রমজান মাসে জেলা প্রশাসনের পাশাপাশি বিভিন্ন শিল্পগ্রুপ ও সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের সহযোগিতায় স্বল্পমূল্যে সাধারণ মানুষের কাছে মাংস-দুধ-ডিম বিক্রি করা হয়েছে। ভোক্তারা সুলভ মূল্যে এসব পণ্য পেয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং বছরব্যাপী এ কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে অনুরোধ জানান।
জানা গেছে, পবিত্র রমজানে সুলভ মূল্যে দুধ, ডিম, মাংস ভোক্তার কাছে পৌঁছে দিতে গত ১৭ মার্চ থেকে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তত্ত্বাবধানে নগরের ১৬টি স্থানে শুরু হয় ভ্রাম্যমাণ বিক্রয় কার্যক্রম। গত ১৭ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত ৬ হাজার ৩৯৫ জন ভোক্তার কাছে ৬৫০ টাকা কেজি দরে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার কেজি গরুর মাংস, ২৫০ টাকা কেজি দরে ২৫৯ কেজি ড্রেসড ব্রয়লার মুরগির মাংস, ১১০ টাকা ডজন হিসাবে ৪৩ হাজার পিস ডিম এবং ৮০ টাকা লিটার দরে ২ হাজার ৩২৬ লিটার দুধ বিক্রি করা হয়।
ভর্তুকি মূল্যে প্রাণিজ পণ্য সরবরাহের মাধ্যমে সার্বিক কার্যক্রম বাস্তবায়নে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ও জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরকে সহযোগিতা করে চট্টগ্রাম বিভাগীয় ডেইরি ফার্মার্স অ্যাসোসিয়েশন, বৃহত্তর চট্টগ্রাম পোল্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন, নাহার এগ্রো, বারাকা ফার্মইয়ার্ড, চট্টগ্রাম গ্রিন হার্ভেস্ট এগ্রো।
জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান বলেন, রমজান মাসে স্বল্পমূল্যে ভোগ্যপণ্য সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী জেলা প্রশাসনের পাশাপাশি বিভিন্ন শিল্পগ্রুপ ও সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ যেভাবে একসঙ্গে এগিয়ে এসেছে তা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন এবার আড়ম্বরপূর্ণ ইফতার মাহফিল আয়োজনের পরিবর্তে স্বল্পমূল্যে ভোগ্যপণ্য বিতরণের এ উদ্যোগ নেয়, যা জনগণের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
গত ১৭ মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মবার্ষিকী এবং জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে জেলা শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. তোফায়েল ইসলাম। উদ্বোধনের সময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার কৃষ্ণ পদ রায়, চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি নুরে আলম মিনা, চট্টগ্রাম প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক (সম্প্রসারণ) ডা. মো. শাহিনুর আলম প্রমুখ।
তারেক/সালমান/