প্রশ্ন: অনেক হার্টের রোগী বুকের ব্যথা বা হার্টঅ্যাটাক উপশমে জিহ্বার নিচে স্প্রে বা অ্যারোসল-জাতীয় ওষুধ (যেমন- নাইট্রোগ্লিসারিন) ব্যবহার করে থাকেন। রোজা অবস্থায় এই ওষুধটি ব্যবহার করলে কি রোজা ভেঙে যাবে?
উত্তর: আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান ও ফিকহি গবেষণার আলোকে হার্টের রোগীদের ব্যবহৃত এই বিশেষ ওষুধের বিধান নিচে তুলে ধরা হলো:
১. নাইট্রোগ্লিসারিন ও রক্তে এর শোষণ
নাইট্রোগ্লিসারিন হলো এমন একটি ওষুধ যা জিহ্বার নিচে স্প্রে করার পর মুখ বন্ধ রাখলে তা সরাসরি জিহ্বার নিচের সূক্ষ্ম রক্তনালি বা শিরার মাধ্যমে রক্তে মিশে যায়। চিকিৎসকদের মতে, এই প্রক্রিয়ায় ওষুধের মূল অংশটি পাকস্থলীতে পৌঁছানোর আগেই রক্তের সঙ্গে মিশে হৃৎপিণ্ডের রক্ত চলাচল স্বাভাবিক করতে সাহায্য করে।
২. রোজা ভঙ্গের বিষয়ে শরিয়তের সিদ্ধান্ত
যেহেতু এই ওষুধটি সরাসরি শিরার মাধ্যমে রক্তে শোষিত হয় এবং সরাসরি পাকস্থলীতে প্রবেশ করে না, তাই এই বিশেষ পদ্ধতি অবলম্বনের কারণে রোজা নষ্ট হবে না।
৩. ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা
রোজা অবস্থায় নাইট্রোগ্লিসারিন ব্যবহারের সময় রোগীকে দুটি বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে:
ক. জিহ্বার নিচে ওষুধটি দেওয়ার পর সঙ্গে সঙ্গে মুখ বন্ধ রাখতে হবে এবং তা গিলে ফেলা যাবে না। যতক্ষণ পর্যন্ত তা রক্তে শোষিত না হয়, ততক্ষণ মুখ গহ্বরেই রাখতে হবে।
খ. সচেতনভাবে খেয়াল রাখতে হবে যেন ওষুধের কোনো তরল অংশ লালার সঙ্গে মিশে কণ্ঠনালি দিয়ে পাকস্থলীতে প্রবেশ না করে। যদি অসাবধানতাবশত কোনো অংশ পেটে চলে যায়, তবে রোজা ভেঙে যাবে।
যদি কোনো রোগীর অবস্থা এমন হয় যে তার বারবার স্প্রে নিতে হচ্ছে এবং লালার সঙ্গে ওষুধের অংশ পেটে চলে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা থাকে, তবে তিনি জীবন রক্ষায় ওষুধ ব্যবহার করবেন। এ ক্ষেত্রে রোজা ভেঙে গেলেও কোনো গুনাহ হবে না। পরে সুস্থ অবস্থায় তিনি এই রোজাটি কাজা করে নেবেন।
লেখক: আলেম ও সাংবাদিক