কোরবানি ঈদে আমরা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি করি। এই কোরবানির গোশত বিতরণ ও ব্যবহারের নির্দিষ্ট কিছু নিয়মকানুন ইসলামে রয়েছে। এর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, কোরবানির গোশত কাজের লোককে তাদের শ্রমের বিনিময়ে দেওয়া যাবে কিনা।
ইসলামী শরীয়ত অনুযায়ী, কোরবানির পশুর কোনো অংশ পারিশ্রমিক হিসেবে দেওয়া জায়েজ নয়। এর মানে হলো, যারা কোরবানি প্রক্রিয়ায় সাহায্য করেন, যেমন—পশু জবেহ করা, চামড়া ছাড়ানো বা মাংস কাটায় যারা শ্রম দেন, তাদের এই কাজের বিনিময়ে কোরবানির মাংস, চামড়া বা অন্য কোনো অংশ পারিশ্রমিক হিসেবে দেওয়া যাবে না। ফিকহের প্রসিদ্ধ গ্রন্থগুলোতে এই বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা আছে, যেমন—আহকামুল কুরআন জাস্সাস (৩/২৩৭), বাদায়েউস সানায়ে’ (৪/২২৪), আলবাহরুর রায়েক (৮/৩২৬) এবং ইমদাদুল মুফতীন।
কোরবানি একটি খালেস ইবাদত, যা একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করা হয়। এতে কোনো জাগতিক লেনদেনের উদ্দেশ্য থাকতে পারে না। পারিশ্রমিক হিসেবে কিছু দিলে তা ইবাদতের মূল উদ্দেশ্যকে ব্যাহত করে।
তবে এর অর্থ এই নয় যে, কাজের লোকেরা কোরবানির গোশত থেকে বঞ্চিত হবেন। বরং, ঘরের অন্য সদস্যদের মতোই কাজের লোকদেরকেও কোরবানির গোশত খাওয়ানো যাবে। আপনি চাইলে তাদের মেহমান হিসেবে আপ্যায়ন করতে পারেন অথবা গরিব-মিসকিনদের অংশে বা নিজেদের অংশের যে কোনো গোশত তাদের উপহার হিসেবে দিতে পারেন। এখানে মূল বিষয়টি হলো, এটি তাদের শ্রমের বিনিময় নয়, বরং কোরবানির বরকত থেকে একটি উপহার।
কোরবানি ঈদে কাজের লোকদের প্রতি উদারতা দেখানো এবং তাদের আপ্যায়ন করা অত্যন্ত পুণ্যের কাজ। কিন্তু তাদের পারিশ্রমিক অবশ্যই আলাদাভাবে নগদ অর্থ বা অন্য কোনো বস্তুর মাধ্যমে পরিশোধ করতে হবে। কোরবানির বিধান মেনে চলা আমাদের ইবাদতকে ত্রুটিমুক্ত করে।
লেখক: আলেম ও সাংবাদিক