কোরবানির পশু কেনার পর জায়গার অভাব বা ব্যবস্থাপনার সুবিধার্থে অনেকে পশুটি খামারে বা বিক্রেতার কাছে রেখে আসেন। এ বিষয়ে শরিয়তের বিধান হলো–পশু কেনার পর দাম পরিশোধ সম্পন্ন হলে সেটি ক্রেতার মালিকানায় চলে যায়। এ অবস্থায় বিক্রেতার কাছে পশু রাখা হলে সেটি আমানত হিসেবে গণ্য হবে। বিক্রেতার কোনো অবহেলা ছাড়া পশু মারা গেলে বা অসুস্থ হলে বিক্রেতা দায়ী থাকবেন না। তবে বিক্রেদতার গাফিলতি–যেমন ঠিকমতো খাবার না দেওয়া বা অরক্ষিত রাখা–প্রমাণিত হলে তাকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
বিক্রেতা যদি পশু রাখার বিনিময়ে পারিশ্রমিক নেন–তা জায়েজ। তবে পশু কেনার সময় বা পরে কতদিন রাখা হবে এবং কত টাকা দিতে হবে–তা আগেই স্পষ্ট করে নির্ধারণ করে নিতে হবে। অনির্ধারিত লেনদেন পরে ঝগড়ার কারণ হতে পারে।
হানাফি ফিকহ অনুযায়ী–পশু হারিয়ে গেলে বা মারা গেলে সামর্থ্যবান ক্রেতাকে পুনরায় নতুন পশু কিনতে হবে। আর দরিদ্র ক্রেতার ক্ষেত্রে পশু মারা গেলে তার ওপর আর কোরবানি ওয়াজিব থাকে না।
আরো পড়ুন: কোরবানির পশুকে কাঁদতে দেখলে কুরবানি কবুল হবে কী?
খামারে থাকাকালে পশুর দুধ বা অন্য কোনো উপকার পাওয়া গেলে–তা ক্রেতার প্রাপ্য। তবে কোরবানির জন্য নির্ধারিত পশু হওয়ায় সেই দুধ বা তার সমপরিমাণ মূল্য সদকা করে দেওয়া ওয়াজিব। খামারি বা বিক্রেতা অনুমতি ছাড়া সেই দুধ ব্যবহার করতে পারবেন না।
বর্তমানে অনেক খামারি কেনা থেকে জবাই পর্যন্ত সম্পূর্ণ দায়িত্ব নেওয়ার প্রস্তাব দেন। এক্ষেত্রে কিছু বিষয় আগেই স্পষ্ট করে নেওয়া উচিত–পশুর কোনো বিশেষ রোগ আছে কি না, মারা গেলে বা চুরি হলে কে দায়ভার নেবে এবং খাবারের মান কেমন হবে।
সারকথা হলো–বিক্রেতার কাছে পশু রাখা জায়েজ, তবে এটি একটি আমানত। তাই যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে সব শর্ত আগেই পরিষ্কার করে নেওয়া উত্তম। কোরবানির পশু আল্লাহর জন্য–তাই তার প্রতিটি মুহূর্তের যত্ন নেওয়াই হলো এই ইবাদতের প্রতি সম্মান প্রদর্শন।
পশু কেনার আগে টাকা হারিয়ে গেলে: ওয়াজিব কোরবানির জন্য পশু কেনার আগেই যদি অর্থ হারিয়ে যায়–সামর্থ্যবান ব্যক্তিকে পুনরায় পশু কিনে কোরবানি করতে হবে। (বাদায়েউস সানায়ে: ৪/১৯৯)
আরো পড়ুন: ঈদুল আজহার আসল সৌন্দর্য কী?
পশু কেনার পর হারিয়ে গেলে: সামর্থ্যবান (ধনী) ব্যক্তির কেনা পশু হারিয়ে গেলে–নতুন পশু কিনে কোরবানি দিতে হবে। হারানো পশু পরে পাওয়া গেলে–দুটির যেকোনো একটি কোরবানি করলেই যথেষ্ট। তবে দুটিই কোরবানি করা উত্তম। গরিব ব্যক্তির কেনা পশু হারিয়ে গেলে–তার জন্য আরেকটি কেনা আবশ্যক নয়। তবে যদি আরেকটি কিনে ফেলেন–সেটি কোরবানি করা ওয়াজিব হয়ে যায়। এরপর হারানো পশু পাওয়া গেলে–সেটিও কোরবানি করতে হবে। (সুনানে বায়হাকি: ৫/২৪৪; বাদায়েউস সানায়ে: ৪/১৯৯; কাজিখান: ৩/৩৪৭)
কোরবানি ওয়াজিব হওয়ার পর পশু না পাওয়া গেলে: কোরবানির তিন দিনে পশু পাওয়া না গেলে বা কিনতে না পারলে–ন্যূনতম কোরবানির উপযুক্ত একটি ছাগলের মূল্য সদকা করে দেওয়া ওয়াজিব। (বাদায়েউস সানায়ে: ৪/২০৪; রদ্দুল মুহতার: ৬/৩২০)
পশু মারা গেলে: কোরবানির পশু জবাইয়ের আগে মারা গেলে–সামর্থ্যবান ব্যক্তিকে নতুন পশু কিনতে হবে। গরিব ব্যক্তির ক্ষেত্রে নতুন পশু কেনা আবশ্যক নয়। (কাজিখান: ৩/৩৪৭; আলমুহিতুল বুরহানি: ৮/৪৬৮)
লেখক: আলেম, গবেষক ও সাংবাদিক