ঢাকা ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
দেশজুড়ে ডেঙ্গুর ব্যাপক বিস্তার বাঁশখালীতে জামায়াত আমিরের বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শন স্পেনকে হারাতে নিখুঁত ম্যাচ খেলতে হবে: লুকাকু লালপুরে হেরোইনসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে বাড়ল স্বর্ণের দাম ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটিতে ‘ফরেন ল্যাংগুয়েজ সেন্টার’ উদ্বোধন নরওয়ের বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাবনা কম: হালান্ড খুলনায় বস্তাবন্দি মৃত স্কুলছাত্রীর পরিচয় শনাক্ত প্রাক-নিকার সভায় থাকবে আরও নতুন থানার প্রস্তাব মোশাররফ করিম ও নীলার ‘ভাসুর’ পেনাল্টি নিতে এমবাপ্পেকে অপেক্ষায় রাখায় ক্ষুব্ধ দেশম ঢাকাসহ ১৪ অঞ্চলে ঝড়-বজ্রবৃষ্টির আশঙ্কা ইরানে দুই দিনে ৯০টির বেশি সামরিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলা কক্সবাজারের পৃথক স্থানে বন্যার পানিতে দুই শিশুর মৃত্যু ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ৩৮১১ মোদির বিদেশ সফর মানেই কী আন্তর্জাতিক সম্মাননা! সোনারগাঁয় ছাত্র হত্যা মামলার আসামি কামরুজ্জামান গ্রেপ্তার ন্যাটোতে বাড়ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইউরোপ বিভাজন কাপ্তাই থেকে রাঙ্গুনিয়ার নিখোঁজ ব্যবসায়ী মরদেহ উদ্ধার জার্মানিতে তাপপ্রবাহে প্রাণহানি ৫ হাজারের বেশি মনির খানের ‘মন ভালো নাই’ মুখোমুখি স্পেন-বেলজিয়াম: লড়াইটা কর্তোয়া বনাম ইয়ামালেরও আট কারণে প্রত্যেক মুসলমানের পবিত্র কোরআন বুঝে পড়া আবশ্যক আপন আলোয় স্বতন্ত্র মানুষ হরমুজ প্রণালীতে ৮০০ জাহাজ পারাপারে মার্কিন সহায়তা: সেন্টকম বরিশালে অনিশ্চয়তার মুখে ২০ নার্সিং কলেজের শিক্ষার্থীরা স্পেনের দক্ষিণাঞ্চলে দাবানলে ১২ জনের মৃত্যু ৩১ আগস্ট ভোটার তালিকা প্রকাশ, ভোটকেন্দ্র নীতিমালায় পরিবর্তন পাহাড়ধস ও ডুবে আরও ১০ জনের মৃত্যু প্রাণ গেলেও তারা পাহাড় ছাড়তে রাজি নন

চবিতে ধর্ষকদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি

প্রকাশ: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১২:৪৫ পিএম
চবিতে ধর্ষকদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি
দেশের বিভিন্ন প্রান্তে একাধিক ধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদে এবং ধর্ষকদের শাস্তি দ্রুত সময়ের মধ্যে কার্যকরের দাবিতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষার্থীরা। ছবি: খবরের কাগজ

সারা দেশে একাধিক ধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্ষণবিরোধী অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয় শহিদ মিনার প্রাঙ্গণে ‘সচেতন ছাত্রসমাজ’-এর ব্যানারে শিক্ষার্থীরা অবস্থান নেন। এ সময় প্ল্যাকার্ড হাতে তারা ধর্ষণবিরোধী ও ধর্ষকের শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

অবস্থান কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমরা অত্যন্ত দুঃখ ও ক্ষোভের সঙ্গে বলতে চাই, যে নিরাপদ বাংলাদেশের জন্য জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থান হয়েছে, সেই নিরাপদ ও সাম্যের বাংলাদেশ আমরা এখনো পাইনি। সারা দেশে ধর্ষণের সংখ্যা যে হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে, তাতে আমরা অত্যন্ত ব্যথিত।

সরকার ও প্রশাসন এ বিষয় যথাযথ ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হচ্ছে বলে আমরা মনে করছি। আজকের অবস্থান কর্মসূচির মাধ্যমে আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, যদি ধর্ষণের মতো এমন মারাত্মক অপরাধ নিরসনে সরকার ও প্রশাসন ব্যর্থ হয়, তাহলে আমরা আমাদের বোনদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুনরায় রাস্তায় নামব।’

ইতিহাস বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. জাহিদ বলেন, ‘আজকের এই বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে আমরা প্রশাসন ও বিচার বিভাগকে স্পষ্ট ভাবে বলতে চাই, আমার বোনের নিরাপত্তা দেন আর না হয় পদত্যাগ করুন। ধর্ষণ আইনের সংস্কার করতে হবে। ধর্ষণের শাস্তি হবে ফাঁসি। আমরা সচেতন ছাত্রসমাজ আমাদের মা-বোনদের নিরাপত্তা চাই।’

২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এফ পি বাবর বলেন, ‘বাংলাদেশে ক্রমাগত ধর্ষণের সংখ্যা বেড়ে চলেছে। সাম্প্রতিক সময়েও অনেক ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। সম্প্রতি টাঙ্গাইলে বাস ডাকাতির সময় দুজন নারী ধর্ষণের শিকার হলেও আমরা দেখেছি দুই থানা সেই মামলা নিতে গড়িমসি করেছে, তিন দিন পর মামলা নেওয়া হয়েছে।

এসব ঘটনা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকাণ্ডকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। আমরা এই প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে দাবি করছি, অবিলম্বে ধর্ষকদের আইনের আওতায় আনতে হবে। প্রয়োজনে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল করে অতিদ্রুত তাদের বিচার করতে হবে। সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে হবে।’

 

শেবাচিমে ইন্টার্নশিপ বন্ধ বরিশালে অনিশ্চয়তার মুখে ২০ নার্সিং কলেজের শিক্ষার্থীরা

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪৭ এএম
বরিশালে অনিশ্চয়তার মুখে ২০ নার্সিং কলেজের শিক্ষার্থীরা
ছবি: সংগৃহীত

বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে বেসরকারি নার্সিং ও স্বাস্থ্যশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপ ও ক্লিনিক্যাল প্রশিক্ষণ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শেবাচিমের এ সিদ্ধান্তের ফলে বরিশাল বিভাগে বেসরকারি ২০ নার্সিং ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের পেশাগত জীবন অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধানরা। তবে শেবাচিম কর্তৃপক্ষ বলছে, সরকারি নার্সিং কলেজের মাধ্যমে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকায় শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন করতে কোনো সমস্যা হবে না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বরিশাল বিভাগে প্রায় ২০টি বেসরকারি নার্সিং কলেজ ছাড়াও ম্যাটস, আইএইচটি, হেলথ প্রফেশনাল, কমিউনিটি প্যারামেডিক ও কেয়ারগিভার প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতিবছর প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থী পাস করে শেবাচিম হাসপাতালে ক্লিনিক্যাল প্রশিক্ষণ ও ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন করে আসছিলেন।

সম্প্রতি বরিশালের একটি বেসরকারি নার্সিং প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শেবাচিম হাসপাতালের নাম ব্যবহার করে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনও করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে শেবাচিম কর্তৃপক্ষ নতুন শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপ ও ক্লিনিক্যাল প্রশিক্ষণ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়।

বেসরকারি নার্সিং কলেজ ও স্বাস্থ্যশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বলেন, ক্লিনিক্যাল প্রশিক্ষণ ও ইন্টার্নশিপ ছাড়া নার্সিং শিক্ষা সম্পন্ন করা সম্ভব নয়। নতুন শিক্ষার্থীদের জন্য শেবাচিম হাসপাতালে এ সুযোগ বন্ধ থাকলে তাদের কোর্স সম্পন্ন, নিবন্ধন (রেজিস্ট্রেশন) এবং ভবিষ্যৎ পেশাজীবন অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে। 

তাই দ্রুত সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে আগের মতো প্রশিক্ষণের সুযোগ চালুর দাবি জানান তারা।

ইসলামী ব্যাংক নার্সিং ইনস্টিটিউট বরিশালের অধ্যক্ষ আকলিমা বেগম বলেন, ‘বাংলাদেশ নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কাউন্সিল (বিএনএমসি) এবং স্বাস্থ্যশিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী ক্লিনিক্যাল প্রশিক্ষণ ও ইন্টার্নশিপ নার্সিং শিক্ষার বাধ্যতামূলক অংশ। এসব প্রশিক্ষণ সম্পন্ন না হলে কোনো শিক্ষার্থী কোর্স শেষ করতে, নিবন্ধন পেতে কিংবা পেশায় যুক্ত হতে পারবেন না। তাই শিক্ষার্থীদের স্বার্থে দ্রুত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম স্বাভাবিক করার দাবি জানাচ্ছি।’ 

বরিশালের জমজম নার্সিং কলেজের চেয়ারম্যান এস এম সাজ্জাদুল হক বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে শেবাচিম হাসপাতাল দক্ষিণাঞ্চলের বেসরকারি নার্সিং শিক্ষার্থীদের প্রধান ক্লিনিক্যাল প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। নতুন শিক্ষার্থীদের জন্য এ সুযোগ বন্ধ থাকলে প্রতিবছর প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থীর শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হবে এবং তাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কোনো ধরনের অনিয়মের পক্ষে নই। অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। কিন্তু তার দায় যেন নিরীহ শিক্ষার্থীদের ওপর না পড়ে। শিক্ষার্থীদের স্বার্থ বিবেচনায় দ্রুত বিষয়টির সমাধান করে আগের মতো ক্লিনিক্যাল প্রশিক্ষণ ও ইন্টার্নশিপ চালুর ব্যবস্থা করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাই।’

শেবাচিম হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (অর্থ ও ভান্ডার) ডা. আবদুল মুনয়েম সাদ বলেন, সম্প্রতি একটি বেসরকারি নার্সিং কলেজের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে শেবাচিম হাসপাতালের নাম ব্যবহার করে অর্থ আদায়ের অভিযোগ পাওয়া যায়। বিষয়টি তদন্ত ও যাচাইয়ের স্বার্থে সাময়িকভাবে বেসরকারি নার্সিং কলেজের শিক্ষার্থীদের সরাসরি হাসপাতালে ইন্টার্নশিপ কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সরকারি নার্সিং কলেজের মাধ্যমে বেসরকারি কলেজের শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ফলে নার্সিং শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন করতে কোনো সমস্যা হবে না।

শিক্ষার্থীদের সফট স্কিল বাড়াতে প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম চালুর উদ্যোগ ইউজিসির

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৬:০১ পিএম
শিক্ষার্থীদের সফট স্কিল বাড়াতে প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম চালুর উদ্যোগ ইউজিসির
ছবি: বিজ্ঞপ্তি

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের কর্মদক্ষতা ও কর্মসংস্থান-উপযোগী সক্ষমতা বাড়াতে স্বল্পমেয়াদি সফট স্কিল বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)।

একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও ট্রেজারারদের জন্য শুরু হচ্ছে ‘প্রফেশনাল নলেজ শেয়ারিং প্রোগ্রাম’।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) হায়ার এডুকেশন এক্সিলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণ কর্মসূচি প্রণয়ন বিষয়ে হিট প্রকল্প অফিসে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় এ উদ্যোগের কথা জানানো হয়।

ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদের সভাপতিত্বে সভায় ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন, হিট প্রকল্পের পরিচালক অধ্যাপক ড. আসাদুজ্জামান, ইউনিভার্সিটি টিচার্স ট্রেনিং একাডেমির ডিন অধ্যাপক ড. লায়লা নুরসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় জানানো হয়, শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণে সফট স্কিল, নৈতিকতা ও মূল্যবোধ, কর্মসংস্থান-উপযোগী দক্ষতা এবং জীবনমুখী বিভিন্ন বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে। প্রশিক্ষণের বিষয়বস্তু চূড়ান্ত করার আগে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের দক্ষতার ঘাটতি (স্কিল গ্যাপ) ও প্রয়োজন নির্ধারণে একটি মূল্যায়ন পরিচালনা করা হবে।

ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, আগামী তিন মাসের মধ্যে কর্মসূচির রূপরেখা চূড়ান্ত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। পর্যায়ক্রমে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এ প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হবে। তবে কোন বর্ষের শিক্ষার্থীরা অংশ নেবেন এবং কী পরিসরে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে, সে বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের কর্মদক্ষতা, নৈতিকতা ও জীবনঘনিষ্ঠ সক্ষমতা উন্নয়নে সরকারের অগ্রাধিকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সক্ষমতা উন্নয়নে উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও ট্রেজারারদের জন্য দুই দিনের ‘প্রফেশনাল নলেজ শেয়ারিং প্রোগ্রাম’ আগামী মাসে শুরু হতে পারে বলে সভায় জানানো হয়। এতে কৌশলগত নেতৃত্ব, সুশাসন, বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা, আর্থিক ব্যবস্থাপনাসহ উচ্চশিক্ষা প্রশাসনের বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হবে।

ড. মামুন আহমেদ বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং দেশের সাবেক উপাচার্যদের এ কর্মসূচিতে আমন্ত্রণ জানানো হবে। তাদের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে দেশের বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসকরা আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন দিক সম্পর্কে জানার সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি নিজেদের মধ্যেও পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ক্ষেত্র তৈরি হবে।

সভায় আরও জানানো হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ও অধ্যাপকদের জন্য সাত দিনের একটি সক্ষমতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচিও চালু করা হচ্ছে।

এ ছাড়া দেশের উচ্চশিক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের লক্ষ্যে ইউজিসির কৌশলগত পরিকল্পনা হালনাগাদ করা হচ্ছে। সরকারের অগ্রাধিকার ও বর্তমান বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চলতি মাসের মধ্যে পরিকল্পনাটি চূড়ান্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তি/

চুয়েট সাংবাদিক সমিতির নেতৃত্বে গালিব ও ফাইয়াজ

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৫:০৩ পিএম
আপডেট: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৫:১৩ পিএম
চুয়েট সাংবাদিক সমিতির নেতৃত্বে গালিব ও ফাইয়াজ
সভাপতি আসাদুল্লাহ গালিব-সাধারণ সম্পাদক ফাইয়াজ মুহাম্মদ কৌশিক

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) সাংবাদিক সমিতির কার্যনির্বাহী পরিষদ ২০২৬-২৭ এর নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।

বুধবার (৮ জুলাই) চুয়েটের ছাত্র-শিক্ষক মিলনায়তনে (টিএসসি) আয়োজিত বার্ষিক সাধারণ সভায় এই নতুন কমিটির ঘোষণা দেওয়া হয় । 

নতুন কমিটিতে সভাপতি পানিসম্পদ কৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আসাদুল্লাহ গালিব এবং সাধারণ সম্পাদক পুরকৌশল বিভাগের একই বর্ষের শিক্ষার্থী ফাইয়াজ মুহাম্মদ কৌশিক নির্বাচিত হয়েছেন। 

১৫ সদস্যের নতুন এই কার্যনির্বাহী কমিটিতে নাফিসা নাওয়ার (চট্টগ্রাম প্রতিদিন) সহ-সভাপতি, মোঃ ফাহিম রেজা (সমকাল) সহ-সভাপতি, আকিফা মঞ্জুর তিশা (দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, ইবাদ হোসেন (খবরের কাগজ) প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক,গোলাম মোস্তফা তানিম (দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস) সাংগঠনিক সম্পাদক, তানভীর আহমাদ (কালের কণ্ঠ) অর্থ সম্পাদক, নাজিফা তাসনিম জিফা (দেশ দেশান্তর) দপ্তর সম্পাদক , জারীন তাসমীন সাবা (বণিক বার্তা) সহ-অর্থ সম্পাদক, অনুরাধা রাফানা (বর্তমান বাংলাদেশ) সহ-দপ্তর সম্পাদক এবং শাওকিক ইসলাম জোহা (নাগরিক ভাবনা) সহ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক নির্বাচিত হন। এছাড়াও নাজমুল কবির সিয়াম (সিটিজি পোস্ট), মোঃ মিসবাহ উদ্দিন (আমাদের সময়) এবং সাব্বির হোসাইন (দৈনিক আজাদী)-কে কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।

বিদায়ী কমিটির সভাপতি, কালের কণ্ঠ পত্রিকার প্রতিনিধি আসহাব লাবিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বার্ষিক সাধারণ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাহমুদ আব্দুল মতিন ভূইয়া। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইনস্টিটিউট অব এনার্জি টেকনোলজি, চুয়েটের পরিচালক অধ্যাপক ড. জামাল উদ্দিন আহমেদ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, "প্রকৌশল শিক্ষার ব্যস্ততার মধ্যেও ক্যাম্পাসে সাংবাদিকতার চর্চা সত্যিই প্রশংসনীয়। আশা করি নতুন কমিটির সদস্যরা বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রচারের মাধ্যমে চুয়েটের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করবে।" 

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. জামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন,"সংবাদপত্র আমাদের সমাজের দর্পণ। চুয়েটের বিশ্বস্ত মাধ্যম হিসেবে চুয়েট সাংবাদিক সমিতির সদস্যদের সুনাম সারা ক্যাম্পাস জুড়েই আছে। আশা করি তারা ভবিষ্যতেও তাদের সৎ ও সাহসী মনোভাব বজায় রাখবে। " 

অনুষ্ঠানের সভাপতির বক্তব্যে সদ্য বিদায়ী সভাপতি আসহাব লাবিব বলেন,"প্রায় বিশ বছর ধরে চুয়েট সাংবাদিক সমিতি সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে কাজ করে আসছে। বিদায় নিয়তির নিয়ম। আজ এই সমিতি নতুন নেতৃত্ব পেয়েছে। নতুন কমিটিকে অভিনন্দন। আমরা চাই বিগত দিনের মতোই চুয়েট সাংবাদিক সমিতি  চুয়েটের কথা দেশব্যাপী তুলে ধরবে।"

তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ার নবনির্বাচিত সভাপতি আসাদুল্লাহ গালিব বলেন,"সত্য, বস্তুনিষ্ঠতা ও নিরপেক্ষতাই সাংবাদিকতার মূল শক্তি। চুয়েট সাংবাদিক সমিতি প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ঘটনা, সাফল্য, সমস্যা ও সম্ভাবনাকে নিরপেক্ষভাবে পাঠকের সামনে তুলে ধরার দায়িত্ব পালন করে আসছে। আমরাও সেই ধারাবাহিকতা অটুট রাখতে সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যাব। একই সঙ্গে সত্যনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার মাধ্যমে শিক্ষার্থী, প্রশাসন এবং সাধারণ পাঠকের মধ্যে একটি আস্থার সেতুবন্ধন গড়ে তুলতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।" 

নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক ফাইয়াজ মুহাম্মদ কৌশিক জানান,"চুয়েট সাংবাদিক সমিতি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দেশ ও বিশ্ববাসীর সামনে চুয়েটকে তুলে ধরতে ভূমিকা রাখছে। চুয়েটের ভালো খবরগুলোর পাশাপাশি বিভিন্ন গঠনমূলক সমালোচনার মাধ্যমে আমরা চুয়েটের কল্যাণে অবদান রাখছি। আগামীতেও এ ধারা অব্যাহত রাখতে আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।"

উল্লেখ্য, চুয়েট সাংবাদিক সমিতি ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই সংগঠনটির সদস্যরা দেশের গুরুত্বপূর্ণ অনেক গুলো জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিকে সাফল্যের সাথে কাজ করে আসছে।

ইবাদ হোসেন/এসএন

বেরোবিতে আবদুল হাই শিকদারের ১০ হাজার বই সংরক্ষণের ইউজিসির উদ্যোগ

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ১২:১৭ পিএম
আপডেট: ০৯ জুলাই ২০২৬, ১২:৫৪ পিএম
বেরোবিতে আবদুল হাই শিকদারের ১০ হাজার বই সংরক্ষণের ইউজিসির উদ্যোগ
ছবিঃখবরের কাগজ

দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক আবদুল হাই শিকদারের ব্যক্তিগত সংগ্রহে থাকা প্রায় ১০ হাজার বই সংরক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)। রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে তার নামে একটি বিশেষ কর্নার বা পৃথক গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠা করে বইগুলো সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত হয়।

বুধবার (৮ জুলাই) ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন আহমেদের সঙ্গে আবদুল হাই শিকদারের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়।

বৈঠকে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শওকত আলী, ইউজিসির জনসংযোগ ও প্রকাশনা বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ জামিনুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, এটি শুধু একজন ব্যক্তির বইয়ের সংগ্রহ নয়, দেশের জ্ঞান ও গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। যথাযথ সংরক্ষণ, তালিকাভুক্তকরণ এবং পর্যায়ক্রমে ডিজিটাল আর্কাইভ তৈরির মাধ্যমে বইগুলো ভবিষ্যৎ প্রজন্মের গবেষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।

তিনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে বইগুলো সংগ্রহ ও সংরক্ষণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানান।

অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেন, এ উদ্যোগ ব্যক্তিগত গ্রন্থসংগ্রহ সংরক্ষণের একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হতে পারে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা দুর্লভ ব্যক্তিগত গ্রন্থসংগ্রহ সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে সংরক্ষণে ইউজিসি নীতিগত সহায়তা দেবে।

তিনি বলেন, শুধু বই সংরক্ষণ করলেই হবে না, দুর্লভ গ্রন্থগুলো ডিজিটাল আর্কাইভেও সংরক্ষণ করতে হবে, যাতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের গবেষক ও পাঠক সহজে সেগুলো ব্যবহার করতে পারেন।

আবদুল হাই শিকদার জানান, তার সংগ্রহে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, বিশ্ব ইতিহাস, গবেষণা, প্রবন্ধ, অনুবাদ সাহিত্য, শিশু সাহিত্য, বিজ্ঞানসহ বিভিন্ন বিষয়ের প্রায় ১০ হাজার বই রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় তিন হাজার বই দ্রুত সংরক্ষণ না করলে নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অনেক বই বর্তমানে বাজারে পাওয়া যায় না।

তিনি বলেন, সংগ্রহের একটি অংশ তিনি উত্তরাধিকারসূত্রে বাবার কাছ থেকে পেয়েছেন। বাকি বই কয়েক দশক ধরে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সংগ্রহ করেছেন। তার ইচ্ছা, পুরো সংগ্রহ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়কে দান করা, যাতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও গবেষকেরা বইগুলো পড়তে পারেন।

ব্যক্তিগত গ্রন্থসংগ্রহ সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরে আবদুল হাই শিকদার ভাষাবিদ ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর গ্রন্থাগারের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, সংরক্ষণের অভাবে তার সংগ্রহের বহু দুর্লভ বই একসময় ভাঙারির দোকানে বিক্রি হয়ে যায়। এমনকি তার গ্রন্থাগারের জায়গায় তেলের ঘানির দোকান গড়ে ওঠে। এ ধরনের ঘটনা দেশের জ্ঞান-ঐতিহ্যের জন্য বড় ক্ষতি। তাই ব্যক্তিগত গ্রন্থসংগ্রহ সংরক্ষণে প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, ইউজিসির সাবেক চেয়ারম্যান ও শিক্ষাবিদ সৈয়দ আলী আহসান তার ব্যক্তিগত গ্রন্থসংগ্রহ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়কে দান করেছিলেন। সেই অনুপ্রেরণাতেই তিনি নিজের সংগ্রহ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়কে দিতে চান। 

আবদুল হাই শিকদার আরও জানান, তার গ্রামের বাড়ি রংপুর বিভাগে। সেই বিবেচনায় তিনি তার ব্যক্তিগত গ্রন্থসংগ্রহ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়কে দান করতে চান, যাতে এ অঞ্চলের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও গবেষকেরা বইগুলো পড়তে পারেন।

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শওকত আলী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আবদুল হাই শিকদারের নামে একটি বিশেষ কর্নার বা পৃথক গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেবে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগার সমৃদ্ধ হবে এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য নতুন গবেষণার সুযোগ সৃষ্টি হবে।

এ সময় আবদুল হাই শিকদার দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নজরুল গবেষণা জোরদারে 'নজরুল সেন্টার' প্রতিষ্ঠা এবং 'নজরুল অধ্যাপক' পদ পুনরায় চালুর প্রস্তাব দেন। পাশাপাশি 'নজরুল বর্ষ' উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে কর্মসূচি গ্রহণ এবং জাতীয় সংস্কৃতি ও বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ নিয়ে গবেষণা বাড়ানোর আহ্বান জানান।

এ ব্যাপারে ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, প্রস্তাবগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

গাজী আজম/হীরা

টানা বৃষ্টিতে চবিতে সব ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ১০:১৩ এএম
আপডেট: ০৯ জুলাই ২০২৬, ১০:২২ এএম
টানা বৃষ্টিতে চবিতে সব ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ
ভারী বর্ষণ/ছবি: খবরের কাগজ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) টানা ভারী বর্ষণ, জলাবদ্ধতা ও পরিবহন সংকটের কারণে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সব ধরনের ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত করেছে। একই সঙ্গে জলাবদ্ধতার কারণে শাটল ট্রেন চলাচলও বন্ধ রয়েছে।

বুধবার (৮ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আবহাওয়া পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি না হওয়া এবং বিরাজমান জলাবদ্ধতা ও পরিবহন সংকট অব্যাহত থাকায় বৃহস্পতিবারও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস ও অনুষ্ঠিতব্য পরীক্ষার স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে।   

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক মমতাজ উদ্দিন আহমদ বলেন, 'চলমান ২১টি বিভাগ ও ইনস্টিটিউটের পরীক্ষাও স্থগিত করা হয়েছে। স্থগিত পরীক্ষার নতুন তারিখ সংশ্লিষ্ট পরীক্ষা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্ধারণ করা হবে।'

বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ড. কামরুল হোসেন বলেন, 'এখন মূল সমস্যা হচ্ছে পানি। এ কারণেই ট্রেন চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। শাটল চলার কোনো সম্ভাবনা নেই। পানি কমলে চলাচল শুরু হতে পারে। তবে পানি নেমে যাওয়ার পরও রেল কর্তৃপক্ষ রেললাইনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করে সিদ্ধান্ত নেবে।"

প্রশাসন ও চাকসু সূত্রে জানা গেছে, টানা বৃষ্টিতে নগরের মুরাদপুর এলাকায় রেললাইনের ওপর প্রায় ১৬ ইঞ্চি পানি জমে রয়েছে। রেললাইনের ওপর পড়ে থাকা গাছ সরিয়ে ফেলা হলেও অতিরিক্ত পানির কারণে শাটল ট্রেন চালু করা সম্ভব হয়নি।

চাকসুর যোগাযোগ ও আবাসন সম্পাদক ওবায়দুল সালমান বলেন, 'রেলওয়ের নিয়ম অনুযায়ী পানি প্রায় ৪ ইঞ্চিতে নেমে না আসা পর্যন্ত ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করা সম্ভব নয়। রাতের শাটল চলবে কি না, সে বিষয়ে রেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা যাবে।'

অতিবৃষ্টির কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাটাপাহাড় সড়কের একটি অংশে পাহাড়ধসের ঘটনাও ঘটেছে, যা ওই সড়কে চলাচলে ঝুঁকি তৈরি করেছে।

আল আরাফ/তামান্না রুপা/