জাতিসংঘ শিল্প উন্নয়ন সংস্থা (UNIDO), ঢাকাস্থ রয়্যাল নরওয়েজিয়ান দূতাবাসের আর্থিক সহায়তায়, পরিবেশ অধিদপ্তর (DoE) কর্তৃক “বাংলাদেশে টেকসই প্লাস্টিক ব্যবহার ও জলজ দূষণ প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগ” শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।
এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে শনিবার (১৯ এপ্রিল) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি), বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ডিএমসি)-এর শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে একটি সেমিনার ও প্লাস্টিক বর্জ্য পরিচ্ছন্নতা অভিযান বাস্তবায়িত হয়। এই কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য হচ্ছে প্লাস্টিক দূষণ সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং টেকসই অভ্যাস গড়ে তোলা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ-এর অধ্যাপক ড. মো. রিধওয়ানুল হক। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
বিশেষ ও সন্মানিত অতিথিদের মধ্যে ছিলেন, ড. ফারহিনা আহমেদ, সচিব, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, ড. মো. কামরুজ্জামান, ndc, মহাপরিচালক, পরিবেশ অধিদপ্তর, মারিয়ানে রাবে কনাভেলস্রুদ, উপ-মিশন প্রধান, রয়্যাল নরওয়েজিয়ান দূতাবাস, ঢাকা, ড. জাকি উজ জামান, কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ, UNIDO বাংলাদেশ, চৌধুরী কামরুজ্জামান কামাল, পরিচালক, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ, ডা. আফিয়া শাহনাজ, প্রভোস্ট, ডা. আলীম চৌধুরী গার্লস হোস্টেল, ডিএমসি, অধ্যাপক ড. আলেয়া বেগম, প্রাণিবিদ্যা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও অধ্যাপক ড. মো. মফিজুর রহমান, পুরকৌশল বিভাগ, বুয়েট।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান পরিবেশ সংরক্ষণে তরুণদের মনস্তাত্বিক রূপান্তরমূলক ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্যোগেই আমাদের সমাজে একটি সবুজ ও পরিচ্ছন্ন পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে। প্লাস্টিক ব্যাগ ব্যবহারে নিরুৎসাহিত করতে আমরা ভর্তুকি মূল্যে হলেও পাট বা কাপড়ের ব্যাগ বিতরণের উদ্যোগ নিচ্ছি।”
অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খান প্লাস্টিক বর্জ্য মোকাবেলায় সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, “আমাদের তাত্ত্বিক জ্ঞানের সঙ্গে ব্যবহারিক উদ্যোগের সমন্বয় ঘটাতে হবে, তাহলেই প্লাস্টিক দূষণের কার্যকর সমাধান সম্ভব হবে।”
ড. ফারহিনা আহমেদ বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী প্রাকৃতিক সম্পদের টেকসই ব্যবহারের বাধ্যবাধকতার কথা বলেন। তিনি প্লাস্টিকসহ সব ধরনের অজৈব ও রাসায়নিক বর্জ্য হ্রাসের গুরুত্বও তুলে ধরেন।
ড. মো. কামরুজ্জামান, এনডিসি, বলেন, “এই কার্যক্রম শুধুমাত্র বর্জ্য পরিষ্কারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি সচেতনতা বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এই ধরনের উদ্যোগ অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেরও গ্রহণ করা উচিত।”
মারিয়ানে রাবে কনাভেলস্রুদ বলেন, “ছাত্র-ছাত্রীদের ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। বাংলাদেশজুড়ে এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালিত হলে, এটি একটি বৈশ্বিক উদাহরণ হতে পারে।”
ড. জাকি উজ জামান বলেন, “প্লাস্টিক ও চিকিৎসা বর্জ্যসহ বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য এখনই পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। অনিয়ন্ত্রিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য অত্যন্ত হুমকি স্বরূপ।”
প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের পরিচালক চৌধুরী কামরুজ্জামান কামাল বলেন, “এই অভিযানের জন্য আমাদের প্রতিষ্ঠান বর্জ্য সংগ্রহের ডাস্টবিন সরবরাহ করেছে এবং আমরা এসব প্লাস্টিক পুনর্ব্যবহারযোগ্য কারখানায় নিয়ে রিসাইকেল করব। আমাদের লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে ১০০% প্লাস্টিক পুনর্ব্যবহার নিশ্চিত করা।”
অনুষ্ঠান শেষে ফটো সেশনের পর হল ক্লিন-আপ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ এই অভিযানের জন্য প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সহায়তা, যেমন: ডাস্টবিন ও সংগ্রহসামগ্রী সরবরাহ করে।
বিজ্ঞপ্তি/এমএ/