জীবনদাতার অনিচ্ছাকৃত ভুলেই নিভে যায় রোগীর জীবনপ্রদীপ ভুল চিকিৎসায় মৃত্যুর এমন ঘটনা হরহামেশাই খবরের শিরোনাম হয় কিন্তু আপনি কি জানেন, চিকিৎসাবিজ্ঞানের এই অনাকাঙ্ক্ষিত ভুলের ব্যাপারে ইসলামি শরিয়াহর অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট আধুনিক আইনি কাঠামো রয়েছে? চিকিৎসকের দক্ষতা, অভিভাবকের অনুমতি এবং প্রেসক্রিপশনের ধরনের ওপর ভিত্তি করে এখানে নির্ধারিত হয় অপরাধ দণ্ড

ইসলামি ফিকাহর বিধান অনুযায়ী, একজন চিকিৎসক যদি প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাপ্রাপ্ত, দক্ষ অভিজ্ঞ হন, তবেই তার জন্য চিকিৎসা করা বৈধ এই ধরনের স্বীকৃত চিকিৎসক যদি রোগীর অভিভাবকের অনুমতি নিয়ে এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানের সমস্ত স্বীকৃত নীতিমালা (Medical Protocol) মেনে চিকিৎসা করেন, আর এর পরও দুর্ভাগ্যবশত রোগীর মৃত্যু হয়–তবে সেই চিকিৎসকের ওপর কোনো ধরনের আইনি বা আর্থিক দায় বর্তাবে না একে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা হবে

তবে দক্ষ চিকিৎসকও যদি রোগীর অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া কিংবা স্বীকৃত নীতিমালার বাইরে গিয়ে খামখেয়ালিপূর্ণ চিকিৎসা করেন, তবে তাকে অবশ্যই দায় নিতে হবে এক্ষেত্রে:

সম্পূর্ণ ভুল পদ্ধতি হলে: তাকে পূর্ণদিয়তবা রক্তপণ (ক্ষতিপূরণ) দিতে হবে

আংশিক ভুল পদ্ধতি হলে: তাকে অর্ধেক দিয়ত দিতে হবে

বর্তমানে দেশে ভুয়া এবং অদক্ষ চিকিৎসকদের দৌরাত্ম্য বাড়ছে ইসলামি আইনের দৃষ্টিভঙ্গি এক্ষেত্রে অত্যন্ত কঠোর যিনি চিকিৎসার উপযুক্ত নন বা অদক্ষ, তার জন্য চিকিৎসা পেশায় আসাই সম্পূর্ণ নাজায়েজ বা হারাম

রাসুলুল্লাহ (সা.) সুনানে আবু দাউদের ৪৫৮৬ নম্বর হাদিসে স্পষ্ট উল্লেখ করেছেন, যে ব্যক্তি চিকিৎসাবিদ্যা না জেনে (অনভিজ্ঞ হওয়া সত্ত্বেও) কারও চিকিৎসা করে, (আর এতে রোগীর কোনো ক্ষতি হলে) তবে তাকেই এর ক্ষতিপূরণ দিতে হবে

তাই কোনো অদক্ষ ব্যক্তির চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যু হলে, রোগীর অভিভাবকের অনুমতি থাকুক বা না থাকুক এবং তিনি নীতিমালা মানুন বা না মানুন–তাকে অপরাধী সাব্যস্ত করেপূর্ণ দিয়তবা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে

ইসলামি আইনে অপরাধের প্রত্যক্ষ পরোক্ষ ভূমিকার ওপর ভিত্তি করে সাজার ভিন্নতা রয়েছে এই বিধানটি তখনই প্রযোজ্য হবে, যখন চিকিৎসায় ডাক্তারের হাত সরাসরি ব্যবহৃত হয়েছে; যেমন- সার্জারি বা অপারেশন করা, ইনজেকশন পুশ করা কিংবা নিজ হাতে রোগীকে ভুল ওষুধ খাওয়ানো

কিন্তু ডাক্তার যদি শুধু কাগজে প্রেসক্রিপশন লিখে দেন এবং পরে রোগী নিজে বা তার অভিভাবক বাজার থেকে এনে সেই ওষুধ সেবন করেন–তবে সেই ভুল ওষুধের কারণে মৃত্যু হলেও ডাক্তারের ওপর সরাসরিযামানবা দিয়ত ওয়াজিব হয় না তবে রাষ্ট্রীয় আইন অনুযায়ী অবহেলার জন্য তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যাবে

চিকিৎসার মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে ইসলামের এই সুষম ভারসাম্যপূর্ণ আইনি রূপরেখা একদিকে যেমন দক্ষ চিকিৎসকদের সুরক্ষা দেয়, অন্যদিকে রোগীদের অধিকার নিশ্চিত করে অদক্ষদের কঠোর শাস্তির মুখোমুখি করে

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

পবিত্র আশুরা আজ

প্রকাশ: ২৬ জুন ২০২৬, ০৮:৪৫ এএম
পবিত্র আশুরা আজ
ছবি: সংগৃহীত

আজ শুক্রবার পবিত্র আশুরা। সারা দেশে যথাযোগ্য মর্যাদা, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও শোকের আবহে দিনটি পালিত হচ্ছে। হিজরি মুহাররম মাসের দশম দিনটি মুসলিম উম্মাহর কাছে এক অনন্য এবং তাৎপর্যপূর্ণ দিন। সৃষ্টির শুরু থেকে নানা ঐতিহাসিক ঘটনার স্মারক এই দিনটি। তবে সব ছাড়িয়ে ফোরাত নদীর তীরে কারবালার প্রান্তরে শেষ নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দৌহিত্র হজরত হোসাইন (রা.) এর সপরিবারে শাহাদতবরণ বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের কাছে এক চিরন্তন শোক ও ত্যাগের মহিমামর অনুষঙ্গ হিসেবে বিবেচিত। 

বিশ্বের অন্যান্য মুসলিম দেশের মতো বাংলাদেশের মুসলমানরাও আজ নফল নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির-আসকার ও রোজা পালনের মধ্য দিয়ে দিনটি অতিবাহিত করছেন। হাদিস শরিফে এসেছে, রমজানের পর মুহাররমের রোজাই সবচেয়ে উত্তম এবং আশুরার একটি রোজা পালনে বিগত এক বছরের গুনাহ মাফ হয়। এই পবিত্র দিনে শিয়া সম্প্রদায় রাজধানীর পুরাণ ঢাকার হোসেনি দালান থেকে ঐতিহ্যবাহী তাজিয়া মিছিল বের করে থাকে। 

ইসলামি ইতিহাস অনুযায়ী, মহান আল্লাহ তায়ালা এই ১০ মুহাররমের দিনেই আরশ, কুরসি, আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন। এই দিনেই প্রথম মানব হজরত আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয় এবং পরে দুনিয়ায় প্রেরণের পর এই দিনেই তার তাওবা কবুল করা হয়। এ ছাড়াও হজরত নূহ (আ.)-এর যুগের মহাপ্লাবনের পর তার কিস্তি জুদি পাহাড়ে ভেড়ে এবং হজরত মূসা (আ.)-এর নেতৃত্বে বনি ইসরাইলদের অত্যাচারী ফেরাউনের কবল থেকে অলৌকিকভাবে মুক্তি পাওয়ার মতো মহান সব ঘটনার সাক্ষী এই পবিত্র আশুরা।

পবিত্র আশুরা উপলক্ষে রাজধানীতে আয়োজিত তাজিয়া মিছিলসহ বিভিন্ন শোক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ডিএমপি কমিশনার জানিয়েছেন লালবাগ, ওয়ারী, রমনা, তেজগাঁও, মতিঝিল ও মিরপুরসহ ঢাকার বিভিন্ন বিভাগের ২৮টি ইমামবাড়া কর্তৃক মুহাররমের ১ তারিখ থেকে ১০ তারিখ পর্যন্ত মোট ৬৩টি তাজিয়া মিছিলের আয়োজন করা হয়েছে। প্রতিটি মিছিলের জন্য নির্দিষ্ট রুট নির্ধারণ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় বিশেষ পুলিশি পাহারা নিশ্চিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে আতশবাজি বা যেকোনো ধরনের পটকা ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে ডিএমপি।

পবিত্র আশুরা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণী দিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতির বাণী: রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন কারবালার প্রান্তরে শাহাদতবরণকারী সব শহিদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন, পবিত্র আশুরার শাশ্বত বাণী মানুষকে অন্যায়-অবিচার ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হতে শেখায় এবং সত্য, সুন্দর ও আলোর পথ দেখায়। তিনি একটি সাম্য, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি মুসলিম উম্মাহর সংহতি কামনা করেন।

প্রধানমন্ত্রীর বাণী: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার বাণীতে ইমাম হোসাইন (রা.)-এর আপসহীন সংগ্রামকে স্মরণ করে বলেন, ইসলামের মূল শিক্ষা শান্তি, ন্যায়, সহমর্মিতা ও মানবকল্যাণের ওপর প্রতিষ্ঠিত। ইসলামে বিভেদ, হানাহানি, বিদ্বেষ কিংবা সামাজিক বৈরিতার কোনো স্থান নেই। তিনি আশুরার মহান শিক্ষা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে সমাজে সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও ভ্রাতৃত্ববোধ সুদৃঢ় করার আহ্বান জানান। কারবালার মর্মন্তুদ ঘটনা মানবজাতিকে শিখিয়েছে কীভাবে জুলুম, অন্যায় ও স্বৈরাচারের কাছে মাথা নত না করে সত্য ও ন্যায়ের আদর্শকে সমুন্নত রাখতে হয়। এই অবিনাশী শিক্ষা আজও সমগ্র মানবজাতির জন্য এক অন্তহীন প্রেরণার উৎস ধারণ করে আছে।

অভাবের চাদরে মোড়ানো এক জীবনযাপনের গল্প

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ১০:০০ এএম
আপডেট: ২৮ জুন ২০২৬, ১২:২০ পিএম
অভাবের চাদরে মোড়ানো এক জীবনযাপনের গল্প
ছবি: সংগৃহীত

আজকের বিলাসিতা ও প্রাচুর্যের যুগে দাঁড়িয়ে কি কল্পনা করা যায়, আল্লাহর প্রিয়তম রাসুলের মেহমানরা ক্ষুধার জ্বালায় অচেতন হয়ে পড়ে থাকতেন? কিংবা তিনি নিজে কখনো পেট পুরে গোশত-রুটি খেয়েছেন কেবল তখনই, যখন সামনে কোনো মেহমান থাকত? আসুন, ইতিহাসের পাতা থেকে মহানবি (সা.)-এর সাধারণ কিন্তু এক অনন্য জীবনযাপনের গল্প জেনে নিই।

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর একনিষ্ঠ খাদেম ও আসহাবে সুফফার সদস্য হযরত আবু হুরায়রা (রা.)-এর জীবনের একটি ঘটনা পরবর্তী সময়ে ইসলামের ইতিহাসের এক জ্বলন্ত দলিল হয়ে দাঁড়ায়। এক বর্ণনায় এসেছে, মোহাম্মদ ইবনে সীরীন (রহ.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা একদিন আবু হুরায়রা (রা.)-এর কাছে উপস্থিত ছিলাম। তখন তাঁর পরিধানে ছিল কাতানের (মূল্যবান তিসি বা পাটের সুতার) দুটি কাপড়।

তিনি তার একটি দিয়ে নাক পরিষ্কার করছিলেন আর (নিজের অতীত মনে করে) বলছিলেন, ‘বাহ, বাহ! আবু হুরায়রা আজ কাতানের কাপড় দিয়ে নাক সাফ করছে! অথচ এমন এক সময় ছিল যখন আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর মিম্বর এবং আয়েশা (রা.)-এর হুজরার পাশে ক্ষুধার জ্বালায় অজ্ঞান হয়ে পড়ে থাকতাম। আর আগন্তুকরা আমাকে মৃগী রোগী মনে করে ঘাড়ে পা দিয়ে চাপ দিত। অথচ আমার কোনো উন্মাদনা ছিল না, কেবল প্রচণ্ড ক্ষুধাই ছিল এর কারণ।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৭৩২৪)

মেহমানের অবস্থা দেখেই মেজবানের অবস্থা অনুমান করা যায়। আসহাবে সুফফার সদস্যরা ছিলেন রাসুল (সা.)-এর সার্বক্ষণিক মেহমান। মেহমানরা যখন ক্ষুধার তীব্রতায় সংজ্ঞা হারাতেন, তখন মেজবান তথা স্বয়ং আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর ঘরে যে কী পরিমাণ খাদ্যাভাব ছিল, তা সহজেই অনুমেয়।

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ত্যাগ ও আতিথেয়তার আরেকটি অনন্য দিক ফুটে ওঠে মালিক ইবনে দীনার (রহ.)-এর এই বর্ণনায়। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) কখনো ‘যাফাফ’ ছাড়া তৃপ্তিসহকারে রুটি এবং গোশত ভক্ষণ করেননি। মালিক ইবনে দীনার বলেন, আমি এক বেদুইনকে জিজ্ঞেস করলাম, ‘যাফাফ’ কী? সে বলল, ‘মানুষের সঙ্গে একত্রে (মেহমান নিয়ে) পানাহার করা।’ (মুসনাদে আহমাদ, ১৩৮৮৬; সহিহ ইবনে হিব্বান, ৬৩৫৯)

রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজের জন্য কখনো আয়েশ বা তৃপ্তির আয়োজন করেননি। তবে যখন কোনো মেহমান আসত, তখন মেহমান যেন সংকোচ বোধ না করে পেট ভরে খেতে পারে, সে জন্য তিনি নিজে মেহমানের সঙ্গে তৃপ্তিসহকারে খেতেন। এটিই ছিল তাঁর অতুলনীয় আতিথেয়তা ও মনস্তাত্ত্বিক উদারতা।

রাসুল (সা.)-এর জীবনযাপন আমাদের শেখায় যে, অভাব মানেই দীনতা নয়, বরং ত্যাগের মাধ্যমেও জীবনের সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছানো সম্ভব। আজকের ভোগবাদী সমাজে তাঁর এই অনাড়ম্বর জীবনদর্শন আমাদের আত্মশুদ্ধির এক মহাসড়ক দেখাতে পারে।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক