লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচির (কাবিখা) আওতায় শ্রমিকের বদলে মাটি কাটার এক্সকাভেটর মেশিন (ভেকু মেশিন) ব্যবহার করা হচ্ছে। দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নের চরকাছিয়া গ্রামের পানিরঘাট এলাকার রাস্তা নির্মাণকাজে শ্রমিকদের দিয়ে মাটি কাটার কথা থাকলেও ভেকু মেশিন ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে স্থানীয় শ্রমিকরা বেকার হয়ে পড়েছেন। প্রকল্প সভাপতি অধিক লাভের আশায় এক্সকাভেটর (ভেকু মেশিন) দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় শ্রমিক সর্দার নুর উদ্দিন বলেন, ‘চরে এখন শ্রমিকদের কাজ নেই। অনেক শ্রমিক পরিবার-পরিজন নিয়ে খেয়ে না খেয়ে দিন যাপন করছে। অনেকেই কাজের সন্ধানে বিভিন্ন স্থানে চলে যাচ্ছেন। অথচ নিজ এলাকায় শ্রমিকের কাজ করানো হচ্ছে মেশিন দিয়ে।’
দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, কাবিখা কর্মসূচির আওতায় গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার প্রকল্পে দক্ষিণ চরবংশী ইউপির চরকাছিয়া গ্রামের পানিরঘাট এলাকায় আধা কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণকাজের জন্য চার লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রতিদিন ২৫ জন শ্রমিকের ৭ দিনে রাস্তা সংস্কারে মাটি কাটার কথা রয়েছে। কিন্তু প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা নিয়ম না মেনে বেশি লাভের আশায় এক্সকাভেটর দিয়ে মাটি কেটে রাস্তা সংস্কারের কাজ করাচ্ছেন। ফলে দুর্ভোগ ও ক্ষতির মুখে পড়েছেন স্থানীয় কৃষক, শ্রমিকসহ হতদরিদ্ররা।
দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম বলেন, ‘কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচিতে এক্সকাভেটর মেশিন ব্যবহারের নিয়ম নেই। আমি যতদূর জানি ওই প্রকল্পটি স্থানীয় শ্রমিকদের দিয়ে করানোর কথা। তবে কীভাবে মেশিন দিয়ে করানো হচ্ছে, সেটা বোধগম্য নয়।’
এ বিষয়ে সংরক্ষিত ইউপি সদস্য ও প্রকল্পটির সভাপতি ফাতেমা বেগম বলেন, এক্সকাভেটর মেশিন দিয়ে কম খরচে বেশি মাটি কাটা যায় বলে এমনটা করা হয়েছে। আগামীতে এমন ভুল আর হবে না।
রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমা বিনতে আমিন বলেন, যেকোনো প্রকল্পের একটি নিজস্ব নিয়মনীতি রয়েছে। ওই নিয়মের মধ্যেই কাজটি হতে হবে। বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত হলাম। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


