ঢাকা ২১ আষাঢ় ১৪৩৩, রোববার, ০৫ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
সারজিসের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিলেন জুলাই শহিদের মা সর্বাধিক গোল দিয়ে মেসির সমকক্ষ হলেন এমবাপ্পে রবিবার রাজধানীর যেসব মার্কেট বন্ধ উত্তরা মোটর্স নিয়ে এলো নতুন ইসুজু লাক্সারি এনকিউআর বাস উচ্চতার চ্যালেঞ্জে ইংল্যান্ড, দুর্দান্ত ছন্দে মেক্সিকো ভারতে জনপ্রিয় হচ্ছে নতুন আধ্যাত্মিক ট্রেন্ড ‘ভজন ক্লাবিং’ সুশাসন চর্চা থেকে অবিচল আস্থা: ব্র্যাক ব্যাংক কয়লার ময়লায় টিকে থাকার সংগ্রাম বেনাপোল বন্দরে রাজস্বে বড় ধাক্কা, ঘাটতি ৪৭৩১ কোটি টাকা সেতুর বদলে মেলে শুধু আশ্বাস কুষ্টিয়ায় পানির অভাবে বিপাকে পাটচাষিরা ‘ওপেন সিক্রেট’ মাদক ৫ জুলাই: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ৫ জুলাই: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল ৭৯৭৫ কোটির প্রকল্পে ২৮৪ কোটি টাকা অনিয়ম কেপ ভার্দেকে স্যালুট চোট, লড়াই ও ফিরে আসা ৫ জুলাই  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি জার্মানির কোচ হতে প্রস্তুত ক্লপ কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোকে পেল ফ্রান্স, ম্যাচ কবে-কখন? এমবাপ্পের গোলে প্যারাগুয়েকে বিদায় করে কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্স পেনাল্টিতে ফ্রান্সকে এগিয়ে নিলেন এমবাপ্পে বিশ্বকাপে স্পেনই সবচেয়ে কঠিন প্রতিপক্ষ: নুনো মেন্দেস প্রথমার্ধে একচ্ছত্র আধিপত্য, তবু গোলশূন্য ফ্রান্স বিশ্বকাপে কঠিন পরীক্ষার মুখে লামিনে ইয়ামাল প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ফ্রান্সের একাদশ ঘোষণা কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোর প্রতিপক্ষ কে? কানাডাকে উড়িয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কো ওনাহির গোলে এগিয়ে গেল মরক্কো কানাডা-মরক্কোর কার্ডে ভরা প্রথমার্ধ

চট্টগ্রামে ১২ টন চোরাই বিটুমিনসহ গ্রেপ্তার ২

প্রকাশ: ২৭ এপ্রিল ২০২৪, ০৯:২৪ এএম
চট্টগ্রামে ১২ টন চোরাই বিটুমিনসহ গ্রেপ্তার ২
চোরাই বিটুমিনসহ গ্রেপ্তার ২

চট্টগ্রাম নগরের সদরঘাট এলাকা থেকে গত বৃহস্পতিবার রাতে ১২ মেট্রিক টন চোরাই বিটুমিনসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। 

শুক্রবার (২৬ এপ্রিল) র‌্যাব-৭-এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) নুরুল আবছার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। 

গ্রেপ্তাররা হলেন- লক্ষ্মীপুর জেলার চন্দ্রগঞ্জ থানার দত্তপাড়া এলাকার সুমন চন্দ্র দে (৩৮) ও ভোলা সদর উপজেলার মেউদ্দা এলাকার মো. আব্দুল্লাহ ওরফে আজিজ (৪০)। 

র‌্যাব জানায়, সদরঘাট থানাধীন দক্ষিণ নালাপাড়া এলাকায় কিছু লোক একটি গোডাউনে কেনাবেচার উদ্দেশ্যে চোরাই বিটুমিন মজুত করে আসছেন, এমন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে সেখানে অভিযান চালানো হয়। ওই সময় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি ট্রাক থেকে ১২ মেট্রিক টন চোরাই বিটুমিন জব্দ করা হয়। 

র‌্যাব-৭-এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) নুরুল আবছার জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা বিটুমিন ক্রয়-বিক্রয়সংক্রান্ত বৈধ কোনো কাগজপত্র  বা চালান দেখাতে পারেননি। তারা বিভিন্ন মাধ্যমে সরকারি এবং বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার গাড়ি থেকে অবৈধভাবে বিটুমিন কিনে বিক্রির উদ্দেশ্যে সংরক্ষণ করে আসছিলেন। পরবর্তী সময়ে অপেক্ষাকৃত কম মূল্যে পাইকারি ও খুচরা বিক্রি করতেন তারা। 

জব্দ করা বিটুমিনের আনুমানিক বাজারমূল্য ১২ লাখ টাকা। তাদের সদরঘাট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। 

অমিয়/

কয়লার ময়লায় টিকে থাকার সংগ্রাম

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫৭ এএম
আপডেট: ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৯:১০ এএম
কয়লার ময়লায় টিকে থাকার সংগ্রাম
কয়লা খনির পাশ দিয়ে প্রবাহিত কালো পানি ড্রেন থেকে ডাস্ট সংগ্রহ করছেন কয়েকজন নারী। দিনাজপুরের পার্বতীপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে তোলা। ছবি: খবরের কাগজ

দূর থেকে মনে হবে কালো ও দুর্গন্ধযুক্ত পানির মধ্যে মাছ ধরা হচ্ছে, কিংবা হারিয়ে যাওয়া কোনো বস্তু খোঁজা হচ্ছে। কিন্তু কাছে গেলেই পাল্টে যাবে ধারণা। বুকসমান ময়লাযুক্ত পানিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে বাঁশের মাথায় জাল বেঁধে কয়লার ডাস্ট সংগ্রহ করছেন একদল নারী।

এই চিত্র দেখা যায় দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির পাশ দিয়ে প্রবাহিত ময়লাযুক্ত পানি নিষ্কাশনের ড্রেনে। জীবিকার তাগিদে সমাজের কটূক্তি আর রোগ-ব্যাধিকে সঙ্গী করেই প্রতিদিন চলছে নারীদের এ বেঁচে থাকার সংগ্রাম।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, খনির মূল ফটকের পশ্চিমের প্রাচীর ঘেঁষে বয়ে যাওয়া এই কালো পানির ড্রেনে প্রতিদিন রাত ৮টার পর শুরু হয় কর্মযজ্ঞ। চলে পরদিন রাত ৮টা পর্যন্ত। এভাবে সাতটি দলে বিভক্ত দুই শতাধিক হতদরিদ্র নারী সপ্তাহে একদিন করে পালাক্রমে পানিতে নেমে সারা রাত কয়লার ডাস্ট সংগ্রহ করেন, যেখানে প্রতিটি দলে ২০ থেকে ৩৫ জন নারী কাজ করে থাকেন।

জানা গেছে, পানির স্রোতে ভেসে আসা কয়লার গুঁড়া বাঁশের সঙ্গে বাঁধা জালে সংগ্রহ করার পর তা স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করা হয়। একজন নারী সপ্তাহে একদিন কাজ করে ৪০০ থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারেন। এ ডাস্ট সংগ্রহকারী অধিকাংশ নারীই কয়লা খনির পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা। তারা মাথায় পুরোনো কাপড় বেঁধে নেমে পড়েন কালো পানিতে। অপরিচিত কাউকে দেখলেই মুখ লুকান।

দীর্ঘ সময় দূষিত পানিতে থাকার কারণে চর্মরোগ, পায়ে ঘা, সংক্রমণসহ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন এসব নারী। কিন্তু তাদের জন্য কোনো স্বাস্থ্যসেবা নেই, নেই নিরাপত্তা সরঞ্জাম কিংবা শ্রমিক হিসেবে স্বীকৃতি।

স্বামীর আয়ে সংসার চলে না কয়লার ডাস্ট সংগ্রহ করতে আসা মাজেদা বেগমের। অভাবের সংসার। তাই ঝুঁকি নিয়েই সপ্তাহে মাত্র ৫০০ থেকে ৭০০ টাকার আশায় এ কাজ করতে বাধ্য হন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘সরকার যদি আমাদের ফ্যামিলি কার্ড দেয় কিংবা নিরাপদ কোনো কাজের ব্যবস্থা করে, তাহলে এই কষ্টের জীবন থেকে মুক্তি পেতাম।’

প্রায় ১৪ বছর ধরে ডাস্ট সংগ্রহের কাজ করছেন শারমিন বেগম। দীর্ঘ সময় পানিতে থেকে কাজ করায় হাত-পায়ে চুলকানি, ঘা ও নানা রোগ হচ্ছে। তারপরও পরিবারের জন্য তাকে এ কাজ করে যেতে হচ্ছে।

সেখানে থাকা বাকি সদস্যরা জানান, রাতভর পানিতে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় তাদের। শীতে শরীর কাঁপে, বর্ষায় স্রোত বাড়ে, তবুও কাজ বন্ধ করা যায় না। কারণ, ঘরে তাদের ছোট ছোট সন্তান অপেক্ষা করে। অনেক সময় একদিনের আয় দিয়েই পুরো সপ্তাহের বাজার করতে হয়। কাজ না করলে পরিবার না খেয়ে থাকবে, তাই নিরুপায় হয়েই এ কালো পানিতে নামতে হয়।

বড়পুকুরিয়া পাতরা পাড়া বসতবাড়ি রক্ষা কমিটির সভাপতি নূর মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘এখানে যে নারীরা কাজ করছেন তারা সমাজের বোঝা নন, বরং সংগ্রামী নারী। সরকার যদি তাদের জন্য নিরাপদ ও স্থায়ী কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে, তাহলে তারা সম্মানের সঙ্গে বাঁচতে পারবেন।’

দিনাজপুর সরকারি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শিক্ষাবিদ প্রফেসর সৈয়দ মোহাম্মদ হোসেন বলেন, ‘নিরাপদ কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্যসেবা এবং সরকারি সহায়তা পেলে হয়তো একদিন এই কালো পানি ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন বড়পুকুরিয়ার সংগ্রামী কর্মজীবী নারীরা।’

সেতুর বদলে মেলে শুধু আশ্বাস

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪৪ এএম
আপডেট: ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪৭ এএম
সেতুর বদলে মেলে শুধু আশ্বাস
নীলফামারী সদর উপজেলার লক্ষ্মীচাপ ইউনিয়নে দেওনাই নদীর ওপর নির্মিত নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে সাইকেল ঠেলে পার হচ্ছেন এক ব্যক্তি। খবরের কাগজ

প্রতিশ্রুতি মিলেছে বহুবার। কিন্তু মেলেনি একটি পাকা সেতু। ফলে নীলফামারীর দেওনাই নদীর ওপর নড়বড়ে একটি বাঁশের সাঁকোই এখন ভরসা ১০ গ্রামের মানুষের। প্রতিদিন প্রায় ২০ হাজার মানুষ এই সাঁকো দিয়েই ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন।

নীলফামারী সদর উপজেলার লক্ষ্মীচাপ ইউনিয়নের বসুনিয়ারডাঙ্গা এলাকায় দেওনাই নদীর ওপর স্থানীয়রা নিজ উদ্যোগে বিভিন্ন গ্রাম থেকে বাঁশ সংগ্রহ করে একটি অস্থায়ী সাঁকো নির্মাণ করেন। সেই থেকে প্রতিবছর পুরোনো বাঁশ বদলে ও সংস্কার করে স্থানীয়দের সহযোগিতায় সাঁকোটি টিকিয়ে রাখা হচ্ছে।

প্রায় ১১০ মিটার দীর্ঘ এই সাঁকোই এখন সদর উপজেলার লক্ষ্মীচাপ ইউনিয়ন ও জলঢাকা উপজেলার শিমুলবাড়ী ইউনিয়নের মানুষের একমাত্র যোগাযোগের মাধ্যম। এই সাঁকো না থাকলে নীলফামারী শহরে যেতে প্রায় ২০ কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ ঘুরতে হয়। অথচ এখানে একটি পাকা সেতু নির্মাণ হলে মাত্র ৮ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়েই শহরে পৌঁছানো সম্ভব।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বসুনিয়ারডাঙ্গা গ্রামের এই বাঁশের সাঁকো দিয়ে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে সাইকেল, মোটরসাইকেল ঠেলে এবং হেঁটে পারাপার করছেন সাধারণ মানুষ। কৃষিপণ্য পরিবহন থেকে শুরু করে শিক্ষার্থী ও চাকরিজীবীদের চলাচলে তৈরি হচ্ছে চরম ভোগান্তি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়েক যুগ ধরে জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকে শুধু আশ্বাস মিলেছে। কিন্তু আজও নির্মাণ হয়নি একটি পাকা সেতু। বর্ষা এলেই বাড়ে দুর্ভোগ ও দুর্ঘটনার শঙ্কা। এই সাঁকো দিয়ে পারাপারের সময় মাঝেই দুর্ঘটনা ঘটে। অনেকেই নদীতে পড়ে আহত হন। অনেক সময় মোটরসাইকেল ও কৃষিপণ্যও নদীতে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এলাকাবাসী জানান, নীলফামারী সদর উপজেলার লক্ষ্মীচাপ, কাচারী, শিশাতলী, জংলীপাড়া, দুবাছুরি, বল্লমপাঠ, কচুয়া, দাঁড়িহারা ও রামগঞ্জ এবং জলঢাকা উপজেলার ডিয়াবাড়ী, শিমুলবাড়ীসহ অন্তত ১০ গ্রামের মানুষ প্রতিদিন এই সাঁকো ব্যবহার করে নীলফামারী জেলা শহর, ডোমার ও জলঢাকা উপজেলায় যাতায়াত করেন। শিক্ষার্থীদের কাছেও এটি একমাত্র ভরসা।

সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েন রোগীরা। জরুরি মুহূর্তে অ্যাম্বুলেন্স বা অন্য কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারে না। রোগীদের কাঁধে বা পিঠে করে সাঁকো পার করিয়ে অপর পাশ থেকে গাড়িতে তুলতে হয়। উৎপাদিত ধান, পাট, ভুট্টা, সবজি ও অন্যান্য কৃষিপণ্য বিক্রির জন্য নদীর এক পাড় থেকে অন্য পাড়ে কাঁধে করে বহন করতে হয়।

জংলীপাড়ার বাসিন্দা বিমল চন্দ্র রায় বলেন, ‘শুকনা মৌসুমে কোনোভাবে পারাপার করা গেলেও বর্ষায় নদীতে স্রোত বাড়লে বাঁশের সাঁকো দিয়ে চলাচল করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। দীর্ঘদিন ধরে সেতুর দাবিতে বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করেও কোনো সুফল পাইনি।’

বসুনিয়ারডাঙ্গা গ্রামের ধীরেন্দ্রনাথ রায় বলেন, ‘স্বাধীনতার পর থেকেই এই এলাকায় সেতুর দাবি শুনে আসছেন। কিন্তু ভোটের সময় প্রতিশ্রুতি এলেও পরে আর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ে না।’

ষাটোর্ধ্ব ধীরেন্দ্রনাথ রায় বলেন, ‘যোগাযোগব্যবস্থা না থাকায় পুরো এলাকা উন্নয়ন থেকে পিছিয়ে পড়ছে। দ্রুত সেতু নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’ মোটরসাইকেল আরোহী বিপ্লব রায় বলেন, ‘আমার বাসা নদীর ওই পাড়ে তাই প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়। অনেক সময় মোটরসাইকেল নিয়ে পার হওয়া যায় না।’
লক্ষ্মীচাপ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমিনুর রহমান বলেন, ‘প্রতিদিন এই সাঁকোর ওপর দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে হাজার হাজার লোক যাতায়াত করেন। ব্রিজটি হলে হাজার মানুষের যাতায়াতের সুবিধার পাশাপাশি এলাকার মানুষের জীবনযাত্রার মান বাড়বে। ব্রিজ নির্মাণের বিষয়ে আমি এলজিইডি অফিসে অনেকবার যোগাযোগ করেছি।’

নীলফামারী স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী ফিরোজ কবির হোসেন বলেন, ‘একটি প্রকল্প তৈরি করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। ওই স্থানে একটি সেতু করার জন্য আমরা চেষ্টা করছি। আশা করি খুব দ্রুত হয়ে যাবে।’

এ বিষয়ে নীলফামারী-২ সংসদ সদস্য আল ফারুক আব্দুল লতিফ বলেন, ‘নীলফামারী সদর আসনের সব কটি ব্রিজ তালিকা করে পাঠানো হয়েছে। পর্যায়ক্রমে আগামী ৫ বছরের মধ্যে বাস্তবায়ন করা হবে ইনশাআল্লাহ।’ 

কুষ্টিয়ায় পানির অভাবে বিপাকে পাটচাষিরা

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪৩ এএম
কুষ্টিয়ায় পানির অভাবে বিপাকে পাটচাষিরা
প্রতীকী ছবি।

আষাঢ় মাসের শেষ দিকেও দেখা নেই কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টির। দীর্ঘ প্রায় সাড়ে ৪ মাস ধরে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় চরম সংকটে পড়েছেন কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার পাটচাষিরা। পানির অভাবে কেটে রাখা পাট সময়মতো জাগ দিতে না পারায় তারা বিপাকে পড়েছেন।

তারা জানান, চৈত্র-বৈশাখ মাসের খরা কাটিয়ে অনেক কষ্টে তারা পাটের আবাদ করেছেন। এখন পাট কাটার ভরা মৌসুমেও খাল, বিল, নদী-নালা সব শুকিয়ে আছে। কোথাও পাট জাগ দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত পানি নেই।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস জানায়, এ বছর ৪ হাজার ৩৩৫ হেক্টর জমিতে পাট আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। আবাদ হয়েছে ৪ হাজার ৯৬৮ হেক্টর জমিতে, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৬৩৩ হেক্টর বেশি। ফলনও হয়েছে ভালো।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে পাট কাটার মৌসুম চলছে। কৃষকরা পাট কেটে মাঠে স্তূপ করে রেখেছেন। রোদ আর গরমে পাটগাছ শুকিয়ে লালচে হয়ে যাচ্ছে, যা আঁশের গুণগত মান কমিয়ে দেবে। ফলে বাজারে পাটের ন্যায্য মূল্য না পাওয়া নিয়ে শঙ্কিত তারা।

স্থানীয় কৃষক সুনীল মন্ডল বলেন, ‘পরের জমি বর্গা নিয়ে পাটের আবাদ করেছি। পাট দেখতে সুন্দর হয়েছে।’ আব্দুস সাত্তার নামে ওই এলাকার আরেক কৃষক বলেন, ‘পাট জাগ (পানির নিচে ডুবিয়ে রাখা) দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত পানি নেই। খরচের তুলনায় পাটের দাম ও ফলন নিয়ে শঙ্কিত আছি।’ একই দাবি করেন ওই এলাকার কৃষক আনন্দ কুমার।

কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, এই মুহূর্তে সবচেয়ে কার্যকর সমাধান হতে পারে ‘রিবন রেটিং’ বা ছালকরণ পদ্ধতি। এ পদ্ধতিতে কাঁচা পাট গাছ থেকে ছাল ছাড়িয়ে ছোট চৌবাচ্চা বা পলিথিন বিছানো গর্তে অল্প পানিতেই পচানো সম্ভব।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মো. বদরুদ্দোজা জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এবার বৃষ্টিপাতের ধরন বদলে গেছে। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে চাষিদের প্রথাগত পদ্ধতির বাইরে এসে বিকল্প উপায়ে পাট পচানোর পরামর্শ দিচ্ছেন তারা। খোকসার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা খোকন হোসেন জানান, অন্য বছরের তুলনায় এবার পাটের আবাদ ও ফলন ভালো হয়েছে।

সালিশের রায়ে ক্ষুব্ধ, দাদাকে গুলি

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ১১:০৫ পিএম
সালিশের রায়ে ক্ষুব্ধ, দাদাকে গুলি
লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বৃদ্ধ নজরুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার রশিদপুর গ্রামে পারিবারিক সালিশের সিদ্ধান্ত মেনে না নিয়ে নজরুল ইসলাম (৭০) নামে এক সালিশদারকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে তারই নাতি আশিকের বিরুদ্ধে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।

শনিবার (৪ জুলাই) সন্ধ্যায় জেলার নবগঠিত চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার বশিকপুর ইউনিয়নের রশিদপুর  গ্রামের হামিদ উল্যাহ পাটওয়ারি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটেছে। 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফারুক ও তার স্ত্রী আয়েশা বেগমের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক কলহ চলছিল। এ বিরোধ মীমাংসায় শনিবার সকালে স্থানীয়ভাবে একটি সালিশি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ফারুকের চাচা নজরুল ইসলামসহ স্থানীয় কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।

সালিশ চলাকালে আয়েশা বেগমের সঙ্গে নজরুল ইসলামের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে আয়েশা মোবাইল ফোনে ঢাকায় অবস্থানরত ছেলে আশিককে বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে সন্ধ্যায় আশিক এলাকায় এসে নজরুল ইসলামের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তিনি নজরুল ইসলামকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। গুলিটি নজরুল ইসলামের বাম হাতের কব্জির ওপর বিদ্ধ হয়। ঘটনার পর থেকেই আশিক পলাতক রয়েছেন।

এদিকে অভিযুক্ত আশিকের বাবা ইসমাইল হোসেন ফারুক বলেন, “আমার ছেলে আশিক আমার চাচাকে গুলি করেছে। সে ঢাকায় ছিল। তার মা তাকে ফোন করে বাড়িতে ডেকে এনেছে। এখন সে আমাকেও গুলি করার হুমকি দিচ্ছে। আমি এ ঘটনায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”

গুলিবিদ্ধ নজরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, “ভাতিজা ফারুক আমাকে সালিশে ডেকে নিয়েছিল। বৈঠকের একপর্যায়ে ফারুকের স্ত্রী আয়েশা বেগম উত্তেজিত হয়ে পড়েন। তিনি কারও কথা শুনতে রাজি ছিলেন না। এ নিয়ে তার সঙ্গে আমার কথা-কাটাকাটি হয়। এরই জেরে সন্ধ্যায় আশিক বাড়িতে এসে আকস্মিক আমাকে লক্ষ্য করে গুলি করে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”

লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার শামীম মোহাম্মদ আফজাল সাংবাদিকদের জানান, গুলিবিদ্ধ অবস্থায় বৃদ্ধকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তার এক্স-রে করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এক্স-রের প্রতিবেদনের মাধ্যমে শরীরে গুলি রয়ে গেছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যাবে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী সাংবাদিকদের বলেন, “ঘটনার খবর পেয়েছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম/এসএন

লাঠিপেটার ভিডিও ভাইরাল, আলোচনায় ইউপি চেয়ারম্যান

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ১০:২৬ পিএম
লাঠিপেটার ভিডিও ভাইরাল, আলোচনায় ইউপি চেয়ারম্যান
টাঙ্গাইলে ইউপি চেয়ারম্যানের লাঠিপেটা। ছবি: সংগৃহীত

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে এক নারীসহ কয়েকজনকে লাঠি দিয়ে পিটিয়েছেন এক ইউপি চেয়ারম্যান।

 শুক্রবার (৩ জুলাই) এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

অভিযুক্ত মির্জাপুর উপজেলার ১ নং মহেড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিভাষ সরকার নুপুর। তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য।

ছয়বারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান বিভাস সরকার নুপুরের এই মারধরের ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

৫১ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, বিভাষ সরকার নুপুরের হাতে একটি লাঠি, কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে হেঁটে আসছেন। পরে তিনি একটি মাটির স্তুপের পাশে দাঁড়িয়ে সেখানে উপস্থিত এক নারীকে অশালীন ভাষায় গালি দেন। ওই নারী এর প্রতিবাদ করলে চেয়ারম্যান প্রথমে গেঞ্জি পরা এক ব্যক্তিকে লাঠি দিয়ে মারেন। পরে ওই নারী ও তাদের মেয়ে এগিয়ে এলে তাদের ও পেটাতে দেখা যায়।

জানা যায়, ভিডিওটি ২৭ জুন সকালে ধারণ করা হয়েছিল। উপজেলার মহেড়া ইউনিয়নের তেঘরী কেশব গ্রামের বাসন্তী রানীর জমির ওপর দিয়ে রাস্তা নির্মাণের জন্য মাটি ফেলা নিয়ে বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত চেয়ারম্যান বিভাষ সরকার নুপুরের বাড়িও একই গ্রামে।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানায়, বাসন্তী রানীর বাবা সুনীল সরকার, স্থানীয় উপেন্দ্র মন্ডলসহ কয়েকজন প্রায় ৪০ বছর আগে নিজেদের জমিতে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় গড়ে তোলেন। সেখানে সুনীল সরকার শিক্ষকতা করতেন। তার দুই মেয়ে রয়েছে। ২০১২ সালে তিনি তার জমি স্ত্রী মিনতি রানীর নামে লিখে দেন। প্রায় আট বছর আগে সুনীল সরকারের মৃত্যু হলে প্রতিষ্ঠানটিতে পাঠদান বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে এটি শুধু জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ২০২১ সালের নভেম্বরে মিনতি রানী জমিগুলো তাঁর দুই মেয়ে রত্ম সরকার ও বাসন্তী রানীর নামে লিখে দেন।

বাসন্তী রানী অভিযোগ করে বলেন, তার চাচাতো চাচা উপেন্দ্র সরকার আগে তাদের বাড়ির সামনের রাস্তা ব্যবহার করতেন। এ জন্য তাদের কিছু জমিও তাকে দেওয়া হয়েছিল, যেখানে তিনি একটি ঘর নির্মাণ করেন। সম্প্রতি ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সীমানা প্রাচীর নির্মাণের ফলে তাদের চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর সীমানা প্রাচীরের দক্ষিণ পাশে তাঁদের জমির ওপর দিয়ে জোর করে রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ নেন ইউপি চেয়ারম্যান বিভাষ সরকার নুপুর। এতে বাধা দিলে তাকে, তার স্বামী রামগোপাল সাহা ও মেয়ে পায়েল সাহাকে মারধর করা হয়।

বাসন্তী রানী বলেন, চেয়ারম্যান সাহেব রাস্তার অজুহাতে আমাদের জমি দখল করতে চাইছেন। কেউ তার বিরুদ্ধে কথা বললে মারধর করেন। আমার ছোট মেয়েকেও মারধর করা হয়েছে। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় আছি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন বলেন, বিভাষ সরকার নুপুরের ভয়ে এলাকায় অনেকেই প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পান না। তাদের অভিযোগ, সামান্য বিষয় নিয়েও তিনি লোকজনকে মারধর করেন।

ছাওয়ালী বাজারের বাসিন্দা বিপুল দাস বলেন, প্রায় ছয় বছর আগে তাদের জমি দখলের উদ্দেশ্যে বিভাষ সরকার নুপুর তার লোকজন দিয়ে টাঙ্গাইলের আদালতে মামলা করিয়েছিলেন। তার মা বাবাসহ পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। যদিও আদালতে মামলাটি খারিজ হয়ে যায়, তারপরও চার বছর ধরে তাঁরা নিজেদের জমিতে ঘর নির্মাণ করতে পারছেন না।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিভাষ সরকার নুপুর। তিনি বলেন, ওই মহিলা ভালো না। বাউন্ডারির বাইরেও স্কুলের পাঁচ-ছয় ফুট জায়গা আছে। উপেন্দ্রর চলাচলের জন্য সেখানে রাস্তা করার সময় ওই মহিলা বাধা দেন। এ জন্য তাদের কঞ্চি দিয়ে পিটিয়েছি।

মহেড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান বাদশা মিয়া বলেন, একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তির নিকট থেকে এধরনের ঘটনা কখনো কাম্য নয়। তার উচিৎ ছিল আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান করা।

মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) খান সালমান হাবীব বলেন, কে কাকে মারছে ভিডিও দেখে চেনার উপায় নেই। এ ঘটনায় কেউ অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জুয়েল রানা/এসএন