ঢাকা ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
৮ জুলাই  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি উজানের ঢল-বৃষ্টিতে তিন বিভাগে বন্যার শঙ্কা টানা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত চুয়েট, ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিত খামেনির মরদেহ ইরানে, বৃহস্পতিবার দাফন ইউক্রেনকে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির অধিকার দেবে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প সিংড়ায় দৃষ্টিনন্দন ব্রিজে রাতে বাড়ে ছিনতাই, আতঙ্কে এলাকাবাসী হরিণাকুণ্ডুতে লাইসেন্সবিহীন অবৈধ ডায়াগনস্টিক সিলগালা শালিক পাখি নিয়ে ঝগড়া, ছোট ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে বড় ভাই খুন ইতিবাচক বার্তায় ন্যাটো সম্মেলন শেষ করলেন ট্রাম্প জামালপুরে শিশু ধর্ষণের ঘটনায় আসামি গ্রেপ্তার ইরানের বিরুদ্ধে আরও বড় হামলার ঘোষণা ট্রাম্পের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মাদরাসায় পাহাড়ধস: নিহত ৮ নয়, চূড়ান্ত সংখ্যা ৫ বিপৎসীমা ছাড়াল মাতামুহুরী, হাহাকার প্লাবিত জনপদে দুর্নীতির মামলায় সাবেক মন্ত্রী মেননকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ রায়পুরায় অতিবৃষ্টিতে মাটির ঘরের দেয়ালধসে শিশুর মৃত্যু চামড়া খাতে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে রোডম্যাপ করছে সরকার ইউরোপের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেবে যুক্তরাজ্য বজ্রাঘাতে প্রাণহানি কমাতে মাল্টিপারপাস আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ সংসদে তিন মন্ত্রী অনুপস্থিত থাকায় প্রশ্নোত্তর পর্ব স্থগিত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির নামে ১৩৭টি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট চিহ্নিত: তথ্যমন্ত্রী বঙ্গোপসাগরে দুই ট্রলারডুবি, উদ্ধার ১৬, নিখোঁজ ২ জালিয়াতি করে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় সুবিধাভোগীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে: আজম খান হেয়ার কাট ছাড়াই সুদসহ আমানত ফেরত দেওয়া হবে: অর্থমন্ত্রী মাছের ড্রামে পাচারকালে ৫৩ লাখ টাকার ভারতীয় শাড়ি জব্দ জাতির পথনির্দেশনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা অনন্য: ডেপুটি স্পিকার আইএআইএলসি প্রেস্টিজ অ্যাওয়ার্ড-২০২৬ সম্মাননা পাবেন বিজয়ী ৫৭ জন ব্যক্তি–প্রতিষ্ঠান হামের উপসর্গে আরও ৩ জনের মৃত্যু ডেঙ্গুতে বাড়ছে উদ্বেগ, আরও ৩ জনের মৃত্যু মানি লন্ডারিং মামলায় আ’লীগ নেতা এনু-রুপনের কারাদণ্ড মনোযোগ ও একাগ্রতা ধরে রাখার সুন্নাতি ফর্মুলা

‘আমা দাবালাম’ জয়ীর গল্প

প্রকাশ: ২৭ নভেম্বর ২০২৪, ০৩:৩০ পিএম
‘আমা দাবালাম’ জয়ীর গল্প
তানভীর আহমেদ শাওন। ছবি: সংগৃহীত

পৃথিবীর বিপজ্জনক পর্বতশৃঙ্গের মধ্যে অন্যতম নেপালের ‘আমা দাবালাম’। সম্প্রতি সেখানে বাংলাদেশের পতাকা উড়িয়েছেন কিশোরগঞ্জের তরুণ তানভীর আহমেদ শাওন। ‘আমা দাবালাম’ জয় ও পর্বতারোহী হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতার গল্প শুনিয়েছেন শাওন। লিখেছেন তাসনিম তাজিন

শুরুর গল্প

২০১৪ সালে প্রথম বান্দরবান পাহাড়ে ঘুরতে যান পর্বতারোহী তানভীর আহমেদ শাওন। এরপর ব্যক্তিগত উদ্যোগে অথবা বন্ধুদের সঙ্গে ট্রেকিংয়ে যেতেন নিয়মিত। ট্রেকিং ছিল তার কাছে নিজের যোগ্যতা পরীক্ষার রাস্তা। পাহাড়ে ঘুরতে গিয়ে বিভিন্ন সময় পরিচয় হতো নতুন বন্ধু, মানুষ ও পর্বতারোহীদের সঙ্গে। এভাবেই ২০১৭ সালে পরিচয় হয় পর্বতারোহণ ক্লাব ভার্টিকাল ড্রিমার্সের সঙ্গে। সেই থেকে বড় পর্বতারোহণের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন শাওন। ২০১৮ সালে ভারতে প্রথম ‘দেও তিব্বা’ পর্বতারোহণ করেন শাওন। দেও তিব্বার উচ্চতা ছিল ৬ হাজার ১ মিটার। আমা দাবালামের আগে নেপালের রামজাক ও চুল্লু ফারইস্ট পর্বতারোহণ করেন শাওন।

প্রথম সামিটে ‘আমা দাবালাম’

শাওন বলেন, বেশ কয়েকটি পর্বতে গেলেও আক্ষেপ ছিল এখন পর্যন্ত কোনো পর্বতের চূড়ায় সামিটে পৌঁছানোর সৌভাগ্য হয়নি তার। ২০২৩ সালে সামিটের উদ্দেশ্যে চুল্লু ফারইস্টে গেলেও প্রকৃতি সহায় না হওয়ায় আশা অপূর্ণ রেখেই ফিরে আসতে হয়েছিল সেবার। এরপরই সিদ্ধান্ত নেন, দুর্গম কোনো পর্বতকেই বেছে নেবেন সামিটের জন্য। অবশেষে ২০২৪ সালের ২ নভেম্বর ৬ হাজার ৮১২ মিটার উচ্চতার আমা দাবালাম পর্বতশৃঙ্গের চূড়ায় পা রাখেন শাওন। তিনি বলেন, আমা দাবালাম পর্বতকে বাংলায় বলা হয় ‘মায়ের গলার হাড়।’ এই পর্বতের এক জায়গায় গলার হাড়ের মতোই দুই পাশে ছড়ানো রিজের মাঝখান দিয়ে গেছে গিরিশিরা। এ জায়গাটি বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। এ পর্যন্ত প্রায় ৩৬ জন পর্বতারোহী মারা গেছেন আমা দাবালামে। এরকম পর্বত আরোহণের মধ্য দিয়ে জীবনের প্রথম সামিট শুরুর ব্যাপারটাই রোমাঞ্চকর। এরপর হেসে বলেন, চূড়ায় প্রথম পা রেখে অনুভূতি ছিল শূন্য। আমি আর শেরপা শুধু খাবার পানি খুঁজছিলাম। চূড়ায় উঠার পথে বোতলের পানি ফুরিয়ে যাওয়ায় অনেক বরফও খেয়েছি।

উঁচুতে উঠে নত হওয়ার শিক্ষা

শাওনকে পর্বত কেন এত টানে? এই প্রশ্নের উত্তরে বলেন, এর দুটি কারণ। প্রতিবারই আমি আগের চেয়ে বেশি দুর্গম পর্বত আরোহণের জন্য বেছে নিই। আমি নিজেকে চ্যালেঞ্জ করতে ভালোবাসি। নিজের যোগ্যতা যাচাই করতে ভালোবাসি। তবে এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে অহংকার বোধ হয় না। দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে যত উঁচুতে উঠি তত প্রকৃতির কাছে নত হতে শিখি। প্রকৃতির সান্নিধ্যে গেলে সাদাসিধে জীবনযাপনের ইচ্ছা জাগে। নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলেন, চূড়ায় উঠার ইচ্ছা থাকলেও কতবার প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ফিরে আসতে হয়েছে। পর্বতারোহণ এভাবেই প্রতিকূলতা মেনে নিতে, পারস্পরিক সহিষ্ণুতা শিখায়। 

পর্বতারোহণ নিয়ে ভাবনা

শাওন বলেন, তরুণদের মধ্যে পর্বতারোহণ জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। এখন অনেক পর্বতারোহণ ক্লাব রয়েছে। এসব ক্লাবে প্রশিক্ষণ নিয়ে পর্বতারোহণের সুযোগ আছে। সরকারিভাবেও পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন। ক্রিকেট, ফুটবল অন্যান্য খেলায় যেমন খেলোয়াড়রা দেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। তেমনি পর্বতের চূড়ায় যখন কোনো বাংলাদেশি দেশের পতাকা হাতে পা রাখেন তখন এ দেশের মানুষও যে দৃঢ়, সাহসী সেটাই প্রমাণ হয়। তাছাড়া আমাদের দেশ এখনো প্রকৃতিবান্ধব না। পর্বতারোহণে চর্চা বাড়লে প্রকৃতিবান্ধব পরিবেশ তৈরি হবে। আমা দাবালাম-পরবর্তী পরিকল্পনা কী জানতে চাইলে এই তরুণ বলেন, পৃথিবীতে ১৪টি ৮ হাজার মিটার উচ্চতার পর্বত আছে। সামনে এর ভেতর কোনো পর্বতে বাংলাদেশের পতাকা হাতে পা রাখতে চাই।

হাসান

পাবলিক স্পিকিংয়ে মঞ্চ মাতাবেন যেভাবে

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৩:৫০ পিএম
পাবলিক স্পিকিংয়ে মঞ্চ মাতাবেন যেভাবে
ছবি:সংগৃহীত

অনেকের কাছে জনসমক্ষে কথা বলা বা পাবলিক স্পিকিং এক বিভীষিকার নাম। মঞ্চের সামনে দাঁড়ালেই হাত-পা কাঁপা, বুক ধড়ফড় করা ও সব ভুলে যাওয়ার মতো ঘটনা নতুন নয়। স্কুল, কলেজ কিংবা ক্যারিয়ারের যেকোনো পর্যায়ে নিজের কথা গুছিয়ে বলার দক্ষতা এক অমূল্য সম্পদ। ভয়ের এই দেয়াল ভেঙে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে কথা বলার কৌশল রপ্ত করা খুব কঠিন কিছু নয়।

প্রথমে মনে রাখতে হবে, ভয় পাওয়াটা স্বাভাবিক। পৃথিবীর অনেক বড় বড় বক্তারও মঞ্চে ওঠার আগে স্নায়ুচাপ কাজ করে। এই ভয়কে জয় করার প্রথম শর্ত হলো প্রস্তুতি। আপনি যে বিষয়ে কথা বলবেন, সেটির ওপর গভীর জ্ঞান থাকলে ভয়ের মাত্রা এমনিতে কমে আসে। নিজের বক্তব্যের বিষয়বস্তু ছোট ছোট পয়েন্টে সাজিয়ে নিন। এটি আপনাকে পথ দেখাতে সাহায্য করবে এবং মূল বিষয় থেকে হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমাবে।

মঞ্চে দাঁড়ানোর আগে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে অনুশীলনের কোনো বিকল্প নেই। নিজের কথা বলার ভঙ্গি, হাত নাড়ানোর ধরন এবং চোখের চাহনি লক্ষ করুন। সম্ভব হলে নিজের বক্তব্য রেকর্ড করে পরে শুনুন। এতে ভুলগুলো সহজেই চোখে পড়বে এবং নিজেকে শোধরানোর সুযোগ পাবেন। প্রথম দিকে ছোট ছোট দলের সামনে বা বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলা শুরু করতে পারেন। এতে জড়তা দ্রুত কেটে যাবে।

পাবলিক স্পিকিংয়ের ক্ষেত্রে শরীরী ভাষা বা বডি ল্যাঙ্গুয়েজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কথা বলার সময় শ্রোতাদের দিকে তাকিয়ে কথা বলুন। সরাসরি চোখের দিকে তাকালে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ পায়। তবে খুব বেশি স্থির হয়ে না দাঁড়িয়ে স্বাভাবিকভাবে নড়াচড়া করুন। আপনার হাসি এবং শারীরিক ভঙ্গি শ্রোতাদের সঙ্গে একটি সংযোগ তৈরি করতে সাহায্য করবে।

অনেক সময় মানুষ ভয় পায় ভুল করার ভয়ে। মনে রাখবেন, বক্তৃতার সময় ছোটখাটো ভুল হতে পারে। যদি কখনো কোনো তথ্য ভুলে যান, ঘাবড়ে না গিয়ে শান্তভাবে নিজের শ্বাস নিন। ভুল নিয়ে লজ্জা না পেয়ে হাসিমুখে তা এড়িয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যান। শ্রোতারা আপনার নিখুঁত উপস্থাপনা থেকে আপনার কথার সারমর্ম শুনতে বেশি আগ্রহী থাকে।

বক্তৃতার শুরুতে একটি মজার তথ্য কিংবা ছোট কোনো ঘটনার অবতারণা করতে পারেন। এটি দর্শকদের মনোযোগ ধরে রাখতে সাহায্য করে। কথা বলার গতি খুব দ্রুত করবেন না, আবার খুব ধীরও করবেন না। নির্দিষ্ট সময় পরপর থামুন বা বিরতি নিন। এই নীরবতা আপনার বলা কথাগুলোকে আরও জোরালো করে তুলবে।

পরিশেষে, পাবলিক স্পিকিং কোনো জন্মগত প্রতিভা নয়, এটি নিছক চর্চার ফসল। যত বেশি মঞ্চে উঠবেন, জড়তা তত কমবে। নিজের কণ্ঠস্বর ও উপস্থাপনার ওপর নিয়ন্ত্রণ আনাই সাফল্যের চাবিকাঠি। আজই কোনো ছোট বিষয়ে কথা বলার পরিকল্পনা করুন এবং জড়তাকে জয় করে নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দিন।

বিশ্ব নাগরিক হয়ে ওঠার প্রস্তুতি

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৪:৫০ পিএম
বিশ্ব নাগরিক হয়ে ওঠার প্রস্তুতি
ছবি: সংগৃহীত

বর্তমান পৃথিবী দ্রুতগতিতে একটি বৈশ্বিক গ্রামে পরিণত হয়েছে। তথ্য ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির কল্যাণে ভৌগোলিক সীমানা এখন আর মানুষের পারস্পরিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে বাধা নয়। আজকের তরুণ প্রজন্মকে শুধু নিজের দেশের ভৌগোলিক গণ্ডির মধ্যে আবদ্ধ থাকলে চলবে না। তুমুল প্রতিযোগিতামূলক এই আধুনিক বিশ্বে সফলভাবে টিকে থাকতে হলে তাদের বিশ্ব নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। বিশ্ব নাগরিক বলতে এমন একজনকে বোঝায় যিনি নিজের দেশের শেকড়কে গভীরভাবে ধারণ করার পাশাপাশি বিশ্বের অন্যান্য দেশের সংস্কৃতি ও সমস্যা সম্পর্কে সচেতন থাকেন।

বিশ্ব নাগরিক হয়ে ওঠার প্রস্তুতির প্রথম ধাপ হলো ভিন্ন সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া। এই বিশাল পৃথিবীতে নানা ধর্ম, বর্ণ ও ভাষার মানুষ বসবাস করে। সবার জীবনযাপন পদ্ধতি এক নয়। অন্যের মতাদর্শের প্রতি সহনশীল হওয়া অত্যন্ত জরুরি একটি গুণ। নিয়মিত দেশি ও বিদেশি বই পড়া এবং আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমগুলো অনুসরণ করার মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়। এই অর্জিত জ্ঞান তরুণদের মানসিক দৃষ্টিভঙ্গি ব্যাপকভাবে প্রসারিত করে এবং তাদের সহানুভূতিশীল হতে শেখায়।

সফল যোগাযোগের দক্ষতা বিশ্ব নাগরিকত্বের অন্যতম প্রধান শর্ত। মাতৃভাষার চমৎকার ব্যবহারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ভাষা হিসেবে ইংরেজি ভালোভাবে শেখা বর্তমানে আবশ্যক। যেকোনো আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নিজের মতামত স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে ভাষার দখল থাকা প্রয়োজন। এর বাইরে ফরাসি স্প্যানিশ জার্মান বা মান্দারিনের মতো তৃতীয় কোনো ভাষা জানা থাকলে তা ক্যারিয়ারে অনেকখানি বাড়তি সুবিধা যোগ করে। বর্তমান ইন্টারনেটের যুগে বিভিন্ন দেশের সমবয়সী তরুণদের সঙ্গে শিক্ষামূলক প্ল্যাটফর্মে যোগাযোগের অবারিত সুযোগ রয়েছে। এর মাধ্যমে সহজেই ভিনদেশি ভাষায় কথা বলার জড়তা কাটানো সম্ভব।

প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জন ছাড়া বিশ্ব নাগরিক হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করা কঠিন। ডিজিটাল যুগে তথ্যপ্রযুক্তির সঠিক ও নিরাপদ ব্যবহার জানতে হবে। ইন্টারনেট শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং এটি নতুন জ্ঞান আহরণের এক বিশাল প্রান্তর। অনলাইনে এখন বিশ্বের বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অসংখ্য কোর্স বিনামূল্যে করার সুযোগ রয়েছে। এসব কোর্সে অংশ নিয়ে তরুণরা নিজেদের বৈশ্বিক মানের দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে পারে। বিশ্বায়নের এই যুগে প্রযুক্তির নিত্যনতুন পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেকে দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার মানসিকতা থাকতে হবে। পাশাপাশি বিশ্লেষণমূলক চিন্তাভাবনা এবং সমস্যা সমাধানের দক্ষতাও বাড়াতে হবে।

বিশ্ব নাগরিক হতে হলে শুধু নিজের ব্যক্তিগত উন্নতি নিয়ে ভাবলে চলবে না। সমসাময়িক বৈশ্বিক সমস্যাগুলো নিয়েও ভাবতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তন বিশ্ব উষ্ণায়ন মানবাধিকার রক্ষা বা দারিদ্র্য দূরীকরণের মতো বিষয়গুলো এখন আর কোনো নির্দিষ্ট দেশের একক সমস্যা নয়। পুরো পৃথিবীর মানুষকে একতাবদ্ধ হয়ে এসব বৈশ্বিক সংকটের মোকাবিলা করতে হবে। এসব বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সমাধানের কার্যকর উপায় নিয়ে চিন্তা করা প্রকৃত বিশ্ব নাগরিকের দায়িত্ব। নিজের এলাকায় ছোট কোনো পরিবেশবাদী কাজের মাধ্যমেও বৈশ্বিক এই আন্দোলনে যুক্ত হওয়া যায়।

বিশ্ব নাগরিক হওয়ার এই প্রস্তুতি এক দিনে শেষ হয় না। এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি ও চলমান প্রক্রিয়া। ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেকে প্রতিনিয়ত উন্নত করার মানসিকতা থাকতে হবে। তরুণদের প্রতিনিয়ত নতুন কিছু শেখার আগ্রহ মনের মধ্যে লালন করতে হবে। নিজের দেশের প্রতি দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি পুরো বিশ্বের প্রতি ইতিবাচক দায়বদ্ধতা অনুভব করতে হবে। সঠিক দিকনির্দেশনা ও সদিচ্ছা থাকলে বাংলাদেশের তরুণরাও বিশ্বের বুকে যোগ্য বিশ্ব নাগরিক হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে।

পড়াশোনা ও শখের চমৎকার ভারসাম্য

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৪:২৭ পিএম
পড়াশোনা ও শখের চমৎকার ভারসাম্য
ছবি: সংগৃহীত

শিক্ষাজীবনে পড়াশোনার চাপ থাকবেই। পরীক্ষা, অ্যাসাইনমেন্ট আর ক্লাসের নিয়মিত ব্যস্ততায় অনেকে নিজের প্রিয় শখগুলোকে ভুলে যান। কেউ হয়তো ছবি আঁকতে ভালোবাসেন, কেউ গান গাইতে, আবার কেউ হয়তো বাগান করতে পছন্দ করেন। অনেকে মনে করেন, পড়াশোনা আর শখ একসঙ্গে চালানো সম্ভব নয়। তবে এই ধারণা পুরোপুরি সঠিক নয়। সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে পড়াশোনা ও শখ দুটিই সমানতালে বজায় রাখা সম্ভব।

শখ কেবল সময় কাটানোর মাধ্যম নয়। এটি আমাদের মানসিক ক্লান্তি দূর করে এবং নতুন কাজের শক্তি জোগায়। সারা দিন শুধু বইয়ের পাতায় মুখ গুঁজে থাকলে একঘেয়েমি চলে আসে। এই একঘেয়েমি পড়াশোনার মনোযোগের মারাত্মক ক্ষতি করে। অন্যদিকে, পড়াশোনার ফাঁকে নিজের পছন্দের কাজটি করলে মন সতেজ হয়। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব শিক্ষার্থীর সক্রিয় কোনো শখ থাকে, তাদের সৃজনশীলতা ও মনোযোগ অন্য শিক্ষার্থীদের চেয়ে অনেক বেশি হয়। তাই পড়াশোনাকে ঠিক রেখে শখ চর্চার অভ্যাস গড়ে তোলা অত্যন্ত প্রয়োজন।

ভারসাম্য বজায় রাখার কৌশল

অগ্রাধিকার নির্ধারণ: প্রথমে আপনার দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় কাজের একটি তালিকা তৈরি করুন। পড়াশোনার জরুরি কাজগুলো সব সময় আগে শেষ করুন। পড়াশোনা শেষ হলে তবেই অবসর সময়ে শখের কাজটি করুন।

রুটিন তৈরি: সারা দিনের একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা বা সময়সূচি থাকা অত্যন্ত জরুরি। পড়াশোনা এবং শখের জন্য আলাদা সময় বরাদ্দ রাখুন। রুটিন মেনে চললে কোনো কাজ পড়ে থাকবে না।

পড়াশোনার ফাঁকে বিরতি: একটানা পড়াশোনা না করে একটু বিরতি নিন। এই ছোট বিরতিতে আপনার শখের ছোট কোনো কাজ করতে পারেন।

প্রযুক্তির ব্যবহার: সোশ্যাল মিডিয়ায় স্ক্রোল করে অতিরিক্ত সময় নষ্ট না করে সেই সময়টুকু নিজের শখের পেছনে ব্যয় করুন। এতে সময়ের অপচয় কমবে এবং মানসিক তৃপ্তি আসবে।

পড়াশোনা ও শখের ভারসাম্য বজায় রাখার ক্ষেত্রে পরিবারের একটি বড় ভূমিকা রয়েছে। অনেক অভিভাবক ভাবেন শখের পেছনে সময় দিলে পড়াশোনা নষ্ট হবে। কিন্তু জোর করে পড়ার টেবিলে বসিয়ে রাখলে সবসময় ভালো ফল আসে না। শিক্ষার্থীদের মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশের জন্য শখের চর্চা করতে দেওয়া উচিত। এটি তাদের আত্মবিশ্বাস অনেক বাড়িয়ে দেয়, যা পরবর্তী সময়ে পড়াশোনাতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। সন্তানদের শখের প্রতি অভিভাবকদের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তাদের মানসিক চাপ অনেকাংশে কমিয়ে দেয়।

জীবন শুধু পরীক্ষার ভালো নম্বরের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। নিজের ভেতরের প্রতিভা ও ভালো লাগাকে বাঁচিয়ে রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। পড়াশোনাকে দায়িত্ব মনে করে আনন্দের সঙ্গে করুন এবং শখকে করুন মনের খোরাক। আজই একটি সুন্দর পরিকল্পনা তৈরি করুন এবং পড়াশোনা ও শখকে একসঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যান।

পড়াশোনা ও শখ কোনোটিই একে অপরের পরিপন্থী নয়। বরং একটি অন্যটির পরিপূরক হিসেবে কাজ করতে পারে, যদি আপনি সময়ের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারেন।

আঁতুড়ঘর থেকে বিশ্বমঞ্চে তরুণ ফুটবলার

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ০৯:৩০ পিএম
আঁতুড়ঘর থেকে বিশ্বমঞ্চে তরুণ ফুটবলার
লামিনে ইয়ামাল। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপ ফুটবলের মঞ্চে প্রতি আসরে তরুণ প্রতিভার জয়জয়কার দেখা যায়। এই তরুণ খেলোয়াড়রা রাতারাতি বিশ্বমঞ্চে তারকা হয়ে ওঠেন না। এর পেছনে রয়েছে বিভিন্ন নামি ক্লাবের যুব একাডেমির দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও কঠোর প্রশিক্ষণ। স্পেনের বার্সেলোনার ‘লা মাসিয়া’ কিংবা রিয়াল মাদ্রিদের ‘লা ফাব্রিকা’র মতো একাডেমিগুলো বছরের পর বছর ধরে বিশ্ব ফুটবলে মানসম্পন্ন খেলোয়াড় সরবরাহ করে আসছে। একই ভূমিকা রাখছে লাতিন আমেরিকার ঐতিহ্যবাহী ক্লাবগুলোও। ফুটবলার তৈরির এই আঁতুড়ঘরগুলোর নেপথ্য গল্প নিয়ে থাকছে আজকের আয়োজন। 

খেলোয়াড় তৈরির সবচেয়ে সফল কারখানা হিসেবে পরিচিত বার্সেলোনার লা মাসিয়া। ১৯৭৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এই আবাসিক একাডেমি থেকে বিশ্বমানের অসংখ্য ফুটবলার বের হয়েছেন। লিওনেল মেসি, জাভি হার্নান্দেজ, আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা ও সার্জিও বুসকেতসের মতো কিংবদন্তিরা এই একাডেমিরই অবদান। ২০১০ সালের বিশ্বকাপজয়ী স্পেন দলের মূল চালিকাশক্তি ছিল এই লা মাসিয়া। বর্তমান সময়েও লামিন ইয়ামাল, গাভি কিংবা পাউ কুবার্সির মতো তরুণ ফুটবলাররা এই একাডেমি থেকে উঠে এসে আন্তর্জাতিক স্তরে পারফর্ম করছেন। লা মাসিয়া মূলত খেলোয়াড়দের ছোটবেলা থেকে নির্দিষ্ট ফুটবল দর্শন, পজিশনাল সেন্স এবং পাসিং গেমের নিখুঁত দীক্ষা দেয়।

অন্যদিকে রিয়াল মাদ্রিদের একাডেমি লা ফাব্রিকাও প্রতিভার জোগানে দারুণ সফল। লা মাসিয়া যেখানে নিজেদের মূল দলের জন্য বেশি খেলোয়াড় তৈরি করে, লা ফাব্রিকা সেখানে পুরো ফুটবল বিশ্বের জন্য প্রতিভার জোগান দেয়। রিয়াল মাদ্রিদের যুব একাডেমি থেকে তৈরি হওয়া ফুটবলাররা স্পেনের জাতীয় দলসহ ইউরোপের বিভিন্ন শীর্ষ লিগে নিয়মিত খেলছেন। দানি কারভাহাল, নাচো ফের্নান্দেজ, আলভারো মোরাতা বা আশরাফ হাকিমির মতো তারকা ফুটবলাররা এই একাডেমিরই সৃষ্টি। এই একাডেমি খেলোয়াড়দের শারীরিক ও মানসিক শক্তিমত্তা, আধুনিক ফুটবল কৌশল এবং তীব্র প্রতিযোগিতামূলক মনোভাবের ওপর বেশি জোর দেয়।

ইউরোপের পাশাপাশি লাতিন আমেরিকার একাডেমিগুলো বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় সাপ্লাই চেইন হিসেবে কাজ করে। ব্রাজিলের সান্তোস বা ফ্লামেঙ্গো এবং আর্জেন্টিনার রিভার প্লেট ও বোকা জুনিয়র্সের মতো ক্লাবগুলো ফুটবলারদের আসল খনি। পেলে ও নেইমারের মতো বিশ্বসেরা ফুটবল তারকাদের উপহার দিয়েছে সান্তোস একাডেমি। ২০২২ সালের বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টিনা দলের এনজো ফার্নান্দেস বা হুলিয়ান আলভারেসের মতো তারকারা উঠে এসেছেন রিভার প্লেটের একাডেমি থেকে। লাতিন আমেরিকার এই একাডেমিগুলো মূলত তরুণদের সহজাত খেলার শৈলী, বল নিয়ন্ত্রণ এবং অসাধারণ ড্রিবলিং দক্ষতাকে পেশাদার রূপ দেয়।

এই একাডেমিগুলোর সফলতার পেছনে রয়েছে অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট ও আধুনিক কার্যপদ্ধতি। তাদের শক্তিশালী স্কাউটিং নেটওয়ার্ক খুব অল্প বয়সে প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে প্রতিভাবান শিশুদের খুঁজে বের করে। সাধারণত ১০ থেকে ১২ বছর বয়সে শিশুদের এই একাডেমিগুলোয় ভর্তি করা হয়। সেখানে শুধু ফুটবল খেলা নয়, তাদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা, শারীরিক বৃদ্ধি এবং সুষম পুষ্টির বিষয়েও সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়। পেশাদার ফুটবলার হওয়ার পাশাপাশি শৃঙ্খলা ও মানসিক দৃঢ়তা শেখানো এই একাডেমিগুলোর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে তাদের বিভিন্ন স্তরের কঠোর পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হয়।

বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে যখন কোনো তরুণ খেলোয়াড় গোল করেন, তখন পুরো বিশ্ব তার প্রশংসায় মেতে ওঠে। কিন্তু সেই গোলের মূল ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয় অনেক বছর আগে, কোনো এক যুব একাডেমির কর্দমাক্ত মাঠে। ফুটবল এখন কেবল একটি খেলা নয়, এটি একটি বিশাল নিয়মতান্ত্রিক শিল্প। আর এই শিল্পের মূল কাঁচামাল জোগান দেয় লা মাসিয়া বা লা ফাব্রিকার মতো বিশ্বস্ত একাডেমিগুলো। এই আঁতুড়ঘরগুলো কার্যকর আছে বলেই বিশ্ব ফুটবল নিয়মিত নতুন নতুন মহাতারকার দেখা পায়। যুব ফুটবল সংস্কৃতির এই ধারাবাহিকতা বিশ্বকাপ ফুটবলকে চিরতরুণ, গতিশীল ও আকর্ষণীয় করে রাখে।

ডিজিটাল প্রজন্মের বিশ্বকাপ উন্মাদনা

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৩:২৮ পিএম
ডিজিটাল প্রজন্মের বিশ্বকাপ উন্মাদনা
ছবি: এআই

ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই উৎসব। তবে সময় বদলেছে। বদলে গেছে এই উৎসব উদযাপনের ধরন। একটা সময় ছিল, যখন বিশ্বকাপ মানেই পাড়ার মোড়ে বড় পর্দায় একসঙ্গে খেলা দেখা। কিংবা ড্রয়িংরুমে পরিবারের সবাই মিলে টিভির সামনে অধীর আগ্রহে বসে পড়া। কিন্তু বর্তমান প্রজন্মের কাছে বিশ্বকাপ দেখার সেই চেনা ছবি অনেকটাই বদলে গেছে।

এখন তাদের হাতের মুঠোয় থাকা স্মার্টফোন হয়ে উঠেছে খেলা দেখার মূল মাধ্যম। ডিজিটাল প্রযুক্তির এই যুগে তরুণ প্রজন্মের বিশ্বকাপ উন্মাদনায় এসেছে সম্পূর্ণ নতুন মাত্রা। তারা এখন শুধু সাধারণ দর্শক হিসেবে বসে থাকতে রাজি নন। তারা এখন এই বিশাল আয়োজনের সক্রিয় অংশীদার। স্ক্রিন ছোট হলেও তাদের অভিজ্ঞতার পরিধি এখন বিশ্বব্যাপী বিস্তৃত।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এই পরিবর্তনকে দারুণভাবে ত্বরান্বিত করেছে। এখন খেলা চলাকালীন মাঠের উত্তেজনার চেয়ে অনলাইনের উত্তেজনা কোনো অংশে কম থাকে না। তরুণরা খেলা দেখার পাশাপাশি মেতে ওঠেন সরাসরি আলোচনায়। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম কিংবা এক্সে প্রতি মুহূর্তের খেলার আপডেট শেয়ার করা হয়। কোনো দল দারুণ গোল করলে বা সহজ সুযোগ মিস করলে সঙ্গে সঙ্গে তৈরি হচ্ছে অসংখ্য মিম। মজার সব ট্রল আর হাস্যরসাত্মক কনটেন্ট মুহূর্তের মধ্যেই ভাইরাল হয়ে যাচ্ছে নেট দুনিয়ায়। আগের দিনের মতো চায়ের দোকানের আড্ডা বা রাস্তার মোড়ের আলোচনা এখন স্থানান্তরিত হয়েছে বিভিন্ন অনলাইন গ্রুপ ও পেজে। সেখানে যুক্তির কঠিন লড়াই চলে। চলে আগের ম্যাচের পরিসংখ্যান নিয়ে তুমুল তর্কবিতর্ক।

শুধু খেলা দেখা আর ভার্চুয়াল আলোচনাতেই সীমাবদ্ধ নেই এই প্রজন্মের তরুণরা। তারা ব্যাপকভাবে যুক্ত হচ্ছেন ই-স্পোর্টস এবং ফ্যান্টাসি লিগে। ফিফা বা ই-ফুটবলের মতো গেমগুলো তাদের এই উন্মাদনাকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। মূল খেলা শুরুর অনেক আগে থেকেই তারা ভার্চুয়াল জগতে নিজেদের প্রিয় দলের হয়ে খেলতে শুরু করেন। ফ্যান্টাসি লিগগুলোর কারণে বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচ তাদের কাছে সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। সেখানে তারা নিজেদের পছন্দমতো দল গঠন করেন এবং ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বাস্তব মাঠের খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করে তারা ফ্যান্টাসি পয়েন্ট পান। বন্ধুদের সঙ্গে প্রাইভেট লিগ তৈরি করে পয়েন্টের প্রতিযোগিতা করেন। ফলে যে দলগুলোর খেলা হয়তো তারা আগে দেখতেন না, ফ্যান্টাসি লিগে পয়েন্ট পাওয়ার আশায় সেই ম্যাচগুলোও তারা প্রবল আগ্রহ নিয়ে উপভোগ করেন।

ভৌগোলিক সীমানাও এখন আর একসঙ্গে খেলা দেখার পথে কোনো বাধা নয়। প্রযুক্তির কল্যাণে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা বন্ধুরা এখন সহজে একসঙ্গে খেলা উপভোগ করতে পারেন। লাইভ স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে খেলা দেখার পাশাপাশি তারা ডিসকর্ড, মেসেঞ্জার বা হোয়াটসঅ্যাপে গ্রুপ কল চালু রাখেন। ভার্চুয়াল ওয়াচ পার্টির মাধ্যমে সবাই মিলে একযোগে খেলা দেখেন এবং তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানান। একে অপরের সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে মনে হয় যেন সবাই একই ঘরে বসে খেলা দেখছেন। কোনো একটি দারুণ শট, দুর্দান্ত সেভ বা বিতর্কিত ফাউল নিয়ে সঙ্গে সঙ্গে নিজেদের মধ্যে মতামত আদান-প্রদান করেন। নিজের ঘরে একা বসে খেলা দেখলেও অনলাইনের এই বিশাল কমিউনিটির কারণে তরুণরা কখনোই একাকিত্ব অনুভব করেন না।

তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে তরুণদের কাছে বিশ্বকাপ কেবল একটি নির্দিষ্ট সময়ের বিনোদন নয়, বরং এটি একটি সার্বক্ষণিক ইন্টারঅ্যাকটিভ অভিজ্ঞতা। স্মার্টফোন এবং দ্রুতগতির ইন্টারনেট তাদের এই অসাধারণ সুযোগ করে দিয়েছে। আগে যেখানে দর্শকরা শুধু নিষ্ক্রিয়ভাবে খেলা উপভোগ করতেন, এখন তারা সেখানে সক্রিয়ভাবে প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন। নিজেদের মতো করে কনটেন্ট তৈরি করছেন। একই সঙ্গে সারা বিশ্বের লাখো মানুষের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন। খেলার মাঠের সীমানা পেরিয়ে বিশ্বকাপ এখন ডিজিটাল দুনিয়ার বিশাল আঙিনায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। তরুণ প্রজন্মের এই স্বতঃস্ফূর্ত ডিজিটাল অংশগ্রহণ বিশ্বকাপ ফুটবলকে আরও বেশি প্রতিযোগিতামূলক এবং সর্বজনীন করে তুলেছে। আগামী দিনগুলোয় প্রযুক্তির প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে তাদের এই বিশ্বকাপ অভিজ্ঞতায় যে আরও নতুনত্ব আসবে, তা নিশ্চিতভাবে বলা যায়।