ঢাকা ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩, বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
বিপৎসীমা ছাড়াল মাতামুহুরী, হাহাকার প্লাবিত জনপদে দুর্নীতির মামলায় সাবেক মন্ত্রী মেননকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ রায়পুরায় অতিবৃষ্টিতে মাটির ঘরের দেয়ালধসে শিশুর মৃত্যু চামড়া খাতে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে রোডম্যাপ করছে সরকার ইউরোপের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেবে যুক্তরাজ্য বজ্রাঘাতে প্রাণহানি কমাতে মাল্টিপারপাস আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ সংসদে তিন মন্ত্রী অনুপস্থিত থাকায় প্রশ্নোত্তর পর্ব স্থগিত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির নামে ১৩৭টি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট চিহ্নিত: তথ্যমন্ত্রী বঙ্গোপসাগরে দুই ট্রলারডুবি, উদ্ধার ১৬, নিখোঁজ ২ জালিয়াতি করে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় সুবিধাভোগীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে: আজম খান হেয়ার কাট ছাড়াই সুদসহ আমানত ফেরত দেওয়া হবে: অর্থমন্ত্রী মাছের ড্রামে পাচারকালে ৫৩ লাখ টাকার ভারতীয় শাড়ি জব্দ জাতির পথনির্দেশনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা অনন্য: ডেপুটি স্পিকার আইএআইএলসি প্রেস্টিজ অ্যাওয়ার্ড-২০২৬ সম্মাননা পাবেন বিজয়ী ৫৭ জন ব্যক্তি–প্রতিষ্ঠান হামের উপসর্গে আরও ৩ জনের মৃত্যু ডেঙ্গুতে বাড়ছে উদ্বেগ, আরও ৩ জনের মৃত্যু মানি লন্ডারিং মামলায় আ’লীগ নেতা এনু-রুপনের কারাদণ্ড মনোযোগ ও একাগ্রতা ধরে রাখার সুন্নাতি ফর্মুলা কক্সবাজারে পাহাড়ধসে ৪ দিনে ১৯ জনের মৃত্যু জুলাই একদিনে সংঘটিত হয়নি, আবার আওয়ামী লীগের পতনও একদিনে হয়নি : ডা. জাহেদ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে মাদকের ভয়াবহতা জিরো রিটার্নের গ্যাঁড়াকল ওভারব্রিজ দ্রুত সংস্কার করা হোক ২০২৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ইউরোপের আধিপত্য চীনে কাঁঠাল রপ্তানি করতে চায় সরকার: সংসদে প্রধানমন্ত্রী বিএসএফের ঠেলে পাঠানো ৪ ভারতীয় নাগরিক ফিরলেন ভারতে ঘরে জমে থাকা বৃষ্টির পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু খুলনায় ভালো কাজের পুরস্কার পেলেন ট্রাফিকের ৩১ সদস্য বিদ্যুৎস্পৃষ্টে প্রাণ গেল স্বামী-স্ত্রীর কোষ ও এর গঠন অধ্যায়ের ১৫টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ১ম পর্ব, এইচএসসির জীববিজ্ঞান ১ম পত্র

বাজেট বাস্তবায়নে প্রয়োজন সঠিক নজরদারি: খলিলুর রহমান

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৪, ০৭:২৭ পিএম
বাজেট বাস্তবায়নে প্রয়োজন সঠিক নজরদারি: খলিলুর রহমান
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বারের সভাপতি খলিলুর রহমান। ছবি : সংগৃহীত

‘সুখী, সমৃদ্ধ, উন্নত ও স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে অঙ্গীকার’ শিরোনামের বাজেট বাস্তবায়নে সঠিক তদারকি প্রয়োজন বলে মনে করেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বারের সভাপতি খলিলুর রহমান। এই বাজেটকে তিনি সাহসী ও চ্যালেঞ্জিং বলেও অভিহিত করেছেন। 

বৃহস্পতিবার (৬ জুন) ‘সুখী, সমৃদ্ধ, উন্নত ও স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে অঙ্গীকার’ শিরোনামের প্রস্তাবিত বাজেটের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ মন্তব্য করেন।  

এসময় তিনি আরও বলেন, অর্থনীতি পুনরুদ্ধার এবং বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় এ ধরনের বাজেট প্রস্তাবনা প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বর্তমান সময়ে যথোপযুক্ত। 

এর আগে বৃহস্পতিবার (৬ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জন্য ৭ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী।  

এর পরপরই বাজেট নিয়ে মতামত প্রকাশ করেন দেশের অন্যতম এ শিল্পপতি। তিনি বলেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) রাজস্ব আহরণের জন্য ৪ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকার যে লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়েছে তার যথাযথ তদারকি এবং সর্বক্ষেত্রে দুর্নীতি ঠেকানো না গেলে এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কঠিন হয়ে পড়বে। বিদেশি ঋণের সুদ পরিশোধ বাবদ বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং ভর্তুকি ও প্রণোদনা বাবদ বরাদ্দ কমানোর ফলে জনগণের জীবনাযাত্রার খরচ বাড়তে পারে বলেও জানান তিনি।  

তিনি মনে করেন, করদাতাদের হয়রানি কমাতে আয়কর রিটার্ন অ্যাসেসমেন্টের বিধান বাতিল করায় ব্যক্তি ও কোম্পনি দুই শ্রেণির করদাতাই কিছুটা স্বস্তি পেতে পারে। যেহেতু, বিশ্ব অর্থনীতি  মন্দা। তাই বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, শ্রমিকের বেতন বৃদ্ধি, ডলার সংকট এবং দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি হেতু মূল্যস্ফীতি ১০ এর কোটায় উঠায় বর্ধিত উৎপাদন খরচ বৃদ্ধিতে প্রতিকূল অবস্থা হেতু দেশের বৃহৎ বৈদেশিক মুদ্রা আয়কারী পোশাক শিল্প টিকিয়ে রাখতে রপ্তানির বিপরীতে প্রযোজ্য উৎসে কর সম্পূর্ণ বাদ দিয়ে ০ শতাংশ করার প্রস্তাব করেন তিনি।  

নিয়মিত কর প্রদানকৃত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ওপর করের বোঝা না বাড়িয়ে নতুন করদাতা সৃষ্টির ওপর গুরুত্ব প্রদানসহ পরিবহন ও যোগাযোগ, স্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ ও  জ্বালানি এবং শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির জন্য সরকারকে ধন্যবাদ জানান এ শিল্পপতি।  

কাস্টম আইন ২০২৩ বিষয়ে কিছু অসঙ্গতি রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কাস্টম অ্যাক্ট ১৯৬৯ এর ৩২ ধারায় সৎ ব্যবসায়ীদের রক্ষায় ভুল এবং অসত্য ঘোষণা উভয়ের মধ্যে ১০০০ টাকা শুল্ক ব্যবধানে যে মানদণ্ডটি ছিল কাস্টমস আইন ২০২৩ এর ৩৩ ধারায় তা উঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে করে রীতিমতো বিপদে পড়তে হবে সৎ ব্যবসায়ীদের। কাস্টমস অফিসারের করুণায় থাকতে হবে তাদের। যার ফলে দুর্নীতির সুযোগ সৃষ্টি হবে। 

তাই এই ৩৩ ধারা বাতিল করে কাস্টম অ্যাক্ট ১৯৬৯ এর পুনর্বহাল করার অনুরোধ করছি। এছাড়া কাস্টম অ্যাক্ট  ২০২৩ এর ৮২ ধারায় আমদানিকারকের কোনো ভুল বা আমদানি দলিলে কোনো গড়মিল থাকলে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টকেও দায়ী করা হবে বলে ৮২ ধারায় লেখা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে উল্লেখ্য যে আমদানিকারকের দলিলে বা বিদেশ থেকে আমদানিকারকের কাছে পাঠানো দলিলে কোনো গড়মিল থাকলে তা কাস্টম এবং সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের জানার কথা নয়। তাই উক্ত ধারাটি প্রত্যাহার করা উচিত বলে মনে করেন খলিলুর রহমান। 

তিনি আরও জানান, কাস্টম আইন ২০২৩ বিষয়ে আমরা চেম্বার থেকে বলতে চাই, এই আইনে আরও যেসব অসঙ্গতি রয়েছে তা নিরসনে এফবিসিসিআই ও রাজস্ব বোর্ড আলোচনার প্রেক্ষিতে সংশোধনী আনা আবশ্যক। 
 
এই বাজেটে মূল্যস্ফীতি ৬ দশমিক ৫ এ আনার যে প্রত্যাশা রাখা হয়েছে এটিকে সাধুবাদ জানাই। পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা রক্ষায় দেশের আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে আনতে দেশি শিল্প উৎপাদন প্রবৃদ্ধির প্রয়াস অব্যাহত রাখতে হবে। বিশেষ করে টেক্সটাইল সেক্টরে প্রয়োজনীয় সহায়তা দরকার। একইসাথে রপ্তানি শিল্প এবং দেশের যাবতীয় মেশিনারিজ/ প্ল্যান্টস আমদানিতে সব প্রতিবন্ধকতার অবসান করে শুধু প্যাকিং লিস্ট মতে মেশিনারি চালান ছাড় দিয়ে তার যাবতীয় কার্যক্রম প্রতিস্থাপন ইত্যাদির তদারকি ভ্যাট বিভাগের ওপর ন্যাস্ত করা প্রয়োজন বলে মনে করছি। এতে চট্টগ্রাম কাস্টমস ও ভ্যাট বিভাগের দ্বৈত আনুষ্ঠানিকতা পরিহার হবে। শুধু ভ্যাট বিভাগ শিল্প চালান মেশিনারিজ ইত্যাদি স্থাপন বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

তিনি আরও বলেন, যেহেতু কোনো মেশিনারিজ বা প্ল্যান্ট আমদানি হলে তা দেশের যেকোনো স্থানে প্রতিস্থাপন হবে এবং দেশের উৎপাদন বাড়বে। জিডিপি বাড়বে, কর্মসংস্থান বাড়বে। মেশিনারিজ বা শিল্পায়নে সরকার বহমুখী রাজস্ব আয়ের সুযোগ পাবে। মেশিনারি/ প্ল্যান্ট এবং অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রপাতি আমদানির বহুরকম শর্ত প্রত্যাহার করে সব ধরনের মেশিনারি বা প্ল্যান্ট আমদানিতে বিদ্যমান হার ১ শতাংশ শুল্ক আদায়ে মেশিনারি আমদানি উন্মুক্ত করা উচিত।

বাজেটে ঘাটতি মোকাবেলায় দেশি বিদেশি বিভিন্ন উৎস থেকে ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রে সচেতনতার প্রয়োজন আছে বলে মনে করেন শিল্পপতি খলিলুর রহমান। তিনি বলেন, বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে বরাদ্দকৃত অর্থের সঠিক তদারকি এবং জবাবদিহির আওতায় আনলে ব্যয় বৃদ্ধি ও সময়ক্ষেপণ কমবে। এ ক্ষেত্রে প্রকল্প পরিচালকের বিশেষ নজরদারি প্রয়োজন। উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার জবাবদিহির জন্য প্রতি ত্রৈমাসিক অন্তর প্রকল্প অগ্রগতির রিপোর্ট প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে প্রেরণসহ মন্ত্রণালয় কর্তৃক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করি। 

 

 

বিপৎসীমা ছাড়াল মাতামুহুরী, হাহাকার প্লাবিত জনপদে

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৯:২০ পিএম
বিপৎসীমা ছাড়াল মাতামুহুরী, হাহাকার প্লাবিত জনপদে
ছবি: সংগৃহীত

টানা কয়েকদিনের মুষলধারে বৃষ্টি এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারের চকরিয়ায় ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। মাতামুহুরী নদীর পানি তীব্র গতিতে বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমা অতিক্রম করায় উপজেলার অন্তত ৬০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে নদী তীরবর্তী ও নিম্নাঞ্চলের লাখো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। তলিয়ে গেছে চকরিয়ার বিস্তীর্ণ ফসলি জমি, আমনের বীজতলা ও গ্রামীণ রাস্তাঘাট।

বুধবার (৮ জুলাই) সকালের দিকে পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয় ৫ দশমিক ৩ মিটার, যা বিপৎসীমার মাত্র ৫ সেন্টিমিটার নিচে ছিল। তবে দুপুরের পর বৃষ্টি ও ঢলের তীব্রতা বাড়ায় পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে লোকালয়ে প্রবেশ করতে শুরু করে।

কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, মাতামুহুরী নদীর চিরিংগা সেতু পয়েন্টে পানির বিপৎসীমা ৫ দশমিক ৮ মিটার। 
এদিকে, মাতামুহুরীর উজানে বান্দরবানের লামা শহর পয়েন্টে নদীর পানি ইতোমধ্যে বিপৎসীমার ১২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। উজান থেকে নেমে আসা এই বিপুল পরিমাণ ঢলের পানি চকরিয়া হয়ে বঙ্গোপসাগরে নামার পথে তীব্র স্রোতের সৃষ্টি করেছে, যা চকরিয়ার বন্যা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, গত দেড় দশকে চকরিয়ায় এমন ভয়াবহ ও টানা বৃষ্টিপাত দেখা যায়নি। হঠাৎ ধেয়ে আসা পাহাড়ি ঢলে নিমিষেই তলিয়ে গেছে জনপদ।

কৈয়ারবিল ইউনিয়নের বাসিন্দা সাজ্জাদ হোছাইন বলেন,গত ১৫ বছরে এই রকম টানা ভারী বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢল আমরা দেখিনি। ইউনিয়নের সিংহভাগ এলাকা এখন পানির নিচে। ঘরবাড়ি ছেড়ে মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে ছুটছে। নদীর পানি যেভাবে বাড়ছে, তাতে চকরিয়াবাসী চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।
একই ধরনের তথ্য দিয়ে কাকারা ইউনিয়নের মাঝেরফাঁড়ি গ্রামের বাসিন্দা রশিদুল আমিন জানান, ভোর ৫টা থেকেই চকরিয়ায় বিরতিহীন বৃষ্টি হচ্ছে। সরকারি হিসাবের চেয়েও বাস্তব ক্ষেত্রে নদীর পানি অনেক ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে লোকালয় ও ঘরবাড়িতে ঢুকে পড়ছে।

উপজেলা প্রশাসনের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, পাহাড়ি ঢলের পানিতে চকরিয়ার বরইতলী, ফাঁসিয়াখালী, কৈয়ারবিল, কাকারা, লক্ষ্যারচর, সুরাজপুর-মানিকপুর, হারাবং, খুটাখালী, চিরিংগা, ডুলাহাজারা এবং মাতামুহুরী সাংগঠনিক উপজেলার সাহারবিল, পূর্ব বড় ভেওলা, ঢেমুশিয়া, ভেওলা মানিকচর, পশ্চিম ভেওলা ও বদরখালী ইউনিয়নসহ অন্তত ৬০টি গ্রাম এখন প্লাবিত। পানি বৃদ্ধির কারণে বেশ কিছু গ্রামীণ সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং দুর্গতদের সহায়তায় চকরিয়া উপজেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে। 

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার দৈনিক খবরের কাগজকে বলেন, টানা বৃষ্টির কারণে মাতামুহুরী নদীতে পানি বাড়ছে এবং প্রতি মুহূর্তেই নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। আমরা প্রতিটি ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছি। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমাদের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে।

কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নুরুল ইসলাম জানিয়েছেন, মাতামুহুরী নদীর ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধের অংশগুলো ইতোমধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও নাজুক হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বেড়িবাঁধের কোনো অংশ যাতে ভেঙে না যায়, সে জন্য পাউবোর মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।

রাজু দাশ/এসএন

রায়পুরায় অতিবৃষ্টিতে মাটির ঘরের দেয়ালধসে শিশুর মৃত্যু

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৯:১২ পিএম
আপডেট: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৪ পিএম
রায়পুরায় অতিবৃষ্টিতে মাটির ঘরের দেয়ালধসে শিশুর মৃত্যু
নিহত শিশু তানঝুমা আক্তার ও তার বাবা আপেল মিয়া। ছবি: সংগৃহীত

নরসিংদীর রায়পুরায় অতিবৃষ্টির কারণে মাটির ঘরের দেয়াল ধসে তানঝুমা আক্তার (৮) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (৮ জুলাই) দুপুরে উপজেলার মরজাল ইউনিয়নের মরজাল মাইজপাড়া গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। 

নিহত তানঝুমা ওই এলাকার আপেল মিয়ার মেয়ে এবং স্থানীয় মাইজপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী। 

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, দুপুরে স্কুল ছুটি শেষে বাড়ি ফেরে তানঝুমা। এ সময় বাড়ির পাশে থাকা চালবিহীন একটি পরিত্যক্ত মাটির ঘরের দেয়াল টানা ভারী বর্ষণের কারণে হঠাৎ ধসে তার ওপর পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। 

মরজাল ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত সদস্য আছমা বেগম জানান, মাটির ঘরের দেয়ালধসে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আজ রাতেই নিহত শিশু তানঝুমার দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে।

রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মজিবুর রহমান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

শাওন/নাঈম

বঙ্গোপসাগরে দুই ট্রলারডুবি, উদ্ধার ১৬, নিখোঁজ ২

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৮:২৫ পিএম
বঙ্গোপসাগরে দুই ট্রলারডুবি, উদ্ধার ১৬, নিখোঁজ ২
ছবি: সংগৃহীত

বৈরী আবহাওয়া ও উত্তাল ঢেউয়ের কবলে পড়ে বরগুনার তালতলী উপজেলার ফকিরহাট সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে ১৮ জন জেলেসহ দুটি মাছ ধরার ট্রলার ডুবির ঘটনা ঘটেছে। এতে ১৬ জন জেলেকে জীবিত উদ্বার করা সম্ভব হলেও এখনও ২ জেলে নিখোঁজ রয়েছেন।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাতে উপজেলার ফকিরহাট মৎস্য অবতরণ কেন্দ সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরের প্রায় ৪০ কিলোমিটার দক্ষিণে এই দূর্ঘটনা ঘটে।

নিখোঁজ জেলেরা হলেন- কালাম পাইকার, শহীদ। তারা দুজনেই তালতলী উপজেলার সোনাকাটা ইউনিয়নের বাসিন্দা।

উদ্বার হওয়া জেলেরা হলেন- খলিল মাষ্টার, রিদয় জোমাদ্দার, দুলাল, ইমরান, ফারুক, আল-আমিন, মনির, আশরাফুল, জামাল, ইমরান, শামিম, নাসির, সাগর, আছিফ, নাসির, নুরুজ্জামান। তারা সবাই তালতলী উপজেলার সোনাকাটা ইউনিয়নের বাসিন্দা।

উদ্বার হওয়া জেলেরা জানায়, মঙ্গলবার সকালে তালতলী উপজেলার ফকিরহাট মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র থেকে দুটি মাছ ধরার ট্রলার কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে ইলিশ শিকারের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। এর মধ্যে তপন জোমাদ্দারের মালিকানাধীন ট্রলারে ১৩ জন এবং আলমগীর খলিফার মালিকানাধীন ট্রলারে ৫ জন জেলে ছিলেন। রাতে হঠাৎ সাগর উত্তাল হয়ে উঠলে প্রচণ্ড ঢেউয়ের আঘাতে ট্রলার দুটি দুর্ঘটনার শিকার হয়। ঢেউয়ের তোড়ে আলমগীর খলিফার মালিকানাধীন ট্রলারটি ডুবে গেলে ওই ট্রলারেরা জেলেরা জীবন বাঁচাতে তপন জোমাদ্দারের ট্রলারে গিয়ে উঠেন। কিন্তু একপর্যায়ে প্রচণ্ড ঢেউয়ে দ্বিতীয় ট্রলারটিও ডুবে গেলে জেলেরা সাগরে ভাসতে থাকেন। পরে রাত ৩টার দিকে অন্য একটি মাছ ধরার ট্রলার ১৬ জন জেলেকে জীবিত উদ্ধার করে পটুয়াখালী জেলার মহিপুর থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করে। তবে বাকি ২ জনের এখনও কোনো সন্ধান মেলেনি। এদিকে নিখোঁজ স্বজনদের অপেক্ষায় উপকূলের পরিবারগুলোতে এখন চলছে শোকের মাতম।

ফকিরহাট মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি মজিবুর রহমান ফরাজী বলেন, গতকাল ১৮ জন জেলেসহ দুটি ট্রলার সাগরে ডুবে যায়। আজ সকালে ১৬ জন জেলেকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং বর্তমানে তাদের পটুয়াখালীর মহিপুর থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে অন্য ২ জন জেলে এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। প্রশাসনের পাশাপাশি আমাদের সমিতির পক্ষ থেকেও নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারে সর্বোচ্চ উদ্ধার তৎপরতা চালানো হচ্ছে।

তালতলী কোষ্টগার্ড স্টেশনের কন্টিনজেন্ট কমান্ডার আশরাফুল আলম বলেন, বঙ্গোপসাগরে নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারের জন্য আমরা এখনও অভিযান শুরু করতে পারিনি। কারণ সাগর উত্তল রয়েছে। আবহাওয়া ভালো হলেই উদ্ধার অভিযানে বের হব। আমাদের জানানো হয়েছে গতকাল ১৮ জন জেলে নিয়ে ট্রলারডুবির ঘটনা ঘটেছে। ১৮ জেলেই নিখোঁজ রয়েছেন আমাদের কাছে এই তথ্য আছে। জেলে উদ্ধার হয়েছে কিনা এই ধরনের কোন তথ্য আমাদের কাছে নেই।

এ বিষয়ে উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে সাথে সাথে কোষ্টগার্ড এবং নৌ পুলিশকে অবহিত করেছি। তবে সাগর উত্তাল থাকায় উদ্ধার অভিযানে বেগ পেতে হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, উদ্ধার হওয়া ১৬ জন জেলের চিকিৎসার বিষয়ে আমরা পটুয়াখালীর মহিপুর থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষের খোঁজখবর নিচ্ছি।

মহিউদ্দিন অপু/এসএন

কক্সবাজারে পাহাড়ধসে ৪ দিনে ১৯ জনের মৃত্যু

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৬:৪৯ পিএম
আপডেট: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৯:১২ পিএম
কক্সবাজারে পাহাড়ধসে ৪ দিনে ১৯ জনের মৃত্যু
পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি ঘর। ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজারে গত চার দিনে ভারী বৃষ্টির কারণে জেলার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা, বন্যা পরিস্থিতি এবং পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে মোট ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে ১৬ জন রোহিঙ্গা এবং ৩ জন স্থানীয় নাগরিক।

বুধবার (৮ জুলাই) কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ আব্দুল হান্নান জানান, গত চার দিনের বৃষ্টিপাতের পরিমাণ, রবিবার ২৪০ মিলিমিটার, সোমবার ১২৯ মিলিমিটার, মঙ্গলবার ৬৯ মিলিমিটার এবং বুধবার সকাল ৬টা থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত আরও ৬৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সব মিলিয়ে চার দিনে মোট বৃষ্টিপাতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫০৬ মিলিমিটার।

এদিকে টানা বৃষ্টিপাতের ঘটনায় কক্সবাজারে ৭টি পাহাড় ধসের ঘটনায় মোট ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। তারমধ্যে উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ৪টি পৃথক পাহাড়ধসের ঘটনায় ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া কক্সবাজার সদরের সাত্তারঘোনা, দরিয়ানগর বড়ছড়া এবং পেকুয়ায় পৃথক পাহাড় ধসের ঘটনায় ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এসব ঘটনায় অনেকেই হতাহত হয়েছেন।

সর্বশেষ বুধবার বেলা ৩টার দিকে উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৫-এর ব্লক এ-৭/৩ এলাকায় ৮ শিশু নিহত হয়েছে।

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বিষয়টি জানান, ক্যাম্প-৫ পাহাড়ধসের ঘটনায় মোট ১৩ জন শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৮ জন শিশুর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪ জন ঘটনাস্থলেই এবং অপর ৪ জন বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।

অবশিষ্ট ৫ জন শিশুকে ক্যাম্প-৩-এর জিকে হাসপাতাল, ক্যাম্প-৫-এর ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল এবং ক্যাম্প-৬-এর আইআরসি হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়েছে।

এর আগে সোমবার (৬ জুলাই) রাতে উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পৃথক তিনটি পাহাড়ধসের ঘটনায় ৮ জন নিহত হন।

রাত ১টা ১০ মিনিটের দিকে পালংখালী ইউনিয়নের ১৫ নম্বর জামতলী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি/৬ ব্লকে পাহাড়ধসে মোহাম্মদ কামাল হোসাইন (৪৪), তার স্ত্রী হুমায়রা বেগম (৩৯) এবং তাদের চার বছর বয়সী ছেলে মোহাম্মদ আনাস নিহত হন।

একই রাতে রাজাপালং ইউনিয়নের কুতুপালং ৭ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি/৭ ব্লকে পাহাড়ি ঢলে আসা মাটির নিচে চাপা পড়ে একরাম (৭) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়।

পরে রাত ৩টার দিকে বালুখালী ১১ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সি/১১ ব্লকে আরেকটি পাহাড়ধসের ঘটনায় চারজন নিহত হন। তারা হলেন উম্মে হাবিবা (২৭), তানজিনা আক্তার (১৩), মোহাম্মদ রিহান (৫) এবং হারুনুর রশিদ (৩)।

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, মানবিক সংকটের পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগও এখন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী রোহিঙ্গাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে।

এদিকে কক্সবাজার শহরের ১২ নম্বর ওয়ার্ডের সাত্তার ঘোনা এলাকায় সোমবার গভীর রাতে পাহাড়ধসে আলী আকবর (৫০) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়।

নিহতের ছেলে আরাফাত হোসেন জানান, রাত ২টা ১০ মিনিটের দিকে পাহাড়ের মাটি তাদের টিনের ঘরের ওপর ধসে পড়ে। গুরুতর আহত অবস্থায় আলী আকবরকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

অন্যদিকে পেকুয়া উপজেলার টইটং ইউনিয়নের আলম্ম্যার ঝিরি এলাকায় সোমবার বিকেলে পাহাড়ধসে মোহাম্মদ মিনহাজ (৮) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন শিশুটির নানী জান্নাতুল ফেরদৌস।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বিকেল ৩টার দিকে পাহাড়ের পাদদেশে থাকা একটি বসতঘরের ওপর মাটি ধসে পড়লে ঘটনাস্থলেই মিনহাজের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত জান্নাতুল ফেরদৌসকে উদ্ধার করে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য মনজুর আলম ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

অন্যদিকে মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরে কক্সবাজার সদর উপজেলার দরিয়ানগর এলাকায় পাহাড়ধসের ঘটনায় নাছিমা আক্তার নামে এক নারীর মৃত্যু হয়। একই ঘটনায় তার স্বামী জসিম উদ্দিন ও পরিবারের আরেক সদস্য গুরুতর আহত হন।

নিহতের ভাই মনির আলম জানান, পাহাড়ের পাদদেশে বসবাস করতেন তারা। টানা বৃষ্টির কারণে হঠাৎ পাহাড়ধস নেমে ঘরের ওপর মাটি এসে পড়লে পরিবারের তিন সদস্য আহত হন। পরে তাদের দ্রুত কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক নাছিমা আক্তারকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত জসিম উদ্দিনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অপর আহত শিশুটি কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান জানান, চলমান দুর্যোগ মোকাবেলায় সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরকে নিয়ে জরুরি সভা করা হয়েছে। পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে থাকা মানুষদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে প্রশাসন মাঠে কাজ করছে।

তিনি বলেন, “প্রশাসনের নির্দেশনা অমান্য করে কেউ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অবস্থান করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এদিকে অবিরাম বৃষ্টিতে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতিরও সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি পাহাড়ধসের ঝুঁকি আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সমুদ্রবন্দরসমূহে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত বহাল রয়েছে এবং আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী প্রতিকূল আবহাওয়া আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে।

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলার সব সাইক্লোন শেল্টার (আশ্রয়কেন্দ্র) প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এক জরুরি গণবিজ্ঞপ্তিতে পাহাড়ের পাদদেশ, ঢালু এলাকা এবং বন্যাকবলিত নিচু স্থানে বসবাসকারীদের দ্রুত নিকটস্থ নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উদ্ধার ও জরুরি সহায়তার জন্য একটি কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে। সার্বক্ষণিক সহায়তার জন্য কন্ট্রোল রুমের নম্বর ০১৮৭২-৬১৫১৩২-এ যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সবাইকে সতর্ক থাকার এবং সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।

নাঈম/

বিএসএফের ঠেলে পাঠানো ৪ ভারতীয় নাগরিক ফিরলেন ভারতে

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৬:০৫ পিএম
বিএসএফের ঠেলে পাঠানো ৪ ভারতীয় নাগরিক ফিরলেন ভারতে
ছবি: খবরের কাগজ

ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী-বিএসএফের পুশইনের পর চাঁপাইনবাবগঞ্জে গ্রেপ্তার চার ভারতীয় নাগরিক নিজ দেশে ফিরে গেছেন।

বুধবার (৮ জুলাই) বেলা সাড়ে ৩টার দিকে ট্রাভেল পাসের মাধ্যমে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে ভারতে যান তারা।

ইমিগ্রেশন পুলিশের ইনচার্জ জামিরুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। 

ওই চার ভারতীয় নাগরিক হলেন- পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার মুরারাই থানার ধিতরা গ্রামের বাসিন্দা সুইটি বিবি, তার দুই ছেলে কুরবান শেখ ও ইমাম দেওয়ান এবং দানিশ শেখ। 

তবে একই সঙ্গে গ্রেপ্তার হওয়া সোনালী বিবি নামে আরেক নারী ও তার সন্তানকে ভারতে পাঠানো হয়েছিলো গত বছরের ৫ ডিসেম্বর। অন্তসত্ত্বা হওয়ায় মানবিক দিক বিবেচনা করে সে সময় সোনালী বিবিকে ভারতে পাঠানো হয়। 

সোনামসজিদ ইমিগ্রেশন ইনচার্জ জামিরুল ইসলাম বলেন, ট্রাভেল পাসের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে চার ভারতীয় নাগরিককে ভারতে পাঠানোর অনুমতি দেয়া হয়েছে। এ সময় সেখানে রাজশাহীস্থ ভারতের সহকারী হাইকমিশনারসহ বিজিবি ও বিএসএফের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

গত বছরের ২০ আগস্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের আলীনগর থেকে অন্তসত্ত্বা এক নারীসহ ৬ ভারতীয় নাগরিককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পুলিশের কাছে তারা দাবি করে- ভারতীয় নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও কুড়িগ্রামের একটি সীমান্ত দিয়ে তাদের বাংলাদেশে পুশ ইন করে বিএসএফ। বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে দুই দেশেই তোলপাড় সৃষ্টি হয়। ভারতের সুপ্রিম কোর্ট ওই ছয় নাগরিককে দ্রুত ফিরিয়ে আনার নির্দেশ দেন। 

ওই নির্দেশনার পর অন্তসত্ত্বা সোনালী বিবি ও তার ৮ বছরের সন্তানকে ৫ ডিসেম্বর ভারতে পাঠানো হয়। তবে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আদালতে মামলা চলমান থাকায় বাকী চারজন যেতে পারেন নি। এই চারজনকে ট্রাভেল পাসের মাধ্যমে ভারতে যাওয়ার অনুমতি দেয় বাংলাদেশ সরকার।

মো. আসাদুল্লাহ/এসএন