প্রশ্ন: অনেক সময় দেখা যায় মুয়াজ্জিন সাহেব মাইকে সেহরির সময় শেষ ঘোষণা করছেন, কিন্তু তখনো কেউ পানাহার করছেন। মুয়াজ্জিনের এই ঘোষণার পর কিছু খেলে কি রোজা হবে? সেহরির শেষ সময়ের সঙ্গে আজান বা ঘোষণার সম্পর্ক কতটুকু?
উত্তর: আমাদের সমাজে একটি প্রচলিত ধারণা আছে যে, সেহরি খাওয়ার সম্পর্ক হলো আজান বা মুয়াজ্জিনের ঘোষণার সঙ্গে। আসলে শরিয়তের বিধানটি ভিন্ন। এ বিষয়ে সঠিক ব্যাখ্যা নিচে তুলে ধরা হলো-
১. সময়ের মূল ভিত্তি সুবহে সাদিক
সেহরি খাওয়ার শেষ সময় মূলত সুবহে সাদিক শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত। আকাশপটে ভোরের শুভ্র রেখা দৃশ্যমান হওয়া বা সুবহে সাদিক হয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সেহরির সময় শেষ হয়ে যায়। পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা বলেন, আর তোমরা পানাহার করো যতক্ষণ না (ভোরের) কালো রেখা থেকে সাদা রেখা তোমাদের কাছে স্পষ্ট হয়ে যায়। এর পর রাত পর্যন্ত রোজা পূর্ণ করো। (সুরা বাকারা, ১৮৭)
২. আজান বা ঘোষণার ভূমিকা
মুয়াজ্জিনের আজান দেওয়া বা সময় শেষ ঘোষণা করার সঙ্গে সেহরি খাওয়ার সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই। যদি সুবহে সাদিক হয়ে যায়, তবে মুয়াজ্জিন ঘোষণা না দিলেও খাবার খেলে রোজা হবে না। আবার যদি সুবহে সাদিক হতে দেরি থাকে, তবে মুয়াজ্জিন ঘোষণা দিলেও খাবার খাওয়া জায়েজ।
৩. বাস্তব পরিস্থিতি ও সতর্কতা
আমাদের দেশে সাধারণত ক্যালেন্ডার অনুযায়ী সুবহে সাদিক শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মুয়াজ্জিন সাহেবরা সেহরির সময় শেষ ঘোষণা করেন। তাই যদি মুয়াজ্জিনের ঘোষণার সময় সুবহে সাদিক হয়ে গিয়ে থাকে (যা সাধারণত হয়), তবে ওই মুহূর্তে কিছু খেলে রোজা হবে না। এমতাবস্থায় রমজান পরবর্তী সময়ে ওই রোজার ‘কাজা’ আদায় করতে হবে।
৪. ভুল ধারণা ও প্রতিকার
অনেকে মনে করেন আজান শেষ না হওয়া পর্যন্ত খাওয়া যায়, এটি সম্পূর্ণ ভুল। আজান দেওয়া হয় নামাজ পড়ার জন্য, রোজা রাখার জন্য নয়। সেহরির সময়ের একদম শেষ মুহূর্তে পানাহার করা ঝুঁকিপূর্ণ। ঘড়ি দেখে সুবহে সাদিক হওয়ার অন্তত ২-৪ মিনিট আগেই পানাহার শেষ করা নিরাপদ ও উত্তম।
মুয়াজ্জিনের ঘোষণার অপেক্ষা না করে নির্ভরযোগ্য সেহরির সময়সূচি (ক্যালেন্ডার) অনুসরণ করুন। আজান শুরু হওয়ার মানে হলো সেহরির সময় আগেই শেষ হয়ে গেছে, তাই আজান চলাকালীন কোনোভাবেই খাওয়া যাবে না। সময় শেষ হওয়ার পর ভুলে কিছু খেয়ে ফেললে ওই দিনের অবশিষ্ট সময় রোজাদারের মতোই থাকতে হবে এবং পরে রোজাটি কাজা করতে হবে।
লেখক: আলেম ও সাংবাদিক