ঢাকা ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
আদাবরে ‘বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে দ্বন্দ্বে’ বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে হত্যা পর্তুগাল-ক্রোয়েশিয়ার ম্যাচকে ‘দ্বিতীয় বিশ্বকাপের’ মতো দেখবেন মার্টিনেজ ফুটবল বিশ্বকাপ ঘিরে রমরমা বাণিজ্য মুখোমুখি রোনালদো-মদ্রিচ: বিদায় নেবেন কে? মেসির কাঁধে এমবাপ্পের গরম নিশ্বাস স্পেনের হয়ে পুরো ম্যাচ খেলার মতো ফিট লামিন ইয়ামাল: দে লা ফুয়েন্তে বেরোবিতে জুলাই শহিদদের স্মরণে ছাত্রদলের মোমবাতি প্রজ্বালন দোহায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠক: তেহরানের দুই টার্গেট এনসিপি নেতা ভূমি অফিসের দালালকে ছাড়াতে ম্যাজিস্ট্রেটকে ফোন, অডিও ভাইরাল সিলেটে স্কুলছাত্রী ধর্ষণ: ১৪ বছর পর দুজনের মৃত্যুদণ্ড ক্রিপ্টো থেকেই বছরে ট্রাম্পের আয় ১৪০ কোটি ডলার বিলুপ্তির পথে ‘জীবন্ত জীবাশ্ম’ গিটারফিশ ফ্রি কিকে গোল, কে এই মার্কিন গোলস্কোরার? বাজেট পাস: চূড়ান্ত বাজেটে কী বদলাল, কী বদলাল না? নকশাদার উল্কি গান্ধিপোকা মঙ্গোলিয়ার ‘নাদাম ফেস্টিভ্যালে’ সিলেটের রাজীব চৌধুরী আগামীতেও  পথ দেখাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়: ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী কেন মাঠ ছাড়তে হলো মার্কিন ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগানকে? লোকোমোটিভ, ক্যারেজসংকট: ২৬৭৮১ কোটির মহাক্রয় প্রকল্প নিচ্ছে রেলওয়ে পাসিংয়ের শিল্প ও প্রেসিংয়ের ঝড় শেষ ষোলোয় কার মুখোমুখি হবে যুক্তরাষ্ট্র? ২ জুলাই: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ২ জুলাই: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল এইচএসসি-সমমান পরীক্ষা আজ, পরীক্ষার্থী ১২ লাখ ৭০ হাজার মরুর যোদ্ধাদের সামনে সুইস দেয়াল টরন্টোয় পর্তুগাল-ক্রোয়েশিয়ার আগুন লড়াই ২ জুলাই  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি আর্লিং নয়, ব্রাউট হালান্ড ’৯৮-এর বন্ধন ফিরেছে ’২৬-এ শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় সেনেগালকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় বেলজিয়াম

এয়ার ফ্লো মেশিন: পেঁয়াজ সংরক্ষণে বাঁচছে কোটি টাকা

প্রকাশ: ২৪ আগস্ট ২০২৫, ০৯:৩১ এএম
আপডেট: ২৪ আগস্ট ২০২৫, ০৯:৫৭ এএম
এয়ার ফ্লো মেশিন: পেঁয়াজ সংরক্ষণে বাঁচছে কোটি টাকা
ফরিদপুরে এয়ার ফ্লো মেশিনে পেঁয়াজ সংরক্ষণ করা হচ্ছে/ খবরের কাগজ

ফরিদপুরে কৃষকরা পেঁয়াজ সংরক্ষণে এয়ার ফ্লো মেশিন ব্যবহার শুরু করেছেন। এতে উৎপাদিত পেঁয়াজ পচে যাচ্ছে না। কৃষকরা পাচ্ছেন ন্যায্যমূল্য। অমৌসুমে বাজারে ঘাটতিও কমছে। এক একটি মেশিনে ৩০০ মণ পর্যন্ত পেঁয়াজ রাখা যায়। পাঁচ থেকে ছয় মাস ভালো থাকে। এ উদ্যোগে কোটি টাকার অপচয় রোধ হচ্ছে। কৃষকরা বলছেন, এভাবে সংরক্ষণে দেশে পেঁয়াজ আমদানির প্রয়োজন পড়বে না। কৃষি বিভাগ জানায়, ফরিদপুরে ৭০০ মেশিন বিতরণ করা হয়েছে। এ বছর আরও দেওয়া হবে।

পেঁয়াজ চাষের সবচেয়ে বড় সমস্যা সংরক্ষণ। সঠিকভাবে সংরক্ষণের অভাবে দেশে প্রতিবছর উৎপাদিত পেঁয়াজের প্রায় ৩০ ভাগ নষ্ট হয়ে যায়। এতে মৌসুম শেষে বাজারে ঘাটতি তৈরি হয়। দাম হঠাৎ বেড়ে যায়। বিদেশ থেকে আমদানির চাপ বাড়ে।

কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, এয়ার ফ্লো মেশিনের মাধ্যমে এখন সহজে পেঁয়াজ মজুত রাখা সম্ভব হচ্ছে। মেশিনটি তাপমাত্রা, আর্দ্রতা ও বাতাসের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে। এতে পেঁয়াজ শুকিয়ে যায় না, আবার পচেও না। কৃষকরা একে বলছেন ‘পেঁয়াজের এসি’। কেউ কেউ বলছেন ‘পেঁয়াজের হিমাগার’।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, অনেক কৃষক তাদের ঘরে এয়ার ফ্লো মেশিন বসিয়ে ৩০০ মণ পর্যন্ত পেঁয়াজ সংরক্ষণ করছেন। কেউ কেউ আবার একাধিক মেশিনও ব্যবহার করছেন।

পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য ১২ বর্গফুট আকারের একটি ঘর বানাতে হয়। ভেতরে ১০ ইঞ্চি উঁচু করে বাঁশের মাচা তৈরি করতে হয়। এরপর ঘরের মাঝখানে বসানো হয় এয়ার ফ্লো মেশিন। মেশিনের সাহায্যে বাতাস নিচ থেকে ওপরে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে ঘরে রাখা পেঁয়াজের তাপমাত্রা সঠিক থাকে।
একটি মেশিন বসাতে খরচ পড়ে প্রায় ১৬ থেকে ১৭ হাজার টাকা। তবে দীর্ঘমেয়াদে এই খরচ খুবই সাশ্রয়ী। কারণ পেঁয়াজ ৫ থেকে ৬ মাস পর্যন্ত ভালো থাকে।

কিষানি শাহিদা বেগম প্রথমে পরীক্ষামূলকভাবে একটি মেশিন বসান। তিনি বলেন, ‘আমি প্রথমে ভেবেছিলাম হয়তো খরচ বাড়বে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, একটি পেঁয়াজও পচেনি। খরচ অনেক কম হয়েছে। মৌসুম শেষে যখন দাম বাড়ে তখন বাজারে ছেড়ে দিতে পারি। কৃষক যেমন লাভবান, তেমনি ক্রেতারাও। বাজারে ভারসাম্য থাকে।’

আরেকজন কৃষক বক্তার খান বলেন, ‘এখন আমাদের বিদেশ থেকে পেঁয়াজ আনতে হবে না যদি এই মেশিন সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া যায়। পেঁয়াজের মান ঠিক রাখে ও দামও নিয়ন্ত্রণে থাকে। সরকারের উচিত এটি দ্রুত বাস্তবায়ন করা।’

ফরিদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. শাহাদুজ্জামান জানান, ফরিদপুর দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম পেঁয়াজ উৎপাদনকারী জেলা। তবে এতদিন বড় সমস্যা ছিল সংরক্ষণ। তিনি বলেন, ‘আমরা এ বছর সাতশত কৃষকের মাঝে মেশিন দিতে পেরেছি। এর মাধ্যমে প্রায় ১ হাজার ৫০ টন পেঁয়াজ নষ্ট হওয়া থেকে রক্ষা পাবে। যার বাজারমূল্য সাড়ে ৬০০ কোটি টাকা। এটি নিঃসন্দেহে যুগান্তকারী পদক্ষেপ।’ তিনি আরও বলেন, ‘সরকার থেকে কৃষকদের জন্য ২৭ হাজার টাকা ভর্তুকি দেওয়া হয়েছে। এর ফলে কৃষকরা আরও উৎসাহ নিয়ে এ উদ্যোগে অংশ নিচ্ছেন। এখন আমরা চাই, এটি সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে।’

এয়ার ফ্লো মেশিন এখন জেলার গণ্ডি পেরিয়ে অন্যান্য এলাকায়ও জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। স্থানীয় মেশিনারিজ দোকানগুলো ইতোমধ্যে এ মেশিন তৈরি করছে। কৃষকদের দাবি, সারা দেশে এই প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিলে দেশে পেঁয়াজ আমদানির প্রয়োজন থাকবে না।

ফরিদপুরের কৃষকরা মনে করছেন, পেঁয়াজ সংরক্ষণে এয়ার ফ্লো মেশিন তাদের জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। এটি ফসল বাঁচাচ্ছে ও দেশের অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

ধামরাইয়ে মালচিং পদ্ধতিতে চাষাবাদে ভাগ্য বদল কৃষকের

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ০৫:৫০ পিএম
ধামরাইয়ে মালচিং পদ্ধতিতে চাষাবাদে ভাগ্য বদল কৃষকের
ধামরাই উপজেলার রোয়াইল ইউনিয়নের চরসুঙ্গর এলাকায় কৃষক আবুল কালামের সবজির জমি। ছবি: খবরের কাগজ

ধামরাই উপজেলার রোয়াইল ইউনিয়নের চরসুঙ্গর এলাকায় গেলেই চোখে পড়ে আধুনিক কৃষির এক অনন্য দৃষ্টিনন্দন দৃশ্য। সেখানে মালচিং পদ্ধতিতে বিষমুক্ত সবজি চাষ করে এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন স্থানীয় সফল চাষী আবুল কালাম।

মাত্র ২০ শতাংশ জমি দিয়ে যাত্রা শুরু করে আজ তিনি ১২ বিঘা জমিতে বিভিন্ন প্রকার সবজির চাষ করছেন। সনাতন পদ্ধতিকে বিদায় জানিয়ে আধুনিক এই প্রযুক্তির ব্যবহারে একদিকে যেমন ফসলের উৎপাদন বেড়েছে, অন্যদিকে এসেছে আশাতীত অর্থনৈতিক সাফল্য।

আবুল কালাম কেবল নিজের ভাগ্যই পরিবর্তন করেননি, সৃষ্টি করেছেন অন্যের কর্মসংস্থানও। বর্তমানে তার সবজি ক্ষেতে প্রতিদিন ৬০০ টাকা হাজিরায় নিয়মিত কাজ করছেন আরও ছয়জন কৃষক। আধুনিক ও নিরাপদ সবজি চাষে তার এই অভাবনীয় সাফল্য এখন পুরো ধামরাইয়ের কৃষকদের জন্য এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, সনাতন পদ্ধতির চেয়ে আধুনিক ‘মালচিং’ পদ্ধতিতে সবজি উৎপাদন অনেক বেশি হয়। এই প্রযুক্তিতে চাষাবাদে খরচ কম কিন্তু ফলন বেশি হওয়ায় কৃষকদের আয় উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পায়। এছাড়া, মালচিং পদ্ধতিতে ‘গ্যাপ ফসলে পার্টনার সিস্টেম’ ব্যবহার করে একই জমিতে আরও বেশি ফসল উৎপাদন করা সম্ভব।

কৃষি বিভাগ জানায়, মালচিং পেপার ব্যবহারের কারণে জমিতে রোগবালাই ও পোকা-মাকড়ের আক্রমণ অনেক কম হয়। পাশাপাশি সঠিক সময়ে সেচ ও জৈব সার প্রয়োগের ফলে সাধারণ পদ্ধতির তুলনায় উৎপাদন বহুগুণ বেড়ে যায়।

উপজেলা কৃষি অফিস থেকে স্থানীয় কৃষকদের নিয়মিত তদারকি ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে মাটির ওপর মালচিং পেপার বিছানোসহ বিভিন্ন ধরনের জৈব সার ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য উপকরণ দিয়ে কৃষকদের সার্বক্ষণিক সহযোগিতা করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

আবুল কালাম বলেন, ২০ শতক জমিতে সবজি চাষ শুরু করেন। ধীরে ধীরে উপজেলা কৃষি অফিসের সহযোগীতায় বর্তমানে তিনি ১২ বিঘা জমিতে কৃষি আবাদ করছেন। প্লাস্টিক মালচিং পেপার দিয়ে জমি ঢেকে বৈজ্ঞানিক উপায়ে তিনি জমির  বিভিন্ন অংশে পরিকল্পিতভাবে চাষ করেছেন নানা ধরনের সবজি। ​করলা, শশা ​,ধুন্দল ​ও লাউ চাষ করে লাভবানও হয়েছেন তিনি। এবার সবজি চাষে সকল খরচ বাদ দিয়ে প্রায় আট থেকে দশ লাখ টাকা লাভ হবে বলে তিনি আশা করছেন।

তিনি আরও বলেন, নরমাল পদ্ধতি বাদ দিয়ে আধুনিক ​মালচিং পদ্ধতি ব্যবহারের ফলে জমিতে আগাছা জন্মাতে পারছে না, মাটির আর্দ্রতা সঠিকভাবে বজায় থাকছে এবং সার ও সেচের অপচয় অনেকাংশে কমে গেছে। ফলে পদ্ধতিগত চাষাবাদ এবং নিবিড় পরিচর্যার কারণে প্রতিটি ফসলের গাছই বেশ সতেজ এবং ভালো ফলন দিচ্ছে। তার এমন চাষ দেখে অনেক শিক্ষিত যুবকও সবজি চাষে আগ্রহ প্রকাশ করছেন। 

উপজেলা সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জামান বলেন, “গতবার আবুল কালাম দুটি জমিতে করলা চাষ করেছিলেন। এর মধ্যে মালচিং ছাড়া জমি থেকে মাত্র ২০ হাজার টাকার করলা বিক্রি করলেও, আধুনিক মালচিং পদ্ধতি ব্যবহার করা জমি থেকে তিনি প্রায় ৩ লাখ টাকার করলা বিক্রি করেন। এই পদ্ধতিতে খরচ ও পোকার আক্রমণ কম, কিন্তু উৎপাদন অনেক বেশি।”

ধামরাই উপজেলা কৃষি অফিসার মো: আরিফুল ইসলাম বলেন, “নিরাপদ ও বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনের লক্ষ্যে আমরা কৃষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দিচ্ছি। কৃষক আবুল কালামের প্রজেক্টে আমরা রাসায়নিক সারের পরিবর্তে জৈব সারের ব্যবহার নিশ্চিত করেছি, এমনকি তাকে জৈব সার তৈরি করাও শিখিয়েছি। স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এই জমিতে ধূমপান ও পানাহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং শ্রমিকদের হ্যান্ডগ্লাভস ও নির্দিষ্ট পোশাক পরে কাজ করতে হচ্ছে। এছাড়া সুরক্ষার জন্য পুরো জমি নেট দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয়েছে।”

তিনি আরও জানান, “মালচিং ও পার্টনার পদ্ধতিতে একই জমিতে সারাবছর কীভাবে বেশি লাভজনক ও নিরাপদ ফসল ফলানো যায়, তা নিয়ে আমরা কাজ করছি। আবুল কালামের মতো কৃষকদের মাধ্যমে আমরা বেকার শিক্ষিত যুবকদেরও কৃষিতে উদ্যোক্তা হতে উদ্বুদ্ধ করছি।”

রুহুল/এএফ

ঈশ্বরগঞ্জে কৃষকদের পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৪:৪৬ পিএম
ঈশ্বরগঞ্জে কৃষকদের পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত
ছবি: খবরের কাগজ

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, উৎপাদন বৃদ্ধি, আর্থিক উন্নয়নে পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (২২ জুন) বিশ্বব্যাংক, ইউএনডিপি ও আইএফএডির সহযোগিতায় উপজেলা কৃষি অফিসে ওই পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত  হয়। 

প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন অ্যান্ড রেসিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (পার্টনার) প্রকল্পের আওতায় এ কর্মসূচি সম্পন্ন হয়। 

পার্টনার কংগ্রেসে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রিপা রাণী চৌহানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি  ছিলেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক তৌফিক আহমেদ খান।

বিশেষ অতিথি ছিলেন সিনিয়র মনিটরিং কর্মকর্তা সালাহউদ্দিন।

এ ছাড়াও উপজেলা কৃষি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী, সাংবাদিক ও স্থানীয় কৃষক কৃষাণীরা এ কংগ্রেসে অংশ নেন।

ফয়সল আহমেদ/অমিয়/

বোয়ালমারীতে আলুবোখারা চাষ করে সাড়া ফেলেছেন হাবিবুর

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ১০:১৭ এএম
বোয়ালমারীতে আলুবোখারা চাষ করে সাড়া ফেলেছেন হাবিবুর
আলুবোখারা মসলা জাতীয় ফল/ছবি: খবরের কাগজ

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে কৃষি উদ্যোক্তা হাবিবুর রহমান এই প্রথম বিদেশি ফল আলুবোখারা চাষ করে ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন। আমাদের দেশে সাধারণত আম, জাম বা লিচুর বাগান দেখা গেলেও, সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী ও মসলা জাতীয় এই বিদেশি ফল চাষ করে রীতিমতো সফলতার মুখ দেখছেন তিনি।

তার এমন সফলতা দেখে অনেকেই আগ্রহী হচ্ছেন আলুবোখারার বাগান করতে। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসছেন তার বাগান দেখতে ও আলুবোখারা কিনতে।

বাগান মালিক হাবিবুর রহমান বলেন, কয়েক বছর আগে কৃষি অফিস থেকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ২৫টি আলুবোখারার গাছ পেয়েছিলাম। বাড়ির পাশের কৃষিজমিতে আলুবোখারার গাছগুলো রোপণ করি। গাছ রোপনের এক বছর পর না বুঝে অনেকটা রাগ করে ১৮টি আলুবোখারার গাছ কেটে ফেলি। বর্তমানে বাগানে ৭টি গাছ রয়েছে। তবে দুই বছর পর গাছে প্রচুর পরিমাণ ফল আসতে শুরু করে। এরপর থেকে বাজারে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছি। এ বছরই আরো আধিক পরিমান জমিতে বাণিজ্যিক আকারে আলুবোখারার বাগান তৈরির কার্যক্রম শুরু করেছি।

উপজেলা কৃষি বিভাগ বলছে, আলুবোখারা একটি বিদেশি ও মশলা জাতীয় ফল। আলুবোখারা গাছে সাধারণত জানুয়ারি মাসে ফুল আসে। ফুল আসার চার থেকে পাঁচ মাস পর জুন মাসের দিকে ফল পুরোপুরি পরিপক্ব হয়। প্রতিটি ফলের ওজন সাধারণত ১০ থেকে ১২ গ্রাম পর্যন্ত হয়ে থাকে। তবে এ গাছ পরিচর্যা ও সার-ঔষধ খুব বেশী প্রয়োজন হয়না। সাধারণ সবজী জাতীয় ফসলের মতো সার-ঔষধ ও পরিচর্যা করলেই হয়।

এ বিষয় নিয়ে বোয়ালমারী উপজেলা কৃষি অফিসার আলভীর রহমান বলেন, সাধারণত আলুবোখারা মসলা জাতীয় ফল। ইরাক, ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন জায়গায় এবং ভারতের কিছু এলাকায় আলুবোখারার চাষ হয়। বর্তমানে আমাদের দেশেও আলুবোখারার চাষ হচ্ছে। আমাদের কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে হাবিবুর রহমানের পাশে আছি। তাকে সার্বিক সহোযোগিতা করা হচ্ছে। 

নয়ন/ এএফ 

সময়মতো পূর্বাভাসেই বেঁচে যাচ্ছে চীনের জুঁই

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৩:২১ পিএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ০৩:২৪ পিএম
সময়মতো পূর্বাভাসেই বেঁচে যাচ্ছে চীনের জুঁই
জুঁই খেতে কাজ করছেন চায়নিজ কৃষক।

চীনের দক্ষিণাঞ্চলে কয়েকদিনের টানা বৃষ্টির পর যখন ফুলের গুণগত মান ও বাজারদর নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন জুঁইচাষি, তখন তাদের উদ্ধারে এগিয়ে আসে আবহাওয়া পূর্বাভাস। চীনের বৃহত্তম জুঁই উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত কুয়াংসি চুয়াং স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের হেংচৌ শহর এখন আবহাওয়াভিত্তিক সেবা ব্যবহার করে জুঁই শিল্পকে আরও টেকসই করে তুলছে।
মে’র শেষ দিকে হেংচৌর বিস্তীর্ণ মাঠে জুঁই ফুল সংগ্রহের মৌসুম শুরু হয়। সুগন্ধি ও চা শিল্পে ব্যবহৃত এই ফুল আবহাওয়ার প্রতি বেশ সংবেদনশীল। অতিরিক্ত বৃষ্টি ফুলের সুগন্ধ কমিয়ে দেয় এবং গুণগত মান নষ্ট করে, অন্যদিকে খরা ও অতিরিক্ত তাপ কুঁড়ির বিকাশ ব্যাহত করে উৎপাদন কমিয়ে দেয়।
হেংচৌর ৬৬৭ হেক্টর আয়তনের জুঁই বাগান ‘চাইনিজ জেসমিন গার্ডেন’-এর ব্যবস্থাপক উ চিফু বলেন, জুঁই আবহাওয়ার ওপর নির্ভরশীল। রোদেলা দিনে ফুলের সুগন্ধ বেশি থাকে এবং বাজারমূল্যও ভালো পাওয়া যায়। তবে টানা বৃষ্টিপাত ফুলের দামে ভালো প্রভাব ফেলে। পরপর তিন দিন বৃষ্টি না হলে ক্রয়মূল্য বেড়ে যায়।
বর্তমানে হেংচৌতে প্রায় ১২ হাজার হেক্টর জমিতে জুঁই চাষ হয় এবং বছরে ১ লাখ ৫০ হাজার টনেরও বেশি তাজা ফুল উৎপাদিত হয়। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এই শিল্পের বার্ষিক উৎপাদনমূল্য ২৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ইউয়ানের বেশি এবং প্রায় ৩ লাখ ৪০ হাজার মানুষের জীবিকার সঙ্গে এটি জড়িত।
স্থানীয় জুঁই শিল্পসেবা কেন্দ্রের কর্মকর্তা হুয়াং ইয়াচি জানান, বিশ্বে উৎপাদিত প্রতি ১০টি জুঁই ফুলের মধ্যে প্রায় ৬টিই হেংচৌতে উৎপাদিত হয়। এখানকার জুঁই ফুলের পণ্য জাপান, মরক্কো, যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরসহ ২০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলে রপ্তানি করা হয়।
চীনের আবহাওয়া পূর্বাভাস ব্যবস্থা কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় কমাতেও সহায়তা করছে। উ চিফু বলেন, শুষ্ক মৌসুমে সময়মতো বৃষ্টির পূর্বাভাস পাওয়া গেলে প্রতি হেক্টরে অন্তত ১ হাজার ৫০০ ইউয়ান সেচ ব্যয় সাশ্রয় করা সম্ভব হয়। পাশাপাশি অতিরিক্ত সেচের কারণে মাটিক্ষয় ও শিকড়ের ক্ষতিও এড়ানো যায়।
শুধু চাষিরাই নয়, আবহাওয়ার প্রভাব নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকেন প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠান ও বাজার সংশ্লিষ্টরাও। কুয়াংসি চিনেং মডার্ন এগ্রিকালচারের পরিচালিত জুঁই-সুগন্ধি পণ্য শিল্পপার্ক ‘সিয়াংসিয়াং গার্ডেন’-এর মহাব্যবস্থাপক উ ইয়ুমিং বলেন, বৃষ্টির কারণে ফুলের গুণগত মান ও উৎপাদন কমে গেলে কাঁচামালের দাম বেড়ে যায়। এ ছাড়া জুঁই তেল উৎপাদনের ক্ষেত্রে ফুলের সতেজতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, আর উচ্চ তাপমাত্রা পরিবহনজনিত ক্ষতি বাড়িয়ে দেয়।
তিনি বলেন, গ্রীষ্মকাল জুঁইজাত পণ্যের সর্বোচ্চ চাহিদার সময়। কিন্তু টানা ভারী বৃষ্টিতে কাঁচামালের ঘাটতি দেখা দিলে পণ্যের দামও বেড়ে যায়। তাই এখন প্রতিষ্ঠানগুলো আবহাওয়ার পূর্বাভাসের ভিত্তিতে আগাম কাঁচামাল মজুত ও উৎপাদন পরিকল্পনা তৈরি করে।
জুঁই শিল্পকে আরও কার্যকর সহায়তা দিতে হেংচৌ ও কুয়াংসির রাজধানী নাননিংয়ের আবহাওয়া বিভাগ একটি ডিজিটাল জুঁই প্ল্যাটফর্মে আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ ও পূর্বাভাস ব্যবস্থা যুক্ত করেছে। এই প্ল্যাটফর্মে স্থলভিত্তিক আবহাওয়া কেন্দ্র, রাডার এবং সংখ্যাতাত্ত্বিক পূর্বাভাস মডেলের তথ্য একত্রিত করে কৃষক ও চা উৎপাদকদের মোবাইল ফোনে তাৎক্ষণিক আবহাওয়া তথ্য, সতর্কবার্তা ও কৃষিসেবা সরবরাহ করা হয়।
হেংচৌ আবহাওয়া ব্যুরোর প্রধান কনা লি জানান, জুঁই ফুলের জন্য বিশেষভাবে ঝড়বৃষ্টি-ঝুঁকি পূর্বাভাস ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছে। আগের দিনের বৃষ্টিপাতের তথ্য, বর্তমান পরিস্থিতি এবং পরবর্তী দিনের পূর্বাভাস একত্রে বিশ্লেষণ করে ফুল সংগ্রহ ও বাজারদরের সম্ভাব্য ঝুঁকি নির্ধারণ করা হয়।
তিনি আরও জানান, ২০২৫ সাল থেকে খরা মোকাবিলা ও জুঁই বাগানের মাটির আর্দ্রতা বৃদ্ধির জন্য স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ২৪ বার কৃত্রিম বৃষ্টিপাত বৃদ্ধির কার্যক্রম পরিচালনা করেছে।
কান লি বলেন, আরও বুদ্ধিমান ও নির্ভুল পদ্ধতিতে আবহাওয়া সেবাকে ডিজিটাল জুঁই প্লাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত করে শিল্পটির উন্নয়নে সহায়তা অব্যাহত রাখা হবে। সূত্র: সিএমজি

দক্ষিণাঞ্চলে পেঁপে চাষে নীরব বিপ্লব

প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৬, ০৮:৫৩ এএম
আপডেট: ১৬ জুন ২০২৬, ০৮:৫৭ এএম
দক্ষিণাঞ্চলে পেঁপে চাষে নীরব বিপ্লব
বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার চাঁদপাশা ইউনিয়নের অর্জুন মাঝি গ্রামের মোস্তফা কামালের বাগানে থোকায় থোকায় পেঁপে ঝুলছে। সম্প্রতি তোলা। ছবি: খবরের কাগজ

একসময় বাড়ির আঙিনায় সীমিত পরিসরে পেঁপের চাষ হতো। পরিবারের চাহিদা মেটানোর বাইরে এর খুব বেশি গুরুত্ব ছিল না। সেই পরিচিত ফলটিই এখন বদলে দিচ্ছে দক্ষিণাঞ্চলের কৃষি অর্থনীতির চিত্র। বরিশাল বিভাগের বিস্তীর্ণ কৃষিজমিতে বাণিজ্যিকভাবে পেঁপে চাষ করে অনেক কৃষক সফল উদ্যোক্তা হয়ে উঠেছেন। স্থানীয় বাজারের চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলেও এসব পেঁপে পাঠানো হচ্ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী বরিশাল বিভাগের ছয় জেলায় বছরে উৎপাদিত হচ্ছে ৩৫ হাজার ৪০৫ টন পেঁপে। বিশেষ করে বরিশাল সদর ও বাবুগঞ্জ উপজেলায় পেঁপে চাষ এখন লাভজনক কৃষি উদ্যোগ হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। রেডলেডি, শাহী, কাশ্মীরি ও টপলেডি জাতের পেঁপে চাষ করে অল্প সময়েই অনেক কৃষক আর্থিক সাফল্যের মুখ দেখেছেন।

সদর উপজেলার চরমোনাই ইউনিয়নের ইছাগুড়া ও পূর্ব ইছাগুড়া গ্রামের মির্জা আনোয়ার হোসেন ফনু, ইব্রাহিম আকন, মকরম প্রতাপ গ্রামের আবুল মহরী, সায়েস্তাবাদ ইউনিয়নের কামারপাড়া গ্রামের মো. আরিফুর রহমান, চরকাউয়া ইউনিয়নের নয়ানী গ্রামের বাচ্চু সিকদার, চাঁদপুরা ইউনিয়নের হিজলতলা গ্রামের মো. জাহাঙ্গীর হাওলাদার এবং বাবুগঞ্জ উপজেলার চাঁদপাশা ইউনিয়নের বায়লাখালী গ্রামের আবু বকর সিদ্দিক সুমন এখন এ অঞ্চলের সফল পেঁপেচাষিদের অন্যতম মুখ।

বাবুগঞ্জের বায়লাখালী গ্রামের আবু বকর সিদ্দিক সুমনের গল্প এখন স্থানীয় কৃষকদের কাছে অনুপ্রেরণার প্রতীক। প্রবাসজীবন শেষে পাঁচ বছর আগে পরীক্ষামূলকভাবে শুরু করেছিলেন পেঁপে চাষ। সেই উদ্যোগই আজ তাকে এনে দিয়েছে আর্থিক সচ্ছলতা, পরিচিতি এবং সম্মাননা।

গত পাঁচ বছরে কাঁচা ও পাকা মিলিয়ে প্রায় ৪০ লাখ টাকার পেঁপে বিক্রি করেছেন তিনি। শুধু ফল বিক্রিই নয়, গত দুই বছর ধরে পেঁপের চারা উৎপাদন ও বিক্রির মাধ্যমে তৈরি করেছেন নতুন আয়ের ক্ষেত্র। সুমন জানান, একটি পেঁপেগাছে সর্বোচ্চ সাড়ে পাঁচ থেকে ছয় মণ পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়। কোনো কোনো পেঁপের ওজন পাঁচ কেজি পর্যন্ত হলেও অধিকাংশের ওজন দুই থেকে তিন কেজির মধ্যে। বাজার পরিস্থিতি অনুযায়ী তিনি ১৭ থেকে ৪৫ টাকা কেজি দরে পেঁপে বিক্রি করেন।

আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ‘২০২৩ সাল ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে সফল বছর। ওই বছর শুধু পেঁপে চাষ থেকেই প্রায় ২০ লাখ টাকা লাভ করেছি। এখন ফল বিক্রির পাশাপাশি চারাও বিক্রি করছি। এত চাহিদা যে কৃষকদের সিরিয়াল দিয়ে চারা নিতে হয়।’

চারা বিক্রির ক্ষেত্রেও রয়েছে তার ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। তিন থেকে চারটি চারা একসঙ্গে একটি পলিব্যাগে দিয়ে মাত্র ৪০ টাকায় বিক্রি করেন তিনি।

সুমন বলেন, ‘রোপণের পর কোনো চারা নষ্ট হয়ে গেলেও যেন অন্তত একটি গাছ বেঁচে থাকে, সেই চিন্তা থেকেই একাধিক চারা দিই। কৃষক যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সেটাই আমার মূল লক্ষ্য। অনেক সময় যাদের চারা দিতে পারি না, তাদের বিনামূল্যে বীজও দিয়ে থাকি।’

চাঁদপাশা ইউনিয়নের অর্জুন মাঝি গ্রামের প্রফেসর মোহাম্মদ মোস্তফা কামালও পেঁপে চাষে সফলতা পেয়েছেন। তিনি বলেন, ‘অল্প খরচে দ্রুত ফলন পাওয়ার কারণে পেঁপে চাষ অত্যন্ত লাভজনক। সঠিক পরিচর্যা ও বাজার ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে এটি কৃষকের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য আয়ের উৎস হতে পারে।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বরিশাল বিভাগের ১ হাজার ৩৮৮ হেক্টর জমিতে পেঁপে চাষ হচ্ছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি উৎপাদন হচ্ছে ভোলা জেলায়।

জেলাভিত্তিক উৎপাদনের চিত্র বলছে, বরিশালে ১১২ হেক্টর জমিতে উৎপাদন হয়েছে ২ হাজার ৮২৩ টন, পিরোজপুরে ৫ হাজার ৮১ টন, ঝালকাঠিতে ১ হাজার ৫৯৫ টন, পটুয়াখালীতে ৮ হাজার ২৩৫ টন এবং বরগুনায় ৩ হাজার ২৭১ টন পেঁপে। সবচেয়ে বেশি উৎপাদন হয়েছে ভোলায়, সেখানে ৪৫০ হেক্টর জমিতে উৎপাদিত হয়েছে ১৪ হাজার ৪০০ টন পেঁপে।

বরিশাল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক ড. মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম শিকদার বলেন, ‘পেঁপে একটি উচ্চফলনশীল, পুষ্টিকর এবং লাভজনক ফল। বরিশাল অঞ্চলের মাটি ও আবহাওয়া এ ফল চাষের জন্য খুবই উপযোগী। কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত জাতের চারা ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে পেঁপে চাষের আওতা ও উৎপাদন আরও বাড়বে বলে আমরা আশা করছি।’